তারপর ব্যালড্রিক নিশ্চয়ই নিজেই একটা বেল তৈরি করে ফেলেছেন, বলল ক্রো। গোপনে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে উৎপাদন করেছেন নিজস্ব sonnekonige, আপনার বৈজ্ঞানিকদের উদ্ভাবিত উন্নত কলা-কৌশল তাদের ওপর প্রয়োগ করে আরও নিখুঁত করেছেন। সবমিলিয়ে নিখুঁত ছক। জেরাম-৫২৫-এর বিকল্প কোনো উৎস না থাকলে GranitschloB অচল। পুরো বিষয়টা ব্যালড্রিক ওয়ালেনবার্গের দয়ার ওপর ছিল। যে-কোনো সময় তিনি আপনাদের প্রজেক্ট বন্ধ করে দেয়ার ক্ষমতা রাখেন।
শুধু রাখেন না, সেটা কাজে করিয়েও দেখিয়েছেন! অ্যানার কণ্ঠে যেন আগুন ঝরল।
কিন্তু কেন? জানতে চাইলেন পলা। দূর থেকে কলকাঠি নেড়ে যদি সব ঠিকঠাকভাবে চলছিল তখন এসবের কী দরকার ছিল?
শ্রাগ করল ক্রো। হয়তো অ্যানার গ্রুপ আর্য জাতিদের ব্যাপারে নাৎসিদের থাকা মূলমন্ত্র থেকে অনেক বেশি দূরে সরে যাচিছল।
হাতের তালু দিয়ে কপাল চেপে ধরলেন অ্যানা। কিছু বিজ্ঞানীর মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছিল… বাইরের পৃথিবীর মূলধারায় যোগ দিতে চাচ্ছিল তারা… আমাদের রিসার্চ শেয়ার করতে চাচ্ছিল ওখানে গিয়ে।
কিন্তু আমার মনে হয় কারণটা এত ছোট নয়, বলল ক্রো! বড় কোনো কারণ ছিল। অনেক বড় কিছু। যার কারণে GranitschloB-কে থামানোর প্রয়োজন হয়েছিল।
আমার মনে হয় আপনার ধারণা হয়তো সত্য। পলা বললেন। গত চার মাস যাবত এসেস্টের কর্মতৎপরতা বেড়ে গেছে। কিছু একটা হয়েছে ভেতরে।
নিশ্চয়ই নতুন কিছু আবিষ্কার করেছে ওরা, চিন্তিত ভঙ্গিতে বললেন অ্যানা।
অবশেষে গানথার এবার মুখ খুলল, কর্কশ কণ্ঠে বলল, Genus: হতাশায় ইংরেজি বলতে ভুলে গেছে। নিজেকে সামলে বলল, হারামজাদাটার কাছে বেল আছে… জেরামও আছে… আমরা ওটা খুঁজে বের করব। ওটা ব্যবহার করব আমরা। বোনের দিকে তাকিয়ে হাত নাড়ল ও। অনেক কথা হয়েছে!
গানধারের কথার সাথে মন থেকে একমত হলো লিসা। বিশালদেহির পাশে দাঁড়িয়ে বলল, এস্টেটের ভেতরে ঢোকার পথ বের করতে হবে আমাদের। তারপর নিজেই যোগ করল, অবশ্য ভেতরে ঢুকতে একদল সেনাবাহিনী লাগবে।
পলার দিকে ঘুরল ক্রো। আমরা কী সাউথ আফ্রিকা সরকারের কাছ থেকে কোনো সাহায্য আশা করতে পারি?
পলা মাথা নাড়লেন। বিন্দু পরিমাণও নয়। ওয়ালেনবার্গদের হাত অনেক বড়। ভেতরে ঢোকার জন্য আমাদেরকে আরও কৌশলী পথ অবলম্বন করতে হবে।
স্যাটেলাইট ফটোগুলো দিয়ে খুব একটা সুবিধে হচ্ছে না, বলল ক্রো।
তাহলে আমরা একটু নিচে নামি, ইসুজু ট্রুপারের দিকে ওদেরকে এগিয়ে নিতে নিতে বললেন পলা। ইতোমধ্যে একজনকে আমি মাঠে নামিয়ে দিয়েছি।
.
সকাল ৬টা ২৮ মিনিট।
পেটের ওপর ভর দিয়ে শুয়ে আছে খামিশি। সবেমাত্র ভোর হয়েছে, বনের গাঢ় ছায়ার ভেতর দিয়ে মাটিতে পৌঁছুচ্ছে সূর্যের নরম আলো। সৈনিকদের পোশাক পরে আছে ও। দুইনলা রাইফেল আছে ওর সাথে। পিঠে রয়েছে .৪৬৫ নিট্রো হল্যান্ড অ্যান্ড হল্যান্ড রয়্যাল। আর হাতে আছে জুলুদের ঐতিহ্যবাহী খাটো বল্লম, একটা অ্যাসেগাই।
দুজন জুলু রয়েছের ওর পেছনে। তাউ এবং নজঙ্গো। খামিশিকে যে জুলু বৃদ্ধ বাঁচিয়েছিল তাউ হচ্ছে তাঁর নাতি। আর নজঙ্গো হলো তাউর খুব ঘনিষ্ঠ বন্ধু। খাটো, লম্বা বল্লম ছাড়া ওদের হাতে গুলি করার অস্ত্রও আছে। ঐতিহ্য মেনে পরনে পশুর চামড়া আর গায়ে এটা সেটা এঁকে রেখেছে ওরা। ভোদরের চামড়া দিয়ে বানিয়েছে মাথার বন্ধনী। খাঁটি জুলু বলে কথা।
সারারাত ওরা জঙ্গলের ভেতরে কাটিয়েছে। গার্ডদের চোখ এড়িয়ে কীভাবে জঙ্গল মাড়িয়ে মূল ভবনে ঢোকা যাবে সেটা নিয়ে ম্যাপ করছে ওরা। বড় বড় গাছের নিচে থাকা ঝোঁপঝাড়ের ভেতর দিয়ে গর্ত করে রাস্তা তৈরি করেছে ওরা তিনজন। এরফলে ছায়ার আড়ালে লুকিয়ে থাকতে সুবিধে হবে। কাজটা করার সময় বিভিন্ন জায়গায় থেমেছিল খামিশি। বিভিন্ন ছোটখাটো সংশোধন, ছদ্মবেশ তৈরি এবং চমকে দেয়ার মতো কিছু ব্যবস্থা রেখেছে।
কাজ সেরে তিন মাস্কেটিয়ার এস্টেট থেকে বের হওয়ার জন্য এগোচ্ছে ওরা। এমন সময় রক্তহিম করা আর্তনাদ কানে এলো।
হুউউ ইইই ওওওও!
আর্তনাদের শেষটা হলো গর্জনের মাধ্যমে।
বরফের মতো জমে গেল খামিশি। ওর শরীরের হাড় পর্যন্ত এই গৰ্জন চেনে।
উকুফা।
পলা কেইন ঠিকই বলেছিলেন। তার ধারণা এই দানব ওয়ালেনবার্গ এস্টেট থেকে এসেছে। হয় এটা পালিয়ে বের হয়েছে নয়তো খামিশি আর মারসিয়াকে আক্রমণ করার জন্য পরিকল্পিতভাবে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। যেটাই হোক না কেন, ওগুলো এখন মুক্ত। শিকার করে বেড়াচ্ছে।
কিন্তু কাজটা করল কে?
বাঁ দিকে একটু দূর থেকে এসেছে গর্জনটা।
ওটা এখন ওদেরকে শিকার করার জন্য বের হয়নি। খুব দক্ষ শিকারী ওগুলো। নিজেদের অস্তিত্ব এত তাড়াতাড়ি জানান দিতে যাওয়ার কথা নয়। অন্য কিছু একটা ওদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। রক্ততৃষ্ণা জাগিয়েছে ওদের।
তারপর জার্মান ভাষায় চিৎকার শুনতে পেল খামিশি, ফুঁপিয়ে উঠে কেউ সাহায্য চাইছে।
কাছ থেকে এসেছে শব্দটা।
উকুফার গর্জন হয়েছে বেশ কিছুক্ষণ হলো। কিন্তু খামিশির হাড়ের কাপনি এখনও থামেনি। দ্রুত এখান থেকে পালিয়ে যেতে চাইল ও। মানুষের আদিম স্বভাব। ভয় পেলে পালানো।
ওর পেছনে থাকা তাউ-ও জুলু ভাষায় বিড়বিড় করে একই ইচ্ছে জানালো।
