ওকে যে গার্ডটা ইভটিজিং করেছিল সে একটু গুঙিয়ে উঠতেই টেজার দিয়ে শক দিলো ফিওনা।
ও এখন যেখানে লুকিয়ে আছে কণ্ঠগুলো সেদিকেই আসছে।
ফিওনা ভয় পাচ্ছে।
গ্রে কোথায়? একঘণ্টা হয়ে গেল তার কোনো খবর নেই।
ফিওনার দরজার দিকে এগোল দুজন। তাদের একজনের কণ্ঠস্বর ফিওনা চেনে। সাদাচুলওয়ালি কুত্তীটার কষ্ঠ ওটা। কুত্তীটা ওর হাতের তালু কেটে দিয়েছিল। ইসকি ওয়ালেনবার্গ। ইসকি আর তার সাথের জন ডাচ ভাষায় কথা বলছে। ফিওনা এই ভাষা খুব ভাল করেই বোঝে।
.. কি কার্ড, রেগে বলল ইসকি। যখন পড়ে গিয়েছিলাম যখন হয়তো হারিয়ে ফেলেছি।
সমস্যা নেই, custer, তুমি এখন নিরাপদ।
uster, অর্থাৎ বোন। তাহলে ইসকির সাথে যে ব্যক্তি আছে সেটা তার ভাই।
নিরাপত্তার খাতিরে আমরা কোড চেঞ্জ করে দেব, বলল ইসাক।
কেউ এখনও ওই দুই আমেরিকান আর মেয়েটাকে খুঁজে পায়নি?
এস্টেটের সব সীমান্তে আমরা দ্বিগুণ গার্ড বসিয়েছি। আমি নিশ্চিত ওরা এখনও নিচেই আছে। খুঁজে বের করে ফেলব। আর হ্যাঁ, দাদু একটা চমক রেখেছেন।
কেমন চমক?
এস্টেট থেকে কেউ যাতে প্রাণ নিয়ে ফিরতে না পারে সেটা নিশ্চিত করেছেন তিনি। মনে আছে, ওরা যখন প্রথম এসেছিল তখনই উনি সবার ডিএনএ স্যাম্পল রেখে দিয়েছিলেন।
হেসে উঠল ইসকি। হাসি শুনে ফিওনার রক্ত ঠাণ্ডা হয়ে গেল। কণ্ঠ দুটো আস্তে আস্তে দূরে সরে যাচ্ছে।
এসো। সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামতে নামতে বলল ইসাক। দাদু আমাদেরকে নিচে যেতে বলেছেন।
ওরা দুজন সিঁড়ির গোড়ায় গিয়ে থেমে গেছে। দরজায় কান পেতে ফিওনা বুঝতে পারল কিছু একটা নিয়ে তর্ক করছে ভাই-বোন। তবে যা শোনার ফিওনা তা শুনে ফেলেছে।
এস্টেট থেকে কেউ প্রাণ নিয়ে ফিরতে পারবে না। কী পরিকল্পনা করেছে ওরা? ইসকির ঠাণ্ডা হাসির আওয়াজ এখনও ওর কানে বাজছে। সন্তুষ্টি ও আনন্দের হাসি। তারা যা-ই পরিকল্পনা করে থাকুক না কেন সেটা হয়তো সফল হতে যাচ্ছে। কিন্তু ডিএনএ স্যাম্পল দিয়ে কী করবে তারা?
ফিওনা জানে, উত্তরটা জানার মাত্র একটাই উপায় আছে। গ্রে কখন ফিরবে না ফিরবে সেটা ও জানে না। এদিকে হাত থেকে সময় চলে যাচ্ছে। সামনে কী বিপদ আসছে সেটা যদি জানা সম্ভব হয় তাহলে হয়তো… ওরা সেটাকে এড়িয়ে যেতে পারবে।
তার মানে রাস্তা এখন একটাই।
টেজার পকেটে ঢুকিয়ে পালকযুক্ত ঝাড় বের করল ও। দরজার নব ঘুরিয়ে তালা খুলল। রাস্তায় থাকা অবস্থায় ও যা যা শিখেছিল এই মিশনে সেইসব দক্ষতার প্রয়োজন হবে। আজকের মতো এতটা একা ওর কখনওই লাগেনি। তাই খুব বেশি ভয় হচ্ছে। দরজা খুলে বাইরে বের হলো ফিওনা। চোখ বন্ধ করে প্রার্থনা করল। না, ঈশ্বরের কাছে নয়। যে ওকে শিখিয়েছিলেন সাহস কীভাবে ধরে রাখতে হয়, কীভাবে ত্যাগ স্বীকার করতে হয়, তার কাছে প্রার্থনা করল।
মাট্টি..
গ্রিট্টি নেয়ালকে খুব মিস করে ও। অতীতের গোপন কাহিনির কারণে মহিলার প্রাণ গেল আর এখন নতুন গোপন কাহিনি ফিওনাসহ বাকিদের জীবনকে হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে। বেঁচে থাকতে হলে ফিওনাকে তার মতো সাহসী ও নিঃস্বার্থ হতে হবে।
সিঁড়ির গোড়া থেকে কণ্ঠস্বরগুলো সরে গেল।
আস্তে করে সামনে পা বাড়াল ফিওনা। ঝাড়কে সামনে ধরে রেখেছে। ল্যান্ডিং বেলকুনিতে আসতেই দুই যমজের সাদাচুল ওর নজরে পড়ল। এখান থেকে ওদের কথা শোনা যাচ্ছে।
দাদুকে অপেক্ষা করিয়ো না। বলল ইসাক।
আমি এখুনি আসছি। স্কাল্ডকে দেখে আসি। দেখি ও ওর ঘরে ফিরে গেছে কি না। ও খুব উত্তেজিত। হতাশার ফলে হয়তো নিজেই নিজের ক্ষতি করে ফেলবে।
একই কথা তোমার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য, বোন।
আরেকটু সামনে এগোল ফিওনা। ইসকি তার বোনের গাল স্পর্শ করেছে। বাড়াবাড়ি রকমের ঘনিষ্ঠ।
ভাইয়ের হাতের দিকে গাল বাড়িয়ে দিলো ইসকি, তারপরেই আবার সরিয়ে নিলো। আমি বেশিক্ষণ সময় নেব না।
মাথা নেড়ে ইসাক সেন্ট্রাল লিফটের দিকে পা বাড়াল। ঠিক আছে, আমি দাদুকে জানিয়ে রাখছি। সে একটা বাটন চাপতেই দরজা খুলে গেল।
ভিন্ন দিকে এগোল ইসকি। মূল ভবনের পেছনের দিকে।
ফলো করার জন্য ফিওনা দ্রুত পা চালাল। পকেটে থাকা টেজার আকড়ে ধরল ও যদি কুত্তীটাকে একলা পাওয়া যায়, তাহলে হয়তো কথা বলানো যাবে…
সিঁড়ির ধাপগুলো দ্রুত নেমে এসে থামল ফিওনা। এখান থেকে আরও সাবধানে এগোতে হবে। ইসকি সেন্ট্রাল হলের দিকে এগোচ্ছে। দেখে মনে হচ্ছে মূল ভবনের একদম ভেতর দিয়ে চলে গেছে ওটা।
মাথা নিচু করে দূর থেকে ফলো করল ও। ঝাড়টাকে এমনভাবে হাতে রেখেছে যেন ও একজন নান আর ঝাড়টা হলো বাইবেল। ছোট ছোট করে পা ফেলছে ও, কাজের মেয়েরা এভাবেই পা ফেলে থাকে। ৫টা সিঁড়ির একটা সেট পার হলো ইসকি, তারপর আর একজোড়া গার্ড পার হওয়ার পর হলওয়ের বা দিকে চলে গেল।
জোড়া গার্ডদের দিকে এগোল ফিওনা। গতি বাড়িয়ে দিলো, যেন ওর কাজে খুব তাড়া আছে। এখনও ওর মাথা নিচু করা আছে। সাইজে বড় মেইডের ইউনিফর্ম রয়েছে পরনে।
গার্ড দুজন ওকে পাত্তাই দিলো না। ভেবেছে ইসকির পর পর যেহেতু মেয়েটা যাচ্ছে তাহলে নিশ্চয়ই কোনো কাজ আছে। তাই সেটা নিয়ে তাদের কোনো মাথাব্যথা নেই। সামনে হলে গিয়ে ফিওনা দেখল সব ফাঁকা।
থামল ও।
ইসকি গায়েব।
একই সাথে স্বস্তি ও ভয় ওকে গ্রাস করল।
