৩. দ্রষ্টব্য : কার্লমার্কস। zur Kritik’, &c Theorien von der Mass einheit des Geldes.” পৃ: ৫৩।
৪. “যখনি আইনের জোরে সোনা এবং রূপাকে পাশাপাশি অর্থ হিসেবে এবং মূল্যের পরিমাপ হিসেবে কাজ করানো হয়েছে, তখনি তাদের একই সামগ্রী বলে গণ্য করার সব চেষ্টাই ব্যর্থ হয়েছে। একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ শ্রমসময়ের ধারক হিসেবে সোনা ও রূপার পরিমাণের মধ্যে এটা কোন অপরিবর্তনীয় অনুপাতের অস্তিত্ব আছে ধরে নেওয। আর সোনা ও রূপা একই সামগ্রী; এটা ধরে নেবার মানে বস্তুতঃ একই এবং অরে। ধরে নেওয়া যে, কম মূল্যবান ধাতুটির, রূপার একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ সোনার একটি নির্দিষ্ট পরিমাণের নিত্যস্থায়ী ভগ্নাংশ। তৃতীয় এডােয়ার্ড-এর রাজত্বকাল থেকে দ্বিতীয় জর্জ-এর রাজত্বকাল পর্যন্ত ইংল্যাণ্ডের অর্থসংক্রান্ত ইতিহাস পড়লে দেখা যায় যে এই গোটা সময়টা ধরেই সোনা ও রূপার মধ্যকার সরকারিভাবে নির্ধারিত হার এবং তাদের আসল মূল্যের মধ্যে চলেছে গরমিল। এক সময়ে সোনা হল খুব চড়া, আরেক সময়ে রূপা। যেটার হার যখন তার মূল্যের কমে নির্ধারিত হত, সেটাই তখন গলিয়ে ফেলে বিদেশে রপ্তানি করে দেওয়া হত। দুটি ধাতুর। মধ্যে কার অনুপাতটি তখন আবার আইনের মাধ্যমে পরিবর্তন করা হত, কিন্তু এই নোতুন নামীয় অনুপাতটিও আবার বাস্তবের সঙ্গে সংঘাতে আসত। আমাদের কালেও অমর। দেখেছি যে রূপার জন্য ইন্দো-চাইনিজ চাহিদার দরুণ সোনার মূল্যে যে ক্ষণস্থায়ী এবং যৎকিঞ্চিৎ হ্রাস ঘটেছিল, তার ফলে ফ্রান্সে কী বিপুল প্রতিক্রিয়া ঘটল-রূপা বিদেশে রপ্তানি হতে থাকল এবং সঞ্চলনে থেকে গেল কেবল সোনা। ১৮৫৫, ১৮৫৬ এবং ১৮৫৭-এই বছরগুলিতে ফ্রান্সে সোনা-রপ্তানির তুলনায় সোনা আমদানির আধিক্যের পরিমাণ বাড়িয়ে ছিল ৪ ৪১,৫৮০,০০০, আর রূপা-আমদানির তুলনায় রূপ-রপ্তানির আধিক্যের পরিমাণ দাঁড়িয়েছিল £ ১৪,৭০৪, …। বাস্তবিক পক্ষে, যে সব দেশে দুটি ধাতুই মূল্যের আইন-স্বীকৃত পরিমাপ, সুতরাং আইন সিদ্ধ বিনিময়-মাধ্যম, যাতে করে প্রত্যেকেরই অধিকার আছে যে-কোনো একটিতে দাম দেবার, সেখানে যে ধাতুটির মূল্য বৃদ্ধি পায় সেটি হয় লাভজনক, এবং বাকি প্রত্যেকটি পণ্যের মত, নিজের দাম পরিমাপ করে অতিমূল্যায়িত ধাতুটির মাধ্যমে, সেটি একাই বাস্তবে কাজ করে মুল্যের মান হিসাবে। এই প্রশ্নটি সম্পর্কে সমস্ত অভিজ্ঞতা, সমস্ত ইতিহাস একটিমাত্র শিক্ষাই দেয় : যেখানে আইনের অনুশাসনে দুটি পণ্য মূল্য পরিমাপকের কাজ করে, সেখানে কার্যক্ষেত্রে তাদের একটিমাত্রই থেকে যায়। [ কার্লমার্কস l.c, ৫২, ৫৩]
৫. যেখানে এক আউন্স সোনা ইংল্যাণ্ডে অর্থের মান হিসেবে কাজ করে সেখানে পাউণ্ড-স্টার্লিং তার একটি আঙ্গেয় হিসাবে কাজ করে না-এই যে কৌতুহলকর ঘটনা, তাকে এইভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে, “কেবল রূপাকেই ব্যবহার করা হবে এটা ধরে নিয়েই গোড়াতে আমাদের মুদ্রাংকন শুরু হয়েছিল। সেইহেতু এক আউন্স রূপা সব সময়েই একাধিক আঙ্গেয় অংশে বিভাজ্য ছিল; কিন্তু পরে সোনা চালু হল—রূপার সঙ্গে অভিযোজিত হয়ে। তাইতো এক আউন্স সোনা কিন্তু আর সেভাবে বিভাজ্য, হল না। ম্যাকলারেন, “A Sketch cf the History of the curreney”, 1858 পৃ:, ১৬।
৬. ইংরেজ লেখকদের কাছে মূল্যের পরিমাপ এবং দামের (মূল্যের মান ), এই দুয়ের মধ্যে বিভ্রান্তি অবর্ণনীয়। উভয়ের কাজ এবং উভয়ের অভিধা তারা সব সময়েই আলবদল করে ফেলেন।
৭. তাছাড়া এটা সাধারণভাবে ইতিহাস-সিদ্ধও নয়।
৮. যেমন ইংল্যাণ্ডে পাউণ্ড-স্টার্লিং, তার মূল ওজনের মাত্র ঔএর কম পরিমাণকে বোঝায়; স্কটল্যাণ্ডে, ইউনিয়নের আগে পর্যন্ত, বোঝাতা, ফ্রান্সে যেভাবে বোঝায় ১/৭৪; স্পেনে মার্বেদি বোঝায় ১/১০০০ এবং পর্তুগালে বোঝায় তা থেকেও কম এক ভগ্নাংশ।
৯. ‘Le monete le quali oggi sono ideali sono le piu antiche d’ogin nagione, tutte furono uotempo reali, eperehe reali conesse si contava’ (Galiaia Della moneta 1.c. p 153)
১০. ডেভিড আর্কুহার্ট তার “ফ্যামিলিয়ার ওয়ার্ডস” (“Familiar Words”)-এ এই বিকট বিকৃতি সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন যে আজকাল পাউণ্ড,যা নাকি হচ্ছে ইংল্যাণ্ডের প্রমাণ-মুদ্রা, তা হচ্ছে এক আউন্স সোনার চার ভাগেরও এক ভাগের মতো। এটা ‘মাপ’-এর প্রতারণা ছাড়া কিছু নয়, ‘মাপ’-এর প্রতিষ্ঠা তো নয়ই।” তিনি এই মিথ্যা নামকরণের মধ্যে প্রত্যক্ষ করেছেন সভ্যতার সত্য-অপলাপকারী হস্তের অনাচার।
১১. অ্যানাটাসিসকে যখন প্রশ্ন করা হয়, কি উদ্দেশ্যে গ্রীকরা অর্থ ব্যবহার করত, তিনি উত্তর দেন, গণনার উদ্দেশ্যে।” (Athen-Deipn. IV. 49, V 2 ed. Schweighauser, 1802 )
১২. “যেহেতু দামের মান হিসেবে কাজ করার সময়ে অর্থ পণ্যের দামের মত একই পরিচয়বাহী নামে আবির্ভূত হয় এবং যেহেতু সেই কারণেই £৩. ১৭s. ১২d. একই সঙ্গে বোঝাতে পারে এক আউন্স সোনা এবং এক টন লোহার মুল্য, সেহেতু অর্থের এই পরিচয়বাহী নামটিকে অভিহিত করা হয় ‘টাকশালের দাম (mint price) বলে। এই থেকেই উদ্ভব ঘটল এই অসাধারণ ধারণাটির যে, সোনার মূল্য নিরূপিত হয় তার নিজেরই সামগ্রী দিয়ে এবং অন্যান্য জিনিসের দামের মতো না হয়ে এর দাম নির্ধারিত হয় রাষ্ট্রের দ্বারা। ভুলভাবে মনে করা হত যে সোনার নির্দিষ্ট ওজনকে তার পরিচয়বাহী নাম করা আর ঐ ওজন পরিমাণ সোনার মূল্য নিরূপণ করা বুঝি একই জিনিস। (কার্লমার্কস, শেষোক্ত গ্রন্থ, পৃঃ ৫২)।
