১৩. “Zur kritik der Pol. Oekon’—’Theorien von der Masseinbeit des Geldes. পৃ: 53. সোনা ও রূপার নির্দিষ্ট ওজনের উপরে আইনত নির্ধারিত নামগুলিকে অপেক্ষাকৃত বেশি বা কম পরিমাণ সোনা ও রূপার পরিমাণের উপরে স্থানান্তরিত করে অর্থের টাকশালে-দাম বৃদ্ধি বা হ্রাস করার আজগুবি ধারণাগুলি অন্ততঃ যে সমস্ত ক্ষেত্রে, এগুলি সরকারি ও বেসরকারি ক্রেডিটরদের বিরুদ্ধে নোংবা কাজকারবারের উদ্দেশ্যে পরিচালিত নয়, পরন্তু হাতুড়ে প্রতিকারের উদ্দেশ্যে পরিচালিত, সেই সমস্ত ক্ষেত্রে এই ধারণাগুলি উইলিয়াম পেটি তার “Quantulumcunque concerning money : To the Lord Marquis of Halifax, 1862-60 40 বিশদভাবে আলোচনা করেছেন যে, পরবর্তী অনুগামীদের কথা না হয় উল্লেখ নাই করলাম, এমনকি স্যার ভাভলি নথ এবং জন লক-এর মত তার সাক্ষাৎ অনুগামীরা পর্যন্ত তাকে কেবল তরলীকৃত করতেই সক্ষম হয়েছিলেন। তিনি মন্তব্য করেছেন, “যদি কোন দেশের ধন একটি ঘোষণা জারি করে দশগুণ বৃদ্ধি করা যেত, তা হলে এটা আশ্চর্য যে আমাদের গভর্ণর এত কাল ধরে এমন ঘোষণা জারি করেন নি। (c. পৃ: ৩৬)।
১৪. “Ou bien, il faut, consentir a dire qu’une valeur d’un million en argent vaut plus qu’une valeur egale en marchandises.” (le Trosne, 1. c, p 919 ) which amounts to saying “qu’une valeur vaut plus qu’une valeur egale”.
১৫. কেবল তার যৌবনেই যে তাকে তার কল্পনার সুন্দরীদের দৈহিক বক্ত মাংসের সঙ্গে কুস্তি লড়তে হয়েছিল, শুধু তাই নয়, জেরোম ( Jerome )-কে কুস্তি লড়তে হয়েছে তার বার্ধক্যেও—অবশ্য তখন শুধু আত্মিক রক্তমাংসের সঙ্গে। তিনি লিখেছেন, “আমি ভেবেছিলাম, মহাবিশ্বের বিচারপতির সম্মুখে আমি আত্মিকভাবে উপস্থিত ছিলাম। তুমি কে?’—প্রশ্ন হল। আমি একজন খ্ৰীষ্টধর্মী।’ ‘তুমি মিথ্যা বলছ’-বজ্রকণ্ঠে উত্তর দিলেন সেই মহান বিচারপতি, তুমি একজন সিসেখোনীয় ছাড়া অন্য কিছু নও।
.
.
৩.২ সঞ্চলনের মাধ্যম
ক. পণ্যের রূপান্তর
পূর্বতন একটি অধ্যায়ে আমরা দেখেছি যে পণ্য-বিনিময়ের ব্যবস্থায় একাধিক স্ববিরোধী ও পরম্পর ব্যতিরেকী শর্তাবলী নিহিত থাকে। পণ্য এবং অর্থের মধ্যে পণ্য সম্ভারের বিভিন্নতা প্রাপ্তির ফলে এই অসংগতিগুলি দূর হয়ে যায়না বরং একটি কর্ম প্রক্রিয়ার উদ্ভব ঘটে—এমন একটি রূপের উদ্ভব ঘটে যাতে পণ্য এবং অর্থ, দুই-ই পাশাপাশি থাকতে পারে। সাধারণতঃ এই পথেই বাস্তব দ্বন্দ্বগুলির সমন্বয় ঘটে থাকে। যেমন, ধরুন, একটি সত্তা নিরন্তর অন্য একটি সত্তার দিকে নিপতিত হচ্ছে এবং সেই সঙ্গেই আবার নিরন্তর তার থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন এমন একটা চিত্র অবশ্যই দ্বন্দ্বমূলক। উপবৃত্ত হচ্ছে গতির এমন একটা রূপ যাতে, একদিকে যখন এই দ্বন্দ্ব অব্যাহত থাকার সুযোগ পায় আবার অন্যদিকে তখন তার সমম্বয়ও ঘটে।
যে-পর্যন্ত বিনিময় হচ্ছে এমন একটি প্রক্রিয়া যার দ্বারা বিভিন্ন পণ্য স্থানান্তরিত হর, যাদের কাছে সেগুলি অ-ব্যবহার-মূল্য তাদের হাত থেকে, তাদের হাতে যাদের কাছে সে-গুলি হয়ে ওঠে ব্যবহার-মূল্য, সে-পর্যন্ত বিনিময় হচ্ছে বস্তুর সামাজিক সঞ্চলন। এক ধরনের ব্যবহার্য (উপযোগী ) শ্রমের ফল অন্য ধরনের ব্যবহার্য (উপযোগী ) শ্রমের জায়গা নেয়। একটি পণ্য যখন একটি অবলম্বন পেয়ে গিয়েছে, যেখানে সে ব্যবহার মূল্য হিসেবে কাজে লাগতে পারে, এখনি সে সঞ্চলনের পরিধি থেকে নিস্ফান্ত হয়ে পরিভোগর পরিধির মধ্যে প্রবেশ লাভ করে। কিন্তু বর্তমানে আমরা কেবল সঞ্চলনের পরিধি নিয়েই ব্যস্ত থাকব। সুতরাং আমাদের এখন বিনিময়কে বিবেচনা করে দেখতে হবে রূপগত দিক থেকে, অনুসন্ধান করে দেখতে হবে পণ্যের সেই রূপ পরিবর্তন বা রূপান্তরকে যার ফলে বস্তুর সামাজিক সঞ্চচলন সংঘটিত হয়।
রূপের এই যে পরিবর্তন, তার উপলব্ধি, তা সচরাচর খুবই অসম্পূর্ণ। মূল্যের ধারণ সম্পর্কে নানাবিধ অস্পষ্টতা ছাড়াও, এই অসম্পূর্ণতার কারণ এই যে, একটি পণ্যে প্রত্যেকটি রূপ পরিবর্তনই হচ্ছে দুটি পণ্যের একট মামুলি পণ্য এবং বাকিটি অর্থ পণ্যের বিনিময়ের ফলশ্রুতি। একটি পণ্যের বিনিময় ঘটেছে সোনার সঙ্গে কেবল মাত্র এই বস্তুগত ঘটনাটিকেই যদি আমরা মনে রাখি, তা হলে যে জিনিসটি আমাদের লক্ষ্য করা উচিত ঠিক সেই জিনিসটিকেই আমরা করি উপেক্ষা; সেই জিনিসটি হল, আলোচ্য পণ্যটির রূপে কী ঘটে গেল সেইটি। আমরা এই ঘটনাটিকে উপেক্ষা করি যে সোনা যখন একটি পণ্য মাত্র, তখন তা অর্থ নয় এবং অন্যান্য পণ্য যখন তাদের নিজ নিজ দাম সোনার অঙ্কে প্রকাশ করে, তখন এই সোন। ঐ পণ্যগুলির অর্থরূপ ছাড়া আর কিছুই নয়।
প্রথমতঃ বিভিন্ন পণ্য যে যা ঠিক সেই ভাবেই বিনিময়ের প্রক্রিয়ার প্রবেশ করে। এই প্রক্রিয়াই তার পরে তাদের মধ্যে পণ্য এবং অর্থ হিসাবে বিভিন্নতা এনে দেয়। এবং, এই ভাবে, একই সঙ্গে ব্যবহার-মূল্য ও বিনিময়মূল্য হবার দরুণ তাদের মধ্যে যে অন্তর্নিহিত বৈপরীত্য প্রচ্ছন্ন থাকে, তারই আনুষঙ্গিক একটি বাহিক প্রকাশ্য বিরোধিতার জন্ম দেয়। ব্যবহার-মূল্যরূপী পণ্যসম্ভার এখন প্রতিস্থাপিত হয় বিনিময় মূল্যরূপী অর্থের বিপরীতে। অন্য দিক থেকে, দুটি প্রতিপক্ষই কিন্তু পণ্য ব্যবহার-মূল্য এবং বিনিময়মূল্যের ঐক্যস্বরূপ। কিন্তু বিভিন্নতার এই অভিজ্ঞতা বা ঐক্য নিজেকে অভিব্যক্ত করে দুটি বিপরীত মেরুতে এবং প্রত্যেকটি মেরুতে বিপরীত ভাবে। মেরু বলেই আবার তার আবশ্যিকভাবেই পরস্পরের বিপরীতও বটে আবার পরস্পরের সঙ্গে সংযুক্ত বটে। সমীকরণের একদিকে আমরা পাই একটি মামুলি পণ্য, যা হচ্ছে আসলে একটি ব্যবহার-মূল্য। এর মূল্য কেবল ভাবগতভাবেই প্রকাশিত হয় দামের মাধ্যমে যে দামের দ্বারা সে তার প্রতিপক্ষের সঙ্গে তথা সোনার সঙ্গে সমীকৃত হয়, যেমন হয় তার মূল্যের বাস্তব বিগ্রহ সঙ্গে। সোনা হিসেবেই সোনা বিনিময়-মূল্য। তার ব্যবহার-মূল্য সম্বন্ধে উল্লেখ্য যে তার আছে কেবল একটা ভাবগত অস্তিত্ব; বাকি সমস্ত পণ্যের মুখোমুখি সোনা যখন দাড়ায় তখন যে আপেক্ষিক মুল্য-প্রকাশের রাশিমালা তৈরি হয়, সেই রাশিমালাই হচ্ছে এই ব্যবহার মূল্যের প্রতিনিধি; সংশ্লিষ্ট সমস্ত পণ্যের ব্যবহারসমূহের যোগফলই হচ্ছে সোনার বিবিধ ব্যবহারের যোগফল। পণ্য সম্ভারের এই পরস্পর বিশুদ্ধ রূপগুলিই হল সেই সব বস্তুর রূপে তাদের বিনিময়-প্রক্রিয়াটি চলে এবং ঘটে।
