রায়ানকে দেখে হতাশ মনে হচ্ছে। হ্যাঁ। তার মেয়ে টোলা-ও জীববিজ্ঞানী ছিলেন।
গ্রে আস্তে আস্তে মাথা নাড়ল। সুপারম্যান সম্পর্কিত মিথের ব্যাপারে নাসিরা সবসময়ই খুব আগ্রহী ছিল। অল-ফাদার বলতে আসলে আর্য জাতিদের কথা বলা হচ্ছে। এই আঁকিবুকিগুলোর অর্থ কী দাঁড়াচ্ছে তাহলে? হিউগো সাহেব নাৎসিদের সেই উদ্ভট, অন্ধবিশ্বাসে বিশ্বাসী ছিলেন? নাহ, বিশ্বাস হচ্ছে না রে। রায়ানের মুখে হিউগোর নোটের যে বিবরণ শুনেছিল সেটা মনে পড়ল ওর। মোহমুক্ত হয়ে তিনি তার মেয়ের উদ্দেশ্যে নোটটা লিখেছিলেন। ওতে একটা গোপন বিষয়ের ইঙ্গিত দেয়া আছে। যেটা এত সুন্দর যে ওটাকে শেষ করে দেয়া যায়নি আবার ওটা এতটাই দানবীয় যে মুক্ত করাও সম্ভব হয়নি।
একজন জীববিজ্ঞানী আরেকজন জীববিজ্ঞানীর কাছে এই নোট দিয়েছিলেন।
গ্রে বুঝতে পারল প্রাচীন বর্ণ, অল-ফাদার, পরিত্যক্ত পুরোনো কোনো গবেষণা; এসব এক সূত্রে জড়িত। গোপন বিষটি যা-ই হোক না কেন সেটা খুনোখুনি হওয়ার মতো যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ।
মুখ খুললেন আলমস্ট্রম, Mensch বর্ণগুলোকে নাসিরা একটু বেশি-ই পছন্দ করতো। তারা এটাকে ভিন্ন নামও দিয়েছিল। নামটা ছিল: leber-rune
অর্থাৎ, জীবনের বর্ণ? অনুবাদ করে প্রশ্ন করল গ্রে।
হ্যাঁ। লেবেনসবর্ন প্রোগ্রামের ক্ষেত্রে এটাকে ব্যবহার করতো তারা।
সেটা আবার কী? মনক প্রশ্ন করল।
জবাবটা যে-ই দিয়ে দিল। ওটা হলো নাসদের সন্তান উৎপাদন প্রোগ্রাম। সাদা চামড়া, নীল নয়নের অধিকারী শিশু জন্মানো হতো ওই প্রোগ্রামে।
মাথা নেড়ে সায় দিলেন ডিরেক্টর। তবে বর্ণটির মতো leben বর্ণেও বিপরীত চিত্র আছে। গ্রের হাতে থাকা বাইবেলটির উপরের দিকে নিচে আর নিচের দিককে উপরে তুলতে বললেন তিনি। leben বর্ণকে উল্টালে সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র পাওয়া যায়। সেই বর্ণের নাম : The toten-rune
বুঝতে না পেরে ভ্রু কুঁচকে গ্রের দিকে তাকাল মনক।
গ্রে অনুবাদ করল। দ্য রুন অফ ডেথ। অর্থাৎ মৃত্যুর বর্ণ।
.
দুপুর ১ টা ৩৭ মিনিট।
হিমালয়।
মৃত্যু টিক টিক করে এগিয়ে আসছে।
o:৫৫ সেকেন্ড
মৃত মহিলার হাতঘড়ি হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে পেইন্টার। পায়ে হেঁটে কোনো লাভ হবে না। বিস্ফোরণের ধাক্কা যে এলাকা জুড়ে পড়বে সেটা পায়ে হেঁটে পেরিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।
তাহলে? প্রশ্ন করলেন অ্যানা।
হেলিকপ্টার, জানালা দিয়ে বাইরে নির্দেশ করল ও। এ-স্টার হেলিকপ্টার ইঞ্জিন। গরম অবস্থায় ক্যাসলের বাইরে দাঁড়িয়ে রয়েছে।
বাকিরা… অ্যালার্ম বাজানোর জন্য ফোনের দিকে এগোলেন অ্যানা।
Keine Zeit, ধমকে উঠে গানথার ওর বোনকে থামিয়ে দিল। রাশিয়ান এ-৯১ বুলপাপ রাইফেল তুলে নিয়েছে হাতে। কোমরে থাকা গ্রেনেড কার্তুজ থেকে একটি গ্রেনেড বের করে সেটাকে রাইফেলের ৪০মিমি লঞ্চারে ঢোকাল ও।
Hier বড় বড় পা ফেলে এগোল অ্যানার বিশাল ডেস্কের দিকে। Schnellr
রুমের জানালার দিকে তাক করল রাইফেল।
লিসার হাত ধরে আড়ালে যাওয়ার জন্য ছুটল পেইন্টার, অ্যানাও ছুটলেন ওদের পিছু পিছু। ওদের নিরাপদ স্থানে পৌঁছে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করার পর গানথার ফায়ার করল।
ফায়ার করেই ডেস্কের আড়ালে চলে গেছে গানথার।
বোনের হাত আর কোমর ধরে টেনে নিজের শরীরের নিচে নিয়ে আড়াল দেয়ার চেষ্টা করল ও। গ্রেনেডের শব্দে পেইন্টারের কানে তালা লেগে গেছে প্রায়, ওদিকে দুই হাত দিয়ে লিসা নিজের কান ঢেকে রেখেছে। বিস্ফোরণের ধাক্কায় পুরো এক ফুট সরে গেল ডেস্ক। কয়েক টুকরো পাথর আর কাঁচ খসে পড়ল এখান সেখান থেকে। তবে ধুলা আর ধোয়ায় পুরো রুম ছেয়ে গেল।
অ্যানাকে টেনে দাঁড় করাল গানথার। কথা বলে কোনো সময় নষ্ট করল না। গ্রেনেডের সাহায্যে লাইব্রেরির ভেতর দিয়ে একটি গর্ত তৈরি করা হয়েছে। ওটা দিয়ে বাইরে বেরোল ওরা।
প্রায় ১২০ ফুট দূরে হেলিকপ্টারটি দাঁড়িয়ে রয়েছে। গ্রেনেডে বিস্ফোরিত লাইব্রেরিকে পেছনে রেখে ওরা হেলিকপ্টারের দিকে ছুটল।
পেইন্টারের হাতে এখনও সেই হাতঘড়ি আছে। হেলিকপ্টারে ওঠার আগপর্যন্ত ওটার দিকে তাকাল না ও। কপ্টারের কাছে সবার আগে পৌঁছুল গানথার, পেছনের দরজা খুলে দিল। অ্যানা আর লিসাকে কপ্টারের ভেতরে ঢোকানোর পর নিজেও কপ্টারে চড়ে বসল পেইন্টার।
এরমধ্যে গানথার পাইলটের সিটে বসে পড়ে বেল্ট লাগিয়ে নিয়েছে। এবার টাইমারের দিকে তাকাল ক্রো। অবস্থা ভাল নয়। হয় ওরা কাজটা করতে পারবে নইলে শেষ!
ঘড়িতে ওঠা নাম্বারের দিকে তাকাল ক্রো। ওর মাথাব্যথা করছে, চোখ পিটপিট করল বেচারা। মাথাব্যথা এড়িয়ে কোনোমতে ডিজিটাল ঘড়িতে ওঠা সংখ্যাটা পড়ল।
০০:০৯ সেকেন্ড
সময়-ই তো নেই।
ইঞ্জিনে গর্জন তুলল গানথার। রোটর আস্তে আস্তে ঘুরতে শুরু করেছে… একটু বেশি-ই আস্তে ঘুরছে বোধহয়। জানালা দিয়ে বাইরে তাকাল ক্রো। পাহাড়ের ওপরে গতরাতের ঝড়ের ফলে জমে থাকা তুষারের ওপর ওদের হেলিকপ্টার দাঁড়িয়ে আছে। মেঘলা আকাশ। বিভিন্ন পর্বতের মাথায় যেন কুয়াশায় ঘোমটা দেয়া।
সামনের সিটে বসা গানথার ঘোঘোত করল। কারণ, রোটরের গতিতে সর্বোচ্চ স্তরে না পৌঁছানো পর্যন্ত হেলিকপ্টার এখানকার এই পাতলা বাতাসে উড়তে চাইছে না।
