খুব দেখিয়েছেন।
নিজস্ব পদ্ধতি আমাদেরও আছে, মি. ডার্ক পিট। মৃদু শব্দে হাসলেন রেইমন্ড জর্ডান।
ওগুলোর ওপর নজর রাখা হচ্ছে তো? জানতে চাইল পিট।
তা তো হচ্ছেই। তবে খুব সাবধানে নড়াচড়া করছি আমরা। আমরা যে জানি, এটা শত্রুদেরকে বুঝতে দিচ্ছি না। এই আতঙ্ক সৃষ্টির জন্যে যারা দায়ী, প্রথমে তাদেরকে খুঁজে বের করব আমরা। ওদের কমান্ড সেন্টারটাও ধ্বংস করতে হবে। মি, অ্যাল জিওর্দিনো নিজের অজান্তেই একটা বিপদ ডেকে এনেছিলেন, আপনি কি তা জানেন?
কি রকম?
মুরমটো ডিসট্রিবিউটরস-এর কেউ একজন ভয় পেয়ে গিয়েছিল। ওদের ইমপোটেড শিপিং ডাটা কমপিউটার থেকে মুছে ফেলতে যাবে, এই সময় নাক গলাই আমরা। আর দশ মিনিট দেরি করলে সর্বনাশ হয়ে যেত।
ওই ডাটাই আপনাদেরকে গাড়িগুলো খুঁজে বের করতে সাহায্য করে? জানতে চাইল পিট।
আমরা একটা ফ্রেইট কোম্পানীর সন্ধান পাই, মালিক জাপানি। ওই কোম্পানীর ট্রাকেই গাড়িগুলো বহন করা হয়। ওদের রেকর্ডে গন্তব্য সম্পর্কে কোন তথ্য নেই, তবে ড্রাইভারের ডেলিভারি লগ ধার করি আমরা। ডকইয়ার্ড থেকে রওনা হবার পর কত কিলোমিটার ছুটেছে ট্রাক, লেখা আছে তাতে। এরপর নিরেট তদন্ত ও সামান্য কৌশলের আশ্রয় নিতে হয়েছে।
মানুষ অ্যাটম বোমার ওপর বসে আছে, খবরটা ফাঁস হয়ে গেলে আপনাদের গোটা দৈশে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়বে, বলল পিট। বোমাগুলো জাপানি, জানাজানি হয়ে গেলে ব্যাপক দাঙ্গাও বেধে যেতে পারে। আমেরিকায় জাপানিদের সংখ্যা কম নয়।
হ্যাঁ, পরিস্থিতি ভাল নয়। সাধারণ আমেরিকানরা পাল্টা ব্যবস্থা অর্থাৎ প্রতিশোধ নেয়ার দাবি জানাবে। তাতে ভয় পেয়ে জাপানিরা গাড়িগুলোকে স্ট্র্যাটেজিক পজিশনে নিয়ে গিয়ে ফায়ার বাটনে চাপ দিতে পারে, আমরা ওগুলো খুঁজে বের করি অকেজো করার আগেই।
সবগুলো বোমা খুঁজে বের করতে হলে গোটা দেশে তল্লাশি চালাতে হবে, বলল পিট। তাতে সময় লাগবে, আমার ধারণা, বিশ বছর।
আমার তা মনে হয় না, বললেন রেইমন্ড জর্ডান। আমরা জানি কিভাবে কি করে ওরা। কি খুঁজছে আমরা তা-ও জানি, মি. অ্যাল জিওর্দিনো ও আপনাকে সেজন্যে ধন্যবাদ। এসপিওনাজ জগতে আমরা যতটা দক্ষ, জাপানিরা তার অর্ধেকও নয়। আমি বাজি ধরে বলতে পারি, বোমাসহ প্রতিটি মুরমটো এক মাসের মধ্যে খুঁজে বের করে ফেলব আমরা।
আমি নিজেও একজন আশাবাদী, তবে বাস্তব সমস্যার কথা ভুলে থাকতে পারি না, বলল পিট। ভাল কথা, আপনাদের বন্ধুও রাশিয়ার কথা কিছু ভাবছেন? জাপানিরা ওদের ঘরেও বোমা লুকিয়ে রাখতে পারে। আপনাদের প্রেসিডেন্ট কি ওদেরকে সতর্ক করে দেবেন?
এখনই নয়। এ-ধরনের মারাত্মক একটা গোপন তথ্য ন্যাটোর সদস্য দেশগুলোকেও এখুনি আমরা জানাতে চাইছি না। বিশ্বাস করা যায় না, কোন ফুটো দিয়ে বেরিয়ে যায়। তবে কোন কোন দেশকে ইচ্ছে করলে জানাতেও পারেন প্রেসিডেন্ট, কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও মজবুত করার জন্যে।
কয়েক সেকেন্ড চুপ করে থাকার পর রেইমন্ড জর্ডান বললেন, কাজটা আপনি ভাল করেন নি, মি. ডার্ক পিট। ইনফরমেশনটা লিক হয়ে গেলে গোটা দুনিয়ায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়বে।
আরেকটা হুমকির কথা আপনি ভেবেছেন কি?
আরেকটা হুমকি?
ধরুন যুক্তরাষ্ট্রে বা রাশিয়ায় দুএকটা গাড়ি-বোমা ফাটিয়ে দিল জাপান। দুপক্ষই ভাববে, হামলার জন্যে প্রতিপক্ষ দায়ী। আপনারা, যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া, পরস্পরের সাথে যুদ্ধ বাধিয়ে দিলেন।
এ-ধরনের দুশ্চিন্তা নিয়ে বিছানায় যাওয়ার কোন মানে হয় না, ঘুম আসবে না, বললেন রেইমন্ড জর্ডান, অস্বস্তিবোধ করছেন। যখন যা ঘটে তাই নিয়ে চিন্তা করুন। আমাদের অপারেশন যদি সফল হয়, তারপর গোটা ব্যাপারটা চলে যাবে রাজনীতিকদের হাতে।
আপনার এ-কথা শোনার পর ঘুমাতে পারব বলে মনে হয় না, বলল পিট।
.
ঘুমের রাজ্যে তলিয়ে যাচ্ছে পিট, হঠাৎ সিকিউরিটি অ্যালার্ম বেজে উঠল। কেউ একজন হ্যাঙ্গারে ঢোকার চেষ্টা করছে।
বিছানা থেকে নেমে স্টাডিতে বেরিয়ে এল পিট, বোতাম টিপে ছোট একটা টিভি মনিটরিং সিস্টেম চালু করল। হ্যাঙ্গারের সাইড ডোর-এর সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছে স্টেসি ফক্স, মুখ তুলে সিকিউরিটি ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে হাসছে।
একটা বোতামে চাপ দিল পিট, সাইড ডোর খুলে গেল। স্টাডি থেকে বেরিয়ে সিঁড়ির মাথায়, ঝুল-বারান্দায় এসে দাঁড়াল ও। খোলা দরজা দিয়ে হ্যাঁঙ্গার ঢুকল কেটা সেক্স বম্ব। কলারবিহীন নীল জ্যাকেট পরে আছে স্টেসি, সঙ্গে ম্যাচ করা স্কার্ট ও জুয়েলনেক সাদা ব্লাউজ। মুগ্ধ বিস্ময়ে গাড়িগুলোর ভেতর দিয়ে ধীর পায়ে হেঁটে এল সে। মেটালিক বু জর্ডান-লাগো গ্রান্ড স্পোর্ট-এর পাশে দাঁড়িয়ে পড়ল, আলতোভাবে আঙুল ছোঁয়াল ফেন্ডারে।
স্টেসিই প্রথম নয়। পিটের এই অদ্ভুত বাসস্থানে আরও অনেক মেয়েই এসেছে, তাদের প্রায় সবইকে আকৃষ্ট করেছে জর্ডান। গাড়িটাকে মেকানিক্যাল আর্ট-এর উৎকৃষ্ট একটা নমুনা বলে মনে করে পিট, তবে মেয়েরা ওটার দিকে তাকালে পুলক ও শিহরণ অনুভব করে। গাড়িটার চকচকে পিচ্ছিল গা, আকৃতির মধ্যে বিড়ালসুলভ ছন্দ, শক্তিশালী এঞ্জিনের উপস্থিতি, ভেতরে দামী চামড়ার গন্ধ প্রায় এক ধরনের যৌনবেদনা সৃষ্টি করে।
আপনি আমাকে খুঁজে পেলেন কিভাবে? জানতে চাইল পিট, বিশাল হ্যাঙ্গারের ভেতর প্রতিধ্বনি তুলল আওয়াজটা।
