মুখে সাহসী কথা বললেও ফিওনার চোখে ভয়ের ছায়া দেখা গেল।
আমরা বেশি সময় নেব না, কথা দিলো গ্রে।
না নিলেই ভাল।
ফিওনার সাথে কথা শেষ করে নিজের রাইফেল তুলে নিলো গ্রে। ড. ফেয়ারফিল্ডকে দরজার দিকে এগোতে ইশারা করে বলল, চলুন, যাওয়া যাক।
কয়েক মুহূর্ত পর দেখা গেল, মারশিয়ার দিকে রাইফেল তাক করে রেখে গ্রে তাঁকে কেন্দ্রীয় লিফটের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। ওদেরকে কেউ বাধা দিলো না। ভূগর্ভস্থ লেভেলে ঢোকার সময় একটা চেক পোস্ট পড়ল। ইসকির পকেট থেকে চুরি করা ২য় কার্ডটা ব্যবহার করল গ্রে। চেক পোস্টের লাল আলো নিভে সবুজ আলো জ্বলে উঠল।
কোথা থেকে শুরু করব সে-সম্পর্কে আপনার কোনো ধারণা আছে?
গুপ্তধন যত বড় হয় সেটা মাটির তত গভীরে সুকোনো থাকে। বললেন মারশিয়া। ভূগর্ভস্থ লেভেলের সবচেয়ে শেষ লেভেল অর্থাৎ ৭ম লেভেলের বাটনে চাপ দিলেন তিনি। লিফট নিচ দিকে নামতে শুরু করল।
নিচে নামতে নামতে মারশিয়ার কথাগুলো গ্রের মাথায় ঘুরতে লাগল।
একটা হামলা। সম্ভবত ওয়াশিংটনে হবে।
কিন্তু প্রশ্ন হলো–হ্যামলাটা কীরকম? কোন ধরনের?
.
সকাল ৬ টা ৪১ ইএসটি।
ওয়াশিংটন, ডি.সি.।
ন্যাশনাল মল থেকে অ্যাম্বাসির দূরত্ব মাত্র ২ মাইল। গাড়িতে করে সাউথ আফ্রিকান অ্যাম্বাসির দিকে এগোচ্ছে ওরা। লোগ্যানের সাথে গাড়ির পেছনের সিটে বসেছে ক্যাট। ফাইনাল নোটগুলোর ওপর চোখ বুলিয়ে নিচ্ছে। সূর্য উঠেছে বেশিক্ষণ হয়নি। দেখতে দেখতে অ্যাম্বাসি (দূতাবাস) এসে গেল।
অ্যাম্বাসি ভবন চারতলা। অ্যাম্বাসির আবাসিক শাখার দিকে এগোল ড্রাইলার। এত সকালে অ্যাম্বাসেডর (রাষ্ট্রদূত) ওদের সাথে তার ব্যক্তিগত স্টাডিতে দেখা করার জন্য রাজি হয়েছে। ওয়ালেনবার্গদেরকে নিয়ে তিনি একটু গোপনে আলোচনা করতে চান।
এ বিষয়ে অবশ্য ক্যাটের কোনো আপত্তি নেই।
ওর গোড়ালির গাঁটের হোলস্টারে পিস্তল রাখা আছে।
গাড়িতে থেকে বেরিয়ে ক্যাট লোগ্যানের জন্য অপেক্ষা করল। ওদের গাড়িকে দেখে সামনের দরজা খুলে দিলো ভোরম্যান।
সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবে লোগ্যান সামনে থেকে নেতৃত্ব দিলেন। তারচেয়ে দুকদম পেছনে থেকে এগোল ক্যাট। পথের দিকে সতর্ক নজর রেখেছে সে। ওয়ালেনবার্গদের টাকার গরম অনেক বেশি। তারা যে টাকা দিয়ে কাকে কাকে কিনে রেখেছে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। তাই ক্যাট এখানকার কাউকেই বিশ্বাস করে না… এমনকী স্বয়ং অ্যাম্বাসেডর জন হাউরিগ্যানকেও নয়।
চওড়া হলে ঢুকল ওরা। নেভি বিজনেস স্যুট পরিহিত একজন সেক্রেটারি ওদেরকে স্বাগত জানাল।
অ্যাম্বাসেডর হাউরিগ্যান একটু পরেই নিচে চলে আসবেন। আমি আপনাদেরকে স্টাডিতে নিয়ে যাব। ততক্ষণ পর্যন্ত কী খাবেন? চা? কফি?
লোগ্যান ও ক্যাট দুজনই মাথা নাড়ল। কিছুই খাবে না।
কিছুক্ষণ পর সেক্রেটারি ওদেরকে স্টাডিরুমে নিয়ে এলো। ডেস্কের পাশে বসলেন লোগ্যান। ক্যাট দাঁড়িয়ে রইল। তবে ওদেরকে বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হলো না।
দরজা খুলে হালকা-পাতলা গড়নের লম্বা একজন ব্যক্তি রুমে প্রবেশ করলেন। তার মাথার চুলের রঙ বাদামি-সাদা। তার কাছে নেভি স্যুট থাকলেও সেটা গায়ে না পরে তিনি হাতে রেখেছেন। ক্যাট সন্দেহ করল অ্যাম্বাসেডরের এরকম আনঅফিসিয়াল ও বন্ধুত্বপূর্ণ হাবভাব পুরোটাই মেকি। তিনি বোঝাতে চাচ্ছেন এটা তার বাসায় একটা ব্যক্তিগত মিটিং মাত্র।
ক্যাট অবশ্য এসবে পটলো না।
লোগ্যান পরিচয়পর্ব সারতে সারতে রুমটাকে পর্যবেক্ষণ শুরু করল ক্যাট। ইন্টেলিজেন্স সার্ভিসে কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে ও আন্দাজ করতে পারছে, এই রুমে এখন যা যা কথাবার্তা হবে সেটা রেকর্ড করা হচ্ছে কোথাও। রেকর্ডারটা কোথায় লুকোনো আচ্ছে সেটাই খুজছে ক্যাট।
অ্যাম্বাসেডর সাহেব চেয়ারে বসার পর বললেন, ওয়ালেনবার্গ এস্টেট সম্পর্কে আপনারা জানতে এসেছেন… আমি তো সেরকমটাই শুনেছি। তো বলুন, আপনাদেরকে কীভাবে সাহায্য করতে পারি?
আমরা মনে করছি তাদের কোনো লোক জার্মানিতে কিডন্যাপিঙের সাথে জড়িত।
অ্যাম্বাসেডর জন হাউরিগ্যানের চোখ বড় বড় হয়ে গেল। এরকম অভিযোগ শুনে। আমি আশ্চর্য হলাম। জার্মান বিকেএ, ইন্টারপোল কিংবা ইউরোপোল থেকে তো এরকম খবর আসেনি।
আমাদের সোর্স একদম নিখাদ, জোর দিয়ে বললেন লোগ্যান। আমরা চাচ্ছি আপনাদের স্করপিয়ন যেন আমাদেরকে সাউথ আফ্রিকায় সাহায্য সহযোগিতা করে।
ক্যাট খেয়াল করে দেখল অ্যাম্বাসেডর তাঁর চেহায়ায় বিষণ্ণতা ফুটিয়ে তোলার ভান করলেন। সাউথ আফ্রিকার স্করপিয়ন আমেরিকার এফবিআই-এর মতো। সাহায্য করবে না সেটা জানা কথা। লোগ্যানের আসল চাওয়া হলো, সিগমার কাজে যেন স্করপিয়নরা কোনো বাধা না দেয়। ওয়ালেনবার্গদের মতো বিত্তবান ও ক্ষমতাশালীদের সাথে তো আপসে কিছু করা সম্ভব না তাই স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনী যেন সিগমার মিশনে কোনো বাধা না দেয় সেই চেষ্টা করা হচ্ছে। আপাতদৃষ্টিতে এই বাধা না
দেয়ার বিষয়টা বেশ ছোট বলে মনে হলেও এর প্রভাব অনেক বড়।
ক্যাট বসেনি, এখনও দাঁড়িয়ে আছে। দুই ব্যক্তির লড়াই দেখছে ও… দুজনই একে অপরের কাছ থেকে সর্বোচ্চ ফায়দা লোটার মতলবে ব্যস্ত।
দেখুন, ওয়ালেনবার্গরা অনেক সম্ভ্রান্ত পরিবার। আন্তর্জাতিক, সরকারি পরিমণ্ডলে তারা বেশ সম্মানিত। বিভিন্ন ত্রাণ, দাঁতব্য সংস্থা ও অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের সাথে তারা জড়িত। এছাড়াও সম্প্রতি তারা তাদের উদারতার নিদর্শনস্বরূপ পৃথিবীর সব জায়গায় অবস্থিত সাউথ আফ্রিকান অ্যাম্বাসিতে সোনার তৈরি ঘন্টা উপহার দিয়েছে। সাউথ আফ্রিকায় প্রথম সোনার কয়েন চালু করার শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে এই মহাযজ্ঞ।
