তা নাহয় বুঝলাম, তারা অনেক ভাল ভাল কাজ করে, কিন্তু তার মানে এই নয়…
লোগ্যানকে থামিয়ে দিয়ে এই প্রথমবারের মতো মুখ খুলল ক্যাট। আপনি একটু আগে কী বললেন? সোনার ঘষ্টা? অর্থাৎ, গোন্ড বেল?
ক্যাটের দিকে তাকালেন অ্যাম্বাসেডর। হ্যাঁ, স্যার ব্যালড্রিক ওয়ালেনবার্গ এই উপহার দিয়েছেন সবাইকে। একশটা সোনার বেল। আমাদের এখানে যে বেলটা আছে সেটাকে আবাসিক ভবনের পাঁচ তলায় বসানো হয়েছে।
লোগ্যান আর ক্যাটের মধ্যে চোখাচোখি হয়ে গেল।
আমরা কী সেটা দেখতে পারি? বলল ক্যাট।
কথার মোড় হঠাৎ এভাবে ঘুরে যাওয়ার কারণে অ্যাম্বাসেডর কিছুটা হতভম্ব হয়ে গেছেন। তবে না করার মতো উপযুক্ত কারণ তিনি খুঁজে পেলেন না। ক্যাট মনে মনে ভাবল, তিনি হয়তো ভাবছেন, ওয়ালেনবার্গদেরকে নিয়ে আলোচনা করার চেয়ে বেল দেখানোই ভাল এবং সহজ।
আপনাদেরকে দেখাতে পারলে আমি বরং খুশিই হব। উঠে দাঁড়িয়ে হাতঘড়ি দেখলেন তিনি। আমাদেরকে একটু দ্রুত করতে হবে। সকালের নাস্তা করতে করতে আমাকে আরেকটা মিটিং সেরে নিতে হবে। দেরি হলে বিপদ।
ক্যাটও মনে মনে এরকমটাই ভাবছিল। হাউরিগ্যান এখন বেল দেখানোর উসিলায় কথাবার্তা এখানেই শেষ করে দিতে চাচ্ছেন। এদিকে স্করপিয়ন সম্পর্কে কোনো কথাও তিনি দিলেন না। চোখ-মুখ শক্ত করে ক্যাটের দিকে তাকালেন লোগ্যান। ক্যাট আশা করল ওর সিদ্ধান্ত যেন ভুল না হয়।
লিফটে চড়ে ভবনের সবচেয়ে উঁচুতলায় চলে এলো ওরা। হলওয়ে পার হওয়ার পর বিশাল একটা হল পড়ল সামনে। থাকার জায়গার চেয়ে এটাকে জাদুঘর বললেই বেশি মানাবে। ডিসপ্লে ক্যাবিনেট, লম্বা টেবিল, বড় বড় সিন্দুকসহ বিভিন্ন জিনিস আছে এখানে। একসারি জানালা আছে, ওগুলো দিয়ে পেছনের বাগানের ওপর চোখ বুলিয়ে নেয়া যায়। এক কোণায় একটা বিশাল ঘন্টা ঝুলছে। সোনার তৈরি। গোল্ডেন বেল। বেলটাকে দেখে মনে হচ্ছে এটা একদম আনকোরা নতুন। লম্বায় পুরো এক মিটার। মুখ আর চওড়ায় হবে আধ মিটার। সাউথ আফ্রিকার প্রতীকস্বরূপ কোট অভ আর্মস খোদাই করা আছে বেলের গায়ে।
কাছে এগোল ক্যাট। একটা মোটা পাওয়ার ক্যাবল বেলের মাথার ওপর থেকে বেরিয়ে মেঝেতে প্যাচানো অবস্থায় পড়ে রয়েছে।
ক্যাটকে উদ্দেশ্য করে অ্যাম্বাসেডর বললেন, দিনের নির্দিষ্ট একটা সময়ে এটা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বেজে উঠবে। ইঞ্জিনিয়ারিঙের এক দারুণ নিদর্শন। যদি বেলের ভেতরে তাকান তাহলে দেখতে পাবেন ভেতরে অনেক গিয়ার ও কলকজা আছে। একটা রোলেক্স ঘড়িতে যেরকম থাকে অনেকটা সেরকম।
লোগ্যানের দিকে ফিরল ক্যাট। লোগ্যানের মুখ শুকিয়ে গেছে। অ্যানা শোরেনবার্গ মূল বেল-এর যে ছবি এঁকে পাঠিয়ে ছিল সেটা তিনি দেখেছেন। এই সোনার বেল সেই ছবির সাথে হুবহু মিলে যাচ্ছে। দুটো বেল থেকেই রেডিয়েশন বেয়োয় সন্দেহ নেই। পাগলামো আর মৃত্যু। উপরে থাকা একটা জানালার দিকে তাকাল ক্যাট। এই উচচতা থেকে ক্যাপিটোলের সাদা গম্বুজ ছাড়া আর কিছু ওর চোখে পড়ল না।
অ্যাম্বাসেডর একটু আগে যে কথাগুলো বলেছেন সেগুলো আতঙ্ক সৃষ্টি করল এখন।
পুরো পৃথিবীতে… ১০০টা সোনার বেল।
এটা সেট করতে স্পেশাল টেকনিশিয়ান লেগেছে, বললেন অ্যাম্বাসেডর। তার কণ্ঠে বিরক্তির সুর পাওয়া যাচ্ছে, হয়তো মিটিং খুব শীঘ্রই শেষ করে দেবেন। সেই টেকশিয়ান বোধহয় এখানেই কোথাও আছে।
ওদের পেছনে থাকা দরজাটা খুলে গেল। একটু জোরেই খুলেছে সেটা।
তিনজন ঘুরল সেদিকে।
এই যে, চলে এসেছে, বললেন হাউরিগ্যান। কিন্তু তার কণ্ঠস্বর দমে গেল যখন তিনি দেখতে পেলেন আগন্তুকের হাতে একটা সাব-মেশিন গান শোভা পাচ্ছে। তার চুলগুলো ধবধবে সাদা। রুমের অপর প্রান্তে দাঁড়িয়েও ক্যাট তার অস্ত্র ধরে থাকা হাতের কালো ট্যাটুটা দেখতে পেল।
গোড়ালিতে থাকা হোলস্টারের দিকে হাত বাড়াল ক্যাট।
কোনো কথা না বলে আততায়ী গুলি ছুঁড়তে শুরু করল।
কাঁচ ও কাঠের গায়ে এসে মুখ খুঁজতে শুরু করল বুলেট।
বুলেটের ছিটে আসা টুকরো ওর পেছনে থাকা সোনার বেলের গায়ে এসে লাগায়। বেলটা ঢং ঢং করে বাজতে শুরু করল।
.
দুপুর ১২টা ৪৪ মিনিট।
সাউথ আফ্রিকা।
ভূগর্ভস্থ লেভেল সাতে এসে খুলে গেল লিফটের দরজা। গ্রে বেরিয়ে এলো লিফট থেকে, হাতে রাইফেল। ধূসর হলওয়ের দুদিকে চোখ বুলাল ও। ফ্লোরেসেন্ট লাইটে আলোকিত হয়ে আছে হলওয়ে। দেয়ালগুলো ধূসর রঙের, ছাদ বেশ নিচু। ইলেকট্রনিক লকগুলোর আলো মসৃণ স্টিল দরজাগুলোর গায়ে প্রতিফলিত হচ্ছে। এছাড়া অন্য যেসব দরজা আছে ওগুলো একদম সাধারণ।
একটা দরজার ওপর হাতের তালু রাখল গ্রে।
কম্পন অনুভূত হলো। ছন্দময় গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে।
পাওয়ার প্লান্ট? আকারে নিশ্চয়ই বড় হবে।
মারশিয়া ওর পাশে এসে দাঁড়ালেন। আমরা বোধহয় অনেক নিচে চলে এসেছি, ফিসফিস করে বললেন তিনি, স্টোরেজ (সংরক্ষণ কেন্দ্র) এবং ইউটিলিটি (পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাস সরবরাহ কেন্দ্র বলে মনে হচ্ছে এটাকে।
গ্রে তাঁর সাথে একমত। তারপরও…
লক করা একটা স্টিলের দরজাকে পাশ কাটাল গ্রে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, তারা কী স্টোর করছে?
দরজার ওপরে লেখা আছে: embryonaal.
ভ্রূণ সংক্রান্ত ল্যাব, মারশিয়া অনুবাদ করে শোনালেন।
চারদিকে সতর্ক নজর রেখেছেন তিনি। হাতের ব্যান্ডেজটা একটু সরাতেই তার মুখ কুঁচকে গেল।
