GranitschloB-এর ঘটনার জন্য কী এই পরিবার দায়ী?
পর্যাপ্ত কাঁচামাল ও তথ্য পাওয়ার মতো যথেষ্ট ক্ষমতা ও অর্থ-প্রাচুর্য তাদের আছে। আর সেই মহিলা আততায়ীর হাতে যে ট্যাটু পেইন্টার পেয়েছিল সেটা অবশ্য এই ওয়ালেনবার্গ পরিবারের সাথে সম্পর্কযুক্ত। আরও একটা প্রশ্ন, ওয়ালেনবার্গ পরিবারের যমজ ভাই-বোন; ইসাক ও ইসকি ইউরোপে গিয়েছিল কেন?
অনেক প্রশ্ন, যেগুলোর কোনো উত্তর এখনও পাওয়া যায়নি।
একটি কাগজ উল্টিয়ে কলম দিয়ে ওয়ালেনবার্গ পরিবারের প্রতীকের ওপর টোকা দিতে লাগল ক্রো।
এই প্রতীকে কিছু একটা আছে…
ওয়ালেনবার্গদের পারিবারিক ইতিহাসের সাথে এই প্রতীকের ব্যাপারেও তথ্য পাঠিয়েছেন লোগান। এই প্রতীকের শেকড় রয়েছে কেলট সম্প্রদায়ের ভেতরে, স্ক্যাভেভিয়ান উপজাতিতে। এটাকে নিরাপত্তামূলক চিহ্ন হিসেবে ব্যবহার করা হতো। রশি দিয়ে গেড়ো দেয়ার মতো অংশকে নিরাপত্তার মূল অংশ হিসেবে ধরা হতো।
থামল ক্রো।
নিরাপত্তা গেড়ো।
ক্লাউস মারা যাওয়ার সময় ওদেরকে কী একটা অভিশাপ দিয়েছিল, সেটা মনে করল ও।
মরবে তোমরা! সবাই মরবে! রশির বিষ গেড়ে চেপে ধরলেই মরবে সবকটি! পেইন্টার ভেবেছিল ক্লাউস হয়তো ফাঁসির দড়ির কথা বলছে। কিন্তু ওর কথাগুলো কী এই প্রতীককে উদ্দেশ্য করে ছিল?
রশির বিষ গেড়ো চেপে ধরলেই…।
একটা ফ্যাক্স শিট উল্টাল ক্রো। ওয়ালেনবার্গ পরিবারের প্রতীক দেখে একটা ছবি আঁকল ও। আঁকার সময় প্রতীকে থাকা রশির গেড়োগুলোকে এমনভাবে আঁকল যেন গেড়োগুলোকে কেউ শক্ত করে টাইট দিয়েছে কিংবা চেপে ধরেছে। আঁকার পর অনেকটা জুতার ফিতার মতো হলো জিনিসটা।
কী করছ তুমি? ক্রোর কাঁধের কাছে এসে বলল লিসা।
চমকে উঠল ক্রো। আর একটু হলেই কলমের আঁচড়ে কাগজটা ছিঁড়ে যাচ্ছিল।
ওহ ঈশ্বর! মেয়েদের মাথায় কবে বুদ্ধি দেবে তুমি?! লিসা, দয়া করে এভাবে হুটহাট কথা বলা বন্ধ করবে?
হাই তুলে ক্রোর চেয়ারের হাতলের ওপর বসল লিসা। এক হাত দিয়ে ক্রোর কাঁধ চাপড়ে দিল। ইস, কচি খোকা! চমকে ওঠে! কাঁধে হাত রেখে আরও কাছে এলো ও। সত্যি করে বললো তো, কী আঁকছ?
হঠাৎ পেইন্টার খুব সচেতন হয়ে খেয়াল করল লিসার ডান স্তন ওর গালের সাথে লেপ্টে রয়েছে।
গলা খাকাড়ি দিয়ে ছবি আঁকায় মন দিল ও। তেমন কিছু না। সেই মহিলার হাত থেকে পাওয়া প্রতীক নিয়ে একটু নাড়াচাড়া করছিলাম। আমার এজেন্টরা ইউরোপে দুই Sonnekonige এর হাতেও এই প্রতীক দেখেছে। সেই দুইজন স্যার ব্যালড্রিক ওয়ালেনবার্গের বংশধর। হয়তো কোনো সূত্র আছে যেটা আমাদের চোখ এড়িয়ে গেছে।
কিংবা এমনও হতে পারে সেই বুড়ো ভাম হয়তো এই প্রতীক দিয়ে গরুতে চিহ্ন দেয়ার মতো করে তার উৎপাদিত মানুষের গায়ে ছাপ মেরে দিয়েছে।
মাথা নাড়ল পেইন্টার। ক্লাউস কিছু একটা বলেছিল। রশির গেড়ো চেপে ধরবে…। গোপন কিছুর ইঙ্গিত দিয়েছিল বোধহয়। যেটা মুখে বলতে পারেনি।
ছবি আঁকার শেষ পর্যায়ে এসে সাবধানে কয়েকটা রেখা টানল ক্রো। তারপর পাশাপাশি রাখল দুটোকে। একটা মূল প্রতীক অন্যটা টাইট দেয়ার পর।
দুটো ছবির দিকে তাকিয়ে ছবির ভেতরে থাকা নিহিত অর্থ খুঁজল ও।
আরও ঘনিষ্ঠ হয়ে কাছে এলো লিসা। কী হয়েছে?
ক্রো কলম দিয়ে দ্বিতীয় ছবি দেখাল। কোনো সন্দেহ নেই ক্লাউস এদের পক্ষে চলে গিয়েছিল। আর এজন্যই হয়তো বিগত কয়েক প্রজন্ম ধরে ওয়ালেনবার্গরা গা ঢাকা দিয়ে বসবাস করছে।
বুঝলাম না।
আমরা নতুন কোনো শত্রুর মুখোমুখি হইনি। সেই পুরোনো শত্রুর সাথেই লড়ছি এখনও। শক্ত করে টাইট দেয়া গেড়োর কেন্দ্রস্থল কলম দিয়ে আরও গাঢ় করল পেইন্টার। থলের বিড়াল বেরোল এতক্ষণে।
প্রায় নিঃশ্বাস বন্ধ করে লিসা বলল, এটা তো স্বস্তিকা!
বিশালদেহি গানথার আর তার বোনের দিকে তাকাল ক্রো।
শ্বাস ফেলে বলল, নাসি। আরও নাৎসির মুখোমুখি হতে যাচ্ছি আমরা।
.
সকাল ৬টা ০৫ মিনিট।
সাউথ আফ্রিকা।
মূল ভবনের মতো কাঁচের কনজারভেটরিটাও বেশ পুরোনো। এর জানালার শার্সিগুলো একটু বাঁকা আকৃতির, মোচড়ানো ডিজাইনের। দেখলে মনে হয় আফ্রিকার সূর্যের তাপে গলে ওগুলো ওরকম বেঁকে গেছে। জানালার ওরকম অবস্থা দেখে গ্রের মাকড়সার জালের কথা মনে পড়ে গেল। কনজারভেটিতে ঘোলা কাঁচ ব্যবহার করা হয়েছে। ভেতর থেকে বাইরের গভীর জঙ্গল দেখা যায় না।
কনজারভেটরির ভেতরে ঢুকতেই পেইন্টার যেটাতে ধাক্কা খেল সেটা হলো আর্দ্রতা। চেম্বারের ভেতরে আর্দ্রতার পরিমাণ প্রায় ১০০%, ওর পাতলা জাম্পস্যুট আর শরীরের সাথে থাকতে চাইছে না।
তবে সোলারিয়ামের আর্দ্রতা ওদের সুবিধার জন্য বাড়ানো হয়নি। এখানে বিভিন্ন তাকে, সারিতে, পাত্রে, টবে ও কালো চেইন দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় অনেক ফুলের গাছ আছে। শত শত ফুলের সুবাসে মো-মো করছে ভেতরের বাতাস। রুমের মাঝখানে বাঁশ ও পাথরের তৈরি ছোট্ট একটা ভাস্কর্য আছে। সবমিলিয়ে বাগানটা খুবই রুচিশীল। কিন্তু একটা কথা ভেবে গ্রে অবাক হলো… আফ্রিকা এমনিতেই গরম জায়গা। এখানে যথেষ্ট আর্দ্রতা থাকার পরও কেন কনজারভেটরি তৈরি করতে হবে?
উত্তর সামনে উদয় হলো।
সাদা চুলের এক ভদ্রলোক হাতে দুটো কাঁচি নিয়ে দ্বিতীয় তাকের উপর দাঁড়িয়ে আছেন। সার্জনের মতো দক্ষ হাতে একটা ছোট্ট বনসাই গাছ থেকে একটা ফুল ও শাখা কেটে নিলেন তিনি। কাজটা তিনি সামনে ঝুঁকে করছিলেন। ফুল আর ডাল কেটে সন্তুষ্ট হয়ে সোজা হলেন ভদ্রলোক।
