বন্ধ করা হাই কমোডের ওপর বসে আছে ক্যাট। হাতের ওপর মাথা রেখেছে।
‘ক্যাথরিন…’
মাথা তুলে চাইল ও। মনকের এরকম অনুপ্রবেশে চমকে উঠেছে। মনক! দরজার খোলা অংশটুকু বন্ধ করার চেষ্টা করল।
পা দিয়ে দরজা ঠেকিয়ে দিল মনক। ‘তুমি তো বাথরুম ব্যবহার করছ না।’
‘শাওয়ারের পানি গরম হওয়ার জন্য অপেক্ষা করছিলাম।’
বাথরুমে ঢোকার সময় আয়নায় বাষ্প জমতে দেখেছে মনক। জেসমিনের সৌরভ ছড়িয়ে আছে বাথরুমের ভেতরে। ঘ্রাণটি মনকের ভেতরে থাকা আকুতিকে জাগিয়ে তুলল। ক্যাটের সামনে হাঁটু গেড়ে বসল ও।
ক্যাট পেছন দিকে হেলান দিল।
ক্যাটের দুই হাঁটুতে নিজের দু’হাত রাখল মনক। ওর চোখে চোখ রাখছে না ক্যাট, মাথা পেছন দিকে ঝুলিয়ে রেখেছে।
ওর হাঁটু একটু আলাদা করে ওদুটোর ভেতরে ঢুকল মনক। ঊরুর বাইরের অংশ দিয়ে হাত নিয়ে ক্যাটের পশ্চাৎদেশ জড়িয়ে ধরল। নিজের দিকে টেনে নিল ও।
‘আমি…’ শুরু করতে যাচ্ছিল ক্যাট।
‘তুমি আমার কাছে আসবে।’ ক্যাটকে উঁচু করে নিজের কোলে বসাল মনক। ও এখন দুই পা ফাঁক করে বসে আছে। ক্যাটের নিঃশ্বাস এসে পড়ছে ওর মুখে।
অবশেষে মনকের চোখে চোখ রাখল ও। “আমি… আমি দুঃখিত।
ক্যাটের আরও কাছে ঝুঁকল ও। ‘কীসের জন্য? দু’জন দুজনার ঠোঁটে ঠোঁট ঘষল।
‘আমার আরও সতর্ক হওয়া উচিত ছিল।’
‘আমি কোনো অভিযোগ করেছি বলে তো মনে পড়ছে না।”
‘কিন্তু এরকম ভুল…’
‘চুপ।’ ওকে শক্ত করে চুমো খেল মনক। রাগে নয়, ওকে নিশ্চিত করতে। আর কখনও এ-কথা বলবে না। ওদের দুই জোড়া ঠোঁটের মাঝে মনক উচ্চারণ করল।
ক্যাট ওর ওপর মোমের মতো গলে পড়ল। মনকের গলা প্যাচিয়ে ধরল ওর দুই হাত। ওর চুল থেকে জেসমিনের সৌরভ আসছে। আমরা কী করতে যাচ্ছি?
‘আমি হয়তো সবকিছু জানি না তবে তোমার প্রশ্নের উত্তরটা জানি।
একবার গড়ান দিয়ে ক্যাটকে নিজের নিচে একটি ভোয়ালের ওপর রাখল ও।
“ওহ,’ বলল ক্যাট।
.
সকাল ৭টা ৫৫ মিনিট।
কোপেনহ্যাগেন, ডেনমার্ক।
ছোট্ট অ্যান্টিকশপটির বিপরীতে থাকা একটি ক্যাফেতে বসে আছে গ্রে। রাস্তার ওপাশে থাকা ভবনটিকে পর্যবেক্ষণ করছে।
জানালায় লেখা রয়েছে SJAELDEN BOGER, দুষ্প্রাপ্য বই। লাল টাইলের ছাদযুক্ত দোতলা ভবনের দোতলায় এই বইয়ের দোকানের অবস্থান। প্রতিবেশীদের কাছে ভবনটি বেশ পরিচিত। বিত্ত-বৈভবের কমতি থাকায়, শহরের এদিকটা আধুনিকায়ন হয়নি। উপর তলার জানালায় তক্তা মারা রয়েছে। এমনকী স্টিলের উপ গেট বসিয়ে দোতলায় থাকা দোকানটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।
দোকান এখন বন্ধ।
দোকান খোলার অপেক্ষায় আছে গ্রে। তরল হারশিস’র বারের মতো পুরু ডেনমার্কের হট চকোলেটে চুমুক দিতে দিতে ভবনটিকে আরও ভাল করে পর্যবেক্ষণ করছে ও। তক্তা মারা জানালা ছাড়িয়ে দৃষ্টি মেলল গ্রে। ভবন পুরোনো হয়ে গেলেও এর পুরোনো সৌন্দর্য এখনও বজায় আছে। দোতলার খাম বাইরে বেরিয়ে গেছে, ছাদের এক ঢালু অংশে জমে আছে অনেকদিনের জমাট বাঁধা বরফ, ছাদের পলেস্তরা প্যাঁচার চোখের মতো কুতকুতে দৃষ্টিতে বাইরে উঁকি দিচ্ছে। এমনকি এককালে জানালার নিচে রাখা ফুলের বাক্স রাখার ফুটোও গ্রে’র নজরে পড়ল।
গ্রে মনে মনে ভবনটিকে তার অতীত সৌন্দর্যে সাজাতে চেষ্টা করল। ইঞ্জিনিয়ারিং ও সৌন্দর্যের মিশেলে এটা একধরনের মানসিক অনুশীলন।
কল্পনা করতে করতে করাতের ভোর গন্ধ পর্যন্ত নিতে পারছে গ্রে।
শেষ জিনিসটি ওর কল্পনার জাল ছিঁড়ে ফেলল। অনাহুত এক স্মৃতি এসে ঝেটিয়ে বিদায় করল কল্পনাগুলোকে। ওর বাবার কাঠের গ্যারেজ ছিল, স্কুল শেষ করে ওখানে তার সাথে কাজ করত গ্রে। ওখানে ওরা দুজন একসাথে হওয়ার পর ছোট কথা দিয়ে পরিস্থিতি খারাপ হলেও সেটা শেষ হতো অনেক কঠিন ও তিক্ত শব্দ দিয়ে। যেটা মেনে নেয়া অনেক কষ্টের ছিল। সেই তিক্ততার ফলস্বরূপ হাই স্কুল ছেড়ে মিলিটারিতে যোগ দিতে হয়েছিল গ্রে’কে। পরবর্তীতে অনেক দিন পর বাপ-বেটা একে অপরের সাথে ভাল মুখে কথা বলা রপ্ত করতে পেরেছে। দু’জনের ভিন্নতাগুলোকে মেনে নিয়ে মিলগুলো গ্রহণ করতে শিখেছে ওরা।
এখনও গ্রে’কে ওর মায়ের একটি প্রশ্ন তাড়া করে বেড়ায়। বাপ-বেটার মধ্যে এত অমিল থাকা সত্ত্বেও এখন দুজনের মধ্যে মিল হলো কীভাবে। এতদিন পরে এসে কেন গ্রে’র এই প্রশ্ন মনে আসছে? মাথা ঝাঁকিয়ে চিন্তার মেঘকে দূরে ঠেলে দিল ও।
কল্পনার রথ থামিয়ে ঘড়ি দেখল গ্রে। আজকের দিন নিয়ে বেশ চিন্তিত। ইতোমধ্যে নিলাম অনুষ্ঠানে ঢোকার সামনের ও পেছনের অংশে দুটো ক্যামেরা বসিয়ে এসেছে ও। এবার ওর কাজ হচ্ছে বাইবেলের মালিকের সাথে কথা বলে জিনিসটি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য জেনে নেয়া। এই কাজগুলো শেষ হলেই ও র্যাচেলের সাথে একটা লম্বা ছুটি কাটাতে যাবে।
র্যাচেলের হাসিমুখের কথা মনে পড়তেই কাঁধ শিথিল হয়ে গেল গ্রে’র। গলায় থাকা নটে ঢিল পড়ল।
অবশেষে রাস্তার অপর পাশে একটি ঘণ্টা বেজে উঠল। দোকানের দরজা খুলে গেল, সরতে শুরু করল নিরাপত্তা গেট।
গ্রে আরও সোজা হয়ে বসল। দোকান যে খুলছে তাকে দেখে অবাক হয়েছে ও। বিণুনি করা কালো চুল, আরবদের মতো তামাটে রং, কাঠবাদামের মতো চওড়া চোখের অধিকারিণী দোকান খুলছে। এই মেয়েটি ওকে তখন ফলো করছিল। এমনকি এখনও সে ওই একই সোয়েটার-জ্যাকেট আর সবুজ ব্যাগ নিয়ে রয়েছে।
