সুতরাং, বাস্তবিক পক্ষে,—অপ-অ—হচ্ছে মূলধনের সাধারণ সুত্র, সঞ্চলনের পরিধিতে যা স্বতঃসিদ্ধ ভাবে দেখা দেয়।
————
১. কর্তৃত্ব ও দাসত্বের ব্যক্তিক সম্পর্কের উপরের প্রতিষ্ঠিত ক্ষমতা আসে ভূমি সম্পত্তি থেকে; নৈর্ব্যক্তিক ক্ষমতা আসে অর্থের অধিকার থেকে। এই দু’ধরনের ক্ষমতার মধ্যে প্রতিতুলনা দুটি ফরাসী প্ৰচলনে সুন্দর ভাবে ব্যক্ত করা হয়েছে, “Nulle terre sans seigneur,” uge “L’argent n’a pas de maitre”
২. «Avec de l’argent on achete des marchandises et avec des marchandises on achete de l’argent.” (Mercier dela Riviere :: *L’ordre naturel et essentiel des societes politiques”. p. 543),
৩. “যখন কোন জিনিস আবার বিক্রীত হবার উদ্দেশ্যে ক্রীত হয়, তখন যে অর্থ নিযুক্ত করা হয় তাকে বলা হয় আগাম; যখন বিক্রীত হবার উদ্দেশ্যে ক্রীত হয় না, সেই অর্থকে ধরা যায় ব্যয় বলে। (James Steuart: Works, &c Edited by Gen. Sir James Steuart, bis-son. London 1805, V.I.P. 274)
৪. “On n’echange pas de l’argent contre de l’argent”, atfate বাদীদের উদ্দেশ্য করে বলেন Mercier de la Riviere (i. c. p. 486)। ‘বাণিজ্য’ ও ‘ফটকা নিয়ে আলোচনা বলে বর্ণিত একটি বই-এ এই অনুচ্ছেদটি রয়েছে : সমস্ত বাণিজ্যই হচ্ছে বিভিন্ন প্রকারের দ্রব্যাদির মধ্যে বিনিময় এবং এই বিভিন্নতা থেকেই সুবিধার উদ্ভব ঘটে (বণিকেরই কাছে?)। এক পাউণ্ড রুটির সঙ্গে এক পাউণ্ড রুটির বিনিময় হলে কোনো সুবিধারই উদ্ভব ঘটত না। এই কারণেই বাণিজ্যকে সঠিক ভাবে জুয়ার সঙ্গে পার্থক্য করা হয়, যা হচ্ছে কেবল অর্থের সঙ্গে অর্থের বিনিময়। (Th. corbet, “An Inquiry into the Causes and Modes of the wealth of Individuals; or the principles of Trade and speculation Explained,” London, 1841, p. 5), afe Pett দেখতে পান না যে অ-অ অর্থাৎ অর্থের সঙ্গে অর্থের বিনিময় কেবল বণিক-মূলধনেই নয়, সমস্ত মূলধনেরই চরিত্রগত বৈশিষ্ট্য, তবু তিনি স্বীকার করেন যে এই রূপটি জুয়ার সঙ্গে এবং এক ধরনের বাণিজ্যের—ফকার—সঙ্গে অভিন্ন; কিন্তু তার পরেই আসেন ম্যাক-কুলক এবং আবিষ্কার করেন যে বিক্রয় করার জন্য ক্রয় করাও হচ্ছে ফটকাবাজি এবং এইভাবে বাণিজ্য এবং ফটকাবাজির মধ্যে পার্থক্যটা অন্তর্হিত হয়ে যায় : “এমন প্রত্যেকটি লেন-দেন যাতে কোন ব্যক্তি উৎপন্ন দ্রব্য ক্রয় করে আবার তা বিক্রি করার জন্য, তাই হল ফটকা” (Mac Culloch : A Dictionary Practical &c of Commerce, London, 1847, p. 1009)। আরে সরলতা সহকারে আমস্টার্ডাম স্টক-এক্সচেঞ্জ-এর পাণ্ডা পিঞ্চো বলেন, “Le commerce est un jeu (taken from Locke ) et ce n’est pas avec des gueux qu’on peut gagner. Si l’on gagnait longsemps en tout avec tous, il faudrait rendre de bon accord les plus grandes parties du profit pour recommencer le jeu.” ( Pinto, Traite de la Circulation et du credit,” Amsterdam, 1171, p. 231 )
৫. মূলধন বিভাজ্য, মূল অংশে এবং মুনাফা বা মূলধনে সংযোজিত অংশে….. কার্যত কিন্তু সঙ্গে সঙ্গেই পরিণত হয় মূলধনে এবং গতিশীল হয় মূল মূলধনের সঙ্গে।” ( F. Engels “Umrisse zu einer Kritik der National-okonomie, in Deutsch-Franzosische Jahrbucher, herausgegeben von Arnold Ruge und Karl Marx”, Paris, 1844, p. 99 )
৬. অ্যারিস্ততল ক্রেমাটিষ্টিক-এর পাল্টা হিসেবে স্থাপন করেন ‘ইকনমিক’-কে। তিনি শুরু করেন ইকনমিক’ থেকে। যতক্ষণ পর্যন্ত এটা হচ্ছে জীবিকা অর্জনের উপায়, ততক্ষণ তা কেবল সেই সব দ্রব্যসামগ্রী সংগ্রহের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে যেগুলি জীবনধারণের পক্ষে অপরিহার্য এবং গার্হস্থ্য কিংবা রাষ্ট্রকার্যের জন্য প্রয়োজনীয়। “এই ধরনের ব্যবহার-মূল্যগুলিই হল যথার্থ ধন; কেননা জীবনকে সুখকর করতে পারে এই ধরনের বিষয়-সম্পদের পরিমাণ সীমাহীন নয়। কিন্তু দ্রব্যসামগ্রী সংগ্রহ আরো একটি উপায় আছে, যে উপায়টিকে আমরা পছন্দমত ও সঠিক ভাবে ক্রেমাটিস্টিক’ বলে অভিহিত করতে পারি এবং এ ক্ষেত্রে ধন-দৌলত ও বিষয়-সম্পদের কোনো সীমা-পরিসীমা নেই। বাণিজ্য ( আক্ষরিক অর্থে খুচরে। বাণিজ্য এবং অ্যারিস্ততল এটাই ধরেছেন কেননা একে ব্যবহার-মূল্যেরই প্রাধান্য) ক্রেমাটিষ্টিক’-এর অন্তর্গত নয় কারণ এখানে বিনিময় কেবল তাদের নিজেদের (ক্রেতা ও বিক্রেতার) পক্ষে যা যা প্রয়োজনীয়, তার সঙ্গেই সম্পর্কিত। অতএব, যা তিনি দেখিয়েছেন, বাণিজ্যের মূল রূপ ছিল ব্য-বিনিময়, কিন্তু দ্রব্য বিনিময়ের বিস্তার লাভের সঙ্গে সঙ্গে অর্থের আবশ্যকতা দেখা দিল। অর্থের আবিষ্কারের পরে দ্রব্য-বিনিময় স্বতঃই বিকাশ লাভ করল পণ্য নিয়ে বাণিজ্যে এবং তা আবার মূল প্রবণতার পরিপন্থী ক্রেমাটিস্টিক’-এ, অর্থ অর্জনের উপায়ে, পরিণত হল। এখন, ‘ইকনমিক’ থেকে ‘মোটিস্টিক’-কে এই ভাবে পার্থক্য করা যায় যে, “ক্রেমাটিষ্টিক’-এর ক্ষেত্রে সঞ্চলনই হচ্ছে ঐশ্বৰ্ষর উৎস। এবং তা প্রতিভাত হয় একটা অর্থ কেন্দ্রিক ব্যাপারে, হিসাবে, কারণ অর্থ ই হচ্ছে এই বিনিময়ের শুরু এবং শেষে। সুতরাং, যে ঐশ্বর্যের জন্য ক্রেমাটিষ্টিক চেষ্টা করে, সেই ঐশ্বর্যও সীমাহীন। ঠিক যেমন প্রত্যেকটি উপায়, যা কোনো উপলক্ষ্য নয়, নিজেই একটি লক্ষ্যস্বরূপ। তার উদ্দেশ্যের কোনো মাত্রা নেই, কেননা তা সব সময়েই সেই সব উপায় যেগুলি লক্ষ্যের দিকে উদ্দিষ্ট, সেগুলি সীমাহীন নয় কেননা নির্দিষ্ট লক্ষ্যটিই কতকগুলি সীমা আরোপ করে দেয়, ঠিক তেমন ক্ৰেমাটিস্টিক-এর ক্ষেত্রেও তার লক্ষ্যের কোনো মাত্রা নেই, সেই লক্ষ্য হল চূড়ান্ত ধন-সম্পদ; ইকনমিকের সীমা আছে, ক্রেমাটিষ্টিকের নেই। … ইকনমিকের লক্ষ্য অর্থ ছাড়া অন্য কিছু, ক্রেটিষ্টিকের লক্ষ্য অর্থের বৃদ্ধি সাধন।……”এই দুটিকে গুলিয়ে ফেলে কিছু লোক সীমাহীন ভাবে অর্থের সংরক্ষণ ও বৃদ্ধি সাধনকেই ইকনমিকের লক্ষ্য হিসাবে দেখে থাকেন।” (Aristotle, “De Rep.” edit. Bekker. lib. l.c. 8,9 Passim.)।
