আমি অবগত আছি যে যিনি এ বিষয়ে লিখেছেন সেই কর্নেল হ্যাঁমিল্টন স্মিথ বিশ্বাস করেন যে ঘোড়ার কয়েকটি জাত কয়েকটি আদিম প্রজাতি থেকে উদ্ভূত হয়েছে–এদের মধ্যে ডুন ঘোড়া ডোরা দাগ সম্বলিত ছিল; এবং তিনি আরও বিশ্বাস করেন যে উপরে বর্ণিত বহিরাকৃতিগুলি সকলেই জুন স্টকের সঙ্গে অতি প্রাচীন কালে সংস্করণের ফলে উদ্ভূত হয়েছে। কিন্তু এই মতবাদটি দৃঢ়ভাবে বাতিল করা যেতে পারে, কারণ এটি একেবারেই অসম্ভব যে পৃথিবীর দূরতম অংশগুলিতে বসবাসকারী ভারী বেলজিয়ান ভারবহনকারী ঘোড়া, ওয়েলসের পনি ঘোড়া, নরওয়ের কব ঘোড়া, ল্যাঙ্কি কাটোয়ার জাত ইত্যাদিরা সকলে একটি অনুমতি আদিম কুলের সঙ্গে সংকরিত হয়ে থাকবে।
ঘোড়া গণের কয়েকটি প্রজাতির মধ্যে সংকরণের ফলাফলসমূহের দিকে আমাদের এখন লক্ষ্য করা উচিত। রোলিন জোরের সঙ্গে দাবী করেন যে গাধা এবং ঘোড়া থেকে। উৎপূন্ন সাধারণ খচ্চরের পায়ে ডোরা দাগ থাকার বিশেষ প্রবণতা আছে; মিঃ গোসের মতানুসারে, ইউনাইটেড স্টেটস-এর দশটির মধ্যে প্রায় নয়টি খচ্চরের পায়ে ডোরা দাগ আছে। আমি একবার পায়ে ডোরা দাগ সম্বলিত একটি খচ্চর দেখেছিলাম, যাকে দেখলেই মনে হবে যে সেটি জেব্রার একটি সঙ্কর; এবং মিঃ ডব্লিউ. সি. মার্টিন ঘোড়ার ওপর তার চমৎকার গ্রন্থে এইরকম একটি খচ্চরের ছবি দিয়েছেন। গাধা এবং জেব্রার মধ্যে সঙ্করগুলির আমার দেখা চারটি রঙ্গিন ছবিতে শরীরের অবশিষ্টাংশের তুলনায় পাগুলিতে আরও বেশি সরল ডোরা দাগ ছিল; এদের মধ্যে একটির স্কন্ধে জোড়া ডোরা দাগ ছিল। একটি বাদামি ঘোটকী এবং পুরুষ কোয়াগ্না থেকে উদ্ভূত লর্ড মর্টনের বিখ্যাত। সঙ্করটির ক্ষেত্রে দেখা গেছে–একই ঘোটকী এবং কালো আরবীয় সায়ার থেকে পরবর্তী সময়ে উৎপন্ন সঙ্কর, এমন কি বিশুদ্ধ কোয়াগ্রার তুলনাতেও তার পায়ের চতুর্দিকে আরও বেশি সরল ডোরা দাগ ছিল। অবশেষে, এবং এটি একটি অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য ঘটনা, ডঃ গ্রে (এবং তিনি আমাকে জানিয়েছেন যে তিনি একটি দ্বিতীয় ঘটনাও জানেন) গাধা এবং হেমিওনাস থেকে উদ্ভূত একটি সঙ্করের ছবি এঁকেছিলেন; এবং যদিও গাধার পায়ে কেবল সাময়িকভাবে ডোরা দাগ থাকে এবং হেমিওনাসে একটিও থাকে না, এমনকি কাঁধেও ডোরা দাগ থাকে না, তা সত্ত্বেও সঙ্করটির চারটি পায়ে ডেভনশায়ারের ডুন এবং ওয়েলসের পনিদের মতো ডোরা দাগ ছিল, এমনকি তার মুখমণ্ডলের পাশগুলিতেও জেব্রার মতো ডোরা দাগ ছিল। এই শেষ ঘটনাটি সম্পর্কে আমি এত নিশ্চিত হয়েছিলাম, এমনকি একটি রঙ্গিন ডোরা দাগ যাকে সাধারণভাবে বলা হয় দৈবাৎ আবির্ভূত হয়নি, যে গাধা এবং হেমিওনাস থেকে উদ্ভূত এই সঙ্করটির মুখমণ্ডলে ডোরা দাগের উপস্থিতি সম্বন্ধে কর্নেল পুলেকে প্রশ্ন করতে আমি প্ররোচিত হয়েছিলাম যে সুস্পষ্ট ডোরা দাগ সম্বলিত কাটিয়ার ঘোড়াদের জাতটিতে মুখমণ্ডলের এরূপ ডোরা দাগ কখনও ছিল কিনা, এবং আমি ইতিবাচক উত্তর পেয়েছিলাম।
এইসব ঘটনায় আমাদের বলার কী আছে? আমরা ঘোড়া গণের কয়েকটি ভিন্ন প্রজাতিকে লক্ষ্য করি যারা সরল পরিবৃত্তির দ্বারা জেব্রার মতো পায়ে অথবা গাধার মতো কাঁধে ডোরা দাগ সম্বলিত হয়। আমরা লক্ষ্য করি ঘোড়াদের মধ্যে এই প্রবণতা প্রবল হয় একটি ধূসর বাদামি রং আবির্ভূত হলে–একটি রং যা গণটির অন্য প্রজাতিদের সাধারণ রঙের কাছাকাছি। ডোরা দাগগুলির আবির্ভাব কখনোই আকারের কোন পরিবর্তন অথবা অন্য কোন নূতন বৈশিষ্ট্যের আবির্ভাবের সঙ্গে একসঙ্গে হয় না। সবচেয়ে স্বতন্ত্র প্রজাতির কয়েকটির মধ্য থেকে উদ্ভূত সঙ্করগুলিতে ডোরা দাগ অতি স্পষ্টভাবে প্রদর্শিত হওয়ার এই প্রবণতা আমরা লক্ষ্য করি। পায়রাদের কয়েকটি জাতের ঘটনা এখন লক্ষ্য করুন : কোন ডোরা দাগ এবং অন্য চিহ্ন সমেত একটি নীলাভ রং একটি পায়রা থেকে (দুটি বা তিনটি উপ-প্রজাতি অথবা ভৌগোলিক জাত যার অন্তর্ভুক্ত) এরা উদ্ভূত হয়েছে, এবং যখন সরল পরিবর্তনের মাধ্যমে যে কোন জাত একটি নীলাভ রং ধারণ করে, তখন এই ডোরা দাগ ও চিহ্নগুলি অনিবার্যভাবে পুনরায় আবির্ভূত হয়, কিন্তু আকার অথবা বৈশিষ্ট্যের অন্য কোন পরিবর্তন ছাড়াই এটি ঘটে। যখন বিভিন্ন রঙের সবচেয়ে বয়স্ক এবং প্রকৃত জাতসমূহ সঙ্করিত হয়, তখন বর্ণসঙ্করগুলিতে নীলাভ রং এবং ডোরা দাগ ও অন্য চিহ্নগুলির পুনরাবির্ভাবের প্রবল প্রবণতা আমরা লক্ষ্য করি। আমি বলেছি যে অতি আদিম বৈশিষ্ট্যগুলির পুনরাবির্ভাবের সবচেয়ে সম্ভবপর প্রকল্পটি হচ্ছে–দীর্ঘকাল আগে লুপ্ত বৈশিষ্ট্যের পুনরুৎপাদনে প্রত্যেক পর্যায়ক্রমিক বংশের তরুণদের একটি প্রবণতা রয়েছে এবং এই প্রবণতা অজানা কারণের জন্য কোন কোন সময় প্রাধান্যযুক্ত হয়, এবং আমরা এইমাত্র দেখেছি যে ঘোড়া গণের কয়েকটি প্রজাতির বয়স্কদের তুলনায় তরুণদের ডোরা দাগগুলি হয় সরলতম অথবা আরও সাধারণ বলে মনে হয়। পায়রাদের জাতগুলির দিকে লক্ষ্য করুন। এদের মধ্যে কয়েকটি কয়েক শতাব্দী ধরে বিশুদ্ধ প্রজাতি প্রজনন করেছে, এবং ঘটনাটি ঘোড়া গণের প্রজাতিদের সঙ্গে কত সদৃশ। হাজার বংশের পিছনের দিকে আমি সাহসের সঙ্গে তাকাই এবং জেব্রার মতো ডোরা দাগ সম্বলিত একটি প্রাণীকে দেখি, যেটি সম্ভবতঃ অতিশয় পৃথক দেহগঠনের হয় এবং যা মনে হয় আমাদের গৃহপালিত ঘোড়া, গাধা, হেমিওনাস, কোয়ারী এবং জেব্রার সাধারণ পূর্বপুরুষ (এক বা অধিক বন্য কুল থেকে উদ্ভূত হোক বা না হোক)।
