এখানে সিকিউরিটি একটু ঢিলে হলেও বাইরে কোনো ফোন রাখেনি কেউ। ইসকির কি কার্ড ব্যবহার করে মূল ভবনের পেছন দিক দিয়ে ঢুকল ওরা। কয়েকটা ফোন পরীক্ষা করল গ্রে। সংযোগ পেতে হলে কোড করা সিকিউরিটি নেটের ভেতর দিয়ে যেতে হবে। আর ওই নেট দিয়ে কথা বলতে যাওয়া মানেই নিজেদের অস্তিত্ব। প্রকাশ করে দেয়া।
হাতে বিকল্প রাস্তা একদম কম।
লুকিয়ে পড়া যেতে পারে। কিন্তু তারপর? শেষপর্যন্ত কী হবে? কে জানে, কবে 1 কিংবা কখন মনক এখানকার খবর নিয়ে বাইরের দুনিয়ায় পৌঁছুতে পারবে? তাহলে পা আরও হিসেব করে ফেলতে হবে এখন। প্রথমেই এই অট্টালিকার নকশা দরকার। তার মানে দাঁড়াচ্ছে, নিচ তলায় থাকা সিকিউরিটির ডেরায় হানা দিতে হবে। অস্ত্র বলতে গ্রের কাছে আছে একটা সাইডআর্ম আর ফিওনার পকেটে একটা হ্যান্ড টেজার।
সামনে হলের শেষপ্রান্তে বেলকুনিতে একজন সেট্রিকে দেখা যাচ্ছে। অটোমেটিক রাইফেল নিয়ে মূল প্রবেশপথ পাহারা দিচ্ছে সে। গ্রে সেই সেন্ট্রির দিকে লম্বা লম্বা পা ফেলে এগোতে শুরু করল।
লোকটা বেশ লম্বা, চেহারার হাবভাবে শুকরের সাথে মিল আছে, বেশ লোভী বলে মনে হলো। মাথা নেড়ে সিঁড়ির দিকে এগোল গ্রে। ফিওনা ওকে অনুসরণ করল।
সবঠিক আছে। কোনো গোলমাল হলো না।
হঠাৎ লোকটা ডাচ ভাষায় কী যেন বলল। গ্রে কথাগুলো বুঝতে পারল না তবে একটু ভয় পেল। নিচুস্বরের হাসিও শোনা গেল কথার শেষে।
একটু ঘাড় ফিরিয়ে পেছনে ফিরল গ্রে। দেখল, গার্ডটা ফিওনার পাছায় হাত দিয়ে চিমটি দিচ্ছে। কনুই ধরার জন্য বাড়িয়ে দিয়েছে আরেক হাত।
ফিওনার সাথে এরকম আচরণ করা মোটেও উচিত হয়নি।
গার্ডের দিকে ফিরল ফিওনা। সর, হারামজাদা!
ওর স্কার্ট লোকটার হাঁটুর সাথে ঘষা খেল। পকেট থেকে নীল রঙের ঝলসানির কী যেন বের করে লোকটার উরুতে ঠেসে ধরল ও। চিৎকার করে লোকটা পিছু হটল।
গার্ড আছড়ে পড়ার আগেই গ্রে তাকে ধরে ফেলল। শরীরটাকে টেনে নিয়ে পাশের একটা রুমে রাখল ও। মেঝেতে শুইয়ে রশি দিয়ে বেঁধে রাখল।
ওরকম করলে কেন? ফিওনাকে প্রশ্ন করল।
পেছনে গিয়ে গ্রের পাছায় শক্ত করে চিমটি কাটল।
অ্যাই! ফিওনার চিমটি খেয়ে গ্রে পেছন ফিরল।
কেমন লাগল তোমার? রাগে ফিওনা অগ্নিশর্মা হয়ে আছে।
কথা সত্য। তারপরও গ্রে বলল, কিন্তু বারবার এই বেজন্মাদেরকে তো বেঁধে রাখা আমার পক্ষে সম্ভব না।
দুই হাত আড়াআড়ি রেখে দাঁড়াল ফিওনা। ওর চোখে একই সাথে ভয় ও রাগ দুটোই দেখা যাচ্ছে। অবশ্য সে এই মেয়েটার এরকম আচরণের জন্য দোষারোপও করতে পারছে না। নিজের চোখের ঐর ওপর জমা ঘাম মুছল গ্রে। এখন ওদের লুকিয়ে পড়াটাই ভাল হবে। বাকিটা সময়ই বলে দেবে।
গ্রের রেডিও ঘড়ঘড় করে উঠল। মনোযোগ দিয়ে শোনার চেষ্টা করল ও। সিঁড়িতে ওরা যে ঘটনা ঘটিয়েছে সেটা কারও চোখে পড়ে যায়নি তো? রেডিওতে যা শুনতে পাচ্ছে সেটার অনুবাদ করল ও, … বন্দীকে… মূল দরজায় নিয়ে আসো…
আরও কথা হচ্ছে কিন্তু আসল কথা ঘ্নে শুনে ফেলেছে।
বন্দী!
তার মানে একটাই হতে পারে।
মনককে ওরা ধরে ফেলেছে… ভয়ে ফিসফিস করল গ্রে।
আড়াআড়ি করে রাখা হাত দুটো ফিওনা এখন সোজা করল, বেচারি এখন সিরিয়াস।
চলো, দরজার দিকে এগোল গ্রে। ধরাশায়ী হওয়া গার্ডের কাছ থেকে রাইফেলটা নিলো ও।
সিঁড়ির দিকে যাচ্ছে ওরা। নিচে নামতে নামতে গ্রে ফিওনাকে প্ল্যানটা শুনিয়ে দিলো। এই সিঁড়ি ধরে ওরা নিচের হলের মূল প্রবেশপথে যাবে। নিচ তলা ফাঁকা, সামনে খোলা জায়গাও আছে।
পলিশ করা মেঝের ওপর দিয়ে পা ফেলে এগোচ্ছে ওরা। ওদের পা ফেলার শব্দ প্রতিধ্বনিত হচ্ছে।
সামনের খোলা অংশের দিকে এগোল গ্রে। একটা পালকযুক্ত ডাস্টার তুলে নিলো ফিওনা। ওর ছদ্মবেশটা আরও মজবুত হলো এবার। দরজার এক পাশে দাঁড়াল ফিওনা। হাতে রাইফেল নিয়ে অন্যপাশে গ্রে দাঁড়াল।
মনকের সাথে এখন কতজন গার্ড আছে?
তবে যা-ই হোক, ও জীবিত আছে এটাই বড় কথা।
মূল প্রবেশপথে থাকা ধাতব শাটার উঁচু হতে শুরু করল। নিচু হয়ে ঝুঁকে পা গুনল গ্রে। ফিওনাকে দুই আঙুল দেখাল। সাদা জাম্পস্যুট পরিহিত বন্দীর সাথে দুজন গার্ড আছে।
পুরো শাটার খোলার পর গ্রেকে দেখা গেল।
গার্ড দুজন দেখতে পেল ওদের মতোই একজন হাতে রাইফেল নিয়ে দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। ওরা সতর্ক হওয়ার কোনো প্রয়োজনবোধ করল না। এমনকি খেয়ালও করল না গ্রের হাতে টেজার আছে অন্যদিকে ফিওনাও প্রস্তুত।
মুহূর্তের মধ্যে হামলা হয়ে গেল।
দুই গার্ডের মাথায় আচ্ছামতো কষিয়ে পাখি মারল গ্রে। যতটুকু জোরে মারার দরকার ছিল তারচেয়েও জোরে মেরে ফেলেছে। গার্ডদের ওপর ওর অনেক রাগ, রাগটুকু এখন আর নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি। পাখির ভেতর দিয়ে উগরে দিয়েছে সেটা।
কিন্তু বন্দী তো মনক নয়।
পাশের ক্লোজেটে একটা গার্ডকে রেখে আসতে আসতে গ্রে প্রশ্ন করল, কে আপনি?
ধূসর চুলের অধিকারিণী মহিলাটি তার এক হাত দিয়ে আরেক গার্ডের ব্যবস্থা করতে ফিওনাকে সাহায্য করছে। তাকে দেখতে যেরকম মনে হয় আদতে সে তারচেয়েও শক্তিশালী। তার বাঁ হাতে ব্যান্ডেজ দেয়া। কাঁধে বাঁধা অবস্থায় ঝুলছে সেটা। চেহারার বামপাশটায় অনেক খামচির দাগ দেখা যাচ্ছে। কিছু একটা তাকে আক্রমণ করেছিল। এই ক্ষতগুলো ছাড়া সে একদম ঠিক আছে। আত্মবিশ্বাসী চোখ নিয়ে গ্রের দিকে তাকাল সে।
