বিষ আপনাকে প্রায় মেরেই ফেলেছিল। কিন্তু আধুনিক ও প্রাচীন… দুই ধরনের ওষুধ আপনাকে প্রাণে বাঁচিয়ে দিয়েছে। অল্পের জন্য বেঁচে গেছেন। গল্পের শেষটুকু জানালেন পলা।
আইভি বোতল থেকে দৃষ্টি সরিয়ে শ্যামানের দিকে নিল খামিশি।
ধন্যবাদ, আপনাকে।
হাঁটতে পারবেন বলে মনে হয়? শক্তি পাচ্ছেন? জানতে চাইলেন পলা। আপনার নড়াচড়া করা উচিত। বিষ দেহের সঞ্চালন সিস্টেমের জন্য হানিকারক। নড়াচড়া করলে উপকার হবে।
শ্যামেনের সাহায্য নিয়ে খামিশি উঠে দাঁড়াল। কোমরের কাছে কম্বল জড়িয়ে রাখল ও। ধীরে ধীরে দরজার দিকে এগোল ওরা। প্রথম পা ফেলার সময় খুব দুর্বল লাগছিল ওর কিন্তু এখন ভাল লাগছে।
দরজায় থাকা মোটা পর্দা সরিয়ে দেয়া হলো।
দিনের আলো আর তাপ ভেসে এলো ঘরের ভেতর। অত্যধিক আলোতে চোখে ঠিকভাবে কিছু দেখাই যাচ্ছে না। বিকেলের মাঝামাঝি সময় এটা, মনে মনে আন্দাজ করল খামিশি। সূর্য পশ্চিম দিকে একটু হেলে পড়েছে।
খামিশি এক হাত দিয়ে চোখ আড়াল করে বাইরে বেরোল।
এটা জুলুদের ছোট্ট গ্রাম। চিনতে পারল ও। হুলুহুলুই-আমলোজি প্রিজার্ভের পাশেই এই গ্রামের অবস্থান। রাইনোটাকে ওরা যেখানে পেয়েছিল, এখান থেকে ওই জায়গার দূরত্ব খুব বেশি নয়।
পলা কেইনের দিকে ফিরে তাকাল খামিশি। দুই হাত আড়াআড়ি রেখে দাঁড়িয়ে আছেন পলা। চেহারা বিধ্বস্ত।
ওয়ার্ডেন প্রধানের কাজ এটা, খামিশি বলল। কোনো সন্দেহ নেই ওর। তিনি আমার মুখ বন্ধ করে দিতে চেয়েছিলেন।
মারশিয়ার মৃত্যুর ব্যাপারে আপনি যা দেখেছিলেন সেটার জন্য?
মাথা নাড়ল খামিশি। হ্যাঁ।
আপনি কী…?
ওদের মাথার ওপর দিয়ে টুইন-ইঞ্জিনঅলা হেলিকপ্টার উড়ে যাওয়ায় বাক্য শেষ করতে পারলেন না পলা। রোটরের বাতাসে ঝোঁপঝাড় আর গাছপালা দুলে উঠল। দরজায় থাকা ভারি পর্দা পর্যন্ত উড়তে লাগল পতপত করে।
ভারি কপ্টারটি দূরে চলে গেল। সাভানার ওপর দিয়ে অল্প উচ্চতায় উড়ে যাচ্ছে। কপ্টারটাকে দেখল খামিশি। এটা কোনো টুরিস্ট কপ্টার নয়।
ওর পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন পলা। চোখে বাসনেল বাইনোকুলার। কপ্টারের সাথে সাথে দৃষ্টি সরাচ্ছেন তিনি। কপ্টার যেখানে ল্যান্ড করবে ওখানে দিয়ে থামলেন। ভাল করে দেখার জন্য খামিশি সামনে পা বাড়াল।
ওর হাতে পলা বাইনোকুলার ধরিয়ে দিলেন। সারাদিন ওখানে ফ্লাইট লেগেই থাকে।
বাইনোকুলার চোখে লাগাল খামিশি। পুরো পৃথিবী এক ধাক্কায় ওর কাছে চলে এলো। ১০ ফুট উঁচু কালো বেড়ার ওপাশে কপ্টারকে ল্যান্ড করতে দেখল ও। ওই বেড়া দিয়ে ওয়ালেনবার্গ প্রাইভেট এস্টেটকে আলাদা করা হয়েছে। কপ্টারটি বেড়ার আড়ালে অদৃশ্য হয়ে গেল।
কিছু একটা হচ্ছে ওখানে, বললেন পলা।
খামিশির ঘাড়ের পেছনে থাকা ছোট চুলগুলো দাঁড়িয়ে পড়ল।
ফোকাস ঠিক করে বেড়ার ওপর ধরল ও। একটা পুরোনো গেইট আছে, কালেভদ্রে ভোলা হয়। বরাবরের মতো এখনও বন্ধ ওটা। গেইটের গায়ে পারিবারিক চিহ্ন দেখতে পেল ও। দ্য ওয়ালেনবার্গ ক্রাউন অ্যান্ড ক্রস।
১১. ডিমন ইন দ্য মেশিন
তৃতীয় খণ্ড
১১. ডিমন ইন দ্য মেশিন
রাত ১২ টা ৩৩ মিনিট।
উড়োজাহাজে, ভারত মহাসাগরের উপরে।
ওয়াশিংটনে বসে আমি আর ক্যাপ্টেন ব্রায়ান্ট ওয়ালেনবার্গদের ব্যাপারে সর্বোচ্চ অনুসন্ধান করে দেখব, ফোনে জানালেন লোগান গ্রেগরি।
মাইক্রোফোন সংযুক্ত ইয়ারপিস রয়েছে পেইন্টারের কানে। হাত দুটো ব্যস্ত থাকায় ইয়ারপিসের সাহায্য নিতে হচ্ছে ওকে। একগাদা কাগজ ফ্যাক্স করে পাঠিয়েছে লোগান। ওয়ালেনবার্গদের পারিবারিক ইতিহাস, অর্থ সংক্রান্ত রিপোর্ট, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এমনকি গুজবও বাদ যায়নি।
কাগজের স্তূপের একদম ওপরে একটা ছবি আছে। ওতে দেখা যাচ্ছে একজন পুরুষ ও আরেকজন নারী লিমুজিন থেকে বেরোচ্ছে। হোটলের স্যুট থেকে এই ছবি তুলেছে গ্লে পিয়ার্স। নিলাম অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার আগের ছবি এটা। ওখানে স্থাপিত অন্যান্য ক্যামেরা থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে জানা গেছে চিহ্নট্যাটুটি ওয়ালেনবার্গ পরিবারের সাথে জড়িত। ছবিতে যে দুজনকে দেখা যাচ্ছে এরা সম্পর্কে ভাই-বোন, যমজ। ইসাক ওয়ালেনবার্গ ও ইসকি ওয়ালেনবার্গ। ওয়ালেনবার্গ বংশের সবকনিষ্ঠ বংশধর। এই পরিবারের সম্পদের পরিমাণ এতই বেশি যে অনেক দেশের সারা বছরের আয়ের সাথে টক্কর দেয়ার মতো ক্ষমতা রাখে।
তবে এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, পেইন্টার সাদা চুলের বিষয়টা খেয়াল করেছে। এরা সাধারণ যমজ ভাই-বোন নয়। এরা গানথারের মতো sonnekonige, ক্যাসলে আক্রমণকারী সেই মহিলাও এই দলের অন্তর্গত।
সামনে থাকা কেবিনের দিকে তাকাল পেইন্টার।
গানথার সোফায় হাত-পা ছড়িয়ে ঘুমিয়ে আছে। সোফার এপাশ দিয়ে পা বের হয়ে আছে। ওর বোন অ্যানা কাছেই একটা চেয়ারে বসে পেইন্টারের মতো একগাদা কাগজে চোখ বুলাচ্ছেন। এদের দুজনের পাহারায় রয়েছে মেজর ব্রুকস ও একজোড়া অস্ত্রধারী ইউ.এস রেঞ্জার। দাবার ছক উল্টে গেছে এখন। বন্দীকর্তারা এখন বন্দী। তবে পরস্পরের এই অবস্থান বদল ছাড়া আর কিছুই তেমন একটা পরিবর্তন হয়নি। যোগাযোগ দক্ষতা আর সামরিক সহযোগিতার জন্য পেইন্টারকে প্রয়োজন অ্যানার। অন্যদিকে বেল সম্পর্কিত তথ্য ও বিজ্ঞানের জন্য অ্যানাকে প্রয়োজন পেইন্টারের। এব্যাপারে অ্যানা অগেই বলে রেখেছেন, এসব ঝামেলা চুকে গেলে আমরা বৈধতা ও দায়িত্বগুলো নিয়ে আলোচনায় বসব।
