“আই উইল।”।
কল কাটতেই মাথার ভেতর ফেনিয়ে উঠল আরেকটা সন্দেহ। যা করছে তা ঠিক হচ্ছে তো?
জোর করেই চিন্তটাকে দূরে সরিয়ে দিল। এ শয়তানগুলোর সাথে ওকে লড়তেই হবে। বহুদিন ধরেই কেবল পালিয়ে বেড়াচ্ছে।
.
১০. আর্য ল্যাবরেটরি, নিউ দিল্লি
দমকলবাহিনি আর কমান্ডোদের সাথে দাঁড়িয়ে আছেন ইমরান; বেদনার ভারে নুইয়ে পড়েছে দুই কাঁধ।
তিন ঘণ্টা আগে মেডিকেল স্টেন্টারে পৌঁছে দেখেন ভয়ংকর এক আগুনের সাথে যুঝছে সবাই। চারতলা ফ্যাসিলিটির উপরের তিন তলাই দাউ দাউ করে জ্বলছে।
চার ঘণ্টা ধরে পনেরোজন দমকলকর্মী অমানুষিক পরিশ্রম করে অবশেষে আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছে। ইমরান, আইবি টিম আর কমান্ডোরা অসহায়ের মত দাঁড়িয়ে দেখা ছাড়া আর কিছু করতে পারেনি। দমকল বাহিনি নিজেদের কাজ ভালভাবেই জানে, এখানে ওদের কিছু করার নেই।
তাই দালানে ঢোকার অনুমতি পাবার সাথে সাথে কমান্ডো, তার দল আর ফায়ারম্যানদেরকে চিৎকার করে কয়েকটা নির্দেশ দিয়েই দৌড়ে ছুটে গেলেন ইমরান। উপরের তলাগুলো ঝলসে গেলেও নিচের তলা কেমন করে যেন পুরোপুরি অক্ষত রয়ে গেছে।
“এই জায়গাটাতে কি রাখা হত?” ডেপুটি অর্জুনের কাছে জানতে চাইলেন ইমরান। “এটা একটা ক্লিনিক্যাল ল্যাবরেটরি। ওয়াশিংটনের সিয়াটলে অবস্থিত টাইটান ফার্মাসিউটিক্যালসের হয়ে ওরা প্যাথলজিক্যাল ডিজিজ নিয়ে রিসার্চ করত।”
ভ্রু-কুঁচকে ফেললেন ইমরান, “ইউএস মাল্টিন্যাশনাল ফার্মা কোম্পানি?”
“ইয়েস। আরো তথ্য পাবার জন্য এরই মাঝে যোগাযোগও করেছি। তবে এই সেন্টারে মনে হচ্ছে ওরা নিজেদের রিসার্চ প্রোগ্রামের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল দিত। এর পাশাপাশি এমন কিছু মলিকিউল তৈরির চেষ্টা করছে যা কিনা মেডিসেনের ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব অবদান সৃষ্টি করবে।”
জীবন্ত হয়ে উঠল ইমরানের ওয়াকিটকি, “স্যার, এক্ষুনি চতুর্থ তলায় একটু আসবেন প্লিজ।” জানাল এক এজেন্ট।
লাফিয়ে সিঁড়ি পার হতে গিয়েও ভয় পেয়ে গেলেন ইমরান। মধ্য চল্লিশেও নিয়মিত পরিশ্রম করা শরীর এখনো এত ফিট যে একেকবারে দুটো করে ধাপ পার হলেন।
চার তলায় পা রাখতেই জমে যাবার দশা। সম্পূর্ণ কয়লা হয়ে গেছে পুরো ফ্লোর। আর যা কিছু আগুনের হাত থেকে বেঁচে গেছে তাও দমকল বাহিনির পানি থেকে রেহাই পায় নি।
মেঝের উপর পড়ে থাকা বিভিন্ন স্তূপ বাঁচিয়ে কোনোমতে ঢুকে পড়লেন আইটি ল্যাব টাইপের একটা কামরাতে। টর্চ আর দমকল কর্মীদের মাথার ল্যাম্পে আলোকিত হয়ে উঠেছে চারপাশ। নজরে পড়ল অঙ্গার হয়ে যাওয়া ফার্নিচার আর কালো কম্পিউটার টার্মিনাল।
এতক্ষণ যে ভয়টা পাচ্ছিলেন তা-ই সত্যি হল। কম্পিউটার টার্মিনালের সামনের চেয়ারে বসে আছে কৃষ্ণকালো এক মৃতদেহ।
“আনোয়ার?” কোনোমতে নামটা উচ্চারণ করলেন ইমরান।
“আয়্যাম সরি, স্যার। এই মুহূর্তে কোনো পজিটিভ আইডেন্টিটি পাওয়া সম্ভব নয়। পুরোপুরি জ্বলে গেছে।”
নিশ্চুপ হয়ে গেলেন ইমরান। তারপর বহুকষ্টে নিজেকে সামলে বললেন, “অর্জুন, আমি একটা কমপ্লিট ইনভেস্টিগেশন চাই। কে এই জায়গার মালিক? তারা এখানে কী করছিল? আগুন লাগার কারণ? আর…” মৃতদেহের দিকে তাকিয়ে বললেন, “এর পরিচয়।”
কড়কড় করে উঠল ওয়াকিটকি, “স্যার, আপনি একটু গ্রাউন্ড ফ্লোরে আসলে ভালো হয়। একটা জিনিস পাওয়া গেছে।”
দ্রুত আবার নিচে নেমে এলেন ইমরান। পিছনে এলো অৰ্জুন। এলিভেটর শ্যাফট চেক করতে গিয়ে একজন এজেন্ট আবিষ্কার করেছে যে লিফট গ্রাউন্ড লেভেলে থামেনি। মনে হচ্ছে আরো নিচে নেমে বেসমেন্টেও গেছে।
অদ্ভুত কিছু একটা আছে বুঝতে পেরে এজেন্ট বরুণ ঝা জোর করে এলিভেটর ওপেন করেছে। ফ্লোর বেছে নেবার প্যানেলে সাধারণ বাটনের পরিবর্তে আছে ইলেকট্রনিক টাচ প্যানেল। তবে বিস্ময়কর ব্যাপার হচ্ছে প্যানেলে বেসমেন্টের কোনো উল্লেখ নেই।
ঝা’র চোখে পড়ল আসলটার নিচে প্রায় লুকানোই বলা চলে দ্বিতীয় ছোট্ট আরেকটা প্যানেল। ব্ল্যাংক হলেও তার ধারণা কেউ যদি সঠিক অথেন্টিফিকেশন লাগানো কার্ড ঢোকায় তাহলে হয়ত নিচে যাবার জন্য আরো কয়েকটা ফ্লোর পাওয়া যাবে।
অত্যন্ত মেধাবী এজেন্ট তাই দমকল বাহিনির সাথে শেয়ার করল নিজের এক আইডিয়া। যদি দালানের নিচে কোনো গুপ্ত বেসমেন্ট থাকে তাহলে নিশ্চয় লিফটের ব্যাকআপ হিসেবে সিঁড়িও থাকবে।
ফায়ারফাইটাররা তৎক্ষণাৎ খুঁজতে গিয়ে আবিষ্কার করল চারকোণা একটা ছোট্ট খালি রুম। এরপরে আর কিছু নেই। সিঁড়ির তিনদিকের দেয়াল ভেঙে ফেলার আদেশ দিল ঝ। ফলও পেল হাতেনাতে। সিঁড়ির ঠিক সামনে দেয়ালের পেছনেই খানিকটা খোলা জায়গা আছে। সাথে সাথে ইমরানকেও ফোন করে দিল।
“সিঁড়ির নিচে দাঁড়িয়ে দেয়াল ভাঙ্গা দেখলেন ইমরান। ছড়িয়ে পড়ল বিভিন্ন ধরনের তার। এটা এখন স্পষ্ট যে কোনো এক ধরনের ইলেকট্রনিক সিস্টেম যার মাধ্যমে দেয়ালের মাঝে লুকায়িত দরজা খোলা যাবে।
কাজ শেষ হতেই দেখা গেল আরেকটা ল্যান্ডিং। ধাপে ধাপে সিঁড়ি নেমে গেছে নিচের দিকে।
কী পাবেন ভাবতে গিয়ে শঙ্কিত হয়ে উঠলেন ইমরান। বেজমেন্টকে লুকানোর জন্য যদি কেউ এতটা কষ্ট করে থাকে তার মানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু গোপন করা হয়েছে। মনে পড়ে গেল গত বছরের এক অদৃশ্য দেয়ালের কথা। মহাভারতের আড়ালে থাকা সিক্রেট উন্মোচন করতে গিয়ে আরেকটু হলেই জানটাই খোয়াতেন।
