আকাশ-কুসুম কল্পনা না করে কাজে নামা যাক।
কোনো চিহ্ন আছে? পেইন্টার প্রশ্ন করল। অযথা দুশ্চিন্তা করার মানে হয় না।
এই যে, শুধু এটা। মহিলার কবজি ধরে সেটার উল্টো পিঠ দেখালেন অ্যানা। এই চিহ্ন চেনেন?
ধবধবে সাদা ত্বকের ওপর কালো ট্যাটু আঁকা রয়েছে। পাকানো চারটা বৃত্ত।
কেলটেক-এর মতো দেখাচ্ছে। কিন্তু এতে কোনো অর্থ হয় কি-না জানা নেই।
আমিও বুঝতে পারছি না। লাশের হাত ছেড়ে দিয়ে বললেন অ্যানা।
পেইন্টারের চোখে কিছু একটা ধরা পড়ল। হাঁটু গেড়ে বসে হাতটা আবার তুলে নিল ও। লাশের শরীর এখনও গরম আছে। আততায়ীর আঙুলে নখ নেই, ওখানে জখমের মতো দেখা যাচ্ছে। এটা একটা ক্রটি হলেও খুব গুরুত্বপূর্ণ।
পেইন্টারের কাছ থেকে হাতটাকে নিজের হাতে নিলেন অ্যানা। শুকনো… তার চোখের ভ্রু কুঁচকে গেল। পেইন্টারের দিকে তাকালেন তিনি।
আমি যা ভাবছি বিষয়টা কী তা-ই? বলল পেইন্টার।
আততায়ীর দিকে ফিরলেন অ্যানা। কিন্তু আমি আগে ওর চোখের স্ক্যান করাব। অপটিক নার্ভের পাশে petechia আছে কি-না দেখব।
তবে পেইন্টারের আর কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন নেই। সে নিজের চোখে প্রমাণ দেখেছে। রুম থেকে বের হওয়ার সময় মহিলার যে অবিশ্বাস্য গতি ছিল সেটাই পেইন্টারের জন্য যথেষ্ট।
এই মহিলা একজন Sonnekonige.
ওদের কাছে এলো লিসা ও গানথার।
তবে আমাদের নয়, জানালেন অ্যানা। এর বয়স অনেক কম। প্রায় নিখুঁত বলা যায়। যারা ওকে তৈরি করে থাকুক না কেন, আমাদের সর্বশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করেছে। বিগত দশক ধরে আমরা প্রযুক্তির যে উন্নতি করেছি সেটাই ব্যবহার করা হয়েছে এখানে। আমরা যা গবেষণা করে কাগজে রেখেছিলাম… সেটাকে মানুষের ওপর ফলিয়ে দেখিয়েছে তারা।
সেটা কী আপনার এখানে সম্ভব নয়? কাজের সময়ের পর যে সময় থাকে সেই সময়ে যদি কেউ তৈরি করে থাকে…?
মাথা নাড়লেন অ্যানা। বেল-কে চালু করে এই কাজ করতে হলে অনেক এনার্জী প্রয়োজন হয়। লুকোনো সম্ভব নয়, ঠিকই জানা যেত।
তাহলে আর একটা উপায়-ই বাকি রইল।
ওকে অন্য কোথাও তৈরি করা হয়েছে। বসা থেকে উঠে দাঁড়ালেন অ্যানা।
অন্য কারও কাছে সচল বেল আছে।
পেইন্টার নখ আর ট্যাটু আবার পরীক্ষা করল। এবং সেই তারা আপনাদের প্রজেক্ট বন্ধ করে দিতে চায়। বিড়বিড় করে বলল ও।
পুরো রুম চুপচাপ হয়ে গেল।
এই পিনপতন নীরবতার মধ্যে পেইন্টার একটা হালকা আওয়াজ শুনতে পেল। খুব ভাল করে খেয়াল না করলে হয়তো টেরই পাওয়া যেত না। শব্দটা লাশ থেকে আসছে। ওর মনে হলো, এই শব্দ ও এর আগেও শুনেছে কিন্তু অন্যান্য চিন্তার কারণে পাত্তা দেয়নি।
লাশের পারকার হাতা সরাল ও।
চামড়ার ব্যান্ডে একটি ডিজিটাল ঘড়ি দেখা গেল। চওড়ায় দুই ইঞ্চি হবে। ঘড়ির লাল চেহারা পর্যবেক্ষণ করল পেইন্টার ক্রো। লাল আলো জ্বলে জ্বলে সেকেন্ড প্রদর্শন করছে।
.
০১:৩২ সেকেন্ড
এবং প্রতি সেকেন্ডে কমছে সেটা।
সবমিলিয়ে দেড় মিনিট বাকি আছে।
হাত থেকে ঘড়ি খুলে ওটার ভেতরটা পরীক্ষা করল ক্রো। দুটো সিলভার কন্টাক একসাথে তার দিয়ে জোড়া লাগানো রয়েছে। হার্টবিট মনিটর। সেই হিসেবে এই ঘড়ির ভেতরে নিশ্চয়ই কোথাও মাইক্রোট্রান্সমিটারও আছে।
কী করছেন? অ্যানা প্রশ্ন করল।
এই মহিলার শরীরে কোনো বিস্ফোরক আছে কি-না সার্চ করে দেখেছেন?
না, কিছু নেই। কেন?
উঠে দাঁড়াল পেইন্টার। দ্রুত বলতে শুরু করল, এর হৃদপিণ্ডের সাথে মনিটর সংযুক্ত করা আছে। হৃদপিণ্ড বন্ধ হওয়ার সাথে সাথে নিশ্চয়ই কোনো সিগন্যাল চলে গেছে। হাতে থাকা ঘড়ির দিকে তাকাল ও। এটা কোনো ঘড়ি নয়। স্রেফ টাইমার।
.
০১:০৫ সেকেন্ড
ক্লাউস আর এই মহিলা আপনার ফ্যাসালিটিতে ইচ্ছেমত প্রবেশাধিকার পেয়েছিল, সেটা কতক্ষণের জন্য কে জানে। আমার কেন যেন মনে হচ্ছে এই ঘড়ির টাইমার জিরো-তে যাওয়ার সময় আমাদের এখানে না থাকাই ভাল।
সেকেন্ড চলে যাচ্ছে। টাইমারের সময় এক মিনিটের নিচে নামতেই আরেকটা সূক্ষ্ম আওয়াজ হলো।
.
০০:৫৯
সেকেন্ড আমাদেরকে এখান থেকে সরতে হবে। এক্ষুনি!
১০. ব্ল্যাক কেইমলট
১০. ব্ল্যাক কেইমলট
সকাল ৯টা ৩২ মিনিট।
উইউইলসবার্গ, জার্মানি।
এসএস-এর যাত্রা শুরু হয়েছিল হিটলারের ব্যক্তিগত দেহরক্ষী হিসেবে, উইউইলসবার্গ মিউজিয়ামের ভেতরে এক ঝাঁক পর্যটককে সামনে এগিয়ে নিতে নিতে জার্মান ভাষায় বলল গাইড। এসএস শব্দটির জন্ম হয়েছে জার্মান শব্দ Schutzstafel থেকে। যার অর্থ রক্ষী বাহিনী। পরবর্তীতে হিটলারের ব্ল্যাক অর্ডার-এ নিয়োজিত হয়েছিল এরা।
পর্যটকের দল সামনে এগোনোর পর একপাশে সরে গেল গ্রে। মিউজিয়ামের ডিরেক্টরের জন্য অপেক্ষা করার ফাঁকে এই ক্যাসলের ইতিহাস সম্পর্কে মোটামটি জেনে নিয়েছে। ক্যাসল ইজারা নেয়া থেকে শুরু করে এরপেছনে বিলিয়ন ডলার খরচ করে হিটলার কীভাবে এটাকে ব্যক্তিগত দুর্গে পরিণত করেছিলেন সে-সব জেনে নিয়েছে গ্রে। অর্থের পরিমাণটা শুনতে অনেক মনে হলেও এই দুর্গের জন্য কত মানুষের রক্ত ঝরেছে আর ভোগান্তি হয়েছে তার তুলনায় অর্থের পরিমাণ অনেক কম।
নিডারহ্যাহেন যুদ্ধবন্দী ক্যাম্পের কয়েদী পোশাকের শো-কেসের পাশে দাঁড়িয়ে আছে গ্রে।
