পর্যবেক্ষণ যথেষ্ট হয়েছে ভেবে ক্ষান্ত হলেন গ্রিট্টি। দীর্ঘশ্বাস ফেলে চোখ বন্ধ করলেন তিনি। একটু নরম হয়ে বললেন, আমি নিশ্চিত জানি না। তবে কিছু অনুমান করতে পারি।’
‘আপনি বলুন, আমি শুনছি।
‘যুদ্ধের পর খণ্ড খণ্ড করে বিক্রি হওয়া এক লাইব্রেরির সম্পর্কে খোঁজ নিতে সেই লোকটি এখানে এসেছিল। আজকের সন্ধ্যার নিলামে যে জিনিসগুলো উঠতে যাচ্ছে ওগুলোর খবরই চাচ্ছিল সে। হিউগো ডি ভ্রিসেস-এর ডায়েরি, গ্রেগর মেন্ডেল-এর পেপার এবং ম্যাক্স প্ল্যাঙ্কস-এর লেখা দুটো বই।
গ্রে জানে ওর নোটপ্যাডে এই একই তালিকা আছে। এই জিনিসগুলো সবার নজর কেড়েছে। কে কিনতে চায় ওগুলো? কেন কিনতে চায়?
‘এই পুরোনো লাইব্রেরি কালেকশন সম্পর্কে আরও কিছু জানাতে পারেন? এর শিকড় কোথায়? কোনো বিশেষ অর্থ বহন করে কি-না, এসব?
গ্রিট্টি উঠে তাঁর ফাইলগুলোর দিকে এগোলেন। ‘আমার বাবা ১৯৪৯ সালে কিনেছিলেন। ওটার মূল রিসিপ্ট আমার কাছে আছে। একটা গ্রাম আর ছোট এলাকার নাম দেয়া আছে ওতে। দাঁড়ান দেখি তো পাই কিনা।
পেছনের জানালা দিয়ে আসা সূর্যালোকের একটি বিম পেরিয়ে মাঝের ড্রয়ার খুললেন তিনি। ‘আমি আপনাকে মূল কপি দিতে পারব না। তবে ফিওনা আপনাকে এটা ফটোকপি করে দিলে খুশি মনে দেব।’
বয়স্কা মহিলা তার ফাইলের ভেতরে ডুবে যেতেই গ্রে’র পায়ের কাছ থেকে নাক তুলল বারটেল। কিছু একটা পেয়েছে সে। মৃদু স্বরে গরগর করে উঠল।
তবে ওটা গ্রে’র জন্য করেনি।
প্লাস্টিকের হাত মোজা পরে একটি হলুদ কাগজ তুলে ধরলেন গ্রিট্টি। ‘এই যে, পেয়েছি।
মহিলার হাতের দিকে না তাকিয়ে পায়ের দিকে মনোযোগ দিল গ্রে। সূর্যালোকের ভেতর দিয়ে ছোট্ট একটি ছায়া সুড়ৎ করে চলে গেল।
বসে পড়ুন!
সোফার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে বয়স্কা মহিলার দিকে এগোলো গ্রে।
ওর পেছনে গর্জে উঠল বারটেল। গ্লাস ভাঙ্গার আওয়াজ ওর গর্জনের নিচে প্রায় চাপা পড়ে যাচ্ছিল।
এখনো এগোচ্ছে গ্রে কিন্তু দেরি হয়ে গেছে। গ্রিট্টির কাছে পৌঁছুনোর আগেই রক্ত আর হাড়ের সম্মিলিত বিস্ফোরণে তার চেহারা বিলীন হয়ে গেল। গ্রিষ্টির পেছন থেকে গুলি ছুঁড়েছে স্নাইপার।
গ্রে তার শরীর ধরে সোফায় শুইয়ে দিল।
চিৎকার করে উঠল ফিওনা।
পেছনের জানালার কাঁচ ভাঙ্গার পাশাপাশি দুটো “ঠকাস” শব্দ হলো। কালো রঙের দুটো ক্যানিস্টার অফিস রুমে ঢুকে অপর প্রান্তের দেয়ালে আঘাত হানল। ড্রপ খাচ্ছে ওদুটো।
সোফা থেকে লাফিয়ে নামল গ্রে, কাঁধ দিয়ে ফিওনাকে আড়াল করল। অফিস। থেকে ফিওনাকে সরিয়ে এক কোণায় নিয়ে চলল ও।
ওদের পেছন পেছন খুড়িয়ে খুড়িয়ে এগোল বারটেল।
গ্রে ফিওনাকে বুককেসের পেছনে অর্ধেক ঢুকিয়েছে এমন সময় ক্যানিস্টার দুটো অফিস রুমে বিস্ফোরিত হলো। দেয়ালকে প্লাস্টারের মতো চুর্ণ করে দিল ওটা।
বুককেস লাফিয়ে উঠে পাশে হেলে পড়ল। ফিওনাকে নিজের নিচে নিয়ে ঢেকে ফেলল গ্রে।
বিভিন্ন কাগজপত্রে আগুন ধরে ওদের মাথার ওপরে ছাই হয়ে বৃষ্টির মতো পড়তে লাগল।
বৃদ্ধ কুকুরটিকে দেখল গ্রে। বেচারা পঙ্গু পা নিয়ে ধীরে ধীরে এগোচ্ছিল। বিস্ফোরণের ধাক্কা ওকে ওপাশের দেয়ালের ওপর নিয়ে আছড়ে ফেলেছে। নড়ছে না একটুও। ওর লোমে আগুন জ্বলছে দপদপ করে।
দৃশ্যটা যেন ফিওনার চোখে না পড়ে তাই ওদিকটা আড়াল করল গ্রে। ‘আমাদেরকে সরতে হবে।
হেলে পড়া বুককেসের নিচ থেকে হকচকিয়ে যাওয়া ফিওনাকে বের করল ও। আগুন আর ধোঁয়ায় দোকানের পেছনের অর্ধেক প্রায় ভরে গেছে। মাথার ওপরে অগ্নি নির্বাপক যন্ত্র থেকে পানি ঝরছে। দেরি হয়ে গেছে অনেক আর পরিমাণেও অল্প। এই আগুনকে থামানোর জন্য এতটুকু পানির ছিটা যথেষ্ট নয়।
‘সামনে চলো!’ তাড়া দিল শ্রে।
হোঁচট খেতে খেতে ফিওনাকে নিয়ে এগোল ও।
ওদের সামনে বাইরের সিকিউরিটি গেট ভেঙ্গে পড়ল। বন্ধ হয়ে গেল সামনের দরজা, জানালা। গেটের দু’পাশে অনেক ছায়ার আগাগোনা খেয়াল করল গ্রে। আরও অস্ত্রধারী আসছে।
গ্রে পেছনে তাকাল। দোকানের পেছনটা খুঁড়ো হওয়া দেয়াল, আগুন আর ধোঁয়ায় ভর্তি।
ফাঁদে আটকা পড়েছে ওরা।
.
রাত ১১টা ৫৭ মিনিট।
ওয়াশিংটন, ডি.সি.।
স্বর্গীয় সুখানুভূতি নিয়ে আধো ঘুমে ডুবে আছে মনক। বাথরুমের মেঝে থেকে শুরু হওয়া ভালবাসা ঠাই পেয়েছিল বিছানায়। প্রেমে মত্ত হয়ে উঠেছিল দু’জন। ফিসফিস করে উচ্চারিত কিছু শব্দ আর আলতো নরম ছোঁয়ায় ওরা সমৃদ্ধ হয়েছিল। চাদর ওদের দু’জনের নগ্ন শরীরকে ঢেকে রেখেছে। জড়াজড়ি ধরে শুয়ে আছে ওরা। এখন একে অপরকে ছাড়ার কোনো ইচ্ছেই নেই। শারীরিকভাবে নয়, কোনোভাবেই নয়।
ক্যাটের নগ্ন বুকের বাকে আস্তে করে আঙুল বুলাল মনক। ওর ছোঁয়ায় কামনার চেয়ে ভালবাসার স্পর্শ বেশি ছিল। ক্যাট ওর পা দিয়ে মনকের পায়ে আলতো করে স্পর্শ করল।
নিখুঁত সাড়া। নিখাদ ভালবাসা।
ওদের এই মাখামাখি অক্ষুণ্ণ থাকবে, কেউ ভাঙতে পারবে না…
হঠাৎ ওদের দুজনকে হকচকিত করে রুমের ভেতরে রিং বেজে উঠল।
বিছানার পাশ থেকে শব্দ আসছে। ওখানে প্যান্ট খুলে রেখেছে মনক। ঠিক খুলে নয় শরীর থেকে রীতিমতো হেঁচকা টান মেরে প্যান্টটি ওখানে রেখেছিল। মনকের পেজার এখনও প্যান্টের রাবারের কোমরের সাথে লাগানো রয়েছে। ওর মনে আছে, জগিং শেষ করে ফেরার পর যন্ত্রটিকে ভাইব্রেশন মোডে সেট করে রেখেছিল। তাহলে এভাবে রিং হওয়ার একটাই মানে হতে পারে।
