এটি সুবিদিত যে কার্নিওলা ও কেন্টাকি গুহায় বসবাসকারী সবচেয়ে ভিন্ন ভিন্ন শ্রেণীর ক্ষতিকর প্রাণীরা অন্ধ হয়। কাকড়াদের কতিপয় চোখ নষ্ট হওয়া সত্ত্বেও চোখের বৃন্তটি বজায় থাকে, যেমন দূরবীনের গ্লাসগুলি নষ্ট হওয়া সত্ত্বেও স্ট্যান্ডটি অবশিষ্ট থাকে। অন্ধকারে বসবাসকারী প্রাণীদের পক্ষে চোখগুলি অপ্রয়োজনীয় হলেও কোন না কোন ভাবে ক্ষতিকর হতে পারত–এটা ভাবা কষ্টকর বলে ধরে নেওয়া যায় যে এদের নষ্ট হওয়াটা অব্যবহারের ফলেই হয়েছে। অধ্যাপক শিলিমান অন্ধ প্রাণীদের মধ্যে একজাতীয় গুহা-হঁদুরের (নিওটোমা) দুটিকে গুহার মুখ থেকে আধ-মাইলের মধ্যে ধরেছিলেন, এরা গুহার ভিতরে নিশ্চয়ই ছিল না, এদের চোখগুলি ছিল উজ্জ্বল ও বড় আকারের; অধ্যাপক শিলিমান আমাকে জানিয়েছিলেন যে এদের একমাস ধরে ক্রমাগত উজ্জ্বল আলোয় রাখার পর এরা কোন কিছুর উপস্থিতি সম্বন্ধে ক্ষীণ অনুভূতি অর্জন করেছিল।
প্রায় একইরূপ আবহাওয়ায় চুনাপাথরের গভীর গুহার তুলনায় আরও সদৃশ জীবন পরিবেশ কল্পনা করা কষ্টসাধ্য। অতএব আমেরিকা ও ইউরোপের গুহাসমূহে অন্ধ প্রাণীদের ভিন্ন ভিন্ন ভাবে সৃষ্ট হওয়ার এই মতবাদ অনুসারে এদের জৈব সংগঠনে ও গঠনগত সৌসাদৃশ্যে অতি গভীর সদৃশতা আশা করা যেতে পারত। এটি নিশ্চয় এরূপ হয় না যদি আমরা দুটি দেশের দুটি সামগ্রিক প্রাণীকুলকে লক্ষ্য করি; শুধু পতঙ্গদের ক্ষেত্রেই সূচিওট মন্তব্য করেছেন, “ঘটনাটিকে সম্পূর্ণ স্থানীয় বিষয় হিসেবে দেখা ছাড়া অন্য কোন আলোকে বিচার করতে আমরা এভাবে বাধাপ্রাপ্ত হই এবং ইউরোপ ও আমেরিকার প্রাণীকুলগুলির মধ্যে উপমার তুলনায় ম্যামথ গুহা (কেন্টাকিতে) ও কার্নিওলা গুহার মধ্যে অল্প কয়েকটি আকারের সদৃশতাকেও বিবেচনা করতে আমরা এভাবে বাধাপ্রাপ্ত হই।” আমার মতে, আমেরিকার অধিকাংশ সাধারণ দৃষ্টিশক্তিসম্পন্ন। প্রাণীরা বহির্জগৎ থেকে বংশপরম্পরায় ধীরে ধীরে কেন্টাকি হার গভীরতর খাজের মধ্যে প্রচরণ করেছিল, যেমন ইউরোপের প্রাণীরা ইউরোপের গুহাগুলিতে করেছিল। স্বভাবসমূহের এরূপ ক্রমবিন্যাসের কিছু সাক্ষ্যপ্রমাণ আমাদের কাছে রয়েছে; কারণ সূচিওট বলেছেন, “তদনুসারে আমরা ভূগর্ভস্থ প্রাণীকুলের ছোট ছোট শাখা হিসেবে দেখি, যারা ভৌগোলিকভাবে সীমিত পাশ্ববর্তী জায়গায় প্রাণীকুল থেকে ভূগর্ভের মধ্যে প্রবেশ করেছিল এবং যারা অন্ধকার জায়গায় বিস্তৃত হয়ে পার্শ্ববর্তী অবস্থার সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছে। সাধারণ আকারদের থেকে কম ভিন্ন প্রাণীরা আলো থেকে অন্ধকারে অবস্থান্তরের জন্য প্রস্তুত। এর পর আশা যাক তাদের সম্বন্ধে যারা গোধূলিলগ্নের সময়ে সৃষ্টি হয়েছে, এবং অবশেষে যারা অন্ধকারে বসবাসের জন্য সৃষ্টি হয়েছে এবং যাদের গঠন সম্পূর্ণ অদ্ভুত ধরনের।” চিওট-এর এইসব মন্তব্য থেকে এটাই বোঝা উচিত যে এটি একই প্রজাতির ক্ষেত্রে নয়, বরং ভিন্ন ভিন্ন প্রজাতির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। অসংখ্য বংশের পর একটি প্রাণী ভূগর্ভের গভীরতম খাঁজগুলিতে পৌঁছেছিল, ফলে অব্যবহার তার চোখগুলিকে প্রায় পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছিল এবং অন্ধত্বের ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রাকৃতিক নির্বাচন অন্যান্য পরিবর্তন ঘটিয়েছিল, যেমন শুঙ্গ অথবা পালপির দৈর্ঘ্যবৃদ্ধি। এইসব রূপান্তর হওয়া সত্ত্বেও, আমেরিকার গুহাবাসী প্রাণীদের সঙ্গে ঐ মহাদেশের অন্যান্য অধিবাসীদের, এবং ইউরোপের গুহাবাসী প্রাণীদের সঙ্গে ঐ মহাদেশের অন্যান্য অধিবাসীদের, ঘনিষ্ঠ মিল দেখার আশা করতে পারি আমরা। এবং অধ্যাপক ডানার কাছ থেকে আমি শুনেছি যে আমেরিকার গুহাবাসী প্রাণীদের ক্ষেত্রে এটিই হচ্ছে ঘটনা; ইউরোপের গুহাবাসী পতঙ্গদের কয়েকটি পার্শ্ববর্তী দেশের গুহাবাসী পতঙ্গদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কযুক্ত। এদের স্বতন্ত্র সৃষ্টির সাধারণ মতানুসারে দুটি মহাদেশের অন্ধ গুহাবাসী প্রাণীদের সঙ্গে অন্য অধিবাসীদের ঘনিষ্ঠ মিলগুলির সঙ্গত ব্যাখ্যা দেওয়া অতিশয় কষ্টকর হবে। এদের অন্য উৎপাদনগুলির অধিকাংশের সুবিদিত সম্পর্ক থেকে আমরা আশা করতে পারতাম যে উভয় গোলার্ধের গুহাগুলির অধিবাসীদের কয়েকটির ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত হওয়া উচিত। গুহাগুলি থেকে বহু দূরে অন্ধকারাচ্ছন্ন পাহাড়ে ব্যাথিস্কয়ার একটি অন্ধ প্রজাতি প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়, এই একটি গণের গুহ-প্রজাতির দৃষ্টিশক্তি হারানোর সঙ্গে অন্ধকারাচ্ছন্ন জায়গায় বসবাসের সম্ভবতঃ কোন সম্পর্ক নেই, কারণ এটি স্বাভাবিক যে ইতিমধ্যে দৃষ্টিশক্তি হারানো একটি পতঙ্গ অন্ধকারাচ্ছন্ন গিরিগুহায় সহজেই অভিযোজিত হয়ে থাকবে। অন্য একটি অন্ধ গণে (অ্যানফথ্যালমাস) এই অদ্ভুত ব্যাপারটি লক্ষ্য করা যায় যে প্রজাতিদের গুহা ছাড়া অন্য কোথাও এখনও পর্যন্ত পাওয়া যায় নি; এটি মিঃ মারে লক্ষ্য করেছিলেন। তবুও যারা ইউরোপ ও আমেরিকায় কয়েকটি গুহায় বাস করে, তারা ভিন্ন। কিন্তু এটি সম্ভবপর যে এই কয়েকটি প্রজাতির চক্ষুবিশিষ্ট পূর্বপুরুষরা উভয় মহাদেশে পূর্বে বিস্তৃত হয়ে থাকতে পারে এবং এর পর এদের বর্তমান নির্জন বাসস্থান ছাড়া অন্যত্র এরা বিলুপ্ত হয়েছে। অন্ধ মাছ অ্যামব্লিঅপসিস সম্পর্কে আগাসিজের মন্তব্য শুনে আমি বিস্মিত হই না যে গুহাবাসী প্রাণীদের কয়েকটি অতিশয় ব্যতিক্রমী বা অস্বাভাবিক হবে, এবং ইউরোপের সরীসৃপদের মধ্যে অন্ধ প্রোটিয়াসদের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। আমি কেবল আশ্চর্যান্বিত হই যে এইসব অন্ধকারাচ্ছন্ন নির্জন স্থানগুলির অতি অল্প অধিবাসীদের মধ্যে কম কঠোর প্রতিযোগিতার জন্য আদিম জীবনের ধ্বংসাবশেষ সংরক্ষিত হয়নি।
