ক্রো মাথা নাড়ল। ওগুলো আরও উদ্ভট লাগবে।
আপনাদেরকে ওই তিনটা মূল বিষয়বস্তু বুঝতে হবে, আঙুল দেখিয়ে দেখিয়ে বললেন অ্যানা। কোয়ান্টামের দ্বিমুখী সম্ভাব্যতার অবস্থায় সাবঅ্যাটমিক কণিকার অস্তিত্ব থাকে। কোনো পরিমাপক যন্ত্রের সাহায্যে সেই দ্বিমুখী সম্ভাব্যতাকে একমুখী অবস্থায় আনা সম্ভব। আর সেই পরিমাপক যন্ত্র আমাদের বাস্তব দুনিয়াতে আছে।
এক হাত উঁচু করে লিসা বলল, কিন্তু বেল-এর সাথে এসবের সম্পর্ক কী? লাইব্রেরিতে আপনি কোয়ান্টাম বিবর্তনের কথা উল্লেখ করেছিলেন।
হ্যাঁ, বলেছিলাম। আচ্ছা, বলুন দেখি… ডিএনএ কী? ওটা একটা প্রোটিন মেশিন ছাড়া কিছুই নয়, তাই না? শরীরের বিভিন্ন ব্লকের কোষ প্রাথমিকভাবে তৈরি করে থাকে, এই তত?
হ্যাঁ, সোজাসাপ্টা জিনিস।
তাহলে আরও সহজ করে দিই। ডিএনএ জিনিসটা রসায়নের বন্ধনে ব্লক করা, তাই তো? তাহলে কোন জিনিস এই বন্ধন ভাঙ্গে? জিনগুলোকে সচল কিংবা অচল করে কীভাবে?
রসায়নের প্রাথমিক জ্ঞানগুলো মনে করল লিসা। ইলেকট্রন ও প্রোটনের চলাচল।
হুম! আর এই সাবঅ্যাটমিক কণিকাগুলো কোন নিয়ম অনুসরণ করে চলে? ক্লাসিক নিয়ম নাকি কোয়ান্টাম নিয়ম?
কোয়ান্টাম।
আচ্ছা, তাহলে একটা প্রোটন যদি ক ও খ দুটো স্থানে থাকার সম্ভাবনা থাকে… একটা জিনকে সচল কিংবা অচল করার ক্ষমতা রাখে… তাহলে কোনটা হবে?
যদি দুটো জায়গায় থাকার মতো সম্ভাবনা থাকে তাহলে সেটা দুই জায়গাতেই থাকবে। জিন সচল ও অচল দুটোই হবে। কিন্তু যদি কোনোকিছু এটাকে পরিমাপ করে তাহলে ভিন্ন কথা।
এর পরিমাপ করবে কে?
পরিবেশ-পরিস্থিতি।
আর জিনের পরিবেশ-পরিস্থিতি হলো…?
আস্তে আস্তে লিসার চোখ বড় হয়ে গেল। ডিএনএ অণু নিজেই।
হেসে মাথা নাড়লেন অ্যানা। একদম প্রাথমিক পর্যায়ে, কোষগুলো নিজেই কোয়ান্টাম পরিমাপক যন্ত্র হিসেবে কাজ করে। আর এটাই হলো বিবর্তনের মূল চালিকা শক্তি। এ ঘটনার মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা যায় মিউটেশন বা রূপান্তরগুলো বিক্ষিপ্তভাবে হয়নি। এলোমেলো কিংবা বিক্ষিপ্তভাবে হওয়ার চেয়ে এভাবেই বিবর্তনের গতি বৃদ্ধি পেয়েছিল।
দাঁড়ান, লিসা বলল। আরও একটু বুঝিয়ে বলুন, প্লিজ।
ঠিক আছে, উদাহরণ দিচ্ছি। সেই ব্যাকটেরিয়ার কথা মনে আছে? যেটা ল্যাকটোজ হজম করতে পারতো না। অথচ তাদেরকে খাবার হিসেবে শুধু ল্যাকটোজ দেয়ার পরেও কীভাবে বেঁচে গিয়েছিল? উত্তর হচ্ছে : তারা তখন দ্রুত এমন একটা এনজাইম তৈরি করেছিল যেটা ল্যাকটোজ হজম করতে সক্ষম। এক ভ্রু উঁচু করে অ্যানা বললেন, এবার আপনি কোয়ান্টামের সেই তিন মূল বিষয়বস্তুর সাহায্যে এই ঘটনার ব্যাখ্যা দিতে পারবেন? নির্দিষ্টভাবে বলে দিচ্ছি, সুবিধাজনক মিউটেশন ঘটানোর জন্য একটা প্রোটনকে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় সরিয়ে নিতে হয়। এবার ব্যাখ্যা করুন দেখি।
লিসা চেষ্টা করল। ঠিক আছে। যদি প্রোটন দুটো জায়গাতে থাকতে পারে তাহলে কোয়ান্টাম থিওরি বলছে, পোটন দুটো জায়গাতেই আছে। সেক্ষেত্রে জিন রূপান্তরিত এবং অরূপান্তরিত দুটোই হয়ে আছে। দ্বিমুখী সম্ভাবনা থাকছে সেক্ষেত্রে।
তারপর… মাথা নেড়ে সায় দিলেন অ্যানা।
তারপর কোষ নিজে কোয়ান্টাম পরিমাপক যন্ত্র হিসেবে আচরণ করার ফলে ডিএনএ-কে যে-কোনো একপাশে সরে আসতে বাধ্য করবে। হয় রূপান্তরিত হবে কিংবা হবে না। আর যেহেতু কোষটি তার পরিবেশ-পরিস্থিতিতে বাস করছে তাই সেই পরিবেশের প্রভাবে সে বিক্ষিপ্ত আচরণ পরিহার করে সুবিধাজনক রূপান্তর বা মিউটেশন ঘটাবে।
এটাকে এখনকার বিজ্ঞানীরা খাপ খাইয়ে নেয়া মিউটেশন বলে থাকেন। পরিবেশ কোষের ওপর প্রভাব ফেলে, কোষ প্রভাব ফেলে ডিএনএন-এর ওপর। যার ফলে সুবিধাজনক মিউটেশনের জন্ম হয়। আর এসবই কোয়ান্টাম দুনিয়ার কোয়ান্টাম মেকানিক্স অনুসারে হয়ে থাকে।
লিসা এখন এই আলোচনার গন্তব্য অনুধাবন করতে পারছে। অ্যানা এর আগে ইন্টেলিজেন্ট ডিজাইন নিয়ে কথা বলেছিলেন। লিসা জানতে চেয়েছিল সেই ডিজাইনের স্রষ্টা কে… সেটার জবাবও দিয়েছিলেন এই মহিলা।
আমরা।
এবার লিসা বুঝতে পারছে। আমাদের নিজেদের কোষই বিবর্তন পরিচালনা করে আসছে। পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে ডিএনএ-এর দ্বিমুখী সম্ভাব্যতাকে একমুখী করে চলে যাচ্ছে সুবিধাজনক অবস্থানে। তাহলে ডারউইনের ন্যাচারাল সিলেকশন থিওরি বাতিল।
তবে তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বললেন অ্যানা, তার কণ্ঠ একটু খসখসে ককৰ্শ শোনাল, জীবনের প্রথম শুরুর বিষয়টা কোয়ান্টাম মেকানিক ব্যাখ্যা করতে পারে। আদিকালের রসায়নের স্যুপ থেকে প্রাণের প্রথম কোষে পরিণত হওয়ার অসম্ভাব্যতার বিষয়টা মনে আছে? কোয়ান্টাম দুনিয়ায় এলোমেলো কিংবা বিক্ষিপ্তভাবে কিছুই হয় না। তাই ওই চ্যাপ্টার বাদ। কোষের পরিমাপ ক্ষমতা ও কোয়ান্টাম সম্ভাব্যতা থাকায় সেটা বিক্ষিপ্তভাবে ধাক্কাধাক্কি করে আদিকালে স্যুপ হয়ে থাকার বিষয়টিকে এড়িয়ে যেতে পেরেছিল। তাতে প্রাণের সঞ্চার এজন্যই হয়েছিল কারণ সেটা কোয়ান্টাম পরিমাপক যন্ত্র হিসেবে আরও উন্নত।
আর এসবে ঈশ্বরের কোনো হাত নেই, তাই তো? প্রশ্ন করল লিসা। এই প্রশ্নটা অ্যানা ওকে ২-১ দিন আগে করেছিলেন। যদিও এখন মনে হচ্ছে ইতোমধ্যে কয়েক দশক পেরিয়ে গেছে।
