মাথা নাড়ল গ্রে। মহিলা ওকে পটানোর চেষ্টা করছে। এসব করছে যাতে ও নিলামে এই বাইবেল কিনতে যায়? বেশি মূল্য দিয়ে কেনে? তবে এই তথ্যগুলোকে গ্রে তার নিজের সুবিধার্থে কাজে লাগাতে পারে, সমস্যা নেই।
‘এজন্যই ফিওনা আমাকে ফলো করছিল?’ গ্রে প্রশ্ন করল।
গ্রিষ্টিকে একটু ক্লান্ত দেখাল। ওরকম কাজের জন্য আমি আবারও ক্ষমা চাচ্ছি। একটু আগে যেমনটা বললাম, ভিক্টোরিয়ান-যুগের এরকম একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিলের প্রতি অনেকেরই আগ্রহ আর আমাদের কমিউনিটিটাও ছোট। কালো বাজারিদের কথা তো আমরা সবাই জানি… তাই আরকী!
‘হ্যাঁ, আমিও গুজব শুনেছি।’ বিনয় দেখিয়ে বলল গ্রে। আরও তথ্য জানতে চায়।
‘অনেক ক্রেতা আছে যারা নিলামের মূল্য পরিশোধের ক্ষেত্রে কথা রাখে না, অবৈধভাবে টাকা দেয়, ভুয়া চেক দেয় ইত্যাদি। ফিওনা ওইদিক নিয়ে সতর্ক থাকার চেষ্টা করছে। কিন্তু মাঝে মাঝে ও অনেক বেশিদূরে চলে যায় যে কাছে থাকা জিনিসটাও দেখতে পায় না।’ নাতনির দিকে এক চোখের ভ্রু উঁচু করে তাকালেন তিনি।
ফিওনা হঠাৎ করে তার পুরো মনোযোগ মেঝেতে দিয়ে দিল।
‘এক ভদ্রলোক বছর খানেক আগে প্রায় এক মাসে আমার ফাইল-পত্র ঘেঁটে দেখেছেন ওটা আমাদেরই কি-না।’ দেয়ালে থাকা কেবিনেটের দিকে ইশারা করলেন তিনি। ডারউইন বাইবেলের টাকা পরিশোধের জন্য তিনি চুরি করা ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করতে চেয়েছিলেন।
‘তবুও আমাদের সতর্কতার অবলম্বন করা যাবে না, তাই না? খোঁচা মারল ফিওনা।
‘লোকটিকে চেনেন?
‘না, তবে আবার দেখলে চিনতে পারব। অদ্ভুত লোক, ফ্যাকাসে চেহারা।
ফিওনা আবার জ্বলে উঠল। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ওর পেছনে অনুসন্ধান করে নাইজেরিয়া থেকে সাউথ আফ্রিকা পর্যন্ত গিয়েছিল। তারপর শেষ। বেজন্মা হারামিটা পেছনে কোনো সূত্র ফেলে যায়নি।
ভ্রুকূটি করলেন গ্রিট্টি। ‘মুখের ভাষা সামলে কথা বলো, ফিওনা।’
‘তো ওরকম একজন বাজে লোকের পেছনে এত অনুসন্ধান করার কারণ?’ গ্রে প্রশ্ন করল।
আবারও মেঝেতে মনোযোগ দিল ফিওনা।
গ্রিট্টি চট করে নাতনির দিকে তাকালেন। ‘ওনার বিষয়টা জানার অধিকার আছে।’
‘মাট্টি…’ মাথা নাড়ল ফিওনা।
‘কী জানব?
ফিওনা একবার গ্রে’র দিকে তাকিয়ে দৃষ্টি সরিয়ে নিল। ও গিয়ে অন্য সবাইকে বলে দেবে। তখন আমরা অর্ধেক দাম পাব।’
এক হাত উঁচু করল গ্রে। “আমি সতর্ক থাকব।’
এক চোখ সরু করে গ্রে’কে পর্যবেক্ষণ করলেন গ্রিট্টি। কিন্তু আপনি কতখানি সত্যবাদী… সেটা নিয়ে আমার সন্দেহ আছে, ভ, সয়্যার।
দুই নারীর সামনে নিজেকে চোর চোর লাগল গ্রে’র। ওর ছদ্মবেশ কী এখনও টিকে আছে। দুই নারীর চোখা দৃষ্টি ওকে অস্বস্তিতে ফেলে দিয়েছে।
অবশেষে গ্রিট্টি মুখ খুললেন। ‘আপনার জানা উচিত। সেই লোক এখান থেকে পালানোর কিছু দিন পরেই দোকান ভেঙে কারা যেন ঢুকেছিল। কিছুই চুরি যায়নি তবে ডারউইন বাইবেল আমরা সাধারণত যে শোকেসে রাখি ওটা ভোলা হয়েছিল। কপাল ভাল, বাইবেলটি আমাদের জন্য অনেক মূল্যবান তাই রাতে ওটাকে মেঝের ভল্টে রেখেছিলাম। অ্যালার্মের আওয়াজ শুনে পুলিশ বেশ চটপট হাজির হয়ে তাদের পিছুও নিয়েছিল কিন্তু ডাকাতি করতে কারা এসেছিল সেটা রহস্যই থেকে গেল।’
‘ওই শালা…’ বিড়বিড় করল ফিওনা।
সেই রাত থেকে বাইবেলটিকে আমরা পাশের ব্যাংকের সেফ-ডিপোজিটে রাখি। এরপরও আমাদের এখানে গত বছর দুবার ডাকাতির চেষ্টা করা হয়েছিল। অ্যালার্ম অকেজো করে পুরো দোকান খোঁজা হয়েছিল তন্ন তন্ন করে।
কেউ একজন বাইবেলটিকে খুঁজছে।’ বলল গ্রে।
‘আমাদেরও তা-ই ধারণা।
গ্রে বুঝতে শুরু করল। অর্থের সংকট-ই শুধু মূল কারণ নয়, এরা বাইবেলের বোঝা থেকে নিজেদেকে হালকা করতে চাচ্ছে। কেউ একজন বাইবেলের পেছনে লেগেছে। সামনে হয়তো বাইবেলটিকে হাতানোর জন্য তারা আরও হিংস্র ও হন্য হয়ে উঠবে। বাইবেল হাত বদলের পর যে নতুন মালিকের কাছে যাবে এই হুমকি হয়তো তার ওপর গিয়েও পড়বে।
চোখের কোণা দিয়ে ফিওনাকে দেখে নিল গ্রে। মেয়েটি এপর্যন্ত যা যা করেছে সবই ওর নানুকে বাঁচানোর জন্য, ওদের আর্থিক দিক রক্ষার জন্য। গ্রে এখনও মেয়েটির চোখে আগুন দেখতে পাচ্ছে। মেয়েটি চায়, ওর নানু যেন কথা চেপে রাখে।
‘বাইবেলটি হয়তো আমেরিকার কোনো এক ব্যক্তিগত সংগ্রহে নিরাপদ থাকবে।’ বললেন গ্রিট্টি। এরকম সমস্যা হয়তো সাগর পেরিয়ে ওপারে পৌঁছাবে না।
মাথা নাড়ল গ্রে। টের পেল বাইবেল বিক্রি করার জন্য কথাগুলোর পেছনে তেল মাখানো আছে।
‘আচ্ছা, আপনি বুঝতে পেরেছেন কেন বাইবেলের পেছনে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা উঠে পড়ে লেগেছে? ও জিজ্ঞেস করল।
নাতনির পর এবার নানু প্রথমবারের মতো অন্যদিকে মনোযোগ দিলেন।
‘তথ্যটা পেলে বাইবেলটি আমার ক্লায়েন্টের কাছে হয়তো আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে।’ গ্রে জোর করল।
গ্রে’র দিকে চট করে তাকালেন গ্রিট্টি। কোনো একভাবে তিনি গ্রে’র কথার পেছনে লুকিয়ে থাকা মিথ্যের আঁচ করতে পেরেছেন। গ্রে’কে আবার পর্যবেক্ষণ করলেন। সত্য জানার চেষ্টা করছেন তিনি।
এমন সময় অফিসে বারটেল প্রবেশ করল। ডেস্কে থাকা কেটলির পাশে কয়েকটি কেক আছে ওগুলোর কাছ দিয়ে একবার নাক টেনে ঘুরে মেঝেতে ধপ করে বসল সে। ওর মুখের কিছু অংশ গ্রে’র বুটের ওপর রইল। দোকানে আগত অতিথির সাথে বেশ খাতির হয়ে গেছে ওর।
