৭. পেটি (Petty)।
৮. শুষের স্বাভাবিক দাম … গঠিত হয় সেই সব আবশ্যিক ও আরামিক দ্রব্যসামগ্রীর দ্বারা, যেগুলি সংশ্লিষ্ট দেশের জলবায়ুতে এবং প্রচলিত আচার-আচরণে শ্রমিকদের ভরণপোষণের জন্য এবং যাতে করে বাজারে শ্রমের সরবরাহ অক্ষুন্ন থাকে সেইহেতু তার পরিবার পরিপোষণের জন্য আবশ্যক হয়। (আর. টরেন্স, “অ্যান এসে অন দি এক্সটানাল কর্ন ট্রেড,” ১৪১৫, পৃ: ৬২)। এম কথাটিকে এখানে ভুল করে শ্রমশক্তি অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে।
৯. Rossi, “Cours d’Econ. Polit” Bruzelles, 1842. p. 370.
১০. Sismondi : ‘Nouv. Princ. etc.’ t. I. p. 112
১১. শ্রম সমাপ্ত হবার পরেই শ্রমের প্রাপ্য দেওয়া হয়।” (An Inquiry into those Principles Respecting the Nature of Demand.” &c., p. 104 ) Le credit commercial a du commencer au moment ou l’ouvrier, premier artisan de la production, a pu, au moyen de ses economies, attendre le salaire de son travail jusqu’a la fin de la semaine, de la quinzaine, du mois, du trtmestre, &c.” (Ch. Ganilh : “Des Systemes d’Econ. Polit.” 2eme edit. Paris, 1821, t. II, p. 150)
১২. Louvrier prete son industrie,” কিন্তু স্টর্চ সকৌতুকে এই মন্তব্যটি জুড়ে দেন, “কিন্তু তিনি কোনো ঝুঁকিই নেননা। কেবলমাত্র “de perdre son salaire……. l’ouvriers ne transmet rien de materiel.” (Storch : “Cours d’Econ. Polit.” Petersbourg, 1815, t. II., p. 37)
১৩. যেমন, লণ্ডনে দু’ধরনের রুটি তৈরীকারক আছেন-“পুরে দামী’, যারা পূর্ণ মূল্যে রুটি বিক্রি করে এবং কম দামী”, যারা তার কমে তা বিক্রি। মোট ক্ষটি প্রস্তুতকারকদের মধ্যে কম-দামী’আই চার ভাগের তিন ভাগ। কম-দামীরা সকলেই বিক্রি করে ফটকিরি সাবান, ছাই, চক, ডারবিশায়ারের পাথর চুর্ণ ও মেশানর উপযোগী ও অনুপযোগী ভোজাল-মেশানো রুটি। ১৮৫৫ সালের কমিটি কাছে জন গর্ডন বর্ণনা করেছেন যে ভেজাল মেশানর ফলে যে গরিব মানুষরা তা খায়, যারা মাত্র দু পাউণ্ড রুটিতে জীবন ধারণ করে, তারা চার ভাগের এক ভাগ পুষ্টিকর উপাদানও পায় না। তার উপরে, স্বাস্থ্যের উপর ভেজালের প্রতিক্রিয়া তো রয়েছেই। এই ভেজাল মেশানর ফল ত্রিমেনজর বর্ণনা করেছেন শ্রমিকদের বেশির ভাগ যদিও জানে এবং কখনই ফটকিরি ও পাথর চুর্ণকে তাদের ক্রয়ের মধ্যে গ্রহণ করতে চায় না তবুও যেহেতু সপ্তাহ না পার হলে তারা মজুরি পায় না যেহেতু বাধ্য হয়েই গরিব মানুষেরা এই ভেজাল রুটি কিনে থাকে। ইংল্যাণ্ডের, বিশেষ করে স্কটল্যাণ্ডের অনেক কৃষি-অঞ্চলে মজুরি দেওয়া হয় ১৪ দিন পর পর, কোথাও কোথাও আবার গোটা মাসের শেষে। “এই সময়ের জন্য মালিকরা তাদের দোকান থেকে বাকিতে বেশি দামে জিনিস নিতে শ্রমিকদের বাধ্য করে।” সপ্তাহ শেষের আগে তারা মজুরী পায় না বলে সপ্তাহের মধ্যে তাদের পরিবারবর্গ যে রুটি গ্রহণ করে তার দাম সপ্তাহ শেষ না হলে তারা পরিশোধ করতে পারে না। সাক্ষীর এই সাক্ষ্যের সঙ্গে টরমনহের যুক্ত করেন, “এটা সর্বজনবিদিত যে ঐসব ভেজালমিশ্রিত রুটি এমনি করে বিশেষভাবে বিক্রয়ের জন্য তৈরী হয়। এখনও বহু ইংরেজ ও স্কচ কৃষিজেলায় মজুরি দেওয়া হয় পক্ষ হিসেবে, মাসিক হিসেবেও। মজুরী পাওয়ার এই দীর্ঘ ব্যবধানের জন্য কৃষকরা ধারে ক্রয় করতে বাধ্য হয়……”এজন্য তাকে অবশ্যই বেশী দাম দিতে হয় এবং বস্তুতপক্ষে তাকে যে দোকানে ধারে দেয় তার কাছে বাঁধাধরা থাকতে হয়। উদাহরণস্বরূপ উইলটের হরনিংহামের কথা বলা যায় যেখানে মাসিক মজুরীর ব্যবস্থা আছে। এখানে কোন প্রতি ১০ পেন্স দরের ময়দা ধারে কেনার জন্য শ্রমিকদের দিতে হয় ২ শিং ৪ পেন্স (জনস্বাস্থ্য সম্পর্কে প্রিভিকাউন্সিলের মেডিকেল অফিসারের “যষ্ঠ রিপোর্ট ১৮৬৪ পৃ ২৬৪)। পেসলীর ব্লক মুদ্ৰক এবং কিলমারনক ধর্মঘটের ফলে মাসিক মজুরির পরিবর্তে পাখি মজুরি দিতে বাধ্য হয় (কারখানা পরিদর্শকের রিপোর্ট, . অক্টোবর ১৮৫৩ পৃ ৩০)। কিন্তু পথে শ্রমিক ঐ প্রাপ্ত অর্থ ধনী আমানতকারীর কাছে পুনরায় জমা দিতে বাধ্য হয়। বহু ইংরেজ কয়লাখনির এই প্রচলিত পদ্ধতি আমরা তুলে ধরতে পারি—যেখানে মাস শেষ হওয়ার আগে শ্রমিক কোন মজুরি পায় না, এই সময়ে ধনিকের কাছ থেকে সে টাকা ধার নেয় কখনও কখনও দ্রব্যের মাধ্যমে—যার মূল্য তাকে দিতে হয় বাজার মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি। (পণ্য বিনিময় পদ্ধতি) মাসে একবার মজুরীদান স্থানীয় মালিকদের একটা সাধারণ অভ্যাস। এরা তাদের শ্রমিকদের অগ্রিম দেয় প্রতি দু সপ্তাহ শেষে। ঐ নগদ অর্থ দিতে হয় দোকানে (অর্থাৎ মালিকের মজুৱীর পৰিবৰ্তে খাবারের দোকানে)। শ্রমিকেরা একদিকে যা নেয় অন্যদিকে তাই দিয়ে দেয়। (শিত নিয়োগ কমিশন, তৃতীয় বিপোর্ট লণ্ডন, ১৮৬৪ পৃঃ ৩৪)।
০৭. শ্ৰম-প্রক্রিয়া এবং উদ্বৃত্ত-মূল্যে উৎপাদনের প্রক্রিয়া
তৃতীয় বিভাগ — অনাপেক্ষিক উদ্বৃত্ত-মূল্যের উৎপাদন
সপ্তম অধ্যায় — শ্ৰম–প্রক্রিয়া এবং উদ্বৃত্ত–মূল্যে উৎপাদনের প্রক্রিয়া
৩.১ শ্ৰম–প্রক্রিয়া তথা ব্যবহার–মূল্য উৎপাদনের প্রক্রিয়া
