১০. অধ্যাপক রজার্স, যদিও ছিলেন প্রোটেস্ট্যান্ট গোঁড়ামির উর্বরক্ষেত্র অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থতত্ত্বের অধ্যাপক, তিনি কিন্তু তার “কৃষির ইতিহাস”-এর ভূমিকায় “রিফর্মেশন”-এর ফলে সাধারণ জনসমষ্টির সর্বস্বান্ত হবার ঘটনার উপরে জোর দিয়েছেন।
১১. “এ লেটার টু স্যার টি সি বানবেরি বার্ট অন দি হাই প্রাইস অব প্রভিশনস, বাই এ সাফোক জেন্টেলম্যান”, ১৭৯৫ পৃ: ৪। এমনকি বৃহৎ জোতের প্রচণ্ড প্রবক্তা, “ইনকুইরি ইনটু দি কানেকশন বিটুইন দি প্রেজেন্ট প্রাইস অব প্রভিশনস”, ১৭৭৩, পৃঃ ১৩৯, বলেন, আমি সত্যই আমাদের চাষী-সম্প্রদায়ের অন্তর্ধানের জন্য আক্ষেপ করি—সেই লোকগুলি যারা বাস্তবিক পক্ষে এই জাতীর স্বাধীনতাকে ঊর্ধ্বে তুলে বেখেছিল; আমার দেখে দুঃখ হয়, তাদের জমি-জমা একচেটিয়া-অধিকার-বিস্তারী জমিদারদের হাতে চলে গিয়েছে, যারা তা ইজারা দিয়েছে ছোট ছোট কৃষকদের কাছে এমন সব শর্তে যেন এই কৃষকেরা তাদের ক্রীতদাস, যে-কোনো খারাপ ব্যাপারে প্রভুদের হুকুম তামিলের জন্য সর্বদা প্রস্তুত।
১২. এই বুজোয়া নায়কটির ব্যক্তিগত নৈতিক চরিত্র সম্পর্কে নানা ব্যাপারের মধ্যে একটি : আয়ার্ল্যাণ্ডে লেডি অর্কনিকে বড় বড় জমি দান বাজার প্রণয়ের এবং মহিলার প্রভাবের প্রকাশ্য দৃষ্টান্ত লেডি অর্কনির সোহাগপূর্ণ পরিচর্যাই নাকি “ফি লেবিয়োরাম মিনিষ্টিরিয়া” (ব্রিটিশ মিউজিয়ামে’-এ স্লোয়ান-পাণ্ডুলিপি-সংকলন দ্রষ্টব্য, নং ৪২২৪, পাণ্ডুলিপিটির নাম “ক্যারেক্টার অ্যাণ্ড বিহেভিয়ার অব কিং উইলিয়ম।” এটা নানা কৌতুহলকর বিবরণে পরিপূর্ণ।)
১৩. “ ‘ক্রাউন এস্টেট (খাস-জমি )-গুলির বে-আইনি বিলিবিক্রয় ইংল্যাণ্ডের ইতিহাসের কলংকময় অধ্যায়গুলির মধ্যে একটি জাতির বিরুদ্ধে এক প্রকাণ্ড জালিয়াতি।” (এফ. ডবলু নিউম্যান, লেকচার্স অন পলিটিক্যাল ইকনমি’, পৃঃ ১২৯, ১৩০)। [ বিশদ বিবরণের জন্য দ্রষ্টব্য : ‘আওয়ার ওল্ড নোবিলিটি।-নোড্রেস ওরাইজ লণ্ডন, ১৮৭৯-এফ, এঙ্গেলস ]
১৪. উদাহরণস্বরূপ পড়া যায় : ই, বার্ক-এর পুস্তিকা-বেড় ফোর্ডের ডিউক বংশ সম্পর্কে, যার বংশধর হলেন লর্ড জন রাসেল, “উদারনীতিবাদের টুনটুনি পাখি”।
১৫ জোত-মালিকেরা কুঁড়েঘরবাসীদের নিষেধ করে তাদের নিজেদের ও তাদের সন্তানদের ছাড়া আর কোন জীবিত প্রাণী রাখতে। তারা অজুহাত দেয় যে এই সকল জন্তু ও হাঁস-মুরগী রাখলে সেগুলিকে খাওয়াবার জন্য তার গোলাবাড়ি থেকে চুরি করবে। তারা আরও বলে যে কুঁড়েঘরে বসবাসকারীদের গরিব করে রাখলে তাদের কর্মক্ষম রাখা যাবে। কিন্তু, আমার বিশ্বাস, প্রকৃতপক্ষে জোতমালিকরা তাদের সকল সাধারণ জমি করায়ত্ত করতে চায়। (“A Political Inquiry into the Consequence of Enclosing Waste Lands, London, 1785, p. 75 )
১৬. ইডেন Lc. ভূমিকা।
১৭. মূলধন জোত’: ময়দা-ব্যবসা এবং শস্যেৰু মহার্ঘতা সম্পর্কে দুটি পত্র, জনৈক ব্যবসায়ীর দ্বারা লিখিত, লণ্ডন, ১৭৬৭, পৃঃ ১৯, ২০।
১৮. বণিক-জোত’ : ‘অ্যান এনকুইরি ইনটু দি কজেস অব দি প্রেজেন্ট হাইপ্রাইস অব প্রভিশনস’, লণ্ডন, ১৭৬৭, পৃঃ ১১ টীকা। অনামী প্রকাশিত এই চমৎকার বইটির লেখক রেভাঃ নাথানিয়েল ফরস্টার।
১৯ টমাস রাইট : ‘এ শর্ট অ্যাড্রেস টু দি পাব্লিক অন দি মনোপলি অব লার্জ ফার্মস, ১৭৭৯; পৃঃ ২, ৩।
২০. রেভাঃ অ্যাডিংটন ‘ইনকুইরি ইনটু দি রিজিনস ফর অল্প এগেনস্ট এনক্লোজিং ওপেন ফিস, লণ্ডন, ১৭৭২, পৃ ৩৭।
২১. ডঃ আর প্রাইস, রিভার্শনারি পেমেন্টস’, পৃঃ ১৫১। ফস্টার, অ্যাডিংটন, কেন্ট, প্রাইস এবং জেমস এণ্ডার্সনকে পড়া ও তুলনা করা উচিত তোষামুদে ম্যাক কুলকের বকবকানির সঙ্গে তার লিটারেচর অব পলিটিক্যাল ইকনমি’ নামক ‘ক্যাটালগে। লণ্ডন, ১৮৪৫।
২২. ঐ, পৃঃ ১৪৭।
২৩. আমাদের প্রাচীন রোমের কথা মনে পড়ে। ধনীরা অবিভক্ত দেশের বৃহত্তর অংশের দখল পেয়েছিল। তারা বিশ্বাস করেছিল এই জমিগুলি আবার তাদের কাছ থেকে নিয়ে নেওয়া হবে না এবং সেই জন্য তাদের জমির লাগোয়া গরিবদের কিছু প্লট তারা কিনে নিয়েছিল, এবং কিছু নিয়েছিল গায়ের জোরে; এই ভাবে তারা ইতস্ততঃ বিক্ষিপ্ত টুকরো টুকরো ক্ষেতের বদলে সুবিস্তৃত জমিতে চাষ করতে লেগেছিল। তার পরে তারা কৃষিকাজে ও গো-পালনে ক্রীতদাস নিয়োগ করেছিল, কেননা স্বাধীন লোকদের সামরিক কাজে নিয়ে নেওয়া হয়েছিল। ক্রীতদাসদের মালিকানা তাদের বিপুল লাভ এনে দিল, কেননা সামরিক কাজ থেকে নিষ্কৃতি পাবার দরুন তারা অবাধে বংশবৃদ্ধি করতে এবং গাদায় সন্তান উৎপাদন করতে পারত। এইভাবে এই পরাক্রান্ত লোকেরা সমস্ত সম্পদ নিজেদের দিকে টেনে নিল এবং গোটা দেশ ক্রীতদাসে ছেয়ে গেল। অন্য দিকে, ইতালীয়দের সংখ্যা হ্রাস পেতে থাকল; দারিদ্র্য, করের বোঝ এবং সামরিক কাজ তাদের ধ্বংস করে দিল। এমনকি যখন শান্তি এল, তখন তারা সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয়তায় কবলিত হল, কারণ ধনীদের হাতে ছিল জমির দখল এবং তারা সেখানে স্বাধীন লোকদের নিযুক্ত না করে, নিযুক্ত করত ক্রীতদাসদের। ( আপ্পিয়ান : গৃহযুদ্ধ )। এই অনুচ্ছেদটিতে বিবৃত হয়েছে লিসিনাস-এর বিধান প্রবর্তনের আগেকার পরিস্থিতি। সামরিক কাজ, যা রোমের প্লিবিয়ানদের ধ্বংস বহুল মাত্রায় ডেকে এনেছিল, তারই সাহায্যে আবার শালে মেন স্বাধীন জার্মান চাষীদের ও ভূমিদাস ও খৎবন্দীদাসে পরিণত করলেন।
