প্রথমে মনে হয় এইসব অঙ্গগুলি অন্য একটি এবং আরও গুরুতর প্রতিবন্ধক সৃষ্টি করে; কারণ এটি প্রায় এক ডজন ধরনের মাছেদের ক্ষেত্রে ঘটে, যাদের মধ্যে কয়েকটি দূর সম্পর্কিত। যখন একই অঙ্গ একই শ্রেণীর কতিপয় সদস্যের মধ্যে দেখা যায়, বিশেষভাবে যদি সদস্যদের অতিশয় ভিন্ন জীবন-স্বভাব থাকে, তখন এর উপস্থিতি একটি সাধারণ পূর্বপুরুষ থেকে বংশগতভাবে প্রাপ্ত হয়েছে বলে ধরে নিতে পারি আমরা; এবং সদস্যদের কয়েকটিতে এর অনুপস্থিতি অব্যবহার অথবা প্রাকৃতিক নির্বাচনের মাধ্যমে লুপ্ত হওয়ার জন্য ঘটে। অতএব, যদি বৈদ্যুতিক অঙ্গগুলি কোন একটি আদিম পূর্বপুরুষ থেকে বংশগতভাবে প্রাপ্ত হয়, তাহলে আমরা আশা করতে পারতাম যে সমস্ত বিদ্যুৎবাহী মাছ বিশেষভাবে পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত হয়ে থাকবে; কিন্তু এটি ঘটনাটি থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। অথবা ভূতত্ত্ব মোটেই এই বিশ্বাস সৃষ্টি করে না যে অধিকাংশ মাছে পূর্বে বিদ্যুৎবাহী অঙ্গগুলি ছিল এবং যাদের রূপান্তরিত বংশধরেরা এখন হারিয়ে গেছে। কিন্তু গভীরভাবে লক্ষ্য করলে দেখা যায় যে কতিপয় মাছে বৈদ্যুতিক অঙ্গ থাকে, এগুলি শরীরের বিভিন্ন অংশে অবস্থিত এবং এদের গঠনকৌশলও ভিন্ন, যেমন প্লেটগুলির বিন্যাস, এবং প্যাসিনির মতে, প্রক্রিয়া অথবা পদ্ধতি দ্বারা যাদের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সঞ্চারিত হয়–এবং শেষতঃ, বিভিন্ন উৎস থেকে আগত স্নায়ুগুলির অবস্থান, এবং সম্ভবতঃ এটি যাবতীয় পার্থক্যের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। অতএব, বিদ্যুৎবাহী অঙ্গ সম্বলিত কতিপয় মাছে এগুলিকে সমসংস্থ বলে বিবেচনা করা যেতে পারে না, বরং কার্যকারিতায় অনুরূপ বলা যেতে পারে। ফলস্বরূপ, মনে করার কোন কারণ নেই যে এরা এটি কোন সাধারণ পূর্বপুরুষ থেকে বংশগতভাবে প্রাপ্ত হয়েছে; কারণ তা যদি হত তাহলে এরা সমস্ত বিষয়ে পরস্পরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সদৃশ হত। এভাবে কতিপয় দূরসম্পকীয় প্রজাতিতে উদ্ভূত একটি অঙ্গের, আপাতভাবে একই প্রতিবন্ধক দূরীভূত হয়, কিন্তু যেটি আরও কম অথবা বিরাট প্রতিবন্ধক উপস্থিত করে; যেমন, এসব অঙ্গগুলি কোন্ কোন্ ক্রমিক ধাপগুলির দ্বারা মাছেদের প্রত্যেক ভিন্ন গোষ্ঠীতে বিকশিত হয়েছে।
ব্যাপকভাবে ভিন্ন গোত্রের অন্তর্গত অল্প কয়েকটি পতঙ্গের শরীরের বিভিন্ন অংশে অবস্থিত আলো উৎপাদনকারী অঙ্গগুলি, আমাদের অজ্ঞতার বর্তমান অবস্থায়, বিদ্যুৎবাহী অঙ্গগুলির মতো প্রায় হুবহু একই প্রতিবন্ধক উপস্থিত করে। অনুরূপ অন্য অনেক ঘটনার উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে; উদাহরণস্বরূপ, উদ্ভিদগুলিতে; আঠালো গ্রন্থিসমেত বৃন্তে অবস্থিত পরাগরেণুপুঞ্জের অতি অদ্ভুত কলাকৌশল অর্কিস ও অ্যাসক্লেপিয়াস গণগুলিতে আপাততভাবে একইরকম হয়–সপুষ্পক উদ্ভিদসমূহের মধ্যে গণগুলি যতদূর সম্ভব দূরবর্তী হয়; কিন্তু এখানে আবার অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলি সমসংস্থ নয়। দেহগঠনগত মানদণ্ডে পরস্পরের থেকে ব্যাপকভাবে ভিন্ন ও সদৃশ অদ্ভুত অঙ্গগুলি দ্বারা সজ্জিত জীবদের সব ক্ষেত্রে লক্ষ্য করা যায় যে যদিও অঙ্গগুলির সাধারণ আকৃতি এবং কার্যপ্রক্রিয়া একই রকম হতে পারে, তথাপি এদের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য সর্বদাই আবিষ্কার করা যেতে পারে। যেমন, সেফালোপড়া বা কাটল মাছ এবং মেরুদণ্ডী প্রাণীদের চোখগুলি বিস্ময়করভাবে একইরকম বলে মনে হয়; এবং এরূপ ব্যাপকভাবে বিচ্ছিন্ন গোষ্ঠীগুলিতে এই সদৃশতার কোন অংশ একটি সাধারণ পূর্বপুরুষ থেকে বংশগতির জন্য হতে পারে না। মিঃ মিভার্ট এই বিষয়টিকে একটি বিশেষ প্রতিবন্ধক হিসেবে দেখিয়েছেন। কিন্তু তার যুক্তির প্রকৃত অর্থ বুঝতে আমি অসমর্থ। দৃষ্টির জন্য একটি অঙ্গ নিশ্চয় ঈষদচ্ছ কলা। দিয়ে তৈরি হবে এবং একটি অন্ধকারাচ্ছন্ন প্রকোষ্ঠের পিছনের দিকে প্রতিবিম্ব সৃষ্টির জন্য লেন্সের মতো কিছু একটা নিশ্চয় থাকবে। এই উপরিগত সাদৃশ্য ব্যতীত, কাটল মাছ ও মেরুদণ্ডী প্রাণীদের চোখগুলির মধ্যে কোন প্রকৃত সাদৃশ্য কদাচিৎ থাকে; সেফালোপড়ার এই অঙ্গগুলির ওপর হেনসেন-এর বিস্ময়কর স্মৃতিকথামূলক প্রবন্ধটি পড়লে এটি দেখা যেতে পারে। আমার পক্ষে বিস্তৃতভাবে এখানে বলা অসম্ভব, পার্থক্যের কয়েকটি বিষয় আমি বিশেষভাবে বলতে পারি। উচ্চতর শ্রেণীর কাটল মাছের স্ফটিকতুল্য লেন্সটি একটির পিছনে অন্যটি স্থাপিত লেন্সের মতো দুটি অংশ দ্বারা তৈরি, মেরুদণ্ডীদের তুলনায় গঠনে ও অবস্থান বিন্যাসে উভয়ই অতিশয় ভিন্ন প্রকৃতির। অক্ষিপটটি সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রকৃতির, যার মৌলিক অংশগুলি প্রকৃতই উল্টানো এবং যার চোখের ঝিল্লির মধ্যে একটি বিরাট স্নায়ুগ্রন্থী থাকে। মাংসপেশীর সম্পর্কগুলি যতদূর সম্ভব ভিন্ন প্রকৃতির, এবং এভাবে অন্য বিষয়গুলিও। অতএব সিদ্ধান্ত করা বেশ কষ্টকর যে সেফালোপড়া ও মেরুদণ্ডীদের চোখের বর্ণনা করতে একই পদ ব্যবহার করা কতখানি উচিত। যে কোন ব্যক্তি এটি অস্বীকার করতে পারে যে, যে কোন একটি ক্ষেত্রে চোখটি ধারাবাহিক অল্প পরিবর্তনগুলির প্রাকৃতিক নির্বাচনের মাধ্যমে বিকশিত হয়ে থাকতে পারে; কিন্তু এটি যদি একটি ক্ষেত্রে স্বীকার করা হয়, তাহলে অন্য ক্ষেত্রেও এটি স্পষ্টত সম্ভবপর; এবং দুটি গোষ্ঠীর দৃষ্টিসংক্রান্ত অঙ্গগুলির গঠনের মৌলিক পার্থক্য সৃষ্টির এই মতানুসারে বিষয়টি বোঝা যেতে পারে। দুজন মানুষ যেমন কোন কোন সময় স্বাধীনভাবে একই জিনিস আবিষ্কার করে, তেমনি পূর্ববর্তী কয়েকটি ঘটনার ক্ষেত্রে মনে হয় যে প্রাকৃতিক নির্বাচনে প্রত্যেক জীবের ভাল করার জন্য এবং সমস্ত অনুকূল পরিবর্তনগুলির সুবিধা গ্রহণ করে। শুধুমাত্র কার্যপ্রক্রিয়ার কথা ধরলে–স্বতন্ত্র জীবগুলিতে একইরূপ অঙ্গসমূহ সৃষ্টি করেছে, যারা একটি সাধারণ পূর্বপুরুষ থেকে বংশগতি মারফৎ প্রাপ্ত কোন সাধারণ দেহগঠনের অধিকারী হয় না।
