আধো অন্ধকারের ভেতরে সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডের ওপর গাঢ় সবুজ টাইলস দেখা গেল। দেখতে অনেকটা সূর্যের মতো… সেখান থেকে ১২টা বজ্রপাতের রেখা বেরিয়ে এসেছে।
Schwarze Sonne, অর্থাৎ-কালো সূর্য। বৃত্তের চারিদিকে হাঁটতে হাঁটতে বললেন আলমস্ট্রম। এই প্রতীকের শেকড় গিয়ে অনেক মিথের সাথে মিশেছে। তবে নাসিরা এই প্রতীককে ব্যবহার করেছে অল-ফাদারের ক্ষেত্রে। ইলি, হাইপারবোরিয়া, আগারথা… বিভিন্ন নাম আছে এখানে। সবমিলিয়ে এই প্রতীক দিয়ে সেই সূর্যকে বোঝানোনা হয়েছে যেটার অধীনে আর্য জাতি নতুন করে জন্ম নেবে।
আবার অল-ফাদারে ফিরলাম আমরা, বলল গ্রে, প্রাচীন বর্ণগুলো ওর মনে ভেসে উঠল।
নাৎসিদের মূল লক্ষ্য ছিল ওটা… কিংবা বলা যায়, এটা হিমল্যার ও তার ব্ল্যাক অর্ডারের লক্ষ্য ছিল। তাদের উদ্দেশ্য ছিল জার্মানদেরকে পুনরায় ঈশ্বরসুলভ আসনে বসানো। সবমিলিয়ে এসব কারণেই হিমল্যার এই প্রতীককে তার ব্ল্যাক অর্ডারের জন্য ঠিক করে ছিলেন।
হিউগো সাহেব কোন ধরনের গবেষণার সাথে যুক্ত ছিলেন সেটা আন্দাজ করার চেষ্টা করল গ্রে। একজন জীববিজ্ঞানী যদি এই উইউইলসবার্গের ক্যাসলের সাথে জড়িত থাকে তাহলে সে কী নিয়ে গবেষণা করতে পারে? হিউগো কী Lebensbom প্রজেক্টের সাথে যুক্ত ছিলেন? কিন্তু সেই প্রজেক্টের জন্য আজও কেন মানুষ খুন হয়ে যাচ্ছে? গবেষণা করে কী এমন পেয়েছিলেন যে সেটাকে পরিবারের বইয়ে গোপনে কোড করে রাখতে হলো?
মেয়ে টোলার কাছে তার পাঠানো চিঠিটার কথা ভাবল গ্রে। এমন একটা গোপন বিষয়ের ইঙ্গিত হিউগো দিয়ে গেছেন যেটা এত সুন্দর যে ওটাকে শেষ করে দেয়া যায়নি আবার ওটা এতটাই দানবীয় যে মুক্ত করাও সম্ভব হয়নি। জিনিসটা কী? হিউগো সাহেব তার উপরস্থ নাৎসি সদস্যদের কাছ থেকে কী লুকোতে চেয়ে ছিলেন?
বিজলি চমকানো আলো জানালা দিয়ে ভেতরে ঢুকল। সেই আলোতে ঝকঝক করে উঠল কালো সূর্য। ইলেকট্রিক লাইটগুলো কেঁপে উঠল বজ্রপাতের গুড়গুড় আওয়াজে। এরকম ঝড় হলে সাধারণত কারেন্ট থাকে না।
তা-ই হলো এখানে। আকাশে আবার বিজলি চমকাতেই নিভে গেল ইলেকট্রিক লাইটগুলো।
অন্ধকার।
যদিও জানালা দিয়ে আবছা আলো ভেতরে আসছে।
দূরে কোথাও একটি কণ্ঠ হাঁক ছাড়ল।
জোরে শব্দ হলো কাছে কোথাও।
সবার চোখ শব্দের উৎসের দিকে ঘুরল।
দড়াম করে বন্ধ হয়ে গেল চেম্বারের দরজা। সোয়েটারের নিচে থাকা পিস্তলের বাটে গ্রের হাত চলে গেল।
সিকিউরিটি লকডাউন, নিশ্চিত করলেন আলমস্ট্রম। ভয়ের কিছু নেই। ব্যাকআপ জেনারেটর চালু হয়ে যাবে…
ইলেকট্রিক লাইটগুলো আবার জ্বলে উঠল।
মাথা নাড়লেন আলমস্ট্রম, এই তত! আলো এসেছে। বিব্রতকর মুহূর্তের জন্য দুঃখিত। এদিকে আসুন।
চেম্বার থেকে বাইরে বেরিয়ে সবাইকে নিয়ে মেইন হলের দিকে না এগিয়ে পাশে থাকা সিঁড়ির দিকে এগোলেন তিনি। ক্যাসল পরিদর্শন এখনও শেষ হয়নি।
পাশের রুমে ওই বাইবেলে থাকা বিভিন্ন বর্ণের চিত্র আঁকা আছে। আশা করি, বিষয়টা আপনাদের কাছে ইন্টারেস্টিং লাগবে।
হল থেকে পায়ের শব্দ শোনা গেল। দ্রুত এগিয়ে আসছে।
সেদিকে ঘুরল গ্রে, ওর হাত এখনও পিস্তল ছুঁয়ে আছে। না, হোলস্টার থেকে পিস্তল বের করার কোনো প্রয়োজন নেই। রায়ান আসছে ওদের দিকে, হাতে একটা বাদামি খাম। কিছুটা হাঁপাতে হাঁপাতে ওদের কাছে এসে পৌঁছুল রায়ান। ich glaube… জার্মান বলতে গিয়ে নিজেকে সামলে নিল। চিঠিসহ সব কাগজপত্র আছে এখানে।
এবার তাহলে আমরা এই ছাতার জায়গা থেকে কেটে পড়তে পারি। খাম হাতে নিয়ে বলল মনক।
হয়তো ওদের এখন চলে যাওয়াই উচিত। ড. আলমস্ট্রমের দিকে তাকাল গ্রে। সিঁড়ির মাথায় দাঁড়িয়ে আছেন তিনি। এই সিঁড়ি উপরে নয়, নিচে নেমে গেছে।
ওদের দিকে এগোলেন ডিরেক্টর। যদি আপনাদের তাড়া থাকে তাহলে…
না, তাড়া নেই। আপনি প্রাচীন বর্ণ নিয়ে কী যেন বলছিলেন? গ্রে বলল। ক্যাসলের পুরোটা না দেখে যাওয়াটা বোকামি হবে।
এক হাত নাড়িয়ে সিঁড়ি দেখালেন আলমস্ট্রম। নিচে থাকা চেম্বারে গেলেই আপনি প্রাচীন বর্ণগুলো দেখতে পাবেন। এই ক্যাসলের আর কোথাও ওগুলো পাবেন না। অবশ্য বর্ণের সাথে কিছু থাকলে বর্ণের প্রকৃত মর্ম বোঝা যায়…
কী থাকলে?
দীর্ঘশ্বাস ফেললেন ডিরেক্টর। হাতঘড়িতে চোখ বুলিয়ে বললেন, চলে আসুন। তাড়াতাড়ি দেখিয়ে দেই। লম্বা লম্বা পা ফেলে সিঁড়ি বেয়ে নামতে শুরু করলেন তিনি।
রায়ান ও ফিওনাকে সাথে আসার জন্য গ্রে ইশারা করল। গ্রে যখন পাশ দিয়ে যাচ্ছিল তখন চোখ পাকাল মনক, ভূতোমার্কা ক্যাসল এটা… এখান থেকে চলে যাই…
ক্যাসল থেকে বের হওয়ার জন্য মনক কেন এত ব্যস্ত হয়ে উঠেছে সেটা গ্রে-ও টের পেল। প্রথমে মার্সেডিজ কাহিনি তারপর কারেন্ট চলে যাওয়া। যদিও এখনও খারাপ কিছুই ঘটেনি। আসলে বাইবেলে থাকা প্রাচীন বর্ণ আর ইতিহাস সম্পর্কে জানার সুযোগটা গ্রে হাতছাড়া করতে চাইছে না।
নিচ থেকে আলমস্ট্রমের কণ্ঠ শোনা গেল। Obergruppenfuuhrersaal- এর ঠিক নিচেই এই চেম্বার অবস্থিত।
চেম্বারের দরজায় মোটা-পুরু কাঁচ দেয়া। ডিরেক্টর দরজা খুলতে খুলতে ওরা সবাই ওখানে পৌঁছে গেল। দরজা খুলে ওদের সবাইকে ঢুকতে দেয়ার পর ভেতরে ঢুকলেন তিনি।
