‘Ja, মাট্টি! ক্রেতা আমেরিকান। ইংরেজিতে বল।’
‘Send ham ind paa mit kontor.’
‘মাট্টি তোমার সাথে তার অফিসে দেখা করবে।’ ফিওনা নামের মেয়েটি গ্রেকে দোকানের পেছনের দিকে পথ দেখিয়ে নিয়ে গেল। কুকুরটি তার সকালের কফি খাওয়া শেষ করছে। এবার সে গ্রে’র পিছু পিছু হাঁটা ধরল।
দোকানের মাঝখানে এসে একটি ছোট ক্যাশ-রেজিস্টার ডেস্কের পাশ দিয়ে এগোল ওরা। ডেস্কের ওপর সনি কম্পিউটার ও প্রিন্টার রাখা আছে। এই পুরাকীর্তি ধাচের দোকানে কম্পিউটার দেখে মনে হলো, যাক, তাহলে আধুনিকতার ছোঁয়া পৌঁছেছে এখানে।
‘আমাদের নিজস্ব ওয়েবসাইট আছে,’ গ্রে’র মনের কথা আন্দাজ করে বলল ফিওনা।
রেজিস্টার পেরিয়ে দোকানের পেছন দিকে খোলা দরজা দিয়ে একটি রুমে ঢুকল। তবে এটাকে অফিস না বলে ড্রয়িংরুম বলাই শ্রেয়। একটি সোফা, টেবিল আর দুটো চেয়ার আছে এখানে। রুমের এক কোণে থাকা ডেস্কটিকে অফিসিয়াল কার্যক্রম পরিচালনা করার চেয়ে গরম প্লেট আর চায়ের কেটলি রাখার কাজেই বেশি ব্যবহার করা হয় বলে মনে হলো। দেয়ালে এক সারি কালো কেবিনেট আছে। ওগুলোর ওপরে আছে একটি শিকঅলা জানালা। ওটা দিয়ে সকালের মিষ্টি আলো অফিস রুমে ঢুকছে।
বয়স্কা মহিলা উঠে দাঁড়িয়ে নিজের হাত বাড়িয়ে দিলেন। ‘ড, সয়্যার,’ এই মিশনে গ্ৰে যে ছদ্মনাম ব্যবহার করছে সেটা সমোধন করে বললেন তিনি। বোঝা গেল, ভদ্রমহিলা গ্রে’র ব্যাকগ্রাউন্ড চেক করে নিয়েছেন। ‘আমি গ্রিট্টি নেয়াল।’
মহিলার হাতের মুঠো বেশ শক্ত-পোক্ত। হালকা-পাতলা গড়ন, ত্বকের রং ফ্যাকাসে। তার শরীর স্বাস্থ্য দেখে আবারও প্রমাণিত হলো এই অঞ্চলের বাসিন্দাদের শরীর কতটা অদম্য, কতটা সুস্বাস্থ্যের অধিকারী এরা। গ্রে’কে একটি চেয়ারে বসার ইশারা করলেন তিনি। মহিলার আচরণ বেশ স্বাভাবিক, এমনকি তার পোশাকও; নেভি জিন্স, ফিরোজা রঙের ব্লাউজ আর কালো পাম্প স্যু। মাথার রুপোলি চুলগুলো সোজা করে চিরুণি করা। দেখে মনে হতে পারে তিনি খুব সিরিয়াস। কিন্তু চোখ দুটো হাসি হাসি।
‘আমার নাতনির সাথে আপনার দেখা হয়েছে। বেশ নিখাদ ইংরেজিতে বললেন গ্রিট্টি তবে তার উচ্চারণভঙ্গিতে ডেনিশের ছোঁয়া আছে। অবশ্য নাতনির এই সমস্যা নেই।
ফ্যাকাসে রঙের বয়স্কা মহিলা আর কালো মেয়েটির মধ্যে চোখ বুলাল গ্রে। এদের দু’জনকে দেখে মনে হচ্ছে না, এদের কোনো পারিবারিক সম্পর্ক আছে। তবে গ্রে এটা নিয়ে কোনো কথা বলল না। এরচেয়েও গুরুত্বপূর্ণ নিয়ে কথা বলতে হবে তাকে।
‘হ্যাঁ, দেখা হয়েছে।’ গ্রে জবাব দিলো। আসলে, আজকে আপনার নাতনির সাথে আমার দুবার দেখা হয়েছে।’
‘ওহ, ফিওনার এত কৌতূহলী স্বভাব একদিন সত্যিই ওকে বিপদে ফেলবে।’ হাসি দিয়ে রাগ আড়াল করে বললেন গ্রিট্টি। ‘আপনার ওয়ালেট ফিরিয়ে দিয়েছে তো?
গ্রে’র কপালে ভাঁজ পড়ল। পেছন পকেটে হাত দিয়ে দেখল, খালি।
নিজের প্যাকের সাইড পকেট থেকে গ্রে’র বাদামি রঙের চামড়ার ওয়ালেট বের করে দিল ফিওনা।
ওর হাত থেকে প্রায় ছিনিয়ে নিল গ্রে। ওর মনে পড়ল, একটু আগে মেয়েটির সাথে ধাক্কা খেয়েছিল। মাত্রাতিক্ত অভদ্রতা এটা।
‘আপনি বিষয়টাকে খারাপভাবে নেবেন না, প্লিজ,’ গ্রে’কে শান্ত করার জন্য বললেন গ্রিট্টি। আমার নাতনি এভাবেই “হ্যালো” বলে থাকে।
‘ওর সব আইডি চেক করেছি। কাঁধ ঝাঁকিয়ে বলল ফিওনা।
‘ফিওনা, তাহলে ওনার পাসপোর্টটাও ফিরিয়ে দাও।
নিজের আরেকট পকেট চেক করল গ্রে। নেই! ওহ খোদা!
কভারে আমেরিকান ঈগলের ছবিযুক্ত নীল রঙের ছোট্ট বইটি ওর দিকে ছুঁড়ে দিল ফিওনা।
‘শেষ? নাকি আরও আছে’? নিজেকে সামলে নিতে নিতে বলল গ্রে।
শ্রাগ করল ফিওনা।
‘নাতনির এরকম আচরণের জন্য আমি আবারও ক্ষমা চাচ্ছি। মাঝে মধ্যে ও একটু বেশিই সতর্কতা অবলম্বন করে।
ওদের দুজনের দিকে তাকাল গ্রে। ‘আচ্ছা, আপনারা দয়া করে বলবেন এখানে কী হচ্ছে?’
‘আপনি দ্য ডারউইন বাইবেল সম্পর্কে খোঁজ নিতে এসেছেন।’ বললেন গ্রিট্টি।
‘বাইবেল! দ্য বাইবেল! শুধরে দিল ফিওনা।
নাতনির দিকে মাথা নেড়ে সায় দিলেন ভদ্রমহিলা। মাঝেমাঝে জিহ্বা ফসকে যায়।
‘আমি একজন আগ্রহী ক্রেতার পক্ষ হয়ে কাজ করছি।’ বলল গ্রে।
‘হ্যাঁ। আমরা জানি সেটা। এও জানি, গতকাল সারাটা দিন আপনি নিলামে উঠতে যাওয়া অন্যান্য জিনিস সম্পর্কে খোঁজ-খবর নিয়ে কাটিয়েছেন, তাই না?”
বিস্ময়ে গ্রে’র ভ্রু উঁচু হয়ে গেল।
‘কোপেনহ্যাগেনে বইপড়য়াদের কমিউনিটিটা খুবই ছোট। আমাদের মধ্যে কথা খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
ভ্রুকূটি করল গ্রে। আরও সতর্ক হওয়া উচিত ছিল।
‘আপনার ওরকম খোঁজ-খবর নেয়ার ব্যাপারটা আমার ডারউইন বাইবেলটিকে নিলামে তোলার সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য সাহায্য করেছে। পুরো কমিউনিটি ভিক্টোরিয়ান যুগের বৈজ্ঞানিক গবেষণামূলক গ্রন্থের জন্য মুখিয়ে আছে এখন।’
‘বিক্রি করার জন্য এটাই ভাল সময়। কঠিন গলায় বলল ফিওনা। মনে হলো কোনো একটি যুক্তি-তর্কের ইতি টানল ও। ফ্ল্যাটের ইজারা এক মাস…’।
ওর কথা আর এগোল না। সিদ্ধান্তটা বেশ কঠিন ছিল। ১৯৪৯ সালে বাইবেলটি কিনেছিলেন আমার বাবা। ডারউইন পরিবারের পেছনে প্রথিতযশা চার্লস-পর্যন্ত মোট দশ প্রজন্মের নাম হাতে লেখা রয়েছে ওতে। কিন্তু বাইবেলটিতে ইতিহাসও আছে। এইচএমএস বিগলে চড়ে এক ব্যক্তি পৃথিবী ভ্রমণের কথা দিয়ে শুরু হয়েছে ওটা। আপনি এটা জানেন কি-না জানি না কিন্তু চালর্স ডারউইন একবার ক্যাথলিক যাজকদের কলেজে ঢুকেছিলেন। এই বাইবেলে আপনি ধার্মিক ও বিজ্ঞানী হিসেবে একই ব্যক্তির অবস্থান পাশাপাশি দেখতে পাবেন।
