পেইন্টারের ভাবনায় লোগান ছেদ ঘটালেন। সাউথ আফ্রিকার অ্যাম্বাসিতে আমার আর ক্যাটের জন্য সকালের একটা অ্যাপয়েন্টমেন্ট রেখেছি। দেখি তারা আমাদেরকে নিঃসঙ্গ ওয়ালেনবার্গ পরিবারের ব্যাপারে সাহায্য করতে পারে কি-না।
ওয়ালেনবার্গ পরিবার সত্যি নিঃসঙ্গ ধাচের। সাউথ আফ্রিকার রাজা বলা যায় এদের। প্রচুর সম্পত্তির মালিক, নির্মম, বিশাল এস্টেট…এরা নিজেদেরকে গুটিয়ে রাখে। মেইন এস্টেট ছেড়ে খুব একটা বাইরে বেরই হয় না।
ডিজিটাল ফটোটা হাতে নিল পেইন্টার ক্রো।
একটা Sonnekonige পরিবার।
হাতে খুব একটা সময় নেই। সে-হিসেবে বলা যায় দ্বিতীয় বেল এদের কাছেই। আছে। এস্টেটের কোথাও আছে সেটা।
আপনারা জোহানসবার্গ নামার পরপরই একজন ব্রিটিশ অপারেটিভ আপনাদের সাথে দেখা করতে আসবে। M5 গত এক বছর ধরে ওয়ালেনবার্গদের ওপর নজর রেখে আসছে। অর্থ লেনদেনের ওপর চোখ রেখেছে ওরা… কিন্তু পরিবারটা এতই গোপনীয়তা রক্ষা করে চলে… ওরা খুব একটা সুবিধে করতে পারেনি।
অবাক হওয়ার কিছু নেই। এই দেশে ওয়ালেনবার্গদের ক্ষমতা অনেক। বলা যায় ওয়ালেনবার্গদেরই দেশ এটা, ভাবল ক্রো।
MIS আমাদেরকে গ্রাউন্ড সাপোর্ট আর স্থানীয় লোকবল দিয়ে সাহায্য করবে বলে প্রস্তাব দিয়েছে, বললেন লোগান। তিন ঘণ্টার মধ্যে আপনারা ল্যান্ড করবেন। এরমধ্যে আমি বিস্তারিত তথ্য যোগাড় করছি।
ঠিক আছে। ছবির দিকে তাকিয়ে বলল ক্রো। গ্রে আর মনকের কী খবর?
ওদের কোনো খবর নেই। এয়ারপোর্টের ফ্রাঙ্কফার্টে ওদের গাড়ি পার্ক অবস্থায় পাওয়া গেছে কিন্তু ওদের কোনো হদিস নেই।
ফ্রাঙ্কফার্ট? এটা কোনো কথা হলো। ওখানে আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনগুলো বেশ সহজলভ্য কিন্তু গ্রেকে তো সরকারি জেটে ওঠার লাইসেন্স দেয়া আছে। যেকোন কর্মাশিয়াল এয়ারলাইন্সের চেয়ে জেটে দ্রুত ভ্রমণ করা যায়। ওদের কাছ থেকে কোনো খবর পাওনি?
না, স্যার। আমরা সব চ্যানেলে কান রেখেছি।
এটা কোনো ভাল খবর হতে পারে না।
মাথাব্যথা আবার চেপে ধরল ক্রোকে। অন্ধকার আকাশে ড্রোন উড়ানোর অবস্থা হয়েছে ওর। গ্নের কী হয়েছে? অপশন মাত্র কয়েকটা :
(১) লুকিয়ে আছে,
(২) কারও হাতে ধরা পড়েছে,
(৩) খুন হয়ে গেছে।
কিন্তু কোনটা ঘটেছে গ্রের সাথে?
সব জায়গায় খুঁজে দেখ, লোগান।
কাজ চলছে, স্যার। আপনারা জোহানসবার্গ নামতে নামতে হয়তো এই ব্যাপারেও তথ্য হাতে চলে আসতে পারে।
আচ্ছা, লোগান, তুমি কী কখনও ঘুমাও?
ঘুমাই, স্যার। এক কোণায় গিয়ে। যখন ঘুম ধরে হাতের কাছে যে কোণা পাই সেখানেই ঘুমাই। লোগানের কণ্ঠে ক্লান্তির ছাপ স্পষ্ট। আপনার কী খবর, স্যার?
নেপালের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক ঝামেলা চুকিয়ে সবকিছু গুছিয়ে প্লেনে ওঠার আগে কাঠমাণ্ডুতে অনেকক্ষণ দেরি করতে হয়েছিল। তখন জব্বর একচোট ঘুমিয়ে নিয়েছে ক্রো।
আমি বেশ ভাল আছি, লোগান। চিন্তার কিছু নেই।
কথা সত্য।
লাইন বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর ক্রো মনের অজান্তেই ওর চতুর্থ আঙুলের নখ সরে গিয়ে বের হয়ে আসা মাংসের ওপর হাত বুলালো। ওর হাতের আঙুলগুলো শির শির করছিল… এখন আবার পায়ের আঙুলেও সমস্যা দেখা দিচ্ছে। লোগান একবার ওকে বুঝিয়ে ওয়াশিংটন চলে আসার পরামর্শ দিয়েছিলেন। জন হপকিন্সে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো যেত। কিন্তু পেইন্টার ক্রোর ভরসা অ্যানার ওপর। এই বিশেষ অসুখের বিশেষ চিকিৎসা বেল-এর মাধ্যমে করাতে হবে। অসুখের গতি কমানোর জন্য সচল বেল দরকার ওদের। অ্যানার ভাষ্যমতে, বেল-এর অধীনে যথাযথ রেডিয়েশনের মাধ্যমে চিকিৎসা করালে কয়েক বছর সময় পাওয়া যেতে পারে। আর এভাবে চিকিৎসার কোর্স কমপ্লিট করালে এই অসুখ থেকে সম্পূর্ণরূপে আরোগ্য লাভ করা সম্ভব। এব্যাপারে অ্যানা বেশ আশাবাদী।
কিন্তু সবার আগে ওদের আরেকটা বেল প্রয়োজন।
.. সেইসাথে আরও অনেক তথ্য লাগবে।
ওর কাঁধের পেছন থেকে একজনের কণ্ঠস্বর ভেসে এলো। আমার মনে হয়, অ্যানার সাথে কথা বলা উচিত। পেইন্টারের মনের অবস্থা পড়ার চেষ্টা করতে করতে বলল লিসা।
ওর দিকে ঘুরল ক্রো, ভেবেছিল লিসা বোধহয় ঘুমিয়ে পড়েছে। কিন্তু লিসা ঘুমায়নি। গোসল করে ফ্রেশ হয়ে এসেছে। ক্রোর সিটের পাশে এসে বসল ও। পরনে খাকি সেলোয়ার আর ক্রিম রঙের ব্লাউজ।
ক্রোর চেহারার ওপর চোখ বুলাল লিসা। তোমাকে দেখতে বিধ্বস্ত লাগছে।
বেশি ঘুমালে চেহারার হাল এরকমই হয়, উঠে দাঁড়িয়ে আড়মোড়া ভাঙল ক্রো।
দুলে উঠল প্লেন, অন্ধকার হয়ে গেল। ওর হাত ধরে ফেলল লিসা। পুরো পৃথিবী আবার উজ্জ্বল হয়ে স্বাভাবিক হয়ে গেল। আসলে প্লেন নয়, সব হয়েছে ওর মাথায়।
কথা দাও, ল্যান্ড করার আগে তুমি আরও খানিক সময় ঘুমাবে, পেইন্টারের কনুইয়ে চাপ দিয়ে বলল লিসা।
যদি সময় পাই… আউউউ… উফ!
এবার লিসা অনেক শক্ত করে চাপ দিয়েছে।
ঠিক আছে, ঘুমাবো। কথা দিলাম।
লিসা হাতের জোর কমিয়ে দিলো। অ্যানার দিকে মাথা নেড়ে দেখাল ও। ওয়ালেনবার্গদের একগাদা চালান আর বিল দেখছেন তিনি। বেল চালাতে প্রয়োজন হয় এরকম কিছু ওয়ালেনবার্গরা কিনেছে কি-না সেটা দেখছেন না।
বেল কীভাবে কাজ করে সে-ব্যাপারে আমি আরও বিস্তারিত জানতে চাই, লিসা বলল। এই থিওরির পেছনের মূল তত্ত্বটা কী? অসুখের ফলে যদি কোয়ান্টাম ক্ষয়-ক্ষতি হয় তাহলে কীভাবে এবং কেন হয় সেটা আমাদের জানা উচিত। Granitschlo৪ থেকে একমাত্র সে আর গানথার-ই বেঁচে আছে। আর গানথার বেলের থিওরি সম্পর্কে কতখানি জানে সে-ব্যাপারে যথেষ্ট সন্দেহ আছে আমার।
