দরজায় পেইন্টারের আবির্ভাব ঘটল। মনককে বলল, ক্যাট লাইনে রয়েছে…।
দ্রুত উঠল মনক। আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখে নিলো হেলিকপ্টার আছে কি না। তারপর পেইন্টারকে পাশ কাটিয়ে স্যাটেলাইট ফোনটা তুলে নিলো। মাউথপিসটা হাত দিয়ে ঢেকে বলল, বস, আমার মনে হয় ড. লিসাকে কেউ সঙ্গ দেয়া উচিত।
চোখ মটকাল ক্রো। চোখ দুটো লাল হয়ে রয়েছে। হাত দিয়ে চোখ ঢেকে লিসার দিকে এগোল ও।
ওকে যেতে দেখার পর মনক ফোনে কথা শুরু করল। হেই, বেবি!
আমাকে বেবি বলবে না! আফ্রিকাতে কী করছ তুমি, হুম?
মনক হেসে ফেলল। ক্যাটের কপট রাগ ওর কানে মধুর মতো মনে হলো। তবে প্রশ্নটা কিন্তু সে ঠিকই করেছে। নিশ্চয়ই ক্যাট জেনে ফেলেছে বিষয়টা।
তুমি বলেছিলে এই মিশনটা নাকি অনেক সহজ? বলল ক্যাট।
অপেক্ষা করল মনক। বেচারির রাগগুলোকে বের হওয়ার সুযোগ দিলো।
বাসায় আসো। তোমাকে আমি তালা মেরে আটকে…
আরও মিনিট খানেক বকা-ঝকা করল সে।
মান-অভিমান পর্ব শেষ হওয়ার পর মনক জবাবে বলল, আমিও তোমাকে অনেক মিস করেছি, বাবু।
আহ্লাদে পাত্তা না নিয়ে ক্যাট দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, আমি শুনলাম গ্রেকে নাকি এখনও পাওয়া যায়নি।
আশা করি, সে ভাল আছে।
ওকে খুঁজে বের করো। যে-কোনোভাবে হোক খুঁজে বের করো।
বিষয়টার সাথে মনকও একমত। ক্যাট পরিস্থিতি বুঝতে পেরেছে। তাই সাবধানে থাকতে হবে, হেন তেন এসব কোনো প্রমিজ চায়নি। এরপর ক্যাট যে শব্দগুলো বলল তার সাথে কান্নার আওয়াজও শোনা গেল।
আই লাভ ইউ।
যে-কোনো পুরুষকে সাবধান হওয়ার জন্য এই শব্দগুলোই যথেষ্ট।
আই লাভ ইউ, টু। গলা নিচু করে বলল, তোমাদের দুজনকেই ভালবাসি।
বাসায় আসো।
অবশ্যই আসব, পারলে ঠেকাও!
এবারও ক্যাট আহ্লাদে পাত্তা দিলো না। লোগ্যান আমাকে তাড়া দিচ্ছে। ফোন রাখব। ৭টার সময় সাউথ আফ্রিকান অ্যাম্বাসির সাথে আমাদের একটা অ্যাপয়েন্টমেন্ট আছে। দেখি আমরা এখান থেকে কোনো চাপ প্রয়োগ করতে পারি কি-না।
ফাটিয়ে দাও, বেবি!
দেব, বাই, মনক।
ক্যাট, আমি… কিন্তু লাইন ততক্ষণে কেটে গেছে। ধুর।
ফোন রেখে লিসা আর পেইন্টারের দিকে তাকাল মনক। সামনে ঝুঁকে কথা বলছে। দুজন। মনক খেয়াল করে দেখল, কথা বলার জন্য এতটা না ঝুঁকলেও চলতো। ফোনের দিকে তাকাল ও। যা-ই হোক, ক্যাট তো নিরাপদে আছে।
.
দুপুর ১২ টা ৩৭ মিনিট।
ওরা আমাকে নিচের একটা সেল রুমে নিয়ে যাচ্ছিল, বললেন ড. মারশিয়া। আরও জিজ্ঞাসাবাদ করতো। কিছু একটা ওদেরকে দুশ্চিন্তায় ফেলে দিয়েছে।
ড. মারশিয়াকে উদ্ধার করে ওরা দোতলার ল্যান্ডিঙে চলে এসেছে। ফিওনাকে যে গার্ডটা ইভটিজিং করেছিল সে এখনও অজ্ঞান হয়ে পড়ে রয়েছে, রক্ত ঝরছে নাক থেকে।
ড. ফেয়ারফিল্ড অল্পকথায় তার কাহিনি শোনালেন। কীভাবে ওয়ালেনবার্গদের পোষা প্রাণী তার ওপর হামলে পড়েছিল, টেনে-হেঁচড়ে এনেছিল… সব বললেন তিনি। ওয়ালেনবার্গরা কোনো এক উৎস থেকে জানতে পেরেছিল মারশিয়া ব্রিটিশ ইন্টেলিজেন্সের সাথে যুক্ত। তাই তারা সিংহ কর্তৃক আক্রমণ-এর নাটক সাজিয়ে তাকে কিডন্যাপ করে আনে। তার শরীরের ক্ষতগুলো এখনও ফুলে রয়েছে। আমি ওদেরকে বোঝাতে সক্ষম হয়েছিলাম–আমার সাথে যে সঙ্গী ছিল সেই গেম ওয়ার্ডেন দানবের আক্রমণে মারা গেছে। বেচারা হয়তো আক্রমণের ঘটনাটা বাইরের দুনিয়ায় পৌঁছে দিতে পেরেছিল।
আচ্ছা। কিন্তু ওয়ালেনবার্গরা কী লুকোচ্ছে? জানতে চাইল গ্রে। কী করছে তারা?
মাথা নাড়লেন মারশিয়া। ম্যানহ্যাটন প্রজেক্টের ভয়ঙ্কর সংস্করণ করছে হয়তো। এরচেয়ে বেশি কিছু আমি জানি না। তবে আমার ধারণা আরও কিছু করছে ওরা। এই প্রজেক্টের পাশাপাশি অন্য একটা পার্শ্বপ্রজেক্ট আছে। সেটা কোনো হামলা হতে পারে। আমি গার্ডদেরকে বলতে শুনেছি। সেরাম নামের কিছু একটা নিয়ে ওরা কথা বলছিল। জেরাম-৫২৫, এরকম কিছু একটা বলছিল ওরা। এই বিষয়ে কথা বলতে বলতে ওরা ওয়াশিংটন ডি.সি-এর নামও উচ্চারণ করেছিল।
গ্রে ভ্রু কুঁচকাল। কোনো টাইমটেবিল সম্পর্কে শুনতে পেরে ছিলেন?
না। কিন্তু ওদের কথা বলার ধরন আর হাসাহাসি দেখে আন্দাজ করতে পারছি যা হওয়ার সেটা হতে খুব বেশি দেরি নেই। শীঘ্রই হবে।
থুতনিতে হাত বুলাতে বুলাতে পা চালাল গ্রে। সেরাম… এটা হয়তো কোনো প্রাণনাশকারী কোনো এজেন্ট… রোগবালাই… কিংবা ভাইরাসও হতে পারে… মাথা ঝকাল ও। খুব দ্রুত আরও তথ্য লাগবে ওর।
আমাদেরকে বেসমেন্টে থাকা ল্যাবগুলোতে ঢুকতে হবে, গ্রে বিড়বিড় করল। দেখতে হবে ওখানে কী হচ্ছে।
ওরা আমাকে শিবিরে নিয়ে যাচ্ছিল, বললেন মারশিয়া।
গ্রে বিষয়টা বুঝতে পেরে মাথা নাড়ল। আমি যদি আপনার একজন গার্ডের বেশ ধরে যাই, তাহলে হয়তো নিচে সুবিধে করতে পারব।
দ্রুত করতে হবে। ওরা হয়তো ভাবছে আমার আসতে এত দেরি হচ্ছে কেন।
ফিওনার দিকে ফিরল গ্রে। তর্ক সামাল দেয়ার জন্য প্রস্তুত আছে ও। ফিওনা যদি এই রুমের কোথাও লুকিয়ে থাকে সেটাই নিরাপদ হবে। তাছাড়া বন্দী ও গার্ডের পাশে একজন মেইডের উপস্থিতি দৃষ্টিকটু ও অপ্রয়োজনীয়। তাতে বরং অন্য গার্ডদের সন্দেহ দেখা দেবে।
আমি জানি! কাজের মেয়েদের কোনো দাম নেই, গ্রেকে চমকে দিয়ে বলল ফিওনা। পা দিয়ে গার্ডটাকে গুতো মারল ও। তুমি ফিরে না আসা পর্যন্ত আমি এই হারামিটাকে দেখে রাখব।
