১০. ১৮ শতকের গোড়ার দিকে ইংরেজ বণিকদের মধ্যে যে দেনাদার-পানা দার সম্পর্ক বিদ্যমান ছিল তার পরিচয় এখানে (এই বইতে) দেখা যাবে। এখানে এই ইংল্যাণ্ডে বাণিজ্যে নিযুক্ত লোকদের মধ্যে এমন একটা নিষ্ঠুরতার মনোভাব বিরাজ করে যা অন্য কোনো লোক-সমাজে বা জগতের অন্ত কোনো রাজ্যে দেখা যাবে না।” (“An Essay on Credit and the Bankrupt Act, Lond. 1707, p. 2.)
১১. ১৮৫৯ সালে প্রকাশিত আমার বইটির নিমোত অনুচ্ছেদটি থেকে দেখা যাবে কেন আমি মূল অংশে একটি বিপরীত রূপের উল্লেখ করিনি: বিপরীত ভাবে, অপ প্রক্রিয়াটিতে ক্রয়ের একটি বাস্তব উপায় হিসাবে অর্থকে পরকীকৃত করা যায়, এবং এই ভাবে উক্ত অর্থের ব্যবহার মূল্যটি বাস্তবায়িত হবার আগেই এবং পণ্যটি সত্য সত্যই হস্তান্তরিত করার আগেই উক্ত পণ্যের দামটি বাস্তবায়িত করা যায়। আগামি দাম দেবার দৈনন্দিন রীতি অনুসারে এটা নিরন্তর ঘটে। এই রীতি অনুসারেই ইংরেজ সরকার ভারতের রায়তদের কাছ থেকে আফিম ক্রয় করে। এ সকল ক্ষেত্রে সম্ভবতঃ অর্থ সর্বদাই ক্রয়ের উপকরণ হিসাবে কাজ করে। অবশ্য, মূলধনও আগাম দেওয়া হয় অর্থের আকারে। যাই হোক, এই বিষয়টি সরল সঙ্কলনের নিশ্বলয়ের মধ্যে পড়ে না। Zur Kritik & c.”, pp. 119.120.
১২. উল্লিখিত অর্থগত সংকট সব সংকটেরই একটি পর্যায় কিন্তু অর্থগত সংকট বলেই কথিত অন্য এক সংকট থেকে তার পার্থক্য করতে হবে, যা নিজেই একটি। স্বতন্ত্র সংকট হিসেবে ঘটতে পারে—ঘটতে পারে এমন ভাবে যাতে শিল্প বাণিজ্যের উপরে কেবল পরোক্ষ প্রভাবই পড়ে। এই ধরনের সংকটের কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে অর্থরূপী মূলধন আর সেই কারণেই তার প্রত্যক্ষ ভূমিকা লক্ষ্য করা যায় মূলধনের ক্ষেত্রে, যেমন, আমানত, শেয়ার বাজার ও অর্থ।
১৩. ক্রেডিট-ব্যবস্থা থেকে নগদ টাকার ব্যবস্থায় আকস্মিক প্রত্যাবর্তন বাস্তব আতংকের উপরে তত্ত্বগত আশংকা চাপিয়ে দেয়; এবং যেসব কারবারীর মাধ্যমে সঞ্চলন ব্যাহত হয়, তারা, তাদের নিজেদের অর্থনৈতিক সম্পর্কসমূহ যার মধ্যে বিধৃত, সেই দুর্ভেদ্য রহস্যের সামনে কঁপতে থাকে। এ কার্ল মার্কস,,c. পৃ: 126)। গরিবেরা থমকে দাড়ায়, কেননা ধনীদের তাদের নিয়োগ করার মত অর্থ নেই, যদিও তাদের খাদ্য-বস্ত্রের সংস্থান করার মত জমি ও হাত আগেও যেমন ছিল, এখনো তেমন আছে যে-জমি ও হাতই হল জাতির আসল ধনসম্পদ, অর্থ নয়। (জন বেলার্স : *Proposals for Raising a College of Industry”, London 1696, p. 3.)
১৪. নিচেকার নমুনাটি থেকে বোঝা যাবে কিভাবে “amis du commerce এই ধরনের সময়ের সুযোগ গ্রহণ করে। একবার (১৮৩৯) একজন বৃদ্ধ ব্যাংকার ( শহরে ) তার নিজের ব্যক্তিগত কক্ষে যে-ডেঙ্কটির উপরে বসে ছিল তার ঢাকনাটা তুলল এবং তার বন্ধুকে দেখালো তাড়া তাড়া ব্যাংক-নোট এবং বলল, মোট ৫৬,০০,০০০ পাউণ্ড রয়েছে, এই নোটগুলিকে ধরে রাখা হয়েছে টাকার বাজারকে ‘টাইট করার জন্য এবং ঐ দিনই বেলা ৩টা সময় ওগুলিকে ছাড়া হবে। (“The Theory of Exchanges. The Bank Charter Act of 1844” London, 1864, p. 81,) অবজার্ভার নামে একটি আধা-সরকারি মুখপত্রের ২৪শে এপ্রিল ১৮৬৪ তারিখের সংখ্যায় এই অনুচ্ছেদটি প্রকাশিত হয় : “ব্যাংক-নোটর দুষ্প্রাপ্যতা সৃষ্টি করার জন্য যে সব উপায় অবলম্বন করা হয়েছে, সে সম্পর্কে নানাবিধ কৌতুহলকর জনরব শোনা যাচ্ছে। এই ধরনের কোনো কৌশল গ্রহণ করা হবে সেটা ধরে নেওয়া যদিও প্রশ্নসাপেক্ষ তা হলেও এই রিপোর্টটা এত সর্বজনীন যে তা উল্লেখ করা আবশ্যক।
১৫. কোন একটি নির্দিষ্ট দিনে সম্পাদিত বিক্রয় বা চুক্তির পরিমাণ ঐ বিশেষ দিনটিতে চালু অর্থের পরিমাণটিকে প্রভাবিত করে না, কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সেই চুক্তিগুলি নিজেদেরকে পর্যবসিত করে পরবর্তী বিভিন্ন কাছের বা দূরের তারিখে যে-পরিমাণ অর্থ চালু হতে পারে, তার উপর বহুবিধ দাবি ড্রাফট হিসাবে। আজ যে সব ‘বিল’ মঞ্জুর বা ক্রেডিট’ খোলা হল, আগামীকাল বা পরত যেসব ‘বিল’ বা ক্রেডিট’ মঞ্জুর বা ভোলা হবে, সেগুলির সঙ্গে সে-সবের কোন সাদৃশ্য থাকার দরকার পড়ে নানা পরিমাণের দিক থেকে, না স্থিতিকালের দিক থেকে; এমনকি আজকের অনেক ‘বিল’ ও ‘ক্রেডিট’ যখন ‘দেয়’ (ডিউ’) হবে তখন সেগুলি এমন এক গাদা ‘দায়’-এর ( ‘লায়াবিলিটি’-র) সঙ্গে একত্রে পড়বে, যেগুলির সূচনা ১২, ৬, ৩ বা ১ মাস আগেকার বিভিন্ন সম্পূর্ণ অনির্দিষ্ট তারিখ জুড়ে রয়েছে-যেগুলি এক সঙ্গে পরিণত হবে কোনো একটি বিশেষ দিনের মোট দায়ে।” (The curr ency Theory Reviewed p-139 in a letter to the scottish people. by a Bankers in England 139 Edinburgh 1845 pp. 29, 30 passim. )
১৬. সত্যকার বাণিজ্যিক কারবারে কার্যত কত কম টাকার দরকার হয় তা বোঝাবার জন্য আমি লণ্ডনের একটি বৃহত্তম প্রতিষ্ঠানের প্রাথমিক আয় ব্যয়ের হিসেব এখানে তুলে দিচ্ছি : ১৮৫৬ সালের হিসেব : আয় ব্যয় বহু মিলিয়ন পাউণ্ড স্টার্লিং এ ঘটেছিল।
১৭. দ্রব্যের বদলে দ্রব্য বিনিময়ের জায়গায় ক্রয়-বিক্রয় চালু হওয়ায় এখন দাম প্রকাশ করা হয় অর্থের অঙ্কে’—(An Essay up on Public Credit: 3rd. Edn. Lond. 1110 p. ৪)।
