চপারগুলোর আকার বড় হতেই কানে এলো রোটরের কটকট আওয়াজ। দ্রুতগতি সম্পন্ন হেলিকপ্টার দুটো চোখের পলকে পেরিয়ে আসছে সবটুকু দূরত্ব।
কুপার বুঝতে পারল যে এত ট্রাঙ্ক লোড করার আর সময় নেই হাতে। “কিছু জিনিস এখানে ফেলে যেতে হবে।” ভ্যান ক্লককে জানাতেই সেও সম্মত হল।
মাল লোডিং বাদ দিয়ে চটপট নিজের হেলিকপ্টারের উদ্দেশ্যে দৌড় দিল সবাই।
চোখ কুঁচকে দিগন্তের দিকে তাকাল কুপার। হেলিকপ্টারগুলো এত কাছে চলে এসেছে যে খালি চোখেও স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে।
“দুঃসংবাদ আছে।” ভ্যান কুককে জানাল কুপার, “কাজাক এয়ারফোর্স; ইউরোকপ্টার ইসি সেভেন্টি টু ফাইভ এস।”
মাথা নাড়ল ক্লক, “চলো, ফ্লাই করতে হবে। আশা করি তাদের কাছে কেবল মেশিন গান আর কামান আছে। কোনো রকেট লঞ্চার নেই।”
লাফ দিয়ে হেলিকপ্টারে চড়ে বসল কুপার। আস্তে আস্তে উপরে উঠে গেল দুটো হেলিকপ্টার।
দ্রুত কাছে এগিয়ে আসছে কাজাক বিমান বাহিনি। কিন্তু এতটা গতিতে ছোটার জন্য তৈরি হয়নি ভ্যান কুকের হেলিকপ্টার। একটা এম আই-২৬, পৃথিবীর সবচেয়ে ভারি মালবহনকারী হেলিকপ্টারে চড়ে বসেছে তার পুরো বাহিনি। এই চপারে বিরাশি জন মানুষ বসার বন্দোবস্ত থাকলেও কুকের ষাট জনের মিশনের জন্য দিব্যি উপযুক্ত হয়ে গেছে। এছাড়া মিশনের ভ্রমণ দূরত্ব অতিক্রম করার জন্য চারশ বত্রিশ নটিক্যাল মাইল রেঞ্জও খারাপ না। আর তার নিজের হেলিকপ্টার হল অগাস্তা ওয়েস্টল্যান্ড এডব্লিউ থারটিন নাইন এম। পনের জন প্যাসেঞ্জারের জন্য তৈরি আর রেঞ্জ পাঁচশ সাইত্রিশ নটিক্যাল মাইল।
অন্যদিকে কাজাক হেলিকপ্টারগুলো একেবারে ছোট। তাদের গতি ঘণ্টায় খুব বেশি হলে ৩২৪ কি. মি.। তারপরেও প্রতি ঘণ্টায় ৩০৬ কি. মি, অগাস্তা আর পেটমোটা এম আই-২৬’র প্রতি ঘণ্টায় ২৯৫ কি, মি’র চেয়ে বেশি। তাছাড়া কাজাক চপার দুটো নিশ্চয় অর্ডারের হেলিকপ্টারের মত এত বড় বাহিনি বহন করছে না। তার মানে কাজাক হেলিকপ্টার দুটোই বেশি হালকা আর দ্রুত।
“মনে হয় না পার পাবো।” তিক্ত হয়ে গেল কুপারের চেহারা।
“রকেট লঞ্চার বের করো।” আদেশ দিল ভ্যান কুক। “সশস্ত্র প্রতিরোধ নিশ্চয় আশা করছে না। তবে লেজ থেকে তো খসাতেই হবে।”
ক্লকের আদেশ বাকিদেরকে জানিয়ে দিল কুপার। আগাস্তা চপারের মাঝখানের কেবিনে শুয়ে আছে দুটো রকেট লঞ্চার। তাড়াহুড়া করে প্যাকেট খুলতেই আঘাত হানার জন্য প্রস্তুত হয়ে গেল। ছুঁড়ে মারার অপেক্ষায় আছে কুপারের দুই লোক। এদিকে নির্দ্বিধায় উড়ে আসছে দুই কাজাক হেলিকপ্টার।
“দাঁড়াও।” নির্দেশ দিল ভ্যান ক্লক, “আমরা জানি না যে ওদেরও রকেট লঞ্চার আছে কিনা। আগে রেঞ্জের মধ্যে আসতে দাও। আমরা কেবল একটাই সুযোগ পাবো সেটাও মাথায় রেখ।”
.
জ্ঞান আহরণ
সতর্কভাবে উঠে দাঁড়াল বিজয়। ভাবছে এখন তার কী করা উচিত। শত শত সাপের সাথে এখানে ফাঁদে আটকা পড়েছে। বেরোবার একমাত্র রাস্তাও ভ্যান ক্লক ধ্বংস করে গেছে।
হঠাৎ করেই কথাটা মাথায় এলো। তেমন কোনো আশা না থাকলেও অন্তত চেষ্টা তো করে দেখা যায়। এই চেম্বারটা যদি মহাভারতের সাথে সম্পৃক্ত হয় তাহলে নিশ্চয় হাজার হাজার বছর আগে তৈরি হয়েছে। সাপগুলোর বয়স তো ততবেশি বলে মনে হল না। বেঁচে থাকা আর বংশবৃদ্ধির জন্য এগুলোরও খাবার দরকার।
তার মানে উপরে যাবার নিশ্চয় আরো কোনো রাস্তা আছে। পাথরের মাঝখানে এমন কোনো প্রবেশ পথ যেখান দিয়ে হামাগুড়ি মেরে বাইরে গিয়ে সাপগুলো মালভূমির প্রাণ খেয়ে ফিরে আসতে পারে।
এত শত বছর ধরে বন্ধ থাকার পরেও নিচের বাতাস পুরোপুরি বিশুদ্ধ। তাহলে হয়ত সেসব প্রবেশমুখের কোনো একটা দিয়ে বিজয়ও বাইরে যেতে পারবে? ব্যাপারটা একবার দেখতেই হচ্ছে। নয়তো বেঁচে থাকার আর কোনো আশা নেই।
কিন্তু তার আগে আরেকটা ব্যাপার যেটা মাথায় ঘুরছে সে কাজটা পুরো করতে হবে। ভ্যান আর তার দল থাকায় আগে করতে পারেনি। যে রুমের দেয়ালে খোদাই করা লেখা ছিল সেখানে ঢুকে সার্চলাইটের আলো ফেলল বিজয়। এই অদ্ভুত ধাঁচের লেখাটা আগে আর কখনোই দেখেনি। এক হাতে সার্চলাইট ধরে আরেক হাতে নিজের স্মার্ট ফোন বের করে নিল। তারপর পটাপট কয়টা ছবি তুলে আবার মেইন চেম্বারে ফিরে এলো।
এবার এই নরক থেকে উদ্ধার পাবার রাস্তা খুঁজতে হবে।
মেঝেতে পড়ে থাকা কয়েকটা কোদাল, খন্তা আর কুড়ালের মধ্যে থেকে একটা বেলচা তুলে নিল। এগুলো কুপারের বাহিনি সাথে করে নিয়ে এলেও যাবার সময় ফেলে রেখে গেছে। কাজে লাগতে পারে ভেবে সাথে নিল বিজয়।
এখন কেবল একটাই সমস্যা। চারপাশে বিস্তৃত সাপের সমুদ্র পার হতে হবে।
.
৭৩. নেইলবিটিং চিন্তা
“ওরা হেলিকপ্টার দুটোকে আক্রমণ করতে যাচ্ছে।” ঘোষণা করলেন প্যাটারসন। ইমরানের সাথে টেলিফোনে কথা বলছেন আইবি স্পেশাল ডিরেক্টর। বিছানায় শুয়ে থাকলেও হাসপাতালের রুমে জড়ো করা একগাদা যন্ত্রপাতির মাধ্যমে সারা দুনিয়ার সাথে যোগাযোগ ঠিকই অক্ষুণ্ণ রেখেছেন।
ওয়াশিংটনের টেলিফোন লাইনকে ব্যতিব্যস্ত করে ডিফেন্স ফোর্স আর কংগ্রেসে কথা বলেছেন। এমনকি খোদ ইউএস প্রেসিডেন্টের সাথেও।
নিজ দলের এক সদস্য মাঠপর্যায়ে কাজ করতে গিয়ে বিপদে পড়েছে। এমন সময় প্যাটারসন তো তাকে ত্যাগ করতে পারেন না। তিনি তেমন নন।
