তথ্যসূত্র
১. সুত্তা-নিপাতা ৩: ১।
২. ট্রেভর লিঙ, দ্য বুদ্ধা: বুড্ডিস্ট সিভিলাইজেশন ইন ইন্ডিয়া অ্যান্ড সিলোন, লন্ডন, ১৯৭৩, ৭৬-৮২; হারমান অলদেনবার্গ, দ্য বুদ্ধা: হিজ লাইফ, হিজ ডকট্রিন, হিজ অর্ডার (অনু. উইলিয়াম হোয়ে), লন্ডন, ১৮৮২, ৬৬-৭১; মাইকেল কারিথার্স, দ্য বুদ্ধা, অক্সফোর্ড ও নিউ ইয়র্ক, ১৯৮৩, ১৮-২৩; সুকুমার দত্ত, বুড্ডিস্ট মঙ্কস অ্যান্ড মনেস্টারিজ ইন ইন্ডিয়া, লন্ডন, ১৯৬২, ৩৮-৫০।
৩. লিঙ, দ্য বুদ্ধা, ৭৭-৭৮।
৪. রিচার্ড এফ. গোমব্রিচ, থেরাভেদা বুদ্ধজম: আ সোশ্যাল হিস্ট্রি ফ্রম অ্যানশেন্ট বেনারেস টু মডার্ন কলোম্বো, লন্ডন ও নিউ ইয়র্ক, ১৯৮৮, ৪৭।
৫. প্রাগুক্ত, ৪৮-৪৯।
৬. অলদেনবার্গ, দ্য বুদ্ধা, ৬৭।
৭. কারিথার্স, দ্য বুদ্ধা, ২৫।
৮. লিঙ, দ্য বুদ্ধা, ৭৮-৮২; জোসেফ ক্যাম্পবেল, অরিয়েন্টাল মিথোলজি : দ্য মাস্কস অভ গড, নিউ ইয়র্ক, ১৯৬২, ২১৮-৩৪।
৯. লিঙ, দ্য বুদ্ধা, ৯২; মির্চা এলিয়াদ, ইয়োগা, ইমমর্টালিটি অ্যান্ড ফ্রিডম (অনু. উইলিয়াম জে. ট্রাস্ক), লন্ডন, ১৯৫৮, ১০২।
১০. সমক্ষ্য কারিতা ৫৯।
১১. এলিয়াদ, ইয়োগা, ৮-৩৫।
১২. মাজহিমা নিকয়া, ২৬, ৩৬, ৮৫, ১০০।
১৩. ধ্রুপদী যোগের আলোচনার জন্যে এলিয়াদ, ইয়োগা, ৩৫-১১৪।
১৪. প্রাগুক্ত, ৪-৫।
১৫. গ্যালাশিয় ৪: ১-১১।
১৬. জেনেসিস ১৮cf. দ্য অ্যাক্টস অভ দ্য অ্যাপসলস্ ১৪: ১১-১৭, যেখানে লিস্ট্রার জনগণ মনে করেছিল, পল এবং বারনাবাস দেবতা জিউস ও হার্মেসের অলৌকিক প্ৰকাশ।
১৭. ইসায়াহ্ ৬: ৫।
১৮. জেরেমিয়াহ্ ৪৪: ১৫-১৯।
১৯. ইযেকিয়েল ৪: ৪-১৭; ১২: ২৪: ১৫-২৪।
২০. এলিয়াদ, ইয়োগা, ৫৯-৬২।
২১. ইয়োগা-সুত্তা ২: ৪২।
২২. এলিয়াদ, ইয়োগা, ৫৩-৫৫।
২৩. প্রাগুক্ত, ৫৫-৫৮।
২৪. প্রাগুক্ত, ৫৬।
২৫. প্রাগুক্ত, ৪৭-৪৯।
২৬. প্রাগুক্ত, ৬৮-৬৯।
২৭. প্রাগুক্ত, ৭০-৭১।
২৮. প্রাগুক্ত, ৭২-৭৬: ১৬৭-৭৩: কারিথার্স, দ্য বুদ্ধা, ৩২-৩৩; এডোয়ার্ড কনযে, বুড্ডিস্ট মেডিটেশন, লন্ডন, ১৯৫৬, ২০-২২।
২৯. করিথার্স, দ্য বুদ্ধা, ৩০, ৩৪-৩৫।
৩০. প্রাগুক্ত, ৩৩; এলিয়াদ, ইয়োগা, ৭৭-৮৪।
৩১. ক্যারেন আর্মস্ট্রং, আ হিস্ট্রি অভ গড, লন্ডন ও নিউ ইয়র্ক, ১৯৯৩। [বর্তমান অনুবাদকের অনুবাদে স্রষ্টার ইতিবৃত্ত নামে একুশে বইমেলায় (২০১০) রোদেলা প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত]
৩২. মাজহিমা নিকয়া, ২৬,৩৬, ৮৫, ১০০।
৩৩. প্রাগুক্ত।
৩৪. প্রাগুক্ত, ১২, ৩৬, ৮৫, ২০০
৩৫. প্রাগুক্ত, ৩৬।
৩৬. প্রাগুক্ত।
৩. আলোকন
কিংবদন্তী ইংগিত দেয় যে, গৌতমের ছেলেবেলা আমাদের আধ্যাত্মিক পরিপক্বতা এনে দেওয়ার মতো একমাত্র জ্ঞান দুঃখ-কষ্টের ধারণা হতে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় অজাগ্রত পর্যায়ে কেটে গেছে। কিন্তু পরবর্তী বছরগুলোয় তিনি স্মৃতিচারণ করেছেন যে, এমন একটা মুহূর্ত গেছে যখন সত্তার অন্য ধরনের একটা আভাস দেওয়া হয়েছিল তাঁকে। বাবা পরবর্তী বছরের শস্যের বীজ বপনের আগে ক্ষেতে লাঙল-উৎসব দেখাতে নিয়ে গিয়েছিলেন তাঁকে। গ্রাম ও শহরের সমস্ত পুরুষ অংশ নিয়েছিল বাৎসরিক এই অনুষ্ঠানে। তো শুদ্ধোদন তাঁর শিশু ছেলেকে পরিচারিকাদের হাতে হাওলা করে একটা গোলাপজাম গাছের ছায়ায় রেখে কাজে গেলেন। কিন্তু পরিচারিকারা লাঙল দেওয়া দেখবে বলে চলে গেল সেখান থেকে। নিজেকে একাকী আবিষ্কার করে উঠে বসলেন গৌতম। এই কাহিনীর একটি ভাষ্যে আমাদের বলা হয়েছে, তিনি যে ক্ষেতে লাঙল দেওয়া হচ্ছিল সেটার দিকে তাকিয়েছিলেন। এমন সময় লক্ষ করলেন, কচি ঘাসগুলো উপড়ে গিয়েছে। এইসব নতুন গজানো চারায় পোকামাকড়ের পারা ডিমগুলোও নষ্ট হয়ে গেছে। ধ্বংসযজ্ঞের দিকে তাকিয়ে অদ্ভুত এক বেদনা বোধ করেছিলেন ছোট সেই মানুষটি, যেন তাঁর অতি নিকটাত্মীয়দের হত্যা করা হয়েছে।[১] কিন্তু দিনটা ছিল চমৎকার, তাঁর মনের ভেতর নিখাঁদ আনন্দের অনিরুদ্ধ অনুভূতি জেগে উঠল। আমাদের সবারই এমন মুহূর্তের অভিজ্ঞতা আছে। অপ্রত্যাশিত ও আমাদের দিক থেকে কোনওরকম জোরাল প্রয়াস ছাড়াই আসে সেটা। আসলে যখনই আমরা আমাদের সুখ নিয়ে ভাবতে যাই, জানতে চাই কেন আমরা খুশিতে ভরে উঠেছি, তখনই আত্মসচেতন হয়ে ওঠায় সেই অনুভূতি মিলিয়ে যায়। নিজের সত্তাকে এর মাঝে টেনে আনলে এই অপূর্বচিন্তিত আনন্দ বজায় থাকতে পারে নাঃ এটা আবশ্যিকভাবেই পরমানন্দের একটা মুহূর্ত, এক তুরীয় আনন্দ যা আমাদের দেহ আর আমাদের নিজস্ব অহমবাদের প্রিজমের বাইরে নিয়ে যায়। এ জাতীয় extasis: এমন এক শব্দ যার আক্ষরিক অর্থ ‘সত্তার বাহরে অবস্থান করা,’: এর সঙ্গে আমাদের যাপিত জীবনের বৈশিষ্ট্য নির্ধারণকারী আকাঙ্ক্ষা ও লালসার কোনও সম্পর্ক নেই। পরবর্তীকালে গৌতম যেমন স্মৃতিচারণ করেছেন, ‘এর অবস্থান তানহাকে জাগিয়ে তোলা বস্তু হতে দূরে।’ ছোট ছেলেটি যখন ব্যক্তিগতভাবে তাঁর সঙ্গে সম্পর্কহীন প্রাণীদের যন্ত্রণাকে নিজের হৃদয়ে প্রবেশ করতে দিয়েছেন, তখন স্বতঃস্ফূর্ত সহানুভূতির একটা মুহূর্ত তাঁকে নিজের মধ্যে হতে বের করে দিয়েছে। স্বার্থহীন করুণার জোয়ার মুহূর্তের আত্মিক মুক্তি এনে দিয়েছিল তাঁকে।
সহজাত প্রবৃত্তির বশেই ছেলেটি পায়ের উপর পা তুলে আসনে বসার ভঙ্গিতে ঋজু ঢঙে বসেছিলেন। জন্ম যোগি হিসাবে প্রথম ঝানায় প্রবেশ করেছিলেন তিনি। এমন এক মোহাবস্থা যেখানে ধ্যানী শান্ত সুখ বোধ করেন, আবার চিন্তা ভাবনাও করতে পারেন।[২] কেউ তাঁকে যোগের কৌশল শেখাননি, কিন্তু কয়েক মুহূর্তের জন্যে তিনি এমন এক স্বাদ আস্বাদন করেছিলেন যা নিজেকে অতিক্রম করে যাওয়ার মতো। ধারাভাষ্য আমাদের জানাচ্ছে, প্রাকৃতিক জগৎ তরুণ গৌতমের আধ্যাত্মিক সম্ভাবনা শনাক্ত করেছিল। দিন গড়িয়ে যাবার সঙ্গে সঙ্গে অন্যান্য গাছের ছায়া সরে গেলেও গোলাপজাম গাছের ছায়া অনড় থেকে তীব্র সূর্যের হাত থেকে ছায়া দিয়ে যাচ্ছিল তাঁকে। পরিচারিকারা ফেরার পর এই অলীক ঘটনা দেখে হতবুদ্ধি হয়ে পড়ে। শুদ্ধোদনকে ডেকে আনে তারা। ছোট ছেলেকে শ্রদ্ধা জানান তিনি। শেষ এই উপাদানটি নিশ্চিতভাবে কল্পিত, কিন্তু মোহাবেশের কাহিনী, ঐতিহাসিক হোক বা না হোক, পালি কিংবদন্তীতে গুরুত্বপূর্ণ; কথিত আছে, গৌতমের আলোকপ্রাপ্তিতে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
