বেশি ভ্রম হচ্ছে তোমার? ওর পাশ দিয়ে ক্যাসলের রাস্তায় এগোনোর সময় বলল ফিওনা।
না, এটা প্রম নয়। তারা সত্যি সত্যি তোমার পেছনে লেগেছে। মনক জবাব দিল। তারপর গ্রেকে বলল আচ্ছা, সত্যি কী আমাদের পেছনে লেগেছে ওরা?
ঝড়ের দিকে তাকিয়ে রইল গ্রে। কাকতালীয় ঘটনা ও পছন্দ করে না তবে সেটা ঘটেছে বলে তো আর এগিয়ে চলা বন্ধ করা সম্ভব নয়। ফিওনা আর রায়ানের সাথে থাকো। এখানকার পরিচালকের সাথে কথা বলে দেখি হিউগো সাহেব তার মেয়েকে যে চিঠিটা লিখেছিলেন সেটার একটা কপি যোগাড় করতে পারি কি-না। কাজটা হয়ে গেলেই এই ছাতার এলাকা থেকে বিদেয় হব।
সামনে দাঁড়ানো ক্যাসলের বিশাল অবয়ব আর টাওয়ারে চোখ বুলাল মনক। বৃষ্টি ওটার ধূসর পাথরগুলোকে ধুয়ে দিচ্ছে। বাইরে থেকে দেখলে পুরো ক্যাসলকে নিষ্প্রাণ বলে মনে হলেও নিচ তলার কয়েকটি জানালা দেখে মনে হলো যাক, ওখানে কেউ আছে।
আমাদের পেছনে কেউ নেই বলে যাচ্ছি, মনক বিড়বিড় করল, কিন্তু ওখানে গিয়ে যদি একটা কালো চামবাদুড়কেও উড়তে দেখি তাহলে কিন্তু আমি নেই!
.
দুপুর ১টা ৩২ মিনিট।
হিমালয়।
নিজের বুকের দিকে ফলাকে এগোতে দেখল লিসা। কয়েক মুহূর্তের মধ্যে এসব হচ্ছে। সময়ের গতি যেন এখন কমে গেছে, থমকে গেছে। তাহলে এভাবেই মরবে ও।
হঠাৎ গ্লাস ভাঙ্গার ঝনঝন আওয়াজ আর… গুলির আওয়াজে সব স্বাভাবিক গতি ফিরে পেল। গুলির আওয়াজটা অসম্ভব দূর থেকে এসেছে। কাছে থাকা মহিলাটির গলা ফুলের মতো প্রস্ফুটিত হয়ে রক্ত আর হাড়ের প্রদর্শনী করছে, পেছন দিকে চলে গেছে মাথা।
কিন্তু তারপরও মহিলা তার আক্রমণ সম্পন্ন করল। অর্থাৎ ফলা এসে আঘাত করল লিসাকে।
ফলা লিসার ত্বক কেটে এসে বুকের হাড়ের সাথে থাক্কা খেল। তবে ওই পর্যন্তই। হাত দিয়ে কাটানাকে সরিয়ে দিল লিসা। এটা না করলে আঘাতের পরিমাণ হয়তো আরও বাড়তো।
হোঁচট খেয়ে পিছু হটল ও। ছোড়র আঘাত থেকে রক্ষা পেয়েছে বলা চলে।
ওর হাত থেকে জাপানিজ স্টিল কাটানা মেঝেতে পড়ে ঘণ্টার মতো ঢং ঢং করে উঠল। এরপরে ধপাস করে আছড়ে পড়ল আততায়ী মহিলার দেহ।
পিছু হটল লিসা, ওর কাছে এই ঘটনা বিশ্বাস হচ্ছে না, অসার আর জ্ঞানশূন্য লাগছে ওর।
আরও কিছু কাঁচ ভাঙ্গার ঝনঝনঝন শব্দ হলো।
কিছু শব্দ শুনতে পেল লিসা, যেন পানির নিচ থেকে শুনছে।
তুমি ঠিক আছ, লিসা?…
চোখ তুলে তাকাল ও। লাইব্রেরির জানালায় আগে বরফ জমে ছিল এখন সেটার কাঁচ রাইফেলের বাটের আঘাতে ভেঙ্গে গেছে। ভাঙ্গা কাঁচের ফ্রেমের ভেতর দিয়ে একটি মানুষের চেহারা দেখা গেল।
পেইন্টার।
ওর পেছনে কী যেন একটা আছে। বেশ বড় কিছু। আকাশে ভাসছে ওটা। হেলিকপ্টার। হেলিকপ্টার থেকে রশি আর হার্নেস নিয়ে ঝুলছে পেইন্টার।
কেঁপে উঠে নিজের হাঁটুর ওপর মুষড়ে পড়ল লিসা।
আমরা আসছি, পেইন্টার কথা দিল।
৫ মিনিট পর।
আততায়ী মহিলার লাশের পাশে দাঁড়িয়ে আছে পেইন্টার। এ হলো ২য় স্যাবোটাজকারী। অ্যানা মহিলার কাছে হাঁটু গেড়ে বসে শরীর তল্লাশি করছেন। ওদিকে ফায়ারপ্লেসের কাছে একটা চেয়ার পেতে বসেছে লিসা। সোয়েটার ছেড়ে শার্টের বোতাম খুলে রেখেছে। শার্ট খোলা থাকায় ওর ব্রা দেখা যাচ্ছে এখন… তবে ব্রার ঠিক নিচেই একটা আঘাতের চিহ্ন। কাটানার আঘাত। ইতোমধ্যে গানথারের সহায়তায় লিসা ওর জখমের স্থান পরিষ্কার করে বাটারফ্লাই ব্যান্ডেজ করে দিয়েছে। কাটানার আঘাতে প্রায় ইঞ্চিখানেক কেটে গেছে ওর। তবে ওর কপাল ভাল বলতে হবে। ব্রার শক্ত আবরণ থাকায় ওর জখম তুলনামূলক কম হয়েছে, নইলে জীবন নিয়ে টানাটানি হওয়ার মতো পরিস্থিতি হতে পারতো।
কোনো কাগজ কিংবা আইডি নেই, বলতে বলতে পেইন্টারের দিকে ফিরলেন অ্যানা। একে জীবিত দরকার ছিল।
অজুহাত দেয়ার কোনো রাস্তা নেই। আমি ওর কাঁধ বরাবর তাক করেছিলাম।
হতাশায় মাথা নাড়ল পেইন্টার। হেলিকপ্টারের রশি থেকে নামার পর থেকে ভার্টিগো (উচ্চতাজনিত শারীরিক সমস্যা, মাথাঘোরা) ওকে ভোগাচ্ছে। তবে হেলিকপ্টারে আসা ছাড়া ওদের কোনো উপায় ছিল না। ক্যাসলের ওই প্রান্ত থেকে অল্প সময়ে পায়ে হেঁটে আসা রীতিমতো অসম্ভব, এদিকে সময়ও হাতে নেই। তাই হেলিকপ্টারে আসা। দুইভান কপ্টারে থাকবে আর একজন রশি দিয়ে নিচে ঝুলবে, এটাই প্ল্যান ছিল।
অস্ত্র হাতে আনা খুব একটা দক্ষ নন, গানথার হেলিকপ্টার চালাচ্ছে। তাহলে শুধু বাকি রইল পেইন্টার।
তাই ভার্টিগো আর চোখে এক জিনিসকে দুটো করে দেখা সত্ত্বেও হেলিকপ্টার থেকে স্কুলে ক্যাসলের জানালা দিয়ে গুলি ছুঁড়েছিল ও। ওর হাতে খুব একটা সময় ছিল না। ও দেখছিল লিসার দিকে মহিলা ছোঁড়া বাগিয়ে আসছে… ব্যস কোনো দেরি নেই। ফায়ার!
তবে আততায়ী মহিলা মারা যাওয়ায় ওদের বেশ ক্ষতি হলো। এই স্যাবোটাজকারীদের পেছনে কার হাত ছিল সেটা জানা হলো না। তবে পেইন্টারের এ নিয়ে কোনো আফসোস নেই। লিসার চেহারায় ও যে আতঙ্ক দেখেছিল, তারপর আর অত ভাবার প্রয়োজনবোধ করেনি। ভার্টিগো ওর অস্ত্র তাক করার দক্ষতায় অনেক নাক গলিয়েছে। গুলি ছুঁড়েছে, ভেজাল শেষ। তবে ওর মাথাব্যথা এখনও থামেনি। নতুন একটা আতঙ্ক ঘিরে ধরল ওকে।
গুলিটা যদি লিসার গায়ে লাগতো…? আর কতক্ষণ ও এদের কাজে আসতে পারবে? চিন্তাগুলোকে একপাশে সরিয়ে দিল পেইন্টার।
