তবে তার আগে আরও একটি কাজ করতে হবে।
পেছনের পকেট থেকে সেল ফোন বের করে সেন্ট্রাল কমান্ডে ডায়াল করল গ্রে। কয়েক মুহূর্তের মধ্যে লাইনে পেল লোগান গ্রেগরিকে। গ্রেগরি ওর এই মিশনের নেতৃত্ব দিচ্ছে।
‘সমস্যা হয়েছে।’ বলল গ্রে।
‘কী সমস্যা?
‘আমরা যা ভেবেছিলাম তারচেয়েও অনেক বড় কিছু হতে যাচ্ছে। খুনোখুনি হওয়ার মতো বড়। সকালের ঘটনাটুকু বর্ণনা করল গ্রে।
লম্বা নীরবতা।
অবশেষে মুখ খুললেন লোগান। তার কণ্ঠে উদ্বেগ। ‘তাহলে মাঠপর্যায়ে আরও তথ্য ও জনবল না পাওয়া পর্যন্ত এই মিশন আপাতত স্থগিত রাখা হোক। সেটাই ভাল হবে।’
‘ব্যাকআপের জন্য অপেক্ষা করলে অনেক দেরি হয়ে যাবে। নিলাম শুরু হয়ে যাবে আর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে।
‘তোমার কভার ভেস্তে গেছে, ছদ্মবেশ ফাঁস হয়ে গেছে, কমান্ডার পিয়ার্স।
‘কভার ভেস্তে গেছে কি-না সে-ব্যাপারে আমি নিশ্চিত নই। এখানে আমি একজন আমেরিকান ক্রেতা, অনেক প্রশ্ন করে বেড়াচ্ছি, এই তো। ওরা এসব নিয়ে ঘাটবে বলে মনে হয় না। নিলাম অনুষ্ঠানে অনেক লোকজন আসবে, কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা আছে ওখানে। তবে আমি এখন হয়তো ওই জায়গাটুকু ভাল করে ঘুরে দেখে কে বা কারা এত বড় ঘটনা ঘটাচ্ছে সে-সম্পর্কে কোনো সূত্র পেয়ে যেতে পারি। তারপর নাহয় ব্যাকআপ আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করব।’
অন্যান্যের মতো গ্রে’র নিজেরও ওই বাইবেলটিকে হাতে নেয়ার অনেক ইচ্ছে আছে। অবশ্য শুধু পরীক্ষা করার জন্য, অন্য কিছু নয়।
‘আমার মনে হয়, ওতে খুব একটা ভাল হবে। সম্ভাব্য অর্জনের চেয়ে সম্ভাব্য ঝুঁকি বেশি হয়ে যায়। বিশেষ করে এরকম একা একা মিশনে থাকার ব্যাপারটা।’ বললেন লোগান।
উত্তেজিত হয়ে গেল গ্রে। ‘এই হারামজাদারা আমাকে এভাবে হেনস্থা করল… আর আপনি বলছেন আমি যাতে চুপ করে বসে থাকি?
‘কমান্ডার।
গ্রে’র আঙুলগুলো ফোনের গায়ে শক্ত করে চেপে বসল। সিগমায় কাগজপত্র চালাচালির কাজ অনেকদিন ধরে করে আসছেন লোগান। যে-কোনো রিসার্চ মিশনের জন্য লোগান একজন ভাল লিডার… কিন্তু এরকম একটি ঘটনা সংক্রান্ত মিশনে ততটা নয়। সিগমা ফোর্সের অপারেশন শাখার মান-সম্মানের প্রশ্ন এখানে। প্রয়োজন হলে গ্রে এই লোগানের চেয়েও যোগ্য লোকের নেতৃত্ব চাইবে।
‘আমাদের হয়তো ডিরেক্টর ক্রো’কে বিষয়টা জানানো উচিত। বলেই ফেলল গ্রে।
আবার নীরবতা। সম্ভবত কথাটা বলা ঠিক হয়নি। উপরন্তরের লোকের সাথে যোগাযোগ করতে চেয়ে ও কিন্তু আসলে লোগানকে অপমান করতে চায়নি। কিন্তু মাঝে মাঝে পরিস্থিতি এরকম আচরণ করতে বাধ্য করে।
‘এমুহূর্তে সেটা অসম্ভব বলে মনে করি, কমান্ডার পিয়ার্স।
‘কেন?
‘ডিরেক্টর ক্রো এখন নেপালে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় আছেন।
ভ্রু কুঁচকালো গ্রে। ‘নেপালে? তিনি নেপালে কী করছেন?
‘কমান্ডার, তাঁকে তুমিই পাঠিয়েছ।
‘কী?
গ্রে এবার বুঝতে পারল।
এক পুরোনো বন্ধুর কাছ থেকে ফোন এসেছিল সপ্তাহখানেক আগে।
অতীতে ডুব দিল গ্রে। সিগমা ফোর্সে ওর প্রথম দিকের দিনগুলোর কথা মনে পড়ল। অন্য সিগমা এজেন্টের মতো গ্রে’রও স্পেশাল ফোর্স ব্যাকগ্রাউন্ড ছিল। ১৮ বছর বয়সে আর্মিতে যোগ দেয়া, ২১ বছরে কমান্ডো হওয়া। কিন্তু ঊর্ধ্বতন অফিসারের সাথে গণ্ডগোল করায় কোর্ট-মার্শাল হয়েছিল ওর। তারপর ওখান থেকে সিগমা ফোর্সে যোগ দেয়। তবে এখনও আড় চোখে দেখা হয় ওকে। কিন্তু সেই অফিসারকে আঘাত করার পেছনে উপযুক্ত কারণ ছিল। অফিসারের অযোগ্যতার ফলে সে-বার বসনিয়ায় অযথা অনেক লোকের মৃত্যু হয়েছিল, অনেক শিশু মারা পড়েছিল। তবে গ্রে’র রাগের কারণ ছিল আরও গভীরে। যা-ই হোক, কর্তৃপক্ষের সাথে এই বিষয় নিয়ে সমস্যা হওয়ায় বাবার কাছে ফিরে গিয়েছিল গ্রে। অনেকদিন হয়ে যাওয়ার পরও যখন সমস্যার সমাধান হলো না যখন এক জ্ঞানী ব্যক্তি গ্রে’কে পথ বাতলে দিয়েছিলেন।
সেই ব্যক্তির নাম আং গেলু।
‘আপনি বলতে চাচ্ছেন, আমার বন্ধু বুদ্ধ সন্ন্যাসীর জন্য ডিরেক্টর ক্রো নেপালে গিয়েছেন?”
‘পেইন্টার ক্রো জানতেন বুদ্ধ সন্ন্যাসী তোমার কাছে কতটা গুরুত্বপূর্ণ।’
হাঁটা বন্ধ করে ছায়ায় দাঁড়াল গ্রে।
সিগমার ট্রেইনিঙের পাশাপাশি আং গেলুর সাথে নেপালে চার মাস দীক্ষা নিয়েছিল ও। আং গেলুর মাধ্যমেই গ্রে ওর নিজের পড়ার জন্য দারুণ এক সিলেবাস তৈরি করে নিয়েছিল। জীবজিজ্ঞান ও পদার্থবিদ্যা, দুটো ডিগ্রি একসাথে নিয়েছিল গ্রে। ওকে মানসিক দীক্ষা দিয়েছিলেন আং গেলু। সবকিছুর মধ্যে ভারসাম্য খোঁজা শিখিয়ে ছিলেন তিনি। বিপরীত দুটো জিনিসের মধ্যকার মিল, দ্য Taoist yin অ্যান্ড yang, শূন্য ও এক ইত্যাদি।
এধরনের অন্তর্দৃষ্টি সম্পন্ন জ্ঞান গ্রে’র অতীতকে মোকাবেলা করার জন্য সাহায্য করেছিল।
বয়স বাড়তে বাড়তে গ্ৰে বুঝতে পারল সে সবসময় বিপরীত জিনিসের মধ্যে আটকে যাচ্ছে। ওর মা এক ক্যাথলিক স্কুলে পড়াতেন। সেখান থেকে গ্রে’র জীবনে ধীরে ধীরে আধ্যাত্মিক বিশ্বাস গভীরভাবে শেকড় গেড়েছিল। জীববিজ্ঞানেও দখল ছিল ওর মা’র। ধর্মপ্রাণ মহিলা ছিলেন তিনি। বিবর্তনবাদও মানতেন। বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিকে তিনি যতটা মন থেকে বিশ্বাস করতে ভক্তি করতেন, ধর্মকেও সেরকম ভক্তি করতেন।
