জরুরি কিছু।
বিছানার আরেকপাশ থেকে দ্বিতীয় পেজার বেজে উঠল।
এটা ক্যাটের।
দুজনই উঠল, চোখে দুশ্চিন্তার ছায়া।
‘সেন্ট্রাল কমান্ড বোধহয়,’ বলল ক্যাট।
নিচ থেকে নিজের প্যান্ট ও পেজার তুলে নিল মনক। ক্যাটের ধারণা সঠিক।
মেঝেতে পা নামিয়ে তাড়াতাড়ি ফোনের কাছে গেল মনক। ক্যাট ওর পাশে বসল। চাদর দিয়ে ও নিজের উন্মুক্ত স্তন দুটোকে ঢেকে নিয়েছে। সেন্ট্রাল কমান্ডের সাথে কথা বলবে, তাই এই ভদ্রতা। হোক ফোনে, তাতে কী। সরাসরি সিগমা ফোর্সে ডায়াল করল মনক। ওপাশ থেকে সাথে সাথে ফোন রিসিভ হলো।
‘ক্যাপ্টেন ব্রায়ান্ট’ বললেন লোগান গ্রেগরি।
‘না, স্যার। আমি মনক কক্যালিস। তবে ক্যাট… ক্যাপ্টেন ব্রায়ান্ট আমার কাছেই আছেন।’
‘আমি তোমাদের দুজনকে জরুরি ভিত্তিতে কমাতে চাই।’ চটপট আসল কথা জানিয়ে দিলেন লোগান।
মাথা নেড়ে সায় দিল মনক। ‘আমরা এখুনি বেরোচ্ছি।’ ফোন কেটে দিল।
ক্যাটের চোখে চোখ পড়ল ওর। ক্যাট ভ্রু জোড়া কুঁচকে রেখেছে। ‘কী সমস্যা?’
‘বিরাট সমস্যা।
‘গ্রের কিছু হয়েছে?
‘না। আমি নিশ্চিত সে ঠিক আছে। প্যান্ট পরে নিল ও। হয়তো র্যাচেলের সাথে দারুণ সময় পার করছে।
‘তাহলে…?
‘ডিরেক্টর ক্রো। নেপালে কিছু একটা হয়েছে। বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। তবে প্লেগ টাইপের কিছু একটা হবে।’
‘ডিরেক্টর ক্রো কী রিপোর্ট করেছেন?
‘এপর্যন্তই করেছেন। তার সর্বশেষ রিপোর্ট ছিল তিন দিন আগের। কিন্তু ঝড় এসে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। তবে ওটা তেমন চিন্তার বিষয় ছিল না। কিন্তু আজ ঝড় থেমে গেছে অথচ এখনও তার কোনো খবর নেই। আর এখন গুজব শোনা যাচ্ছে প্লেগ, মৃত্যু আর এরচেয়ে কোনো বড় কিছু একটা হচ্ছে ওখানে। মাওবাদীদের হামলাও হতে পারে।
চোখ বড় বড় করল ক্যাট।
‘লোগান সবাইকে কমান্ডে ডেকেছেন।
বিছানা ছেড়ে নিজের পোশাকের দিকে এগোল ক্যাট। ‘ওখানে কী হতে পারে?
‘ভাল কিছু হচ্ছে না, সেটা নিশ্চিত।
.
সকাল ৯টা ২২ মিনিট।
কোপেনহ্যাগেন, ডেনমার্ক।
‘উপরে যাওয়ার কোনো রাস্তা আছে?’ গ্রে জিজ্ঞাসা করল।
বন্ধ গেটের দিকে অপলক তাকিয়ে আছে ফিওনা। গ্রে বুঝতে পারল মেয়েটি ঘটনার আকস্মিকতার ধাক্কা সামলে উঠতে পারেনি।
‘ফিওনা…’ মেয়েটির কাছে এগিয়ে এল গ্রে। নাকের সামনে নাক এনে ওর দৃষ্টিপথ ঢেকে দিল। ফিওনা, আগুন থেকে আমাদের পালাতে হবে।
ফিওনার পেছনে আগুনের তাণ্ডবলীলা দ্রুত বাড়ছে। আগুনের লেলিহান শিখাকে রসদ যোগাচ্ছে শুকনো কড়কড়ে বই আর বুকশেলফ। আগুনের শিখা উঁচু হয়ে সিলিং ছুঁয়ে ফেলেছে। ধোয়া পাকাচ্ছে ছাদের নিচে। অগ্নি নির্বাপক যন্ত্র থেকে পানি ছিটে বেরোচ্ছে ঠিকই কিন্তু একটু ধোয়া তৈরি করা ছাড়া কাজের কাজ কিছুই করতে পারছে না।
প্রতিবার নিঃশ্বাসের সাথে গরমের আঁচ বাড়ছে। ফিওনার হাত নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে গ্রে খেয়াল করল মেয়েটি কাঁপছে, পুরো শরীর কাঁপছে ওর। তবে হাত ধরায় মেয়েটি এবার ওর দিকে তাকাল।
‘উপর তলায় যাওয়ার কোনো সিঁড়ি আছে?
ফিওনা উপর দিকে চোখ মেলল। ধোয়ার চাদরে সিলিং আড়াল হয়ে গেছে।
‘কিছু পুরোনো রুম। একটা চিলেকোঠা…’
‘বেশ। আমরা ওখানে যেতে পারব?
প্রথমে ধীরে মাথা নাড়লেও পরে বিপদের হিসেব কষে জোরালোভাবে না-সূচক মাথা নাড়ল ও। ‘না। একটাই সিঁড়ি আছে আর ওটা…’ আগুনের দিকে নির্দেশ করল ফিওনা। ‘বিল্ডিঙের পেছন দিকে।
‘মানে–বাইরে?
মাথা নাড়ল ও। আগুনের লেলিহান দেয়াল আরও সামনে এগোতেই ওদের মাথার উপরে ছাইয়ের কুণ্ডলী এসে আঘাত হানল।
দাতে দাঁত পিষল গ্রে। উপরের রুমগুলো থেকে নিচতলাকে আলাদা করে দোকান বানানোর আগে নিশ্চয়ই ভেতরে একটি সিঁড়ির ব্যবস্থা ছিল। কিন্তু এখন নেই। পথ খুঁজে বের করতে হবে।
‘তোমাদের এখানে কোনো কুড়াল আছে? গ্রে প্রশ্ন করল।
ফিওনা মাথা নাড়ল।
‘ক্রোবার (ভারি জিনিস ভোলার জন্য বাঁকা প্রান্ত বিশিষ্ট লোহার দণ্ড) নেই? বক্স কিংবা ঝুড়ি খোলার মতো কিছু?
মাথা নাড়ল ও। ‘ক্যাশ রেজিস্টারের ওখানে।’
‘এখানে থাকো। হাতের বাঁ পাশে থাকা দেয়াল ঘেঁষে এগোল গ্রে। এদিক দিয়ে এগোলে তরতর করে সেন্ট্রাল ডেস্কে পৌঁছুনো যাবে। আগুন এখনও এদিকটীয় আসেনি।
গ্রে’র পিছু নিল ফিওনা।
‘আমি তোমাকে ওখানে থাকতে বলেছি।
‘ক্রোবারটা কোথায় আছে জানি আমি,’ গ্রের ওপর তেঁতে উঠল ও।
ফিওনার রাগের পেছনে লুকিয়ে থাকা ভয় টের পেল গ্রে। তবে কিছুক্ষণ আগে হতভম্ব হয়ে থাকা ফিওনার চেয়ে রাগী ফিওনা ঢের ভাল। তাছাড়া এরকম রাগী স্বভাব গ্রে’র সাথে যায় ভাল। মেয়েটি এর আগে পিছু নিয়েছিল, ওটা খারাপ হলেও এখন তো পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। অজ্ঞাত আততায়ী গ্রে’কে কোণঠাসা করে ফেলেছে। র্যাচেলের চিন্তা করতে করতে মিশন সম্পর্কে তুলনামূলক কম সজাগ ছিল গ্রে। যার ফলস্বরূপ এবার ওর জীবন হুমকির মুখে।
গ্রে’কে ধাক্কা দিল ফিওনা। ধোয়ায় বেচারির চোখ লাল হয়ে গেছে, কাশছে। ‘এই যে, এখানে।’ ডেস্কের পেছন থেকে সবুজ রঙের একটি স্টিলের বার বের করল ও।
‘চলো।‘ বাড়তে থাকা আগুনের দিকে এগোল গ্রে। নিজের উলের সোয়েটারের বিনিময়ে ক্রেবার নিল ও।
‘যন্ত্র থেকে ছিটে আসা পানিতে ভাল করে সোয়েটারকে ভিজাও।’ ক্রোবার দিয়ে উপরের অগ্নি নির্বাপক যন্ত্র দেখাল ও। এবং পারলে নিজেকেও ভিজিয়ে নাও।
