অফ করল পেনলাইট।
সামনে ভারি কিছু একটা মেঝেতে আঘাত করছে। ওটার প্রতিধ্বনি আসছে প্যাসেজে। বুট। একটি দরজা দড়াম করে বন্ধ হয়ে গেল। হাওয়াও গায়েব।
ওরা এখানে আর একা নয়।
.
গুটিসুটি মেরে ভূগর্ভস্থ সেলারে ঢুকল আততায়ী। সে জানে, এখানে ওরা আছে। কত জন? কাঁধ থেকে হেকলার অ্যান্ড কচ MK23 নামাল ও। আঙুলের অংশ কাটা পশমি গ্লোভস তার হাতে। নিজের পজিশনে, শুনছে।
হালকা দুপদাপ, ঘষটে যাওয়ার শব্দ।
পালাচ্ছে।
কমপক্ষে দুজন… তিনজনও হতে পারে।
উপরের গোলাঘরে যাওয়ার ট্রাপচোর বন্ধ করে দিল আততায়ী। ঠাণ্ডা বাতাস আসা বন্ধ হয়ে গেল, অন্ধকার নেমে এলো ওর ওপর। নাইট ভিশন গগলস চোখে পরল ও। কাঁধে থাকা আট্রা ভায়োলেট ল্যাম্প অন করে দিল। সামনে থাকা প্যাসেজটি জ্বলে উঠল ছায়াময় রুপোলি সবুজ আলোয়।
খুন করতে হবে, সবকটাকে।
এ-কাজে সে সিদ্ধহস্ত।
দ্য বেল খুব জোরে বেজে গিয়েছিল।
দুর্ঘটনা ছিল ওটা। পুরোনো বিভিন্ন দুর্ঘটনার মধ্যে একটি।
গত মাস থেকে সে দেখে আসছে Granitschloft আর অন্যদের মধ্যে বেশ জোর আলোচনা হচ্ছে। এমনকী দুর্ঘটনাটি ঘটার আগে থেকে চলছে এই আলোচনা। প্রাসাদে কিছু একটা হয়েছে। এখান থেকে বহু দূরে নিজের বাড়িতে বসেও সেটার আঁচ পাচ্ছিল সে। তবে বিষয়টিকে ও এড়িয়ে গিয়েছিল। ও এসব ভেবে কী করবে?
তারপর হলো সেই দুর্ঘটনা… ওটা সমস্যা হয়ে দাঁড়াল ওর। এবার ওকে তাদের সেই ভুলের দাগ পরিষ্কার করতে হবে।
টিকে থাকা শেষ Sonnekonige হিসেবে এটা তার দায়িত্ব।
ওর আজকের এখানকার দায়িত্ব প্রায় শেষের দিকে। সেলার অভিযান শেষ করে নিজেদের কুটিরে ফিরে যাবে ও। মঠে ঘটে যাওয়া সবকিছুর দোষ পড়বে মাওবাদীদের ওপর। ঈশ্বরহীন মাওবাদীরা ছাড়া মঠে আর কেইবা আক্রমণ করতে যাবে?
ঠিকভাবে ভাওতা দেয়ার জন্য, বিদ্রোহীদের সাথে মিলিয়ে গুলি এনেছে ও। এমনকী অস্ত্রও মিল রেখেছে।
অস্ত্র রেডি রেখে ওক গাছের খোলা পিপার পাশ দিয়ে এগোল সে। খাদ্যশস্য, রাই, আটা এবং শুকনো আপেল পর্যন্ত মজুদ করা আছে এখানে। সাবধানে এগোচ্ছে ও। যেকোন ধরনের আক্রমণের জন্য প্রস্তুত। সন্ন্যাসীরা সাধু হতে পারে, মনোবল ভেঙে যেতে পারে কিন্তু বিপদে পড়লে বিড়ালও বাঘের মতো আচরণ করে, সাবধান থাকা ভাল।
সামনে প্যাসেজ বাম দিকে মোড় নিয়েছে। ডান দিকের দেয়াল ধরে থামল। কান পাতল ও। পায়ের শব্দ শোনার জন্য উদগ্রীব হয়ে আছে। কপালে তুলে নাইট-ভিশন গগলস।
আলকাতরার মতো কুচকুচে অন্ধকার।
চশমা আবার চোখে দিল সে। সামনের প্যাসেজ সবুজ আলোয় উজ্জ্বল হয়ে উঠল। কেউ ওঁত পেতে থাকলে সেই ব্যক্তি দেখার আগেই তাকে দেখে ফেলবে ও। লকোনোর কোনো উপায় নেই। কেউ যদি পালাতে চায় তো ওকে পার হয়ে তবেই পালাতে পারবে।
একটু কোণা ঘেঁষে এগোল ও।
প্যাসেজে খড় ইতস্তত ছড়িয়ে রয়েছে। মনে হচ্ছে তাড়াহুড়োর ফলে পায়ের ধাক্কায় ছড়িয়ে গেছে ওগুলো। সেলারের ভেতরে সন্ধানী দৃষ্টি বুলাল আততায়ী। এখানে আরও ব্যারেল আছে। শুকনো ডালপালা ঝুলছে ছাদ থেকে।
কোনো নড়াচড়া নেই, শব্দ নেই।
খড়ের গায়ের ওপর দিয়ে সামনে এগোল ও।
মটমট শব্দে জুনিপারের ডাল ভাঙ্গল ওর বুটের নিচে।
চট করে নিচ দিকে তাকাল ও। পুরো মেঝে জুড়ে খড়ের পাশাপাশি ডালপালাও বিছানো রয়েছে।
ফাঁদ।
এখন?
উপরের দিকে চোখ তুলতেই ওর সামনের দুনিয়া যেন উজ্জ্বলতায় ঝলসে উঠল। গগলসের বর্ধিত সিস্টেমের কারণে আলোর মাত্রা অনেক বেড়ে ওর মস্তিষ্কে আঘাত করল, অন্ধ হয়ে গেল ও।
ক্যামেরার ফ্ল্যাশ লাইট।
সে মুহূর্তের মধ্যে গুলি ছুড়ল।
সরু সেলারে গুলির আওয়াজ যেন তালা লাগিয়ে দিল কানে। ওরা নিশ্চয়ই অন্ধকারে ঘাপটি মেরে শুয়ে ছিল। ডালে পা পড়ে মটমট শব্দ শোনার আগপর্যন্ত অপেক্ষা করেছে, একদম ওদের কাছে আসতে দিয়েছে ওকে, তারপর আক্রমণ চালিয়েছে। এক কদম পিছে হটল সে। খড়ের সাথে পা আটকে প্রায় হোঁচট খাচ্ছিল।
পিছু হটতে হটতে আরেকটি গুলি ছুড়ল ও।
ভুল করল।
সুযোগ পেয়ে কেউ একজন ওকে ব্যারেল দিয়ে নিচে আঘাত করল। পায়ে আঘাত হেনে খড়ের ওপর আছড়ে ফেলল ওকে। পাথুরে মেঝেতে পিঠ দিয়ে পড়ল ও। কিছু একটা ওর উরুর মাংসের ভেতরে ঢুকে পড়ল। হাঁটু ছুড়ল সে, ওকে যে আক্রমণ করেছে সে ঘোঘোত শব্দ করল।
যাও! ওর পিস্তল হাতে নিয়ে আক্রমণকারী চিৎকার করল। চলে যাও!
আক্রমণকারী ইংরেজিতে কথা বলছে। সন্ন্যাসী নয়।
দ্বিতীয় একজন উদয় হলো। ওদের দুজনের শরীরের ওপর দিয়ে লাফ দিল সে। ওর দৃষ্টিশক্তি এখন ধীরে ধীরে ফিরে আসছে। ও শুনল গোলাবাড়ি যাওয়ার সেই ট্রাপড়োরের দিকে এগোচ্ছে দ্বিতীয় ব্যক্তি।
scheifie বলল ও।
নিজের শরীর মুচড়িয়ে উপরে থেকে আক্রমণকারীকে কাপড়ের পুতুলের মতো ছুঁড়ে ফেলল ও। Sonnekonige রা অন্য সাধারণ মানুষদের মতো নয়। ওর ওপর যে আক্রমণ করেছিল সে দেয়ালের সাথে ধাক্কা খেল। একটু আগে যে পালিয়েছে তার মতো করে পালানোর চেষ্টা করল সে। কিন্তু ক্যামেরার ফ্ল্যাশের আলোয় হারানো দৃষ্টি শক্তি খুব দ্রুত ফিরে এসেছে। রেগে গিয়ে আক্রমণকারীর পায়ের গোড়ালি ধরে পেছনে টান দিল ও।
কিন্তু আক্রমণকারী তার আরেক পা দিয়ে লাথি কষাল ওকে।
