পোস্টমিলেনিয়ালিজম। ক্রিশ্চানরা তাদের নিজেদের গুণবলে মিলেনিয়াম প্রতিষ্ঠা করার পর জেসাসের ফিরে আসার পরকালতত্ত্বীয় বিশ্বাস। হাজার বছরের এই শান্তি ও ন্যায়ের কালের পর জেসাস আবার পৃথিবীতে এসে শেষ বিচারের নেতৃত্ব দেবেন।
প্রিমিলেনিয়ালিজম। মিলেনিয়ামের আগেই জেসাসের পৃথিবীতে আবিশ্যিকভাবে ফিরে আসার মৌলবাদী বিশ্বাস। মানব সমাজকে এমনভাবে ঈশ্বরবিহীন কল্পনা করা হয়েছে যে ঈশ্বর হস্তক্ষেপ করতে বাধ্য হয়েছেন। তিনি জেসাস ক্রাইস্টকে পৃথিবীতে পাঠাবেন এবং বুক অভ রেভেলেশনের বর্ণিত যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করার পর জোসাস রাজ্য প্রতিষ্ঠা করবেন ও হাজার বছর পৃথিবী শাসন করবেন। এই কালের শেষে শেষ বিচার ইতিহাসের অবসান ঘটাবে।
প্রেসবিটারিয়ানিজম। এক ধরনের কালভিনবাদ স্কটল্যান্ডে এর জন্ম, অব্যাহত সংস্কারে অঙ্গিকারাবদ্ধ, বাইবেল ভিত্তিক বিশ্বাস, যাজকদের বদলে প্রবীনদের সরকার (গ্রিক: প্রেসবুতেরোই), এবং সকল চার্চ সদস্যের অংশগ্রহণ।
পিউরিটান। ষোড়শ শতাব্দীর চার্চ অভ ইংল্যান্ডের সদস্য, মূলত যারা ধর্মের এলিযাবেথিয় সমাধানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে উঠে দাঁড়িয়েছিল ও প্রটেস্ট্যান্টবাদের অধিকতর খাঁটি রূপ চেয়েছে, অ্যাংলিকান চার্চের ‘পোপিশ’ অনুশীলনকে আক্রমণ করেছে।
কাজি (আরবী)। শরীয়াহ প্রয়োগকারী বিচারপতি।
র্যাপচার। মনোনীতদেরই শেষ দিনের বিভীষিকা থেকে রক্ষা পাওয়ার এবং মিলেনিয়ামের অপেক্ষায় থাকার জন্যে ক্রাইস্টের সাথে বাতাসে ‘তুলে নেওয়া’র ক্রিশ্চান মৌলবাদী মতবাদ। (১ থেসালোনিয়ান্স ৪: ১৭)।
রাশিদুন (আরবী)। পয়গম্বর মুহাম্মদের (স) সহচর ও নিকটতম উত্তরাধিকারী চার ‘সঠিক পথে পরিচালিত’ খলিফা: আবু বকর, উমর, উসমান ও আলি ইবন আবি তালিব। সুন্নি মুসলিমরা (সুন্নি মুসলিম দেখুন) রাশিদুনদের ইসলামি নীতিমালা অনুসারে শাসনকারীকে একমাত্র শাসক মনে করে। শিয়া (শিয়া ইসলাম দেখুন) অবশ্য প্রথম তিন রাশিদুনকে স্বীকার করে না, তারা আলি ইবন আবি তালিবকে প্রথম ইমাম হিসাবে মানে।
রাওদাহ (আরবী)। তৃতীয় শিয়া ইমাম হুসেইনের শাহাদৎ বরণ উপলক্ষ্যে শোক প্রকাশে গীত শোকগীতি।
রিকনকুয়েস্তা (স্প্যানিশ)। প্রকৃত বিশ্বাসীদের সমাজ পুনৰ্বিজয়।
রিফর্ম জুদাইজম। উনবিংশ শতাব্দীর ধর্মীয় আন্দোলন পাশ্চাত্য চিন্তা, মূল্যবোধ ও সংস্কৃতির আলোকে ইহুদিবাদকে যৌক্তিকীকরণ ও ব্যাখ্যা করার প্রয়াস পেয়েছিল। বর্তমানে রিফর্ম জু প্রত্যাদেশের উপলব্ধির ক্ষেত্রে অর্থডক্সদের সাথে দ্বিমত পোষণ করে। একে তারা প্রগতিশীল ও উন্মুক্ত এবং সেকারণে তোরাহর পরিবর্তনশীল ভিন্ন ব্যাখ্যা দানকারী মনে করে।
রোশ ইয়েশিভা (হিব্রু)। বহুবচন: ইয়েশিভোত। ইয়েশিভার প্রধান বা অধ্যক্ষ।
সেফারদিক জু। মূলতঃ এই পরিভাষাটি স্পেন থেকে নির্বাসিত ইহুদিদের বেঝাতে ব্যবহৃত হত; পরে অ্যাশকেনিযিয় ইহুদিদের থেকে আলাদা করার জন্যে মধ্যপ্রাচ্যীয় বংশোদ্ভূত ইহুদিদের বেলায়ও সম্প্রসারিত হয়।
শাব্বেতিয়ানিজম। তুর্কি ইহুদি পণ্ডিত ও অতীন্দ্রিয়বাদী শাব্বেতেই যেভিই (১৬২৬-৭৬) মেসায়াহ, এই বিশ্বাসের উপর প্রতিষ্ঠিত সপ্তদশ শতাব্দীর একটি ইহুদি অন্দোলন; শাব্বেতেইবাদ বিংশ শতাব্দীতে অবশেষে হারিয়ে যায়।
শরীয়াহ (আরবী)। ‘জলাশয়ের পথ’; ইসলামের পবিত্র আইন; কোরান, সুন্নাহ ও হাদিস থেকে গৃহীত। এই অপরিবর্তনীয়, স্বর্গীয়ভাবে অনুপ্রাণিত আইনকে একমাত্র সঠিক জীবনধারা বলে মনে করা হয়, একজন মুসলিমের জীবনের প্রতিটি দিক নিয়ন্ত্রণ করে।
শেখিনাহ (হিব্রু)। পৃথিবীতে স্বর্গীয় উপস্থিতি। কাব্বালাহর কোনও কোনও ধরনে শেখিনাহকে প্রতীকীভাবে এন সফ থেকে করুণভাবে বস্তু জগতে মানুষের সাথে নির্বাসিত বিচ্ছিন্ন নারী সত্তা হিসাবে তুলে ধরা হয়েছে।
শিয়া ইসলাম। ইসলামের সংখ্যালঘু গোষ্ঠী। সংখ্যাগরিষ্ঠ গোষ্ঠী সুন্নি থেকে ধর্মতত্ত্বীয়ভাবে ভিন্ন, কিন্তু আন্তরিকভাবে বিশ্বাস করে যে পয়গম্বর মুহাম্মদের (স) বংশধরদেরই মুসলিম সম্প্রদায়ের নেতৃত্ব দেওয়া উচিত। অনুসারীদের শিয়া মুসলিম বা শিয়া বলার কারণ তারা পয়গম্বরের চাচাত ভাই ও মেয়ে-জামাই আলি ইবন আবি তালিবের মাধ্যমে তাঁর বংশধরদের স্বর্গীয় অনুপ্রাণিত নেতাদের (ইমাম দেখুন) শ্রদ্ধা করে। শিয়াহদের আন্দোলনের সামষ্টিক পরিভাষা হচ্ছে আলির ‘দল’।
শুরাহ (আরবী)। ‘ঐকমত্য’; ইসলামি আইনি নীতি যেখানে কোনও আইনি বিধির জন্যে কোনওভাবে গোটা সম্প্রদায়ের সম্মতির প্রয়োজন হয়।
সুফি, সুফিবাদ। আরবী শব্দ তাসাউফ থেকে; সুন্নি ইসলামের অতীন্দ্রিয় ঐতিহ্য।
সুন্নাহ (আরবী)। ‘রীতি’; উত্তর পুরুষের জন্যে সহচর ও পরিবারের সদস্যদের হাতে সংগৃহীত পয়গম্বর মুহাম্মদের (স) স্বভাব ও ধর্মীয় অনুশীলন, একে আদর্শ ইসলামি রীতি মনে করা হয়। এভাবে এগুলোকে ইসলামি আইনে স্থান দেওয়া হয়েছে যাতে মুসলিমরা পয়গম্বরের (স) আদি আদর্শ চরিত্রের যত বেশি সম্ভব কাছাকাছি পৌঁছতে পারে। সুন্নাহ পরিভাষাটি (বিশেষণ : সুন্নি) ইসলামের মূল শাখাও বোঝায় (দেখুন সুন্নি ইসলাম)।
সুন্নি ইসলাম। ইসলামের সংখ্যাগরিষ্ঠ ধরন, পয়গম্বরের (স) সুন্নাহয় ভক্তি নিবেদন করে। অনুসারীরা সুন্নি মুসলিম বা সুন্নি নামে পরিচিত। বিশ্বাসের ক্ষেত্রে শিয়া মুসলিমদের থেকে পার্থক্য করে না, কিন্তু শাসকদের পয়গম্বর মুহাম্মদ (স) ও তাঁর মেয়ে-জামাই অলি ইবন আবি তালিবের মাধ্যমে বংশধরদেরই মুসলিম সম্প্রদায়ের শাসক হতে হবে এটা মনে করে না। ইসলামের এই ধরনটির সমবেত নাম সুন্নাহ।
