খারাপের এখানেই শেষ নয়… মারশিয়া ফাঁকাসে হয়ে গেছেন। ওয়ালেনবার্গদের…
গ্রে তাকে থামিয়ে দিলো। যথেষ্ট শোনা হয়েছে। আরও অনেক কিছু সার্চ করতে হবে। আমাদের এগোতে হবে।
কম্পিউটারের দিকে তাকালেন মারশিয়া, উঠতে ইচ্ছে করছে না। তবুও মাথা নেড়ে উঠে দাঁড়ালেন তিনি। দৈত্যাকার ল্যাব থেকে বেরিয়ে হলের পথ ধরল ওরা। পরের দরজায় লেখা রয়েছে : foetussen, ফিটাল ল্যাব। কোনো জায়গায় না থেমে গ্রে এগিয়ে চলল। ভেতরের ভয়াবহ কাহিনি জানার কোনো শখ নেই ওর।
তারা এরকম ফলাফল হাসিল করছে কীভাবে? মারশিয়া প্রশ্ন করলেন। মিউটেশন, সফল কিইমিরা…? নিশ্চয়ই কোনো না কোনো উপায়ে তারা জেনেটিক রূপান্তরটাকে নিয়ন্ত্রণ করছে।
হতে পারে, বিড়বিড় করল গ্রে। কিন্তু এটা নিখুঁত নয়… এখনও নয়।
হিউগো হিরজফিক্তের প্রতীকগুলোর কথা মনে পড়ল ওর। ওগুলোর ভেতরে তিনি কোড লুকিয়ে রেখেছেন। এবার ও বুঝতে পারল ব্যালড্রিক কেন ওই কোডের জন্য এতটা উন্মাদ হয়েছেন। ওই কোডের মধ্যে নিখুঁত হওয়ার উপায় লুকোনো আছে। সেটা এতই সুন্দর যে মেরে ফেলা সম্ভব না, আবার এতটাই দানবীয় যে মুক্ত করে দেয়াও অসম্ভব।
আর এখানে ব্যালড্রিক সাহেব দানবদের ব্যাপারে কোনো ভয়ই পাচ্ছেন না। পাবেন কেন? দানবগুলোকে তো তিনি নিজের পরিবারের সদস্য বানিয়ে ফেলেছেন। এবার শুধু হিউগোর কোডটা ভাঙতে হবে। কোড ভাঙার পর ব্যালড্রিক এরপর কী করবেন? তার ওপর সিগমা ফোর্স এখন তার পিছু নিয়েছে। আর এজন্যই তিনি এখন পেইন্টার ক্রোর খবর জানার জন্য উদগ্রীব হয়ে উঠেছেন।
আরেকটা দরজার কাছে পৌঁছুলো ওরা। দরজার ওপাশে থাকা রুমটাও নিশ্চয়ই বিশাল হবে। ফিটাল ল্যাব থেকে এটার দূরত্ব দেখে সেরকমটাই মনে হচ্ছে। দরজার উপরে থাকা নামটা খেয়াল করল গ্রে।
জেরাম-৫২৫।
মারশিয়ার দিকে তাকাল ও।
সেরাম নয়।
জেরাম, বোঝার ভুল ছিল বুঝতে পেরে মাথা নাড়লেন মারশিয়া।
চুরি করা কার্ড গ্রে ব্যবহার করল। সবুজ বাতি জ্বলে খুলে গেল তালা। দরজায় ধাক্কা দিয়ে ভেতরে ঢুকল ও। দপদপ করেলাইট জ্বলে উঠল। উঠল রুমের বাতাসে ক্ষার ও ওজোনের গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। রুমের মেঝে আর দেয়ালগুলো কালো রঙের।
সীসা। দেয়াল স্পর্শ করে বললেন মারশিয়া।
কথাটা গ্রের কাছে সুবিধের মনে হলো না। তবুও ওকে আরও জানতে হবে না। ভেতরটা দেখে মনে হচ্ছে বিপজ্জনক পদার্থ রাখার কোনো এক স্টোরেজ এটা। রুমের ভেতর পর্যন্ত তাক সাজানো রয়েছে। হলুদ রঙের দশ গ্যালন ড্রাম রাখা আছে ওগুলোতে। প্রত্যেকটার গায়ে ৫২৫ ছাপ দেয়া।
প্রাণনাশকারী এজেন্ট সম্পর্কে নিজের সন্দেহের কথা ভাবল গ্রে। কিংবা এমনও তো হতে পারে, এতে বিস্ফোরক পদার্থ আছে, নিউক্লিয়ার বর্জ্যও তো হতে পারে? পুরো রুম সীসা দিয়ে ঘিরে রাখার মানে কী?
মারশিয়া একটু আগ্রহী হয়ে তাকগুলোর পাশ দিয়ে এগিয়ে যেতে শুরু করলেন। প্রত্যেকটা তাকে লেবেল লাগানো আছে। এছাড়াও ড্রামের গায়ে নাম লেখা আছে। পড়লেন তিনি, আলবেনিয়া… পরের ড্রামের পাশে থামলেন। আর্জেন্টিনা…
অক্ষর অনুযায়ী বিভিন্ন দেশের নাম লেখা আছে।
তাকগুলোর দিকে তাকাল গ্রে। এখানে কম করে হলেও ১০০টা ড্রাম আছে।
মারশিয়া ওর দিকে তাকালেন। এবার গ্রে বুঝতে পেরেছে কেন মারশিয়া আগ্রহী হয়ে উঠেছিলেন।
ওহ নো…
রুমের ভেতরে দ্রুত এগোল গ্রে। একটু পর পর তাকের লেবেল পড়ার জন্য থামছে। বেলজিয়াম,… ফিনল্যান্ড… গ্রিস…
দৌড়ে চলল ও।
অবশেষে যেটা খুঁজছিল সেটা পেয়ে গেল।
আমেরিকা।
ওয়াশিংটন ডি.সি.-তে হামলা সম্পর্কে মারশিয়া কিছু একটা শুনেছিলেন। গ্রে ড্রাম ভরা তাকগুলো দেখল। হুমকির মুখে শুধু ওয়াশিংটনই নয়, আরও অনেক দেশ আছে। পেইন্টার ক্রো ও সিগমা ফোর্সকে নিয়ে ব্যালড্রিকের মাথাব্যথা আছে। কারণ সিগমা তাঁকে বাধা দেয়ার ক্ষমতা রাখে।
সেজন্য ব্যালড্রিক নিশ্চয়ই তাঁর টাইম-টেবিল বদলে ফেলেছেন।
যে তাকের গায়ে আমেরিকা লেখা আছে সেটা খালি পড়ে রয়েছে।
জেরাম-৫২৫-এর ড্রামটা সেখানে নেই।
.
সকাল ৭ টা ৪৫ ইএসটি।
জর্জটাউন ইউনিভার্সিটি হাসপাতাল,
ওয়াশিংটন, ডি.সি,।
ইটিএ অন মিডস্টার? প্রশ্ন করল রেডিও অপারেটর। হাসপাতালের টাচস্ক্রিন প্রোগ্রামের সাথে ওয়্যারলেস হেডসেট নিয়ে বসে আছে সে।
হেলিকপ্টার থেকে জবাব এলো৷ আসছি, আর দুই মিনিট।
ইআর আপডেট জানতে চাচ্ছেন। অ্যাম্বাসি এলাকায় গোলাগুলির ঘটনা সবাই জেনে গেছে। কাজে লেগে পড়েছে দেশের নিরাপত্তা বাহিনী। সতর্ক ও হুশিয়ারি সংকেত জারি করা হয়েছে পুরো শহরে। সব জায়গায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।
অ্যাম্বাসির মেডিক্যাল পার্সন জানিয়েছেন ঘটনাস্থলে তাদের দুজন আক্রান্ত হয়েছে। দুজনই সাউথ আফ্রিকান। তাদের মধ্যে একজন অ্যাম্বাসেডর স্বয়ং। সেইসাথে দুইজন আমেরিকানও আক্রান্ত হয়েছে।
তাদের কী অবস্থা?
একজন মৃত… আরেকজনের অবস্থা গুরুতর।
১৪. মেনাজিরি
দুপুর ১টা ৫৫ মিনিট।
সাউথ আফ্রিকা।
দরজায় কান পাতলো ফিওনা। হাতে টেজার নিয়ে প্রস্তুত। দোতলার ল্যান্ডিঙে কণ্ঠস্বর শোনা যাচ্ছে। ভয় পেল ও। গত চব্বিশ ঘণ্টায় একের পর এক ঘটনার পর ওর যতটুকু সহ্যশক্তি ছিল সেটা এখন একদম শেষপ্রান্তে পৌঁছে গেছে। ওর হাত কাঁপতে শুরু করল, শ্বাস-প্রশ্বাসের গতি বেড়ে গেছে।
