০০:০৩ সেকেন্ড
নাহ, হলো না।
লিসার হাত ধরল পেইন্টার।
শক্ত করে ওর হাত ধরেছে পেইন্টার… এমন সময় পুরো পৃথিবী দুলে উঠল। শুরু গম্ভীর আওয়াজ হলো কোথাও। দম আটকে রইল ওরা, পাহাড়ের চূড়া থেকে ছিটকে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত। কিন্তু কিছুই হলো না। ওরা যতটা বড় করে ভাবছে আসলে ঘটনা হয়তো অত বড় নয়।
তারপর দুম করে ওদের হেলিকপ্টারের নিচে থাকা পাহাড়ের কার্ণিশটুকু ভেঙ্গে গেল। কাত হয়ে নাক নিচু করল এ-স্টার। রোটর ঘুরছে ঠিকই কিন্তু কাজ হচ্ছে না। কার্ণিশ ভেঙ্গে কাত হয়ে যাওয়ায় ওটার গা বেয়ে পিছলে যাচ্ছে কপ্টার।
পাহাড়ের কিনারের দিকে এগোচ্ছে ওরা।
ভূমি আবার কেঁপে উঠল… আরেকটা বিস্ফোরণ…।
কপ্টার লাফিয়ে উঠল কিন্তু বাতাসে নিজেকে মেলে দিল না।
কন্ট্রোল নিয়ে গানথার রীতিমতো যুদ্ধ করছে।
পাহাড়ের কিনারা ছুটে আসছে ওদের দিকে। তুষার কেটে কপ্টারের পিছলে যাওয়ার আওয়াজও কানে আসছে।
পেইন্টারের দিকে আরও ঘেষে এলো লিসা। পেইন্টারের আঙুলগুলোকে শক্ত করে আকড়ে ধরায় ওর নিজের হাত সাদা হয়ে গেছে। অন্যদিকে অ্যানা সোজা হয়ে শক্ত করে বসে রয়েছেন। চেহারায় কোনো অভিব্যক্তি নেই। দৃষ্টি সামনে।
গানথারও চুপচাপ আছে, কোনো আওয়াজ করছে না।
বরফ কেটে এগোচ্ছে এ-স্টার। প্রতি মুহূর্তে পিছলে যাওয়া গতি বেড়ে যাচ্ছে। ওরা কেউ কোনো শব্দ করছে না। কপ্টারের রোটর ওদের হয়ে আর্তনাদ করছে।
বাতাসে নিজেকে মেলে দেয়ার জন্য প্রস্তুত হয়ে গেল কপ্টার! নিচু হয়ে যাওয়া নাক সোজা হলো ধীরে ধীরে। কন্ট্রোল নিয়ে ব্যস্ত গানথার কপ্টারকে উঁচুতে তুলে নিল।
ওদের সামনের অংশের কার্ণিশ হুড়মুড় করে ভেঙ্গে পড়ল বিস্ফোরণের ধাক্কায়।
ক্যাসলের ক্ষয়-ক্ষতি দেখার জন্য যথেষ্ট উঁচুতে উঠেছে কপ্টার। ক্যাসলের সামনের অংশে থাকা জানালাগুলো দিয়ে ভকভক করে ধোয়া বেরোচ্ছে। দরজাগুলো গায়েব। ক্যাসলের ওইপাশে থাকা হেলিপ্যাড থেকে কালো ধোয়ার কলাম উঠে যাচ্ছে। আকাশে।
জানালার কাঁচে হাত রেখে বললেন অ্যানা, প্রায় দেড়শ নারী-পুরুষ ছিল।
অনেকে হয়তো বাইরে ছিল… মিনমিন করে বলল লিসা।
ওরা কারও নড়াচড়া দেখতে পেল না।
শুধু ধোয়া আর ধোয়া।
ক্যাসলের দিকে নির্দেশ করে অ্যানা বললেন, যদি সার্চ করা যেত…
কিন্তু কোনো সার্চ পার্টি কিংবা উদ্ধার অভিযান তো এখানে সম্ভব নয়।
হবেও না।
হঠাৎ করে চোখ অন্ধ করে দেয়ার মতো উজ্জ্বল আলো ঝলসে উঠল ক্যাসলের জানালাগুলো দিয়ে। এ যেন সোডিয়ামের উজ্জ্বল আলোর এক সূর্য। কোনো আওয়াজ নেই। তবে চোখের মণি জ্বালিয়ে দিল এটা। দৃষ্টিশক্তি অকার্যকর করে দিল।
অন্ধ হয়ে যাওয়ার পর পেইন্টারের মনে হলো কপ্টার বোধহয় একদিকে হেলে পড়েছে। পাইলটের সিটে বসা গানথারও ভড়কে গেছে। এবার একটা শব্দ শোনা যাচ্ছে। পাহাড় ভাঙ্গার শব্দ, অসম্ভব জোরে হচ্ছে শব্দটা। যেন ভূগর্ভস্থ প্লেটগুলোকে কেউ গুড়ো করে দিচ্ছে।
বাতাসে ভেসে থাকা কপ্টারটা কেঁপে উঠল।
চোখে ব্যথা দিয়ে দৃষ্টিশক্তি ফিরে এসেছে এবার।
জানালা দিয়ে নিচে তাকাল ক্রো।
ও খোদা…
পাহাড়ের ধুলোরাশির জন্য ঠিকমতো দেখা যাচ্ছে না তারপরও ধ্বংসলীলা তার নিজের অস্তিত্বের কথা ঠিকই জানান দিল। পাহাড় দুমড়ে গেছে। ধসে গেছে ক্যাসলের গ্রানাইটের অংশটুকু। সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ব্যাপার হলো, ক্যাসল- সুদ্ধ পাহাড়ের বড় একটি অংশ স্রেফ গায়েব হয়ে গেছে! একদম গায়েব!
Unmoslick, বিস্মিত হয়ে বিড়বিড় করলেন অ্যানা।
কী?
এরকম ধ্বংসলীলা… এটা ZPE বোমের কাজ। স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে রয়েছেন তিনি।
ব্যাখ্যা শোনার জন্য পেইন্টার অপেক্ষা করছে।
zPE অর্থাৎ Zero Poin Energy; আইনস্টাইনের সূত্রকে কাজে লাগিয়ে সর্বপ্রথম নিউক্লিয়ার বোমা বানানো হয়েছিল, যেটাতে কয়েকটা ইউরোনিয়াম অ্যাটমে এনার্জী সঞ্চয় করা যেত। যদিও প্ল্যাঙ্কের কোয়ান্টাম থিওরিতে থাকা পাওয়ারের সাথে ওটার কোনো তুলনাই চলে না। প্ল্যাঙ্কের থিওরি দিয়ে বানানো বোমা দিয়ে বিগ-ব্যাং ঘটিয়ে দেয়া সম্ভব। এতই এনার্জী!
কপ্টারের কেবিনে থাকা কেউ কোনো কথা বলল না।
মাথা নেড়ে অ্যানা আবার শুরু করলেন। বেল-এর জন্য জ্বালানি হিসেবে দরকার… জেরাম-৫২৫… এটাকে জিরো পয়েন্ট এনার্জীর ক্ষেত্রে একটা অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব হবে ইঙ্গিত দেয়া হয়েছিল। কিন্তু আমরা কখনও বিষয়টা পরীক্ষা করে দেখিনি।
কিন্তু অন্য কেউ করেছে, বলল পেইন্টার। মৃত নারী আততায়ীর কথা মনে পড়ল
অ্যানা পেইন্টারের দিকে তাকালেন। তার চেহারায় ভয় আর আতঙ্ক ফুটে উঠেছে। তাদেরকে থামাতে হবে আমাদের।
কিন্তু তারা কে বা কারা?
মনে হয় আমরা সেটা জানতে পারব। সামনের দিকে দেখিয়ে বলল লিসা।
সামনে দাঁড়ানো পাহাড়ের চুড়োর ওপর দিয়ে তিনটি কপ্টার এগিয়ে আসছে। তুষার অঞ্চলে ছদ্মবেশ নেয়ার জন্য সাদা রং করা হয়েছে ওগুলোকে। একটু ছড়িয়ে গিয়ে এ-স্টারের দিকে এগোচ্ছে ওগুলো।
আকাশে যুদ্ধের কলাকৌশল সম্পর্কে জ্ঞান থাকায় গ্রে তিনটা কপ্টারের এরকম আচরণের অর্থ ভাল করেই বুঝতে পারল।
এটা হচ্ছে অ্যাটাক ফরমেশন।
অর্থাৎ, এখন ওদের ওপর হামলা হবে।
.
সকাল ৯টা ৩২ মিনিট।
উইউইলসবার্গ, জার্মানি।
