লাযলোর ধারণা চোরাইকত সাইফার হুইলটা আসলে নকল একটা কপি। আর এটা জাহাজের ক্যাপ্টেন বানিয়েছিলো আসল হুইলটা কারো কবলে পড়ার হাত থেকে বাঁচানোর জন্য। এরমানে হলো আসল সাইফার হুইলটা এখনো ওখানেই আছে। জাহাজটা কোথায় এবং কবে তৈরি করা হয়েছিলো সেটা জানতে পারলেই ঘোষণাপত্রের সূত্রধরে এর মালিককে চিহ্নিত করতে পারবো আমরা। আর মালিককে খুঁজে পেলেই
-আমরা আসল সাইফার হুইলটাও খুঁজে পাবো, বাক্যটা শেষ করে দিলো স্যাম। তোমার কাছে যা যা তথ্য আছে পাঠাও আমাদের।
আপনার ইনবক্সে পৌঁছে যাবে তা। সাথে সাথে আপনার ফ্লাইট কুকে ব্রাজিল ভ্রমণের ব্যাপারেও কিছু তথ্য পাঠিয়ে দিবো।
কথা শেষে রিসিভারটা ক্রেড়ালে রেখে বিছানা থেকে নামলো স্যাম। তারপর এগিয়ে গেলো অন্যরুমে থাকা রেমির কাছে। ভ্রমণটাকে বেশ উৎসাহব্যাঞ্জক শোনাচ্ছে।
এটা কি কোনো ধরনের ক্ষমা চাওয়া? স্যামের দিকে এগিয়ে আসতে আসতে বলল রেমি।
তোমাকে নিরাপদে রাখতে চাওয়ার জন্য তো আমি ক্ষমা চাইতে পারি না।
ব্রির ব্যাপারে তোমার ধারণা ভুল। সে চার্লস এভেরির কোনো চর না। আমাদের প্রতিটা পদক্ষেপই এভেরিকে জানাচ্ছে না ও।
তবে কিছু একটা অবশ্যই চলছে আড়ালে আড়ালে। তবে কী চলছে সেটা ধরতে পারছে না স্যাম। অবশ্য সন্দেহ প্রকাশ করে রেমির সাথে এই সুন্দর মুহূর্তটা নষ্ট করারও কোনো ইচ্ছা নেই তার। তাই বলল, আমার আচরণে হয়তো তুমি ভেবেছো আমি তোমাকে বিশ্বাস করছি না। এটার জন্য ক্ষমা চাইছি আমি। কখনোই এরকম কিছু বুঝানোর ইচ্ছা ছিলো না আমার।
রেমি তার হাত দুটো স্যামের কাঁধে ঠেকিয়ে বলল, তোমার ক্ষমা গ্রহণ করা হলো।
তো, তাহলে এখন ব্রাজিল ভ্রমণ? স্যাম জানতে চাইলো।
অবশ্যই। বছরের এই সময়ের ব্রাজিলকে ভালোবাসি আমি।
.
১৫.
জেটে করে প্রথমে মিয়ামিতে গিয়ে পৌঁছালো স্যাম ও রেমি। সেখান থেকে তাদের জন্য সেলমার পাঠানো প্রয়োজনীয় সরঞ্জামগুলো তুলে নিয়ে আবারো ছুট লাগালো ব্রাজিলের সাও পাওলোর উদ্দেশ্যে। মিয়ামি থেকে ওখানকার গরম আবহাওয়ার উপযোগী কিছু কাপড়চোপড়ও নিয়ে নিয়েছে। সাও পাওলোতে পৌঁছুতে পৌঁছুতে প্রায় সন্ধ্যা সাতটার মতো লেগে গেলো তাদের।
রাতটা বিশ্রামে কাটিয়ে পরদিন সকালে স্যাম বেরিয়ে পড়লো স্নেক আইল্যান্ডে খোঁজাখুঁজির জন্য সরকারি অফিসিয়ালদের কাছ থেকে অনুমতি ও জরুরি কাগজপত্র নিয়ে আসার জন্য। রেমি অবশ্য হোটেলেই রয়ে গেছে। ট্যাবলেটে করে সেলমার সাথে সান্তোস বন্দরের বোট এবং ক্রুদের নিয়ে কথা বলছে।
সব বিবেচনা করলে, সেলমা বলছে, তারাই এই কাজের জন্য যোগ্য।
শুনে বেশ ভীতিজনক মনে হচ্ছে।
ওখানে হয়তো কিছু হচ্ছে এখন। হয়তো উইকএন্ড বলেই হচ্ছে। সব চার্টারই আগে থেকে বুক রেখেছে অন্যরা। তবে লোকগুলোর ব্যাপারে খোঁজ নিয়েছি আমি। আর সত্যি বলতে, আপনাদের দাবিদাওয়া অনুযায়ী ওটাই ছিলো ঐ অঞ্চলে অ্যাভেইলেভল থাকা শেষ বোট। একরাত পানিতেও থাকতেও কোনো আপত্তি নেই তাদের।
স্ট্যান্ডে রাখা ট্যাবলেটের পর্দার দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসলো রেমি। সে জানে সেলমা তার সর্বোচ্চটা দিয়েই চেষ্টা করেছে। সেলমার সাথে কথা বলতে আরো একবার যন্ত্রপাতির লিস্টটা চেক করে দেখছে ও। মেটাল ডিটেক্টর, পোর্টেবল সাইড-স্ক্যান সোনার সিস্টেম, আন্ডারওয়াটার ক্যামেরা ও লাইটসহ আরো অনেক কিছু রয়েছে তালিকাটায়। দেখে মনে হচ্ছে আমাদের দরকারি সবকিছুই পাঠিয়ে দিছো তুমি।
হ্যাঁ। এখন তাহলে বোট মালিককে বলে দেই যে আপনারা তার সাথে আজ সন্ধ্যায় বা আগামীকাল যোগাযোগ করবেন। আমার মনে হয় গতরাতে লাযলোর পাঠানো কাগজগুলো আপনারা দুইজনই পড়েছেন?
শুনে টেবিলের দিকে তাকালো রেমি। বলল, হ্যাঁ, দেখেছি। খুঁজে পাওয়া দুটো শিপরেকদুটোর অবস্থান দেখলাম দ্বীপের একদম দক্ষিণ মাথায়। রহস্যময় ম্যাপটা কয়েক শতাব্দী ধরে পাইরেটস অ্যান্ড প্রাইভেটিয়ার্স বইয়ের এন্ডপেপারে আড়ালে লুকানো থাকলেও, এই শিপরেকগুলো আবিষ্কৃত হয়েছে অনেক আগেই। খুব সম্ভবত লুট করে নিঃশেষও করে ফেলা হয়েছে। প্রথম জাহাজ থেকে প্রাপ্ত সম্পদগুলো থেকে ধারণা করা যায় যে ওটা স্প্যানিশ মালিকানার অধীনে ছিলো। অবশ্য সেলমা নিশ্চিত, তারা ইংরেজদের জাহাজটাই খুঁজছে। মূলত এই কারণেই স্নেক আইল্যান্ডের একদম দক্ষিণ মাথায় থাকা দ্বিতীয় শিপরেকে খুঁজে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্যাম। এছাড়া রেকর্ডবইয়ে ঐ শিপরেকটার ব্যাপারে খুব বেশি কিছুর উল্লেখও করা নেই। লাযলো কি ম্যাপের চাবির অনুবাদ নিয়ে নিশ্চিত?
ওখানে সে সমুদ্র ও সারপেন্স শব্দগুলো দেখেছে-এটার ব্যাপারে বেশ আত্মবিশ্বাসী ও
কপাল খারাপ যে সে ওখানে সমুদ্র ও ডলফিন শব্দগুলো দেখেনি। ভাইপারের থেকে ডলফিন ভালো।
আসলেই। তবে যাই হোক, ব্রি না বললে হয়তো স্নেক আইল্যান্ডের কথা জানা যেতো না। এটা শুধু সম্ভাব্য একটা লোকেশন মাত্র। সকালে আমি আবার ম্যাপটা দেখছিলাম, আর… বলতে বলতে স্নেক আইল্যান্ডের ম্যাপের একটা স্কেচ পর্দার সামনে তুলে ধরলো সেলমা। হুম, এটার সাথে আসলেই অনেক মিল আছে দ্বীপটার। তবে এটাই কি সঠিক জায়গা কিনা তার কিন্তু নিশ্চয়তা দেওয়া যাচ্ছে না। আপনাদেরকে ওখানে গিয়েই নিশ্চিত হতে হবে।
