১৬. ‘মিন্ট’-এর উপরে ‘সেইনিয়োরেঞ্জ’ ইত্যাদি খুঁটিনাটি ব্যাপার আলোচনা করা আমার উদ্দেশ্য নয়। তবে অ্যাডাম মূলার যিনি মুগ্ধ হয়ে প্রশংসা করেছেন “মহান বদান্যতা” যাকে ইংরেজ সরকার অর্থ দ্বারা পুরস্কৃত করতেন তার মতো ভাব প্রবণ কাভজাদের সুবিধার জন্য আমি ডাডলিনৰ্থ থেকে একটি উদ্ধৃতি দিচ্ছি : “অন্যান্য পণ্যের মতো সোনা ও রূপারও জোয়ার-ভাটা হয়। স্পেন থেকে আনীত হবার পরে তা বয়ে নিয়ে যাওয়া হয় টাওয়ারে, এবং সেখানে তাকে মুদ্রায়িত করা হয়। বেশি দিন যেতে না যেতেই আবার সেই ধাতু পিণ্ড রপ্তানির চাহিদা। উঠবে। যদি রপ্তানি করার মতো ধাতুপিণ্ড না থেকে থাকে, সবই যদি মুদ্রায় পরিণত হয়ে গিয়ে থাকে, তাহলে কি হবে? সেই মুদ্রাকে আবার গলিয়ে ফেলতে হবে, তাতে কোনো লোকসান নেই নো মুদ্রায়িত করতে মালিবের কোনো খরচ নেই। এইভাবে জাতিকে প্রতারিত করা হয়, তাকে বাধ্য করা হয় গাধার খাওয়ার জন্য তা হলে খড় তৈরি করে দিতে। মালিককে যদি মুদ্রায়িত করার জন্য ব্যয় বহন করতে হত, সে না ভেবেচিন্তে মুদ্রায়িত করার জন্য টাওয়ারে রূপা পাঠাতে না; সেক্ষেত্রে মুদ্রায়িত অর্থের মূল্য অমুদ্রায়িত রৌপ্যের তুলনায় বেশি থেকে যেত।” (North c. p. 18) দ্বিতীয় চার্লসএর রাজত্বকালে নর্থ নিজেই একজন সর্বাগ্রবর্তী মালিক।
১৭. “ছোটখাটো ব্যয়ের জন্য যতটা দরকার, রূপা যদি কখনো তা থেকে বেশি না হত তা হলে বড় বড় ব্যয়ের জন্য যথেষ্ট পরিমাণে সংগ্রহ করা যেত না। … বড় বড় ব্যয়ের ক্ষেত্রে সোনার ব্যবহার ছোটখাটো ব্যয়ের ক্ষেত্রেও তার ব্যবহারকে অভাসিত করে। ছোটখাটো ব্যয়ের জন্যও যারা সোনার মুদ্রা ব্যবহার করে এবং ক্রীত পণ্যের সঙ্গে পাওনা বাড়তিটা রূপ হিসাবে পায়, তার উন্নত রূপাটাকে টেনে নেয় এবং সাধারণ সঞ্চলনে ছড়িয়ে দেয়। কিন্তু সোনা ছাড়াই ছোটখাটো ব্যয় মেটানোর জন্য যতটা রূপার দরকার, ঠিক ততটা রূপাই যদি থাকে, সেক্ষেত্রে খুচরো ব্যবসায়ীর হাতেও রূপা সঞ্চিত হবে।” (David Buchanan, “Inquiry into the Taxation and Commercial Policy of Great Britain”. Edinburgh, 1844 pp. 248, 249 )।
১৮. চীনের ‘চ্যন্সেলর অব এক্সচেকার’ বাজপুরুষ ওয়ান-মাও-ইন-এর মাথায় একদিন এলো যে তিনি ঈশ্বর পুত্রের কাছে প্রস্তাবে রাখবেন গোপনে সাম্রাজ্যের কাগজে নোটকে ( assignats ) রূপান্তরযোগ্য ব্যাংক-নোটে পরিবর্তন করার। কাগুজে নোট কমিটি ১৮৫৪ সালে তার রিপোর্টে তাকে খুব জোর ধমক লাগালো। তাকে চিরাচরিত বাশ-ডলা দেওয়া হয়েছিল কিনা, তা বলা হয়নি। রিপোর্টের শেষ অংশটি ছিল এই রকম : কমিটি সযত্নে তার প্রস্তাবটি পরীক্ষা করে দেখেছে এবং দেখেছে যে প্রস্তাবটি সম্পূর্ণ ভাবেই বর্ণিকদের স্বার্থে এবং সম্রাটের পক্ষে কোনো স্বার্থ ই সাধন করবে না।” (Arbeiten der kaiserlich Russischen Gesandts chaft zu peking uber china.” Aus dem Russischen von Dr. K. Abelund F. A. Mecklenburg. Erster Band. Berlin 1858 p. 47 sq) ব্যাংকআইন সংক্রান্ত লর্ড সভার কমিটির সমক্ষে সাক্ষ্যদান প্রসঙ্গে ব্যাংক অব ইংল্যাণ্ড এর এক গভনর বলেন ‘প্রত্যেক বছরই নোতুন এক শ্রেণীর ‘সতরেইন’ অতিরিক্ত হালকা হয়ে যায়। যে শ্ৰেণীটি এক বছর পুরো ওজন নিয়ে চালু থাকে, তাই আবার ক্ষয়ক্ষতির ফলে পরের বছরে ওজন হারিয়ে নিজেকে হালকা করে ফেলে।” ( House of Lords’ Committee 1848 n. 429).
১৯. ফুলাটন থেকে উদ্ভূত এই অনুচ্ছেদটি থেকে বোঝা যায় অর্থ-বিষয়ে সর্বশ্রেষ্ঠ লেখকদের পর্যন্ত অর্থের বিভিন্ন কাজ সম্বন্ধে ধারণা কত অস্পষ্ট ছিল : “এই ঘটনা অনস্বীকার্য যে আমাদের আভ্যন্তরীণ বিনিময সমূহে অর্থ সংক্রান্ত যাবতীয় কাজ, যেগুলি স্বর্ণ ও রৌপ্য মুদ্রার সাহায্যে করা হয়, সেই সবগুলিই করা যায় অ-রূপান্তর যোগ্য নোটের সাহায্যে, যাব আইন-বলে আরোপিত প্রথাগত মূল্য ছাড়া আর কোনো মূল্য নেই। এই ধরনের মূল্যকে অন্তনিহিত ফুল্যের যাবতীয় প্রয়োজন। পূরণের জন্য এবং এমনকি একটি মান’-এর আবশ্যকতা অতিক্রম করার জন্যও ব্যবহার করা যায় একমাত্র যদি সেই নোট কত পরিমাণে ছাড়া (ই) হবে তা যথােচিত নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।’ (ফুলার্টন: Regulation of currencies” লণ্ডন, ১৮৪৫, পৃঃ ২১) যেহেতু যে পণ্যটি অর্থ হিসাবে কাজ করতে সক্ষম, তাকে সঞ্চলনের ক্ষেত্রে কেবল মূল্যের প্রতীকসমূহের দ্বারা প্রতিস্থাপিত করা যায়, সেই জন্য মূল্যের পরিমাপ ও মান হিসাবে তার কাজগুলিকে অপ্রয়োজনীয় বাংলা বলে ঘোষিত করা হল!
২০. স্বর্ণ এবং রৌপ্য যখন মুদ্রা হিসাবে কিংবা একান্ত ভাবে সঞ্চলনের মাধ্যম হিসাবে কাজ করে, তখন তারা হয় নিজেদের প্রতীক—এই ঘটনাটি থেকে নিকোলাস বার্বন সরকারের অর্থ উন্নীত করার অধিকার অর্থাৎ যে-ওজনের রূপাকে শিলিং বলে অভিহিত করা তাকে বেশি ওজনের রূপার যেমন ক্রাউন-এর নামে অভিহিত করার অধিকার আছে বলে সিদ্ধান্ত করে করেন; সুতরাং পাওনাদারদের সে ক্রাউনের বদলে শিলিং দিতে পারে। “অর্থ বারংবার গণনার ফলে ক্ষয় এবং হাকা হয়।’ সুতরাং দর দাম করার সময় মানুষ কেবল অর্থের অভিধা ও সচলতাই বিবেচনা করে, রূপার পরিমাণ বিবেচনা করে না। ধাতুর উপরে সরকারের কর্তৃত্বই তাকে অর্থে পরিণত করে। (N. Barbon1 c. পৃঃ ২৯, ৩০, ২৫)
