আমরা জানি, ওয়ালেনবার্গরা Ahmenerbe Forschungs und Lehrgemeinshaft-এর মোটা অংকের অর্থ যোগানদাতা হিসেবে কাজ করতো। নাসিদের সোসাইটি ওটা। গ্রুপটা সম্পর্কে আপনার কোনো ধারণা আছে?
মাথা নাড়ল ক্রো। নেই। মাথাব্যথা করছে ওর। দুঃসহ ব্যথাটা ঘাড় বেয়ে পিঠে চলে গেল। দাতে দাঁত চেপে সহ্য করল পেইন্টার।
রিসার্চ গ্রুপ ছিল ওটা। কর্ণধার ছিলেন হেনরিক হিমল্যার। আর্য জাতিদের শেকড় অনুসন্ধান করা ছিল তাদের কাজ। এছাড়া যুদ্ধবন্দীদের ক্যাম্প ও গোপন পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজে জঘন্য কাজের সাথে তারা জড়িত ছিল। এককথায় তারা ছিল–অস্ত্রধারী বৈজ্ঞানিক।
ব্যথায় কুঁচকে গেল ক্রো… তবে এবারের ব্যথা শারীরিক নয়, মানসিক। সিগমা থেকেও এরকম কথা বলা হয়েছে। অস্ত্রধারী বৈজ্ঞানিক। তাহলে এখানে কী সেই বৈজ্ঞানিকরাই ওদের শত্রু? এটা কী সিগমা ফোর্সের নাৎসি ভার্সন?
লিসা বলল। এই রিসার্চের সাথে ওয়ালেনবার্গদের সম্পর্ক কী?
আমরা পুরোপুরি নিশ্চিত নই। কিন্তু যুদ্ধের সময় সাউথ আফ্রিকায় অনেক নাস সমর্থক ছিল। আমরা এও জানি স্যার ব্যালড্রিক ওয়ালেনবার্গ-এরও সুপ্রজননবিদ্যার প্রতি আগ্রহ ছিল। যুদ্ধের শেষদিকে বিজ্ঞানীরা ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ার আগে তিনি জার্মানি ও অস্ট্রিয়াতে বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক কনফারেন্সে যোগদান করেছিলেন। কিন্তু যুদ্ধর পর পুরো পরিবার নিয়ে তিনি গা ঢাকা দেন।
লজ্জায়? প্রশ্ন করল পেইন্টার।
না, আমাদের তা মনে হয় না। যুদ্ধের পর মিত্রবাহিনী জার্মানিতে নাৎসি প্রযুক্তি হাত করার জন্য লুঠপাট চালিয়ে ছিল। পলা ত্যাগ করলেন। আমাদের ব্রিটিশ বাহিনীও লুঠ-পাটের সাথে জড়িত ছিল।
মাথা নাড়ল ক্রো। অ্যানার মুখ থেকে ইতোমধ্যে সে কাহিনি ও শুনেছে।
কিন্তু নাৎসিরা তাদের প্রযুক্তি লুকোতে ওস্তাদ। ভাঙব তবু মচকাবো না এই নীতি অনুসরণ করেছিল তারা। প্রযুক্তির বেহাত হওয়া ঠেকাতে বিজ্ঞানীদের খুন করে, বোম মেরে ল্যাব উড়িয়ে দিতে তারা দ্বিধাবোধ করেনি। আমাদের বাহিনী সেরকম একটা জায়গায় ঘটনার ঠিক কয়েক মিনিটের মধ্যে হাজির হয়েছিল। এক বিজ্ঞানীর হদিস পেয়েছিল তারা, তার মাথায় গুলি লাগলেও তখনও বেঁচে ছিল। মারা যাওয়ার আগে সে কিছু তথ্য দিয়ে যায়। রিসার্চে কোয়ান্টাম পরীক্ষার মাধ্যমে তারা নতুন একধরনের এনার্জীর উৎস আবিষ্কার করেছে। যুগান্তকারী কিছু করেছিল তারা। ভিন্ন ধরনের এক শক্তির উৎসের আবিষ্কার হয়েছিল তাদের হাতে।
লিসার দিকে তাকাল ক্রো। জিরো পয়েন্ট এনার্জী সম্পর্কে অ্যানার বলা কথাগুলো মনে পড়ে গেছে ওদের।
যা-ই আবিষ্কার হয়ে থাকুক না কেন সেটার গোপনীয়তা অক্ষত ছিল। নাৎসিরা সেই প্রযুক্তি নিয়ে পালিয়ে আসতে সক্ষম হয়। বিষয়টি সম্পর্কে খুব বেশি কিছু জানা যায়নি। শুধু বস্তু আর সূত্রের শেষ হয়েছে কোথায় এতটুকু জানা সম্ভব হয়েছে।
সূত্রের শেষ হয়েছে ওয়ালেনবার্গ এস্টেটেঃ লিসা আন্দাজ করল।
মাথা নেড়ে সায় দিলেন পলা।
আর বস্তুর নাম? উত্তরটা ক্রো জানে, তবুও জানতে চাইল। ওটার নাম কী
ক্রোর দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকালেন পলা। ভ্রু কুঁচকে বললেন, আপনি জানলেন কীভাবে?
বেল-এর জ্বালানি, লিসা বিড়বিড় করল।
পেইন্টার বুঝতে পারল, সময় হয়ে গেছে। ড. পলা কেইনের সাথে আসল হিসেব নিকেশ শুরু করতে হবে।
আপনার সাথে একজনের দেখা করা দরকার।
***
অ্যানা বেশ উদ্বেগের সাথে বললেন, তাহলে জেরাম-৫২৫ তৈরির ফর্মুলা এখনও ধ্বংস হয়নি? Unglaublich!
ওরা আবার রিচার্স বে এয়ারপোর্টে ফিরে এসেছে। ইসুজু ট্রুপারের ট্রাকে অস্ত্র আর ইকুইপমেন্ট তোলা হচ্ছে এয়ারপোর্টের হ্যাঁঙ্গারে।
পলা, অ্যানা আর পেইন্টার যখন আলোচনা করছে এই ফাঁকে মেডিক্যাল কিটের ভেতরে চোখ বুলিয়ে নিয়েছে লিসা। গানথার লিসার পাশেই রয়েছে। নিজের বোনের দিকে তাকিয়ে দুশ্চিন্তায় ক্রু কুঁচকে রেখেছে বেচারা। লিসার দেয়া ওষুধ খাওয়ার পর অ্যানা এখন আগের চেয়ে খানিকটা সুস্থ।
কিন্তু এভাবে আর কতক্ষণ?
আপনার দাদা যখন বেল নিয়ে উত্তরে পালিয়ে গিয়েছিলেন, অ্যানাকে ব্যাখ্যা করল ক্রো, ঠিক সেসময় জেরামের গোপন ফর্মুলা নিশ্চয়ই দক্ষিণে যাত্রা করেছিল। একই পরীক্ষার দুটো অংশ ভিন্ন দুই দিকে চলে গিয়েছিল তখন। তারপর কোনো এক সময় ওয়ালেনবার্গদের কানে আসে বেল এখনও টিকে আছে। হিমল্যারের অধীনে থাকা বিশেষ গ্রুপটির অর্থের যোগানদাতা ছিলেন ব্যালড্রিক ওয়ালেনবার্গ। তিনি নিশ্চয়ই Granitschlo৪ সম্পর্কে জানতেন।
সায় দিলেন পলা। হিমালয়ে অভিযানের সময় এই গ্রুপটি-ই ছিল হিমল্যারের সাথে।
বেল সম্পর্কে জানার পর GranitschloB-এ গুপ্তচর ঢুকিয়ে দেয়া ব্যালজিকের জন্য কঠিন কিছু ছিল না।
অ্যানার চেহারা ফ্যাকাসে হয়ে গেল। পুরোটা সময় ধরে কুত্তার বাচ্চাটা আমাদেরকে ব্যবহার করেছে!
মাথা নাড়ল পেইন্টার। হ্যাঁঙ্গারে ফেরার পথে লিসা ও পলাকে পুরো বিষয়টা ব্যাখ্যা করেছে ও। সবকিছুর পেছনে কলকাঠি নেড়েছেন ব্যালড্রিক ওয়ালেনবার্গ। মেধার কোনো অপচয় তিনি করেননি। GranitschloB-এর বিজ্ঞানীদেরকে বেল নিয়ে কাজ করার সুযোগ দিয়েছেন, আর ওদিকে নিজের গুপ্তচর দিয়ে ওখানকার যাবতীয় তথ্য পাচার করিয়েছেন আফ্রিকায়।
