তা হোক, তবু এই পুনরুক্তিটি আমরা আরো একটু গভীর ভাবে পরীক্ষা করে দেখব। যে-দুটি জিনিসের মধ্যে তুলনা করা হয়েছে সে-দুটি হল উৎপন্ন দ্রব্যটির মূল্য এবং উৎপাদন-প্রক্রিয়ায় পরিভুক্ত তার সংগঠনী উপাদানগুলির মূল্য। এখন আমরা দেখেছি, আমের উপকরণসমূহের দ্বারা গঠিত স্থির মূলধনের অংশটি কিভাবে তার মূল্যের একটি ভগ্নাংশ মাত্র উৎপন্ন দ্রব্যটিতে স্থানান্তরিত করে, যখন সেই মূল্যটির বাদবাকি অংশ ঐ উৎপাদন-উপকরণগুলির মধ্যেই থেকে যায়। যেহেতু এই বাদবাকি অংশটি মূল্য-গঠনে কোনো ভূমিকাই গ্রহণ করে না, সেইহেতু আমরা তাকে আপাতত এক পাশে সরিয়ে রাখতে পারি। হিসাবের মধ্যে তাকে অন্তভুক্ত করলে তার কোন তারতম্য ঘটে না। যেমন, আমরা যদি আমাদের আগেকার দৃষ্টান্তটিই নিই, ম=£৪১০: ধরা যাক, এই অঙ্কটি গঠিত হয়েছে এই এই মূল্যের দ্বারা :-কাচামালের মূল্য ৩১২, সহায়ক সামগ্রীর মূল্য ৫৪; এবং উৎপাদনের প্রক্রিয়ায় ক্ষয়ে যাওয়া মেশিনারির মূল্য £৫৪, এবং ধরা যাক, নিয়োজিত মেশিনারিটির মোট মূল্য হল £১,০৫৪। এই শেষোক্ত অঙ্কটি থেকে আমরা ধরে নিই যে, উৎপন্ন দ্রব্যটি প্রস্তুত করার জন্য অগ্রিম দেওয়া হয়েছে একমাত্র $৫৪, যা ঐ মেশিনারি উৎপাদনের প্রক্রিয়ায় ক্ষয়-ক্ষতি বাদে হারায়; কারণ কেবল এইটুকুই তা উৎপন্ন দ্রব্যটিতে স্থানান্তরিত করে। এখন আমরা যদি ধরি যে বাদবাকি £১,৭০০, যা এখনো মেশিনারিটির মধ্যে রয়েছে, তাও উৎপন্ন দ্রব্যটিতে স্থানান্তরিত হয় তা হলে আমাদের তাকেও ধরতে হবে অগ্রিম প্রদত্ত মূল্যটির অংশ হিসাবে, এবং তাকে দেখাতে হবে হিসাবের দু’দিকেই।[১] এই ভাবে আমরা এক দিকে পাব £১,৫০০ এবং অন্য দিকে পাব £১,৫৯০ এই দুটি অঙ্কের পার্থক্য অর্থাৎ উদাত্ত মূল্য তখনো দাঁড়াবে সেই একই অর্থাৎ £৯। সুতরাং এই গ্রন্থে আগাগোডাই, মূল্যের উৎপাদনের জন্য অগ্রিম-প্রদত্ত স্থির মূলধন বলতে আমরা সব সময়ে বোঝাব যদি প্রসঙ্গটি তার পরিপন্থী না হয়—উৎপাদন-প্রক্রিয়ায় কার্যতই পরিভুক্ত হয়েছে এমন উৎপাদন-উপায়সমূহের মূল্যকে, এবং একমাত্র সেই মূল্যকেই।
তাই যদি হয়, তা হলে আমরা ফিরে যাই আমাদের সূত্রটিতে ম =ম+অ, যাকে আমরা দেখেছিলাম ম= ( ম+অ)+উ-তে রূপান্তরিত হতে ম’-কে দেখেছিলাম ম’-এ পরিণত হতে। আমরা জানি যে স্থির মূলধনের মূল্য উৎপন্ন দ্রব্যে স্থানান্তরিত হয় এবং তাতে কেবল পুনরাবির্ভূত হয়। সুতরাং, উৎপাদন-প্রক্রিয়ায় সৃষ্ট নূতন মূল্যটি, উৎপাদিত মূল্যটি, কিংবা মূল্য-ফলটি উৎপন্ন দ্রব্যটির মূল্যের সঙ্গে এক ও অভিন্ন নয়; কিন্তু প্রথম দৃষ্টিতে যা মনে হয় নূতন মূল্যটি কিন্তু তা নয় অর্থাৎ তা (ম+অ)+উ বা ৪৪১ . স্থি-মূ+£৯০ অ-মূ+£৯° উদ্বৃত্ত মূলধন নয়; তা হচ্ছে অ+উ বা £৯০ অ-মূ+£৯০ উ-মূ; $৫৯০ নয়, $১৮। যদি ম = ৩, কিংবা ভাষান্তরে বলা যায়, যদি শিল্পের এমন নানা শাখা থাকত, যেখানে ধনিক পূর্ববর্তী শ্রমের তৈরী যাবতীয় উৎপাদন উপায়সমূহকে—তা, সেগুলি কাচামালই হোক, সহায়ক সামগ্রীই হোক বা শ্রমে উপকরণই হোক—বাদ দিয়ে কেবল শ্রমশক্তি এবং প্রকৃতি-প্রদত্ত সামগ্রী নিয়োগ করে কাজ চালাতে পারত, তা হলে উৎপন্ন দ্রব্য স্থানান্তরিত করার মত কোনো স্থির মূলধন থাকত না। উৎপন্ন দ্রব্যের মূল্যের এই উপাদানটি, আমাদের দৃষ্টান্তের £৪১৩, বাদ হয়ে যেত, কিন্তু £১৮০ পরিমাণটি, নূতন সৃষ্ট মূল্যটি কিংবা উৎপাদিত মূল্যটি, যার মধ্যে বিধৃত আছে ৫৯০-পরিমাণ উদত্ত-মূল্য, তা কিন্তু যেমন বৃহৎ ছিল তেম. বৃহৎই থাকবে যেন ম প্রতিনিধিত্ব করে কল্পনাসাধ্য উচ্চতম মূল্যটির। আমাদের থাকা উচিত ম = ( .+অ) = অ কিংবা সম্প্রসারিত মূলধন = অ+উ এবং সেই কারণেই আগের মত সেই মম। অন্য দিকে, যদি উ =, কিংবা ভাষান্তরে, যদি শ্রমশক্তি, যার মূল্য অস্থির মূলধন হিসাবে অগ্রিম দেওয়া হয়, তা যদি কেবল তার সমার্থ সামগ্রী উৎপন্ন করত, তা হলে আমাদের পাওয়া উচিত ম = ১+অ কিংবা উৎপন্ন দ্রব্যটির মূল্য ম+ ( ম+উ কিংবা ম=১। এক্ষেত্রে মূলধন তার মূল্য সম্প্রসারিত করে নি।
উপরে যা বলা হয়েছে, তা থেকে আমরা জানি যে, উদ্ব-মূল্য হল একান্তভাবে অ-এর মূল্যে একটি পরিবর্তনের ফল-মূলধনের সেই অংশের পরিবর্তনের ফল, যে অংশটি রূপান্তরিত হয় শ্রমশক্তিতে, অতএব, অ-Fউ = অ+ অ অথবা অ যোগ অ-এব একটি বৃদ্ধি। কিন্তু একমাত্র অ-ই যে পরিবর্তিত হয়-এই তথ্য, এবং সেই সঙ্গে এই পরিবর্তনের অবস্থাগুলি প্রচ্ছন্ন থাকে এই ঘটনার আড়ালে যে মূলধনের আস্থর উপাদানটিতে বৃদ্ধিপ্রাপ্তির ফলে অগ্রিম প্রদত্ত মূলধনের মোট পরিমাণও বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়। সূচনায় যা ছিল £৫০০, তাই পরিণত হল £৫৯০-এ। সুতরাং যাতে করে আমাদের অনুসন্ধান আমাদের সঠিক ফলে উপনীত হতে সাহায্য করে, তার জন্য আমরা উৎপন্ন দ্রব্যের মূল্যের সেই অংশটি থেকে নিষ্কর্ষণ করব, যে-অংশটিতে একমাত্র স্থির মূলধনেরই আবির্ভাব ঘটে এবং সেই কারণে স্থির মূলধনকে শূন্যের সঙ্গে সমীকরণ করব কিংবা ধরব যে ম = ০। এটা কেবল একটি গাণিতিক নিয়মের প্রয়োগ, যখনি যোগ এবং বিয়োগের প্রতীকের দ্বারা পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত স্থির এবং অস্থির রাশি নিয়ে আমরা কাজ করি, তখনি সে-নিয়মটিকে আমরা কাজে লাগাই।
