১৩. কোন জাতির বাণিজ্য পরিচালনা করতে একটা বিশেষ পরিমাপ ও অনুপাত অর্থের প্রয়োজন হয়, যার বেশি বা কম হলে বাণিজ্য ব্যাহত হয়। ঠিক যেমন একটি ছোট খুচরো বাণিজ্যে রৌপ্যমুদ্রা ভাঙাতে এবং যেসব লেনদেনে ক্ষুদ্রতম রৌপমুদ্রা দিয়েও হিসাব মিলানো যায় না সেগুলি মিটাতে একটা নির্দিষ্ট অনুপাতে ফার্দিংএর প্রয়োজন হয়। এখন, যেমন, বাণিজ্যের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ফাদিং-এর অনুপাত গ্রহণ করতে হয় লোকজনের সংখ্যা, তাদের বিনিময়ের পৌনঃপুনিকতা থেকে এবং তদুপরি প্রধানতঃ ক্ষুদ্রতম রৌপ্যমুদ্রাগুলির মূল্য থেকে, তেমনি অনুরূপ ভাবে, আমাদের বাণিজ্যের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অর্থের ( স্বর্ণ ও রৌপ্য মুদ্রার ) অনুপাত গ্রহণ করতে হবে যোগাযোগের পৌনঃপুনিকতা এবং প্রদেয় অর্থের পরিমাণ থেকে।” (উইলিয়ম্ পেটি, A Treatise of Taxes and cnntributions,Lnod 1667, p. I7)। জে: স্টুয়ার্ট এবং অন্যান্যদের আক্রমণের বিরুদ্ধে হিউম-এর ‘থিয়োরি’-কে সমর্থন করেছিলেন আর্থার ইয়ং তাঁর ‘Political Arithmetic’ গ্রন্থে (১৭৭৪), ১১২ পৃষ্ঠায় যেখানে দাম নির্ভর করে অর্থের পৰিমাণের উপরে’ শীর্ষক একটি আলাদা অধ্যায় আছে। Zur Kritik & c.’-এ (পৃঃ ১৭৯) আমি বলেছি “তিনি (অ্যাডাম স্মিথ ) সঞ্চলনরত মুদ্রার পরিমাণ সংক্রান্ত প্রশ্নটি কোনো মন্তব্য না করেই পার হয়ে গিয়েছেন, এবং অর্থকে খুবই ভুল ভাবে কেবল একটি পণ্য হিসাবেই গণ্য করেছেন।” এই মন্তব্যটি কেবল অ্যাডাম স্মিথের উল্লিখিত অর্থ সংক্রান্ত আলোচনার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। অবশ্য, এখানে সেখানে, যেমন পূর্বতন রাষ্ট্রীয় অর্থনীতির প্রণালীগুলি সম্পর্কে তার সমালোচনায় তিিন সঠিক বক্তব্যই রেখেছেন : “প্রত্যেক দেশেই অর্থের পরিমাণ নিয়ন্ত্রিত হয় সেই পণ্য সমূহের মূল্যের দ্বারা, যে-পণ্যসমূহকে সঞ্চলিত করবে। একটি দেশে বছরে যত করুক এবং তাদের সঠিক পরিভোক্তাদের মধ্যে তাদেরকে বণ্টন করে দিক, এবং আর বেশিক নিয়োগ করতে না পারাকে। সৃঞ্চলনের প্রণালীটি আবশ্যিক ভাবেই তার মধ্যে টেনে আনে এমন একটি পরিমাণ যা তাকে পূর্ণ করে দেবার পক্ষে পর্যাপ্ত এবং তার চেয়ে অধিকতর পরিমাণকে সে স্থান দেয় না।” (Wealth of Notions, Bk. IV, ch. I)। অনুরূপ ভাবে তিনি তার গ্রন্থ শুরু করেন শ্রম-বিভাগের উপরে মহিমা আরোপ করে। পরে সর্বশেষ খণ্ডে, যেখানে সরকারি আয় সম্পর্কে আলেচনা রয়েছে, সেখানে তিনি তার শিক্ষক এ-ফাগুসন শ্রম-বিভাগের যে-নিন্দামন্দ করেছেন, প্রায়শঃই তার পুনরাবৃত্তি করেছেন।
১৪. কোন জাতির জনগণের মধ্যে সোনা ও রূপা বৃদ্ধি পেলে জিনিসপত্রের দাম নিশ্চয়ই বৃদ্ধি পাবে, বিপরীত দিকে, সোনা ও রূপা হ্রাস পেলে তার সঙ্গে সমঅনুপাতে জিনিসপত্রের দামও হ্রাস পাবে। [ Jacob Vanderlint : Money Answers all Things’, 1734, P. 5] এই বইটির সঙ্গে হিউমের “Essays”-এর সতর্ক তুলনার ফলে আমার ধারণা হয়েছে যে ভ্যাণ্ডারলিন্ট-এর এই গুরুত্বপূর্ণ বইখানার সঙ্গে নিঃসন্দেহে হিউমের পরিচয় ছিল। জিনিসপত্রের দাম যে সঞ্চলনের মাধ্যমটির পরিমাণের দ্বারা নির্ধারিত হয় এই মতটি বার্বন এবং তারও অনেক আগেকার লেখকদের লেখায় পাওয়া যায়। ভ্যাণ্ডারলিন্ট লিখেছেন, “নিয়ন্ত্রণহীন বাণিজ্যের ফলে অসুবিধা তো হবেই না, বরং বিপুল সুবিধাই হবে; কেননা এর ফলে যদি জাতির টাকা কমে যায়, যা নিবারণ করার জন্য বিধি-নিষেধ রচনা করা হয়, তা হলে যেসব জাতি ঐ টাকা পাবে, তারা দামের মধ্যে সবকিছু অগ্রগতি পেয়ে যাবে, কেননা তাদের মধ্যে টাকা বেড়ে যাবে। এবং আমাদের কারখানা-মালিকেরা, এবং বাকি সবকিছু, এমন ধীর-স্থির হয়ে উঠবে যে বাণিজ্যের ভারসাম্য আমাদের অনুকূলে চলে আসবে, এবং এই ভাবে ঐ টাকাটা আবার ফিরিয়ে আনবে।” (i. c. পৃ: ৪৩, ৪৪)।
১৫. প্রত্যেক এক ধরনের পণ্যের দামই যে সঞ্চলনের অন্তর্গত সমস্ত পণ্যের দাম সমূহের যোগফলের একটি অংশ, তা সুস্পষ্ট। কিন্তু কেমন করে ব্যবহার-মূল্য সমূহকে—যেগুলি পরস্পরের সম্পর্কে পরিমেয় নয় সেগুলিকেসর্বসাকুল্যে অন্য কোন দেশের সোনা ও রূপার মোট পরিমাণের সঙ্গে বিনিময় করা যায়, তা অবোধ গম্য। যদি আমরা এটা ধরে নিয়ে অগ্রসর হই যে সমস্ত পণ্য মিলে একটামাত্র পণ্য, বাকি সব পণ্যই তার অংশবিশেষ, তা হলে আমরা এই সুন্দর সিদ্ধান্তটিতে উপনীত হই : মোট পণ্যটি = x cwt, স্বর্ণ; ‘ক’ পণ্য = মোট পণ্যটির অংশ বিশেষ = 1 cwt স্বর্ণের = একাংশ। মতাম্বু খুব গুরুগম্ভীরভাবে এই কথাটিই God i “Si l’on compare la masse de l’or et de l’argent qui est dans le monde avec la somme des marchandises qui’y soot, il est certain que chaque denree ou mas bandise, en particulier, pourra etre comparee a une certaine portion de la masse entiere. Supposons qu’il n’y ait qu’une seule denree, ou marchandise dans le monde, ou qu’il n’y ait qu’une seule qui s’achete, et qu’elle se divise comme l’argent : Cette partie de cette marchandise repondra a une partie de la masee de l’argent; la moitie du total de l’une a la moitie du total de l’autre, &c l’etablissement du prix des choses depend toujours fondamentalement de la raison du total des choses au total des signes.” (Montesquieu, l.c, t. iii, pp. 12, 13). রিকার্ডো এবং তার শিষ্যবৃন্দ জেমস মিল,লর্ড ওভারেস্টোনও অন্যান্যদের হাতে এই তত্ত্বটির আরো বিকাশপ্রাপ্তি প্রসঙ্গে Zur kritik &c” দ্রষ্টব্য, পৃঃ ১৪০-১৪৬ এবং ১৫০ জন স্টুয়ার্ট মিল তার স্বভাব সিদ্ধ পল্লবগ্রাহী যুক্তিবিদ্যা নিয়ে জানেন কিভাবে তার পিতা জেমস মিল-এর মত এবং তার বিপরীত মত একই সঙ্গে পোষণ করা যায়। তার সংক্ষিপ্তসার “Principles of pol. Economy”-র মূল অংশের সঙ্গে যদি তার ভূমিকাটি তুলনা করা যায়, যে ভূমিকাটিতে তিনি নিজেকে তার যুগের অ্যাডাম স্মিথ বলে ঘোষণা করেছেন, তা হলে আমরা বুঝতে পারি না যে কার সরলতার আমরা প্রশংসা করব—ঐ ব্যক্তিটির, না জনসাধারণের যারা সরল বিশ্বাসে তাকে তার স্ব-ঘোষিত অ্যাডাম স্মিথ হিসাবেই মেনে নিয়েছেন, যদিও অ্যাডাম স্মিথের সঙ্গে তার সাদৃশ্য ধরুন, জেনারেল উইলিয়স অব কার্স’-এর সঙ্গে ‘ডিউক অব ওয়েলিংটন’-এর সঙ্গে সাদৃশ্যেরই অনুরূপ। রাষ্ট্রীয় অর্থনীতির ক্ষেত্রে জেমস মিল-এর স্বকীয় গবেষণা ব্যাপকও নয়, গভীরও নয়, তা তার “Some unsetlled Questions of political Econoiny” নামক ক্ষুদ্র পুস্তকটির মধ্যেই সন্নিবিষ্ট, যা প্রকাশিত হয় ৮৪৪ সালে। স্বর্ণ ও রৌপ্য মূল্যে অনস্তিত্ব এবং কেবল পরিমাণের দ্বারা তাদের মূল্য নির্ধারণের কথা লক ( Locke) সরাসরি ঘোষণা করেন। “স্বর্ণ ও রৌপ্যের উপরে একটি কল্পিত মূল্য আরোপ করতে মানবজাতি সম্মত হয়। এই ধাতুগুলির অন্তর্নিহিত মূল্য পরিমাণটি ছাড়া কিছুই নয়।” (Some considerations” & c. 1691, Works, 1777, vol. II, p. 15)।
