লাযলো? তার তো এখানে কারো সাথে যোগাযোগ থাকার কথা।
একাডেমিয়ার লোকদের কিন্তু রাজপরিবারের সদস্যদের উর্ধ্বে গিয়ে কিছুতে পরিবর্তনের কোনো ক্ষমতা নেই। এমনকি মাল্টিমিলিয়নিয়রদেরও তা
নেই। অবশ্য, আমার কাছে অন্য একটা সুসংবাদ আছে।
কী নিয়ে ওটা…?
পারিবারিক প্রতীক গবেষণার জন্য অবশ্য একাডেমিয়ার লোকেরা বেশ কাজের। যাই হোক, এসব প্রতীক নিয়ে কতটা জানেন আপনারা?
রেমি বলল, এটুকুই জানি যে এটা নিয়ে ঘাটতে ঘাটতে তোমার রাতের ঘুম হারাম হয়ে যাবে।
আসলেই, সেলমা বলল। ােযলোর মতো, খামার মালিকের স্ত্রী আর তার নটিংহামের জ্ঞাতি ভাই শুধু সাধারণ এক জমিদারের অবৈধ ছেলের বংশধরই না। ঐ সাধারণ জমিদারও আসলে এডমুন্ড মর্টিমারের অবৈধ ছেলে। এডমুন্ড মর্টিমার মানে দ্বিতীয় লর্ড মর্টিমারের বংশধর।
আর এই মর্টিমারের গুরুত্ব…? স্যাম জানতে চাইলো।
তিনি ছিলেন রজার ডি মর্টিমার অর্থাৎ তৃতীয় লর্ড মর্টিমারের বাবা। এই রজার মটিমারের সাথে রানি ইসাবেল প্রণয় ছিলো বলেও শোনা যায়। নিঃসন্দেহেই ইসাবেলের ছেলে তৃতীয় এডওয়ার্ডের হাতে তার মারা পড়ার
এটাও একটা কারণ ছিলো।
বুঝলাম। তো এসবের সাথে আমাদের সাইফার হুইলের সম্পর্ক কী?
বলা কঠিন। এখনো এটা নিয়ে কাজ করছি, সাথে সাথে প্রতাঁকের বাকি অংশটা নিয়েও। ওটা একটা বিদেশি ভাষায় লেখা। সবকিছুরই আলাদা আলাদা অর্থ আছে।
আচ্ছা, কিছু পেলে জানিয়ো তবে, বলে কল কেটে দিলো স্যাম।
২১৬
এখন কী? ফোন রাখতেই বলল রেমি। | চলো কোনো পাবে যাই। লাঞ্চ করতে করতে পরবর্তী পরিকল্পনা নিয়ে ভাবি।
রাস্তায় নেমে হাঁটা শুরু করতেই এক রোলস-রয়েস এসে দাঁড়ালো তাদের পাশে। গাড়ির পিছন সিট থেকে একটা লোক তাকিয়ে আছে তাদের দিকে। লোকটার চুলগুলো কালো, তবে কপালের দিকের কিছু অংশ ধূসর হয়ে আছে। তাদের দিকে তাকিয়ে মিটিমিটি হাসছে লোকটা। তবে লোকটার চাহনিতে বন্ধুসুলভ কোনো ছাপ নেই।
আপনার নিশ্চয় ফার্গো দম্পতি।
রেমির হাত ধরে তাকে পিছে টেনে আনলো স্যাম। তারপর গাড়িটার দিকে এগিয়ে গিয়ে বলল, আপনি? চার্লস এভেরি?
হতাশ করতে হলো আপনাদের। না, আমি কলিন ফিস্ক। আপনারাও মনে হয় আমার বসের মতো একই জিনিসের পিছনে ছুটছেন, তাই না?
অরিজিনাল সাইফার হুইলটার পিছনেই তো?
আপনার কথা বুঝতে পারছি না আমি।
যাই হোক, গতকালকের গাড়ি দুর্ঘটনায় আমার লোকদের কেউ মারা যায়নি।
ওটা নিয়ে আমি কিছু জিজ্ঞেস করেছি বলেও মনে পড়ছে না, বলল স্যাম।
নিজে থেকেই জানালাম। নাহলে তোতা দুঃশ্চিন্তায় থাকবেন। যাই হোক, আপনারা মনে হয় মিউজিয়ামের অনুষ্ঠানের কোনো টিকেট পাননি?
আলতোভাবে কাঁধ ঝাঁকালো স্যাম। প্রদর্শনী তো আর একবারই হবে। অন্য সময়েও আসা যাবে। | আহারে। দুঃখ! তবে আমি থাকবো অনুষ্ঠানে।
কথাটা শুনে রেমি কৌতূহলী গলায় জিজ্ঞেস করলো, তাই? তা আপনি কিভাবে টিকেট ম্যানেজ করলেন?
এই তো, যোগাযোগের মাধ্যমে। মানুষের সাথে পরিচয় থাকলে আসলে সবই সম্ভব। আর এটা তো মিস করা যাবে না জাতীয় একটা অনুষ্ঠান। আমাকে তো থাকতে হবেই। অবশ্য আমার নাম ফার্গো হলে আলাদা ছিলো। যতদূর জানি এই নামটা কালো তালিকার অন্তর্ভুক্ত। যাই হোক, লন্ডনের ছুটি উপভোগ করতে থাকুন। এখানে কোথায় উঠেছেন? সেভয়তে না?
আপনি কোথায় উঠেছেন?
আপনাদেরটা বাদ দিয়ে অন্য কোনো একটায়। বলে শীতলভাবে হেসে ড্রাইভারকে গাড়ি টেনে নেওয়ার ইঙ্গিত করলো লোকটা।
গাড়িটা চলে যেতেই স্যামের পাশে এসে দাঁড়ালো রেমি। বলল, অস্বস্তি কর ছিলো সাক্ষাৎটা।
২১৭
আমি নিশ্চিত, ইচ্ছা করেই এমনটা করেছে।
আমরা কোথায় উঠেছি তাই বা জানলো কিভাবে? আমরা তো নিজেদের নামে চেক-ইন করিনি।
হয়তো ফাইভ স্টার হোটেলগুলোর তালিকা করে বের করেছে।
আমাদের হয়তো তাহলে এখন থেকে মাঝারি মানের কোনো একটা হোটেলে থাকা উচিৎ, বলে স্যামের হাতের সাথে নিজের হাত পেঁচিয়ে নিলো রেমি। তো, কী যেন লাঞ্চ আর যুদ্ধ পরিকল্পনার ব্যাপারে বলছিলে? আমার মনে হয়, এখন দুটোই দরকার আমাদের। | কাছেধারেই একটা পাৰ খুঁজে পেলো ওরা। ওটাতে গিয়ে মাছ ও চিপসের সাথে দুজনের জন্য দুই পাইট গিনেস বিয়ার অর্ডার করলো। পাবের দেয়ালের সাথে ঘেষে থাকা একটা টেবিলে বসেছে ওরা, যাতে জানালা ও প্রবেশমুখ দুটোর দিকেই নজর রাখা যায়।
খাওয়া শেষে আরেকটা বিয়ার অর্ডার করলো স্যাম। তবে রেমির আর বিয়ার পানের ইচ্ছা নেই। সে তাকিয়ে আছে তাদের টেবিলের পাশ কেটে যাওয়া দুই মহিলার দিকে। দুইজনের কথাবার্তাও কানে আসছে তার। তাদের মধ্যে একজনকে বলতে শুনলো, জানি না তুমি কেন এতো মন খারাপ করে আছো। তোমার এক্সও তো থাকবে ওখানে। ওটা শুধুই একটা বার্থডে পার্টি মাত্র, কয়েকজন আসবে, হ্যাপি বার্থডে গান গাইবে, চলে যাবে। এটুকুই তো। যাই হোক, তোমার খারাপ লাগলে আমিও যাবো না। অবশ্য তুমি হুট করে গিয়ে দেখা দিতে চাইলে আলাদা কথা।
রেমি…? কী বলছি শুনছো তুমি?
স্যামের দিকে চোখ ফিরিয়ে তাকালো রেমি। স্যরি। না। শুনিনি কিছুই।
বলছি, তুমি চাইলে এখন এটা থেকে সরে যেতে পারো। আমি একাই সামলাতে পারবো। ব্রির ব্যাপারে তো সন্দেহ দূর হয়েছে আমাদের, আর…
