ডারপার নির্মিত এই কৃত্রিম হাতে আরেকটি সুবিধা আছে।
এটা ওয়্যারলেস। অর্থাৎ, তারবিহীনবিচ্ছিন্ন অবস্থায় কাজ করতে সক্ষম।
মনক আর ওর কৃত্রিম হাতের মধ্যে রেডিও সিগন্যাল আদান-প্রদান হয়ে গেছে। যার ফল স্বরূপ কৃত্রিম হাতটি ইসাকের হাতে থাকা অবস্থাতেই সক্রিয় হয়ে উঠল।
ঘুষি দেয়ার মতো করে মুষ্টিবদ্ধ করেছে ওটা।
তবে শুধু মধ্যমা আঙুল খোলা রেখেছে।
মর শালা, বিড়বিড় করল মনক।
মনকের কনুই ধরে জোড়া দরজার উদ্দেশ্যে গ্রে সুইংডোরের দিকে এগোল। ওটা দিয়ে মূল ভবনে যাওয়া যাবে।
বিস্ফোরণটা খুব বেশি বড় নয়… একটা উচ্চস্বরে ফাটা ফ্ল্যাশ গ্রেনেডের চেয়ে বেশি হবে না। হাতের বাইরের দিকের কব্জির অংশ থেকে বিস্ফোরণটা ঘটেছে। তবে সেটা জানা না থাকলে বোঝা অসম্ভব। বিস্ফোরণের ফলে গার্ডদের মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটানো গেছে। চমকে উঠে হাঁক-ডাক ছাড়ছে তারা। জোড়া দরজা দিয়ে বেরিয়ে গেল মনক ও গ্রে। প্রথম মোড় ধরে এগোলো ওরা। এখন পেছন থেকে ওদেরকে সরাসরি দেখা সম্ভব নয়। কাঠের মেঝের ওপর দিয়ে ধুপধাপ করে দৌড়াচ্ছে দুজন।
ঘটনা ঘটতে না ঘটতেই অ্যালার্ম বেজে উঠল, সুর শুনেই বোঝা যাচ্ছে জরুরি তলব করা হচ্ছে ওটা দিয়ে।
পালাতে হবে ওদের, যত দ্রুত সম্ভব।
গ্রে খেয়াল করে দেখল একটি চওড়া সিঁড়ি ওপর দিকে উঠে গেছে। মনকে সাথে নিয়ে ওদিকে চলল ও।
আমরা কোথায় যাচ্ছি? মনক জানতে চাইল।
উপরে… উপরে… সিঁড়িতে একসাথে দুইধাপ করে ডিঙাতে ডিঙাতে বলল গ্রে। সিকিউরিটির লোকজন আশা করবে ওরা ধারে কাছে থাকা কোনো দরজা কিংবা জানলার দিকে যাবে। তাদেরকে ধোকা দিতেই গ্রে সিঁড়ি বেয়ে উঠছে। পালানোর বিকল্প রাস্তা জানা আছে ওর। এই ভবনের নকশা ওর মাথায় রাখা আছে। এখানে আসার সময় এস্টেটটাকে ভালভাবে পর্যবেক্ষণ করে নিয়েছিল গ্রে। সেই পর্যবেক্ষণের ওপর ভিত্তি করে সে এখন দিক ও দূরত্ব মেপে এগোচ্ছে।
এদিকে এসো। মনককে নিয়ে অন্য করিডোরে চলে এসেছে গ্রে। এটা ছয় তলা। অ্যালার্ম বাজছে সব জায়গায়।
এবার কোথায়…? মনক আবার কথা শুরু করতে যাচ্ছিল।
উপরে, করিডোরের শেষ প্রান্ত দেখিয়ে বলল গ্রে। ওখানে একটা দরজা রয়েছে। একটা রাস্তা আছে ওপাশে। সামিয়ানার ভেতর দিয়ে গেছে ওটা।
কিন্তু কাজটা অত সহজে করা সম্ভব হবে না।
উপর থেকে ধাতব পাত নেমে এসে ওই দিকের পথ বন্ধ করে দিচ্ছে এখন, মনে হলো ওদের পরিকল্পনার কথা কেউ শুনে ফেলেছে। স্বয়ংক্রিয় লকডাউন সিস্টেম।
তাড়াতাড়ি! গ্রে তাগাদা দিলো।
ধাতব শাটার খুব দ্রুত নেমে আসছে। চারভাগের তিনভাগ বন্ধ হয়ে গেছে। ইতোমধ্যে।
মনককে পেছনে রেখে গ্রে দৌড়ের গতি বাড়াল। ছুটতে ছুটতে একটা চেয়ার নিয়ে সেটা ছুঁড়ে দিল ও। মসৃণ মেঝের ওপর দিয়ে ছুটে গেল ওটা। চেয়ারের পেছন পেছন গ্রে-ও ছুটল। ধাতব শাটারের গতিপথে বাধা হয়ে দাঁড়াল কাঠের চেয়ার। নিচে নামতে পারছে না। দরজার ওখানে একটা লালবাতি জ্বলে উঠল। ক্রটির ইঙ্গিত। গ্রে নিশ্চিত এরকম একটা সতর্কীকরণ বাতি ভবনের মূল সিকিউরিটি জোনেও জ্বলে উঠেছে।
শাটারের কাছে পৌঁছুতেই কাঠের চেয়ারের পায়া ধাতব চাপের কাছে হার মেনে ভেঙ্গে যেতে শুরু করল…!
মনক ঊর্ধ্বশ্বাসে ছুটে আসছে, ওর হাত দুটো এখনও পিঠমোড়া করে বাঁধা। গ্রে শাটারের ওপরে থাকা দরজা খোলার জন্য নব ঘুরাল।
লকড।
খুলছে না।
ধুর!
কাঠের চেয়ারের আরও কিছু অংশ ভেঙে গেল এবার। ওদের পেছন থেকে এক ঝাঁক বুটের এগিয়ে আসার আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছে। সিঁড়ি দিয়ে দ্রুত উঠে আসছে বুটগুলো। হাঁক ছেড়ে নির্দেশ দিচ্ছে কেউ কেউ।
ঘুরল গ্রে। আমাকে ধরো! মনককে বলল ও। নবে কাজ হয়নি, লাখি মারতে হবে। মনকের কাঁধের ওপর ঝুঁকে সুবিধামতো জায়গা করে নিয়ে গ্রে দরজায় কষে লাখি হাঁকার জন্য প্রস্তুত এমন সময় দরজা সুন্দর করে খুলে গেল। খাকি পোশাক পরিহিত একজোড়া পা দেখা যাচ্ছে ওপাশে। উপরে থাকা কোনো গার্ড নিশ্চয়ই। শাটারের ত্রুটি দেখতে পেয়ে তদন্ত করতে এসেছে।
লোকটার পায়ের হাড়ের সংযোগস্থল বরাবর লক্ষ্য করে লাথি মারল গ্রে।
কিছু বুঝে ওঠার আগেই লোকটার নিচ থেকে তার পা সরে গেল। শাটারের সাথে মাথা ঠুকে গিয়ে কাঠের তক্তার ওপর আছড়ে পড়ল গার্ড। শাটারের নিচ দিয়ে বের হয়ে গ্রে পা দিয়ে লোকটাকে উল্টে দিল। গার্ড একটা লাথি খেয়ে জ্ঞান হারিয়েছে।
গ্রের পথ অনুসরণ করল মনক, তবে শাটারের নিচ দিয়ে বের হওয়ার আগে লাথি দিয়ে চেয়ারটাকে সরিয়ে দিতে ভুলল না। বাধামুক্ত হয়েই শাটার আপনগতিতে নিচে নামতে শুরু করল। বন্ধ হয়ে গেল পথ।
গার্ডের কাছে থাকা অস্ত্রগুলো গ্রে এক এক করে নিয়ে নিল। ছুরি দিয়ে মনকের হাতের বাঁধন খুলে দিয়ে HK Mark 23 সেমি অটোমেটিক পিস্তল ধরিয়ে দিল মনকের হাতে। নিজের কাছে রাইফেল রাখল। সামিয়ানা ব্রিজের ওপর দিয়ে এগিয়ে প্রথম সংযোগস্থলে থামল ওরা। ব্রিজ জঙ্গলের কাছে পৌঁছুতেই রাস্তা দুদিকে চলে গেছে। দুজন দুদিকে তাকাল। যতদূর চোখ যায় অল ক্লিয়ার। বিশেষ কিছু নেই।
আমাদের আলাদা হয়ে যেতে হবে, বলল গ্রে। নইলে সফল হবার সম্ভাবনা কম। সাহায্য লাগবে আমাদের। একটা ফোন যোগাড় করে লোগানকে ফোন করতে হবে।
