১৮. “L’argent…est devenu le bourreau de toutes choses.” Finance is the “alambic, qui a fait evaporer une quantite efforyable de biens et de denrees pour faire ce fatal precis.”L’argent declare la guerre a tout le genre humain.” (Boisguillebert : “Dissertation sur la nature des richesses, de l’argent et des tributs.” Edit Daire Economistes financiers, Paris, 1843, t. i. pp. 413, 417, 419, )
১৯. ১৮২৪ সালে হুইটসুনটাইড’ উপলক্ষে এডিনবার ব্যাংকগুলোর উপরে নোটের জন্য এমন চাপ পড়ল যে বেলা ১১টার মধ্যে ব্যাংকের সমস্ত নোট নিঃশেষ হয়ে গেল। তারা তখন বিভিন্ন ব্যাংকের কাছে লোক পাঠালোনোট ধার দেবার জন্য কিন্তু ধার পেল না এবং এনেক ক্ষেত্রেই দেনা-পাওনা মেটানো হল কেবল কাগজের ‘পি’-এর সাহায্যে। কিন্তু বেলা ৩টা বাজতে না বাজতেই দেখা গেল যে যে ব্যাংক থেকে সেগুলি ‘ইস্যু করা হয়েছিল, সব নোটগুলোই আবার সেই ব্যাংকগুলিতেই ফেরৎ চলে এসেছে ! এটা ছিল কেবল হাত থেকে হাতে স্থানান্তর। যদিও অস্ট্রেলিয়ায় ব্যাংক-নোটর গড় কার্যকর সঞ্চলন ৩০ লক্ষ স্টার্লিং-এর কম ছিল, তবু বছরের কয়েকটি বিশেষ বিশেষ লেনদেনের দিনে, ব্যাংকারদের অধিকারাধীন প্রায় £ ৭০,০০,০০০ পাউণ্ডের প্রত্যেকটি নোটকে ক্রিয়াশীল করতে হয়। এই দিনগুলিতে এই সব নোটের একটিমাত্র নির্দিষ্ট কাজ সম্পাদন করতে হয় এবং যখনি সেই কাজটি হয়ে যায়, তখনি সেগুলি, যেসব ব্যাংক তাদের ইস্যু করেছিল, সেই সব ব্যাংকেই আবার ফিরে যায়। (জন ফুলটন, Regulation of Currencies, Lond. 1845, p. 46.) ব্যাখ্যার জন্য এটা উল্লেখ করা প্রয়োজন যে ফুলার্টনের কার্য কালে স্কটল্যাণ্ডে আমানত তোলার জন্য চেকের পরিবর্তে নোট হত।
২০. আপাতদৃষ্টিতে এটা একটা ভুল। যখন লেখা হয়েছে বিপরীত’, লেখক তখন বুঝিয়েছেন সরাসরি’-রাশিয়ান সংস্করণের টাকা ইনষ্টিটিউট অব মার্ক্সিজম লেনিনিজম।
২১. “যদি বার্ষিক s০ মিলিয়ন তুলবার মত উপলক্ষ্য দেখা দিত, তা হলে ঐ একই .৬ মিলিয়ন (সোনা): বাণিজ্যের প্রয়োজনমত এই প্রকারের আবর্তন ও সঞ্চলনের পক্ষে যথেষ্ট হত কিনা”—এই প্রশ্নের উত্তরে পেটি তার স্বাভাবসিদ্ধ কর্তৃত্বের ভঙ্গিতে রলেন “আমার জবাব, হ্যা, কারণ ব্যয়ের পরিমাণ ৪০ মিলিয়ন থাকলে, যদি এই পরির্তনগুলি হয় সাপ্তাহিক আবর্তনের মত স্বল্পকালীন-গরিব কারিগর ও মজুরদের বেলায়, যারা মজুরি প্রায় প্রতি শনিবার, তাদের বেলায় যা হয়ে থাকে—তা হলে ১ মিলিয়ন অর্থের ৪ ভাগ এই প্রয়োজন মেটাবে, কিন্তু আমাদের খাজনা ও কর দেবার প্রথা অনুযায়ী আই আবর্তন গুলি যদি হয় ত্রৈমাসিক, তা হলে লাগবে ১০ মিলিয়ন। অতএব, যদি ধরে নেওয়া যায় মজুরি-বেতন প্রভৃতি সাপ্তাহিক থেকে ত্রৈমাসিক নানান ভিত্তিতে দেওয়া হয়, তা হলে ২ ভাগের সঙ্গে যোগ করুন ১০ মিলিয়ন, যার অর্ধেক দাঁড়াবে ৫১, যার ফলে আমাদের হাতে যদি থাকে ৫১ মিলিয়ন, তা হলেই যথেষ্ট।” (Wiliam Petty, Political Anatomy of Ireland. 1672 Edit. London 1691, pp. 13, 14.
২২. কোন দেশের ব্যাংকগুলি কেবল সেই মূল্যবান ধাতুটিবই ‘রিজার্ভ’ গঠন করবে, যে ধাতুটি দেশের অভ্যন্তরে চালু থাকে—যে নিয়মটি এই ব্যবস্থার বিধান দেয়, সেই নিয়মটি এই কারণেই অবাস্তব। ব্যাংক অব ইংল্যাণ্ড’ এই ভাবে যেসব স্বয়ংসৃষ্ট ‘মনোরম সমস্যাবলী’ উদ্ভব ঘটিয়েছিল, তা সুপরিজ্ঞাত। সোনা ও রূপার আপেক্ষিক মূল্যে হ্রাস-বৃদ্ধির ইতিহাসে বড় বড় পর্বগুলির জন্য দেখুন কার্ল মার্কস Zur Kritik, p. 136। রবার্ট স্যার পীল তার ১৮৪৪ ব্যাঙ্ক সালের আইনটির সাহায্যে এই সমস্যাটি অতিক্রম করতে চেষ্টা করেছিলেন। রূপার রিজাভ সোনার রিজাতের এক-চতুর্থাংশের বেশি হবে না-এই শর্চে তিনি ব্যাংক অব ইংল্যাকে রূপার পিণ্ডের পালটা নোট ইস্যু করার অনুমতি দিয়েছিলেন। এই উদ্দেশ্যে রূপার মূল্য ধরা হয়েছিল লণ্ডনের বাজারে তার তৎকালীন দাম অনুসারে। [ চতুর্থ জার্মান সংস্করণে সংযোজিত-সোনা ও রূপার আপেক্ষিক মূল্যে গুরুত্বপুর্ণ পরিবর্তনের একটি সময়কালে আবার আমরা আমাদের দেখতে পাচ্ছি, প্রায় ২৫ বছর আগে সোনা ও রূপার আপেক্ষিক মূল্যের পরিচায়ক অনুপাতটি ছিল ১৫: ১; এখন তা প্রায় ২২: ১, এবং এখনো সোনার তুলনায় রূপা কমে যাচ্ছে। এটা মূলতঃ ঘটেছে দুটি ধাতুরই উৎপাদনের পদ্ধতি বিপ্লবের ফলে। আগে সোনা সংগ্রহ করা হত প্রায় একান্ত ভাবেই স্বর্ণবাহী পলি-সঞ্চয় ধৌত করে, যা ছিল স্বর্ণ-শিলা থেকে উৎপন্ন। এখন এই পদ্ধতিটি অনুপযুক্ত হয়ে পড়ায় পিছিয়ে পড়েছে এবং তার বদলে সামনে এসেছে ‘কোয়াৎ লোভ-প্রসেসিং পদ্ধতি, যে পদ্ধতিটি প্রাচীন কাল থেকে জানা থাকলেও, এত দিন ছিল গৌণ। (Diodorus, III, 12-14) [Diodor’s v. Sicilien ‘Historische Bibliothek”, book III 12-14, Stuttgart 1828, pp, 258-261 ] তা ছাড়া, রকি মাউন্টে’-এর পশ্চিমাংশে কেবল বিপুল পরিমাণ রৌপ্য-সঞ্চয় আবিষ্কার হয়নি এইগুলিতে এবং সেই সঙ্গে মেক্সিকোর রূপার খনিগুলিতে রেললাইন পেতে তা সংগ্রহের কাজও শুরু করে দেওয়া হয়েছিল; রেল-লাইন পাতার ফলে আধুনিক যন্ত্রপাতি ও জ্বালানি বয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হওয়ায় অল্প খরচে বেশি রূপা খুড়ে তোলা গিয়েছিল। অবশ্য স্বর্ণ-শিরায় (কোয়াৎস লোভস’-এ) যেভাবে সোনা ও রূপা দুটি ধাতু থাকে, তাতে পার্থক্য আছে। সোনাটা স্বাভাবিক ভাবেই বর্তমান, কিন্তু গোটা শিরাটা জুড়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কণা হিসাবে ছড়িয়ে থাকে। সুতরাং, গোটা শিরাটাকে চূর্ণ করে তাকে ধৌত করে সোনাটা বার করতে হয় অথবা পারদের সাহায্যে তা নিষ্কর্ষিত করতে হয়। প্রায়ই ১০,…০০ গ্রাম আকর থেকে ১-৩ বা কদাচিৎ ৩০-৬০ গ্রাম সোনা পাওয়া যায়। রূপা খুবই বিরল, যাই হোক, বিশেষ বিশেষ আকর-পিণ্ডে তা পাওয়া যায়, তারপরে সেই আকরকে শিরা থেকে অপেক্ষাকৃত সহজেই আলাদা করে ৪০-৯০ শতাংশ রূপা পাওয়া যায়; কিংবা তামা, সীসা ও অন্যান্য আকরের সঙ্গেও কণা-কণা রূপা পাওয়া যায়। এ থেকে বোঝা যায় যে, সোনার বাদে ব্যয়িত শ্রম বৃদ্ধি পাচ্ছে, অন্য দিকে রূপার বাবক ব্যয়িত এম হ্রাস পাচ্ছে এবং এরই ফলে রূপার দাম কমে যাচ্ছে। এই দাম আরো কমে যেত যদি না কৃত্রিম উপায়ে তা বেঁধে রাখা না হত। কিন্তু আমেরিকার বিপুল রৌপ্য-সম্পদ এখনো খুব সামান্যই আহরণ করা হয়েছে। সুতরাং ভবিষ্যতে দীর্ঘকাল ধরে রূপার দাম যে আরো কমতে থাকবে তা বোঝা যায়। এই দাম পড়ে যাবার আরেকটা কারণ এই যে, ‘প্লেটিং’-করা জিনিস-পত্র, অ্যালুমিনিয়ম ইত্যাদি রূপার স্থান গ্রহণ করায় সাধারণ ব্যবহার ও বিলাসের দ্রব্যসামগ্রর জন্য রূপা চাহিদা কমে গিয়েছে। বাধ্যতামূলক ভাবে অন্তর্জাতিক দাম বেঁধে দিলেই সোনা ও রূপার মধ্যেকার পুরনো মূল্য-অনুপাত (১: ১৫) ফিরিয়ে আনা যাবে—এই দ্বি-ধাতুবাদী ধারণা যে কত অসার এ থেকেই তা বোঝা যায়। বরং এটাই বেশি সম্ভব যে রূপা বিশ্বের বাজারে তার অর্থ হিসাবে কাজ করার ভূমিকা ক্রমে ক্রমে হারিয়ে ফেলবে।-এফ. ই.
