.
গ. মুদ্রা এবং মূল্যের প্রতীকসমূহ
অর্থ যে মুদ্রার আকার নেয়, তা সঞ্চলনের মাধ্যম হিসেবে তার যে ভূমিকা, সেই ভূমিকা থেকেই উদ্ভূত হয়। পণ্যদ্রব্যাদির দামসমূহ ব! অৰ্থনামসমূহ কল্পনায় সোনার যে ওজনের প্রতিনিধিত্ব করে, সেই ওজনের সোনাকে সঞ্চলনের পরিধির মধ্যে অবশ্যই মুদ্রার আকারে বা নির্দিষ্ট নামের স্বর্ণখণ্ড বা রৌপ্যখণ্ডের আকারে ঐ পণ্যগুলির মুখোমুখি হতে হবে। দামসমূহের একটি নির্দিষ্ট মান প্রতিষ্ঠা করার মতো মুদ্রা চালু করাও হচ্ছে রাষ্ট্রের কাজ। স্বদেশের মধ্যে মুদ্রা হিসেবে সোনা ও রূপ। যে বিভিন্ন জাতীয় পোশাক পরিধান করে এবং বিশ্বের বাজারে আবার তারা যেগুলি পরিহার কবে, তা থেকেই বোঝা যায় পণ্যদ্রব্যাদির সঞ্চলনের আভ্যন্তরিক বা জাতীয় পরিধি এবং তাদের আন্তর্জাতিক পরিধির মধ্যকার বিচ্ছেদ।
অতএব, মুদ্রা এব° ধাতুপণ্ডের মধ্যে যে পার্থক্য তা একমাত্র আকারের ক্ষেত্রে এবং সোনা যে-কোন সময়েই এক রূপ থেকে অন্য রূপে চলে যেতে পারে।[১৬] কিন্তু যে-মুহতে মুদ্রা টাকশাল থেকে ছাড়া পায়, সেই মুহূর্তেই সে যাত্রা করে বিগলন কটাহের অভিমুখে। প্রচলন-কালে মুদ্রাগুলি ক্ষয় পাষ, কতকগুলি বেশী ভাবে, আবার কতকগুলি কম ভাবে। নামে এবং, বস্তুত, নামীয় ওজনে আর আসল ওজনে পার্থক্যের প্রক্রিয়া শুরু হয়। একই নামেব মুদ্রাসমূহ ওজনগত পার্থক্যের দরুন মূল্যের দিক থেকে পৃথক হয়ে যায়। দামের মান হিসেবে স্থিরীকৃত সোনার ওজন সঞ্চলনশীল মাধ্যম হিসেবে তার যে ওজন, তা থেকে বিচ্যুত হয় এবং ফলতঃ, সঞ্চলনশীল মাধ্যমটি আর সেই সব পণ্যের—যে সবের মূল্য তা বাস্তবায়িত করে, সেই সব পণ্যের–সত্যকার সমর্ণরূপ থাকে না। মধ্যযুগে এবং তখন থেকে শুরু করে আঠারো শতক পর্যন্ত মুদ্রা প্রচলনেব ইতিহাস এই কারণটি থেকে উদ্ভূত এই পৌনঃপুনিক বিভ্রান্তির সাক্ষ্য বহন কৰে। সঞ্চনের যেটা স্বাভাবিক প্রবণতা, তা হচ্ছে মুদ্রা নিজেকে যা বলে দাবি কবে, তা নিছক রূপক-মাত্রে তাকে রূপান্তরিত করা; যতটা সোনা তা ধারণ করে বলে দাবি করে, তার প্রতীকমাত্রে তাকে পরিণত করা এই প্রবণতা বর্তমান রাষ্ট্রগুলিতে আইনের স্বীকৃতি লাভ করেছে, আইনের স্থির করে দেওয়া হচ্ছে কতটা সোনা ক্ষয় পেয়ে গেলে স্বর্ণমুদ্রাটি আব মুদ্রা বলে। পৰিগণিত হবে না। অর্থাৎ বৈধ মুদ্রার মর্যাদা পাবে না।
মুদ্রার প্রচলন নিজেই যে তার নামীয় ও আসল ওজনের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটায়, এক দিকে নিছক সোনার টুকরো হিসেবে এবং অন্যদিকে নির্দিষ্ট ভূমিকা সহ মুদ্রা হিসেবে পার্থক্য সৃষ্টি করে এই ঘটনাই আভাসিত করে যে ধাতব মুদ্রার পরিবর্তে অন্য কোন বস্তুর তৈরী প্রতীকের প্রচলন, মুদ্রা হিসেবে অন্য কোন অভিজ্ঞানের প্রচলন সম্ভব। ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র পরিমাণ সোনা ও রূপাকে মুদ্রাকারে রূপ দিতে গিয়ে কার্যক্ষেত্রে যেসব অসুবিধা দেখা দেয় সেই সব অসুবিধা এবং এই ঘটনা যে প্রথম দিকে অধিকতর মহার্ঘ ধাতুর পরিবর্তে অল্পতর মহার্ঘ ধাতুর মূল্যের পরিমাপ হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যেমন রূপার পরিবর্তে তামা, সোনার পরিবর্তে রূপা ইত্যাদি আর যে পর্যন্ত না অধিকতর মহার্ঘ ধাতুর দ্বারা সিংহাসনচ্যুত হয় সে পর্যন্ত অল্পতর মহার্ঘ ধাতুই অর্থ হিসেবে প্রচলিত থাকে—এই সব তথ্য থেকেই আমরা বুঝতে পারি সোনার মুদ্রার বিকল্প হিসেবে রূপা ও তামার প্রতীকগুলি যে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছে, সেই ভূমিকার তাৎপর্য। সঞ্চলনের সেই সব অঞ্চলেই সোনা ও রূপার প্রতীকগুলি সোনার স্থান দখল করে, যে সব অঞ্চলে মুদ্রার হাতবদল খুব ঘন ঘন হয় এবং সেই কারণেই তা সবচেয়ে বেশী ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। সেখানে নিরন্তর খুবই অল্প-স্বল্প আয়তনে বিক্রয় ও ক্রয় সংঘটিত হয়, সেখানেই এই ধরনের ঘটনা ঘটে। এই সব উপ গ্রহ যাতে স্থায়ী ভাবে সোনার আসনে আত্মপ্রতিষ্ঠা লাভ না করতে পারে, সেই জন্য সোনার বদলে কতটা পরিমাণে এই সব মুদ্রা গ্রহণ করা যেতে পারে সে সম্পর্কে সুস্পষ্ট আইন প্রণয়ন করা হয়ে থাকে। প্রচলন বাবস্থায় বিভিন্ন প্রজাতির মুদ্রার। যে বিশেষ বিশেষ পথচারণা করে, সে পথওল। স্বভাবতই পরস্পরেব উপর দিয়ে চলে যায়। ক্ষুদ্রতম স্বর্ণমুদ্রার ভগ্নাংশিক অ শ প্রদানের জন্য প্রতীকগুলি সোনার সঙ্গে সংযোগ রক্ষা করে; এক দিকে, সোনা নিবন্তর খুচবে। সঞ্চলনের মধ্যে স্রোতধারার মতো বয়ে আসে, এবং অন্য দিকে, তই আবার প্রতীকে পরিবর্তিত হয়ে নিরন্তর সঞ্চলনের বাইরে নিক্ষিপ্ত হয়।[১৭]
রূপা ও তামার প্রতীকগুলিতে কতটা করে ধাতু থাকবে তা খুশিমতো আইনের দ্বারা নির্ধারিত হয়। যখন প্রচলনে থাকে, তখন তারা এমনকি সোনার মুদ্রা থেকেও বেশী তাড়াতাড়ি ক্ষয় পায়। সুতরাং তারা যে যে কাজ করে, তা তাদের ওজন এবং, কাজে কাজেই, সমস্ত মূল্য থেকে পুরোপুরি নিরপেক্ষ। মুদ্রা হিসেবে সোনার যে কাজ তা সোনার ধাতব মূল্য থেকে পুরোপুরি নিরপেক্ষ হয়ে যায়। অতএব, যে সমস্ত জিনিস আপেক্ষিক ভাবে মূল্যহীন, যেমন কাগজের নোট ইত্যাদি, সেগুলি তার বদলে মুদ্রা হিসেবে কজে করতে পারে। এই যে বিশুদ্ধ প্রতীকী চরিত্র তা কিছুটা পরিমাণে অবগুণ্ঠিত থাকে ধাতব প্রতীকগুলিতে। কাগজের নোটে এই চরিত্রটি বেরিয়ে আসে পরিষ্কার ভাবে। বাস্তবিক পক্ষে, ce nest que le preinier pas qui coute.
