কী করেছেন এটা? কণ্ঠে থাকা বিরক্তি চেপে রাখতে পারল না গ্রে। এর পেছনে অবশ্য আরও কারণ আছে। ও চায় ব্যালড্রিক আরও কথা বলুক, তাহলে হাতে বাড়তি সময় পাওয়া যাবে। গ্রে একবার মনকের দিকে তাকিয়ে দুজন একসাথে বৃদ্ধের দিকে মনোযোগ দিল।
আমরা প্রাণীটিকে আরও উন্নত ও শক্তিশালী করেছি। নাতির দিকে তাকিয়ে বললেন ব্যালড্রিক। ইসাক বিরসমুখে ওদের কথাবার্তা শুনছে। ঠিক না, ইসাক?
জ্বী, grootvader.।
ইউরোপের প্রাগৈতিহাসিক গুহার ছবিতে আজকের দিনের হায়নাদের পূর্বপুরুষদের দেখা গেছে। অতীতে বিশালাকার হায়না ছিল। আমরা এই ক্রোকুটা প্রজাতিকে তাদের সোনালি দিন ফিরিয়ে দেয়ার রাস্তা বের করেছি। ব্ল্যাক অর্কিড চাষ করার ব্যাপারে ব্যালড্রিক যেরকম আবেগহীনভাবে কথা বলছিলেন এখনও তিনি ঠিক সেভাবেই কথা বলছেন। প্রজাতির আকার উন্নতির পাশাপাশি আমরা এদের মস্তিষ্কে হিউম্যান স্টিম সেল যোগ করেছি। দারুণ ফলাফল পাওয়া গেছে।
গ্রে পড়েছিল এইরকম পরীক্ষা ইঁদুরের ওপর চালানো হয়েছে। স্যাটফোর্ডের বিজ্ঞানীরা এমন এক ধরনের ইদর উৎপাদন করেছিলেন যাদের মস্তিষ্কের এক শতাংশ মানুষের মতো। কিন্তু এখানে হচ্ছেটা কী?
৫টি প্রাচীন বর্ণমালা আঁকা ব্ল্যাকবোর্ডের দিকে এগোলেন ব্যালড্রিক। হাতের লাঠি দিয়ে বোর্ডে টোকা দিয়ে বললেন, আমাদের এক ঝক Cray XT3 সুপারকম্পিউটার হিউগোর কোডের ওপর কাজ করে যাচ্ছে। কোড ব্রেক করতে পারলেই আমরা এই একই কাজ মানুষের সাথেও করতে পারব। মানবজাতির নতুন বিবর্তন ঘটাব আমরা। আফ্রিকা থেকে মানবজাতির নতুন যাত্রা শুরু হবে। যেখানে বিভিন্ন জাত, সাদা-কালো এসবের কোনো ভেদাভেদ, মিশ্রণ কিছু থাকবে না। একদম খাঁটি মানবজাতির যাত্রা শুরু হবে, বাকি সব বাদ। আমাদের কলুষিত জেনেটিক কোডকে পরিশুদ্ধ করলেই সেটা সম্ভব।– এ যেন নাৎসি দর্শনের প্রতিধ্বনি শুনল গ্রে। এই বুড়ো পাগল হয়ে গেছে। কিন্তু তার তাকানোর মধ্যে কোনো অস্বাভাবিকতা নেই। আর মনিটরের পর্দায় তার কাজের দানবীয় প্রমাণও দেখা যাচ্ছে।
ইসাকের দিকে তাকাল গ্রে। ইসাক একটা বোম চাপতেই মনিটর থেকে হায়নার ভিডিও গায়েব হয়ে গেল। হঠাৎ গ্লে চমকে উঠল… হায়না দানবীয়করণ, ইসাক আর তার যমজ বোন, ক্যাসলের সাদা-চামড়ার আততায়ী… ব্যালড়িক শুধু হায়না আর অর্কিড় নিয়ে পরীক্ষা করেই ক্ষান্ত দেননি।
এবার আমরা পেইন্টার ক্রোর ব্যাপারে আসি, বললেন বৃদ্ধ। মনিটর দেখিয়ে বললেন, এখন তো বুঝতে পারছেন আপনি যদি ঠিকভাবে জবাব না দেন তাহলে সেই মেয়েটির জন্য কী অপেক্ষা করছে। অতএব, আর কোনো চাল দেয়ার চেষ্টা করবেন না।
মনিটরের দিকে তাকাল গ্রে। মেয়েটা খাঁচার ভেতরে রয়েছে। ফিওনার কিছু হতে দেবে না ও। আর কিছু হোক বা না হোক, মেয়েটাকে আরও কিছু সময় ওকে দিতেই হবে। কোপেনহ্যাগেনে ওর আনাড়ি তদন্তের জন্য মেয়েটা আজ এসবের মধ্যে জড়িয়ে গেছে। ফিওনার জন্য দায়ী গ্রে। মেয়েটার দেখাশোনা করা ওর দায়িত্ব। আর সবচেয়ে বড় কথা, মেয়েটাকে ওর ভাল লেগেছে, ফিওনাকে ও সম্মান করে, যদিও মেয়েটা ওকে অনেক জ্বালিয়েছে। গ্রে জানে এখন ওকে কী করতে হবে।
ব্যালড্রিকের দিকে ফিরল ও।
কী জানতে চান?
প্রতিকূল পরিস্থিতিতে পেইন্টার ক্রো আপনার চেয়ে অনেক বেশি দক্ষ। সেটা ইতোমধ্যে তিনি প্রমাণ করে দেখিয়েছেন। আমাদের অ্যামবুশ থেকে পালিয়ে রীতিমতো গায়েব হয়ে গেছেন তিনি। এখন আপনার কাজ হলো তাকে খুঁজে বের করার জন্য আমাদেরকে সাহায্য করা।
কীভাবে?
সিগমা কমান্ডের সাথে যোগাযোগ করবেন। আমাদের একটা বিশেষ সংযোগ আছে, ওটা দিয়ে কথা বললে কেউ লাইন ট্রেস (সনাক্ত করতে পারবে না। আপনি সিগমার সাথে যোগাযোগ করে শুনবেন তারা প্রজেক্ট ম্যাক সান সম্পর্কে কতটুকু জানে এবং এটাও জেনে নেবেন পেইন্টার ক্রো এখন কোথায় লুকিয়ে আছেন। আর যদি কোনোরকম চালাকির চেষ্টা করেন তাহলে… মনিটর দেখালেন ব্যালড্রিক।
এবার গ্রে বুঝতে পারল ওকে কী কঠিন পরিস্থিতিতে ফেলা হচ্ছে। এরা ওকে চালাকি করার কোনো সুযোগই রাখছে না। হয় ফিওনাকে বাঁচাও নয়তো সিগমার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করো?
সিদ্ধান্ত নিতে যাবে এমন সময় ওর দাবি অনুযায়ী একটা জিনিস নিয়ে ফিরল গার্ড।
আমার হাত! হাঁক ছাড়ল মনক। গার্ড ওর কৃত্রিম হাত নিয়ে এসেছে। মনকের পঙ্গু হাতের কনুই এখনও পিঠের সাথে বাঁধা।
ওটা ইসাকের কাছে দাও। গার্ডকে নির্দেশ দিলেন ব্যালড্রিক।
ইসাক ডাচ ভাষায় বলল, ল্যাব থেকে কী বলেছে? এতে কোনো লুকোনো অস্ত্র নেই তো?
মাথা নাড়ল গার্ড। না, স্যার, নেই। অল ক্লিয়ার।
তারপরও ইসাক নিজ হাতে কৃত্রিম হাতটা পরীক্ষা করে দেখল। ডারপা ইঞ্জিনিয়ারিং-এর অভিনব আবিষ্কার এটা। শরীরের স্নায়ুগুলোর সাথে সরাসরি সংযোগ দিয়ে এই হাত ব্যবহার করা যায়। এর কব্জিটা টাইটেনিয়ামের তৈরি। উন্নত কারিগরি কৌশল ব্যবহার করার ফলে এর নড়াচড়া খুবই সাবলীল এবং সংবেদনশীল ইনপুট নিতে সক্ষম।
গ্রের দিকে তাকাল মনক।
গ্রে খেয়াল করে দেখল মনকের আঙুলগুলো ডান হাতের কব্জিতে থাকা স্ট্যাম্পের ওপর কোড লিখে ফেলেছে।
মাথা নেড়ে মনকের কাছে গেল গ্রে।
