যাক কাজটা করতে লোগান দেরি করলেও… করেছে বলে ভাল লাগছে। না করার চেয়ে, দেরি করে করা ভাল। ক্রো বলল।
আপনি যদি আমার সাথে আসেন তাহলে তার সাথে কথা বলা যেতে পারে। লোকটির নাম মেজর ব্রুকস, এয়ার ফোর্স অফিসার। ওর সাথে ক্রো তাবুর ভেতরে গেল। অ্যানা আর গানথারকে নিয়ে লিসা তাবুর ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করতেই এক হাত দিয়ে বাধা দিল অফিসার।
আমি আসছি, ওদেরকে আশ্বস্ত করল ক্রো। বেশিক্ষণ লাগবে না।
পেইন্টার তাবুর ভেতরে চলে গেল। অনেক যন্ত্রপাতি আছে ভেতরে। স্যাটেলাইট টেলিকমিউনিকেশন থেকে একজন অফিসার সরে গিয়ে পেইন্টারকে জায়গা করে দিল।
লোগান? রিসিভার তুলে জিজ্ঞেস করল ক্রো।
ডিরেক্টর ক্রো, আপনার কণ্ঠ শুনে ভাল লাগছে। পরিষ্কার স্বর ভেসে এলো ওপাশ থেকে।
এজন্য তোমাকে ধন্যবাদ দেয়া উচিত আমার।
আমরা আপনার এসওএস পেয়েছিলাম।
মাথা নাড়ল ক্রো। এই এসওএস সিগন্যাল পাঠানোর সময়ই ক্যাসলে ওর অ্যামপ্লিফায়ার বিস্ফোরিত হয়েছিল। ভাগ্য ভাল বিস্ফোরণ হওয়ার আগেই সিগন্যাল পাঠানো হয়ে গিয়েছিল, পরে অতিরিক্ত লোড নিতে না পেরে অ্যামিপ্লিফায়ার অক্কা পায়। ওই সিগন্যালের কারণে এখানে সিগমার আগমন।
আপনার ওখানে যন্ত্রপাতি তুলতে আর রয়্যাল নেপালিজ মিলিটারির সাথে সমন্বয়ের কাজগুলো খুব দ্রুততার সাথে করা হয়েছিল। ব্যাখ্যা করল লোগান।
যতই দ্রুত করা হয়ে থাকুক সেটা যথেষ্ট ছিল না। আর একটু হলেই সর্বনাশ হতে পারতো। অল্পের জন্য রক্ষা।
নিশ্চয়ই স্যাটেলাইটের মাধ্যমে লোগান পুরো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছিল। সম্ভবত ওরা যখন ক্যাসল থেকে পালিয়ে বাইরে এসেছে তখন থেকে নজর রেখেছে লোগান। যা-ই হোক, বিস্তারিত পরে জানাবো। তারচেয়েও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কথা বলতে হবে এখন।
লোগান, সবকিছু খুলে বলার আগে আমি তোমাকে একটা অনুসন্ধান চালাতে বলব। একটা চিহ্নট্যিাটু ফ্যাক্স করে দিচ্ছি। খোঁজ নিয়ে দেখবে জিনিসটা কী। মেজর ব্রুকসকে ইশারা করে কাগজ-কলম দেখাল পেইন্টার। চাহিদা মতো কাগজ-কলম চলেও এলো। আততায়ী মহিলার হাতে যে চিহ্ন দেখেছিল সেটা দ্রুত আঁকল ক্রো। এই চিহ্ন নিয়েই এগোতে হবে ওদের।
দ্রুত কাজ শুরু করে দাও, বলল ক্রো। দেখো কোনো সন্ত্রাসী সংগঠন, রাজনৈতিক দল কিংবা ড্রাগ কার্টেল-এর সাথে এই চিহ্নের কোনো সম্পর্ক খুঁজে পাও কি-না।
আমি এখুনি বিষয়টা দেখছি।
চারপাতার সেই ট্যাটু কোনোমতো কাগজে একে সেটাকে এক অফিসারের হাতে ধরিয়ে দিল ক্রো। অফিসার ওটাকে নিয়ে ফ্যাক্স মেশিনে দিল।
ফ্যাক্স পাঠানোর প্রক্রিয়া চলতে চলতে সবকিছুর সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দিল পেইন্টার। এইসময় লোগান ক্রোকে অত্যধিক প্রশ্ন করে বাধা না দেয়ায় মনে মনে ক্রো ওকে ধন্যবাদ দিল।
ফ্যাক্স পেয়েছ? কয়েক মিনিট পর প্রশ্ন করল ক্রো।
এইমাত্র হাতে পেলাম।
বেশ। খোঁজ লাগাও… এই অনুসন্ধানকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবে।
চুপচাপ। বেশ কিছুক্ষণ হলো কোনো আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছে না। পেইন্টার ভাবল হয়তো সিগন্যাল কেটে গেছে। হঠাৎ লোগানের কণ্ঠ শোনা গেল আবার। স্যার…
কী হয়েছে?
আমি এই চিহ্ন চিনি। গ্রেসন পিয়ার্স ৮ ঘন্টা আগে এই চিহ্ন আমার কাছে পাঠিয়েছিল।
কী?
কোপেনহ্যাগেনে গ্রের সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো একে একে জানাল লোগান। কথাগুলো শুনতে শুনতে ক্রোর মাথাব্যথা আবার চাড়া দিয়ে উঠল। নিজেকে সামলে ঘটনা শোনার দিকে মনোযোগ দিল ক্রো। তাতে যা বুঝল, একই গোষ্ঠীর আততায়ীরা গ্রের পেছনেও লেগেছে। অন্য একটা বেল-এর অধীনে জন্ম নেয়া Sonnekonise ওরা। কিন্তু ইউরোপে কেন? কয়েকটা পুরোনো বইয়ে কী এমন মহারত্ন আছে? ইতোমধ্যে গ্রে জার্মানি শ্রাগ করেছে, সূত্র ধরে এগিয়ে গিয়ে ঘটনার শেষ দেখতে চায়।
চোখ বন্ধ করল পেইন্টার। মাথাব্যথা বেড়ে গেছে। ইউরোপে আক্রমণ হওয়ায় এটাই প্রমাণিত হয়, কিছু একটা হচ্ছে যেটার সাথে পুরো পৃথিবীর প্রশ্ন জড়িত। কিছু একটা হচ্ছে… সেটার ফল আসন্ন।
কিন্তু কী সেটা?
শুরু করার জায়গা মাত্র একটা। একটা মাত্র সূত্র। এই চিহ্ন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমাদেরকে খুঁজে বের করতে হবে এই চিহ্ন কাদের?
ঠাণ্ডা গলায় লোগান বলল, আমরা হয়তো উত্তরটা জানি।
কী? ইতোমধ্যে জেনে ফেলেছ?
৮ ঘণ্টা সময় পেয়েছিলাম, স্যার।
ঠিক, ঠিক। মাথা নাড়ল পেইন্টার। হাতে থাকা কলমের দিকে তাকাল ও। অদ্ভুত বিষয়টা চোখে পড়ল। ওর চতুর্থ আঙুলের নখ নেই! গায়েব হয়ে গেছে। হয়তো যখন ববকে ঘুষি মেরেছিল তখন হয়েছে বিষয়টা। নখ সরে গেছে কিন্তু কোনো রক্ত বের হয়নি। স্রেফ ফ্যাকাসে শুকনো মাংস বেরিয়ে পড়েছে। ঠাণ্ডা ও অনুভূতিশূন্য। লক্ষণটা ধরতে পারল ক্রো।
হাতে আর খুব বেশি সময় নেই।
লোগান গ্রের কাছ থেকে কী কী জেনেছে সেগুলো এক এক করে বলছিল কিন্তু বাধা দিল ক্রো।
এখানকার ঘটনাগুলো সম্পর্কে গ্রেকে জানিয়েছ?
না, স্যার। এখনও জানাতে পারিনি। গ্রেকে এখন পাওয়া যাচ্ছে না।
নিজের স্বাস্থ্যের কথা ভুলে ভ্রু কুঁচকাল পেইন্টার। ওকে সব খুলে বলবে, দৃঢ়ভাবে নির্দেশ দিল ক্রো। যেভাবে পারো যোগাযোগ করো। কীসের পেছনে লেগেছে সে-সম্পর্কে গ্রের কোনো ধারণাই নেই।
.
সকাল ৯টা ৫০ মিনিট।
উইউইলসবার্গ, জার্মানি।
