মহিলা ওর দিকে এমনভাবে তাকাল যেন লেজার রশ্মি দিয়ে পুরো শরীর স্ক্যান করে ফেলছে!
দুই আমেরিকানের মধ্যে তুমি একটা, খাস ইংরেজিতে বলল মহিলা। ধীরে ধীরে নিচে নেমে এসো।
পিস্তল তাক করা রইল।
বেলকুনিতে কোনো আড়াল নেই। তাই বাধ্য হয়ে মই বেয়ে নামতে শুরু করল লিসা। মইয়ের এক ধাপ করে নামছে আর ভাবছে এই বুঝি গুলি হলো! উত্তেজনায় কাঁধ টনটন করলেও নিরাপদে নিচে নামতে পারল ও।
মই থেকে নেমে এদিকে ঘুরল লিসা। হাত এখনও উঁচু করে রেখেছে।
মহিলা ওর দিকে এগোতেই পিছু হটল লিসা। ও টের পেয়েছে এই মহিলা ওকে গুলি করে মারবে না। কারণ এতে অনেক শব্দ হবে। অন্যান্য গার্ডরা চলে আসতে পারে। বাইরে থাকা গার্ডটিকে এই মহিলা প্রায় কোনো আওয়াজ ছাড়াই কাটানা দিয়ে খুন করে ফেলেছে। তাই এখানে গুলি ছুড়বে বলে মনে হয় না।
খুনে মহিলার এক হাতে পিস্তল, আরেক হাতে কাটানা।
লিসার হয়তো উপরে থাকাই ভাল ছিল। তখন হয়তো এই মহিলা গুলি ছুঁড়তে বাধ্য হতো। আর সেই গুলির শব্দ শুনে অন্যরা এখানে হাজির হতে পারতো। কিন্তু এখন এই মহিলার ভয়ঙ্কর কাটানার কাছে এসে লিসার নিজেকে বোকা মনে হচ্ছে। কিন্তু আতঙ্কে সব গুলিয়ে গিয়েছিল। আসলে কেউ যদি পিস্তল তাক করে কিছু করতে বলে তখন সেটার অবাধ্য হওয়া খুব কঠিন কাজ।
জেরাম-২৫২, বলল মহিলা। ওটা কী এই ভল্টে আছে?
কী উত্তর দেবে, ভাবল লিসা। সত্য বলবে? নাকি মিথ্যা বলবে? কঠিন পরিস্থিতি। অ্যানা নিয়ে গেছেন। জবাব দিল ও। ইশারা করে দরজা দেখাল।
কোথায়?
পেইন্টারের কথাগুলো মনে পড়ল ওর। এখানে ধরা পড়ার পর পেইন্টার বলেছিল, নিজেদেরকে কাজের মানুষ, প্রয়োজনীয় মানুষ হিসেবে তুলে ধরতে হবে। আসলে ক্যাসল তো আমি ভাল করে চিনি না, তাই বলে বুঝাতে পারছি না। তবে আমি… আপনাকে তার কাছে নিয়ে যেতে পারি। লিসার কণ্ঠে দুর্বলতা প্রকাশ পেল। আরও আত্মবিশ্বাস নিয়ে বলা উচিত ছিল ওর। মিথ্যা কথা বলতে হলে মনের জোর নিয়েই বলা উচিত। যদি মিথ্যায় জোরই না থাকে তাহলে আর সেটার কী দাম রইল? আমি আপনাকে ওখানে নিয়ে যাব যদি আপনি আমাকে কথা দেন, আমাকে এখান থেকে বের হতে সাহায্য করবেন।
শত্রুর শত্রু তো বন্ধু হয়!
এই মহিলা কী এই কথায় পটবে? মহিলা দেখতে তো দারুণ, সুতী, পরিষ্কার তুক, সুন্দর ঠোঁট, তবে নীল চোখগুলোতে হিসেব-নিকেশ আর বুদ্ধিতে বোঝাই।
এই মহিলাকে কেমন যেন অন্যরকম লাগে। মনে হয় ভিনগ্রহের মানুষ।
তাহলে দেখাও, চলো, পিস্তল দিয়ে লিসাকে তাগাদা দিল সে। অন্য হাতে ভয়ঙ্কর কাটানা।
সামনে আছে লিসা। সে দরজার ওখানে একটু দূরত্ব বাড়িয়ে নিল। হয়তো হলের ওখানে গিয়ে এই দূরত্ব থেকে কোনো সুযোগ নিতে পারবে। এটাই ওর শেষ ভরসা। উপযুক্ত সময়, কোনো দ্বিধা কিংবা অন্যমনষ্ক হওয়ার মুহূর্তে ঝেড়ে দৌড় দিতে হবে ওকে।
সুযোগ একবারই পাওয়া যাবে।
ঘুরল লিসা… মহিলা ওর কাছে হাজির হয়ে গেছে, মাত্র এক কদম দূরে। চুপিসারে চলে এসেছে এই ভয়ঙ্কর নারী। চলার গতি নিঃসন্দেহে ভয়াবহ। চোখাচোখি হলো ওদের। লিসা মনে মনে বুঝতে পেরেছিল এই মহিলা ওর কথাগুলো বিশ্বাস করেনি।
আসলে ওকে বাইরে এনে মহিলা বেকায়দায় ফেলে দিয়েছে। লিসাকে কোনো রক্ষণাত্মক সুযোগ দিতে চায় না।
তবে এটা তার ভুলও হতে পারে।
পুরো পৃথিবী হঠাৎ যেন থমকে গেল… জাপানিজ কাটানার ফলা এখন লিসার হৃদপিণ্ড বরাবর ধেয়ে আসছে।
.
সকাল ৯টা ৩০ মিনিট।
উইউইলসবার্গ, জার্মানি।
নীল রঙের ওলটার টুরিস্ট বাসের পাশে বিএমডব্লিউটিকে পার্ক করল গ্রে। জার্মান বাসটির পাশে পার্ক করার ফলে রাস্তা থেকে সরাসরি ওদের বিএমডব্লিউকে এখন আর দেখা সম্ভব নয়। এখান থেকে ক্যাসলে যাওয়ার প্রবেশপথ একদম নাক বরাবর সামনে।
গাড়িতে থাকো তোমরা, বাকিদের নির্দেশ দিল গ্রে। পেছন ফিরে বলল, তুমিও থাকো, মেয়ে।
অশ্লীল একটা অঙ্গভঙ্গি করল ফিওনা, তবে গাড়ি থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করল না।
মনক, ড্রাইভিং সিটে বসে ইঞ্জিন চালু রাখো।
ঠিক আছে।
চোখ বড় বড় করে গ্রের দিকে তাকাল রায়ান। Was 1st los?
Nothings losমক জবাব দিল। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে মাথা নামিয়ে রাখুন।
গ্রে দরজা খুলে বাইরে বেরোতেই বৃষ্টির ঝাপটা এসে ওর গালে চড় মেরে দিল। পাশের বাসের ওপর বৃষ্টি পড়ায় মেশিনগানের গুলির মতো শব্দ হচ্ছে। বাজ পড়ল দূরে কোথাও।
রায়ান, আপনার ছাতাটা ধার দেবেন?
মাথা নেড়ে ছাতা দিয়ে দিল রায়ান।
ঝাঁকি দিয়ে ছাতা ফুটিয়ে গ্রে বৃষ্টির ভেতরে নেমে পড়ল। বাসের পাশ দিয়ে গিয়ে বাসের পেছনের দরজার ওখানে গিয়ে দাঁড়াল ও। টুরিস্টদের মতো আচরণ করার চেষ্টা করল গ্রে। ছাতা দিয়ে নিজেকে ঢেকে রেখে রাস্তার ওপর নজর রাখল।
হেডলাইটের আলো দেখা গেল একটু পর।
দুই আসন বিশিষ্ট রোডস্টার হাজির হলো। গতি না কমিয়ে পার্কিং লটের পাশ দিয়ে চলে গেল ওটা। এগিয়ে চলেছে ক্যাসলের অন্যদিকে থাকা উইউইলসবার্গের কোনো এক গ্রামের দিকে। সামনে একটি মোড় পড়ায় রোডস্টারটি মোড়ের ওদিকে অদৃশ্য হয়ে গেল।
পুরো ৫ মিনিট অপেক্ষা করল গ্রে। তারপর বাসের পাশ ঘুরে এসে মনককে সিগন্যাল দিল অল ক্লিয়ার। মনক ইঞ্জিন বন্ধ করে দিল। যাক, মার্সেডিজটি ফিরে আসেনি নিশ্চিত হয়ে গ্রে ওদের সবাইকে গাড়ি থেকে নেমে পড়তে বলল।
