৭. পণ্যদ্রব্যাদি (এখানে ব্যবহৃত হয়েছে ব্যবহার মূল্য হিসাবে ) কখনো ব্যবসায়ী-পুজিপতির শেষ বিষয় নয়, তার শেষ বিষয় হচ্ছে অর্থ’ (Th. Chalmers ‘On pol. Econ, 2nd Edn. Glasgow 1832, p. 165, 166).
৮. “Il mercante non conta quasi per niente il lucro fatto, ma mira sempre al futuro.’ (A. Genovesi, Lezioni di Economia Civile 1765 custodi’s edit of Italian Economists parte Moderna t VIII P. 139.)।
৯. ‘লাভের লালসায় এক অনির্বাপনীয় উন্মাদনা সর্বদাই প জিপতিদের তাড়া P68 GTEICS I (Mac Culloch. ‘Principles of Polit. Econ. Lond 1830 P.179 ). অবশ্য যখন ম্যাক-কুলক এবং তাঁর ধাতের ললাকেরা অতি-উৎপাদনের প্রশ্ন ইত্যাদির মততগত অসুবিধার পড়েন, তখন এই মত তাদের নিরস্ত করেন। এই একই পুঁজিপতিকে এমন একজন নীতিবাস নাগরিকে রূপান্তরিত করতে, যার একমাত্র আগ্রহ হচ্ছে ব্যবহার মূল্যের প্রতি এবং যে এমনকি জুতো, টুপি, ডিম, ক্যালিকো এবং অন্যান্য অত্যন্ত পরিচিত ধরনের ব্যবহার-মূল্যগুলির জন্যও তৃপ্তিহীন ক্ষুধা অনুভব করে।
১০. মওজুদের জন্য গ্রীক বর্ণনার একটি চরিত্র। তেমনি ইংরেজদেরও সঞ্চয়ের দুটি অর্থ : Sauver ও epargner.
১১. “Questo infinito che le cose non hanno in progresso, hanno in giro” (Galiani ).
১২. “Ce n’est pas la matiere qui fait le capital, mais la valeur de ces matieres.’ (J. B. Say: “Traite d’Econ. polit.” 3 eme ed Paris 1817 tii P 429).
১৩. দ্রব্যাদি উৎপাদনে নিয়োজিত ‘কারেন্সি’-কে (!) বলা হয় মূলধন’। (ম্যাকলিয়ড, থিয়োরি অ্যাও প্রাকৃটিস অফ ব্যাংকিং লণ্ডন ১৮৫৫ পৃ: ৫৫)। ‘মূলধন হচ্ছে পণ্যদ্রব্য। (জেমস্ মিল, ‘এলিমেন্টস অব পল ইকন’ লণ্ডন ১৮২১, পৃঃ ৭৪)।
১৪. Capital : ‘protion fructifiante de la richesse accumulee…… valeur permanente, multipliante (Sismondi Nouveaux “Principes d Econ-Polit, p. ৪৪, ৪9).
০৫. মূলধনের সাধারণ সূত্রে স্ববিরোধসমূহ
পঞ্চম অধ্যায় — মূলধনের সাধারণ সূত্রে স্ববিরোধসমূহ
অর্থ যখন মূলধনে পরিণত হয় তখন তা যে-রূপ ধারণ করে, সে রূপটি-আমরা এ পর্যন্ত পণ্যের প্রকৃতি, মূল্য ও অর্থ, এবং এমনকি স্বয়ং সঞ্চলনের উপরে কোনো প্রভাব আছে, এমন যত নিয়মাবলী পর্যালোচনা করেছি সেই সব নিয়মাবলীরই বিপরীত-রূপী। পণ্যের সরল সঞ্চলনের রূপ থেকে যে-ব্যাপারে এই রূপটির পার্থক্য তা হচ্ছে দুটি বিপরীতমুখী পর্যায়ের বিক্রয় এবং ক্রয়ের—ক্রমাগত পারম্পর্ষের বিপরীতমুখী সংঘটন। এই দুটি প্রক্রিয়ার মধ্যেকার নিছক রূপগত এই যে পার্থক্য তা তাদের চরিত্রে, যেন ঠিক ভোজবাজির মতে, এই পরিবর্তন ঘটাতে পারে কেমন করে?
কিন্তু সেখানেই সবটা শেষ হয়ে যাচ্ছে না। যে তিনজন ব্যক্তি একত্রে এই কারবারটি সম্পাদন করে, তাদের মধ্যে তিনজনের কাছেই এই বিপরীতমুখী। পারম্পর্যের কোনো অস্তিত্ব নেই। পুঁজিবাদী হিসেবে আমি ক-এর কাছ থেকে পণ্য ক্রয় করি এবং সেই পণ্যকে আবার খ-এর কাছে বিক্রয় করি, কিন্তু পণ্যের সরল মালিক হিসেবে আমি সেই পণ্য খ-এর কাছে বিক্রয় করে আবার ক-এর কাছ থেকে নতুন পণ্য ক্রয় করি। এই দু ধরনের কারবারের মধ্যে ক এবং খ কোনো পার্থক্য দেখতে পায় না। তারা কেবল ক্রেতা বা বিক্রেতা। এবং প্রত্যেকটি উপলক্ষেই আমি তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করি হয় অর্থের মালিক হিসেবে, নয় পণ্যের মালিক হিসেবে, ক্রেতা হিসেবে কিংবা বিক্রেতা হিসেবে; এবং তার চেয়েও বড় কথা দুটি কারবারই আমি ক-এর বিপরীতে দাড়াই কেবল ক্রেতা হিসেবে এবং -এর বিপরীতে দাড়াই কেবল বিক্রেতা হিসেবে; একজনের কাছে কেবল অর্থ হিসেবে এবং অন্যজনের কাছে কেবল পণ্য হিসেবে—কিন্তু কারো বিপরীতেই দাড়াই না মূলধন হিসেবে তথা পুজিবাদী হিসেবে কিংবা এমন কোন কিছুর প্রতিনিধি হিসেবে যা অর্থ বা পণ্যের থেকে বেশী কিছু, কিংবা যা অর্থ এবং পণ্য যা উৎপাদন করতে পারে তার চেয়ে বেশী কিছু উৎপাদন করতে পারে। আমার কাছে ক-এর কাছ থেকে ক্রয় এবং এর কাছে বিক্রয় একটি ক্রমিক প্রক্রিয়ার অংশমাত্র। কিন্তু দুটি ক্রিয়ার মধ্যে যে সংযোগ তা কেবল আমার কাছেই অস্তিত্বশীল। খ-এর সঙ্গে আমার যে কারবার তা নিয়ে ক মাথা ঘামায় না। আবার ক-এর সঙ্গে আমার যে কারবার ও তা নিয়ে মাথা ঘামায় না। আর পরম্পরাগত ঘটনাক্রমের বিপরীতমুখী পরিবর্তন ঘটাবার ব্যাপারে আমার ভূমিকার মাহাত্ম আমি যদি তাদের কাছে ব্যাখ্যা করতে যাই, তা হলে তারা হয়তো আমাকে দেখিয়ে দেবে যে পারম্পর্য সম্পর্কে আমার যে ধারণা, আসলে সেটাই ছিল ভুল এবং কারবারের গোটা প্রক্রিয়াটির শুরু এবং শেষ যথাক্রমে ক্রয় ও বিক্রয় দিয়েই ঘটেনি, বরং ঘটেছিল ঠিক বিপরীত দিক দিয়ে অর্থাৎ শুরু হয়েছিল বিক্রয়ে এবং শেষ হয়েছিল ক্ৰয়ে। বস্তুতঃ পক্ষে, ক-এর দৃষ্টিতে আমার। প্রথম কাজটি তথা ক্রয়ের কাজটি হচ্ছে ‘বিক্রয় এবং খ-এর দৃষ্টিতে আমার দ্বিতীয় কাজটি তথা বিক্রয়ের কাজটি হচ্ছে ‘ক্রয়। সেখানেই সন্তুষ্ট না থেকে ক এবং খ ঘোষণা করবে যে গোটা ক্রমিক প্রক্রিয়াটি অপ্রয়োজনীয় বাহুল্য মাত্র, একটা উলটো পাল্টা ব্যাপার; তারা ঘোষণা করবে যে ভবিষ্যতে ক সরাসরি ক্রয় করবে খ-এর কাছ থেকে, এবং খ সরাসরি বিক্রয় করবে ক-এর কাছে। এই ভাবে গোটা ক্রমিক প্রক্রিয়াটি পর্যবসিত হবে একটি মাত্র ক্রিয়ায়, পণ্যের মামুলি আবর্তের মধ্যে একটি বিচ্ছিন্ন অ-পরিপূরিত পর্যায়ে, ক-এর দৃষ্টিতে নিছক একটি বিয়ে এবং খ-এর দৃষ্টিতে নিছক একটি ক্রয়ে। সুতরাং ক্রমিক পরম্পরার বিপরীতায়নের ফলে আমরা সরল পণ্য-সঞ্চলনের পরিধির বাইরে চলে যাই না। আমাদের বরং দেখা উচিত যে এই সরল সঞ্চলনে এমন কিছু আছে কিনা যা সঞ্চলনে অনুপ্রবেশকারী মূল্যের সম্প্রসারণে তথা উদ্বত্ত মূল্যের সৃজনে সাহায্য করে।
